📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 উমরা বিন্ত দুরায়দ তার কবিতায় আরো বলে

📄 উমরা বিন্ত দুরায়দ তার কবিতায় আরো বলে


তারা বললো: আমরা হত্যা করেছি দুরায়দকে। আমি বললাম: তারা যথার্থই বলেছে।
তারপর আমার অশ্রু আমার কামিজের উপর গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
যদি সে সর্বগ্রাসী শক্তি না হতো, যা সকল জাতিকে তার প্রভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে,
তা হলে সুলায়ম ও কা'ব গোত্র- বুঝতে পারতো যে, কী করে হুকুম তামিল করতে হয়।
যদি তা না হতো, তা হলে- এমন একটি বাহিনী তাদের আঘাত হানতো, কখনো প্রতি দিন, আবার কখনো একদিন অন্তর। যাদের অস্ত্রের আঁচ পেলেই তারা শিউরে উঠতো।
ইব্‌ন হিশام বলেন: মতান্তরে দুরায়দের হত্যাকারীর নাম ছিল-আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন কুনাঈ' ইন উহ্হ্বান ইবন সা'লাবা ইব্‌ন রবী'আ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 আবূ আমর আশ'আরীর শাহাদত

📄 আবূ আমর আশ'আরীর শাহাদত


ইবন ইসহাক বলেন: শত্রু বাহিনীর মধ্যকার যারা আওতাসের দিকে পালিয়েছিল, তাদের পশ্চাদ্ধাবনের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবূ আমির আশআরী (রা)-কে প্রেরণ করেন। তিনি পরাজিতদের এক দলের নিকটে পৌঁছে যান। উভয় পক্ষে দূর থেকে তীর নিক্ষেপের যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। একটি তীর এসে আবূ অমিরের উপর পতিত হয়, আর তাতেই তিনি শহীদ হন। তারপর তাঁর চাচাতো ভাই আবূ মূসা আশআরী পতাকা ধারণ করেন এবং তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। আল্লাহ্ তাঁর হাতে বিজয় দান করেন এবং মুশরিকদের পরাজিত করেন। লোকে বলে যে, আবূ আমির আশআরী (রা)-কে যে ব্যক্তি তীর নিক্ষেপ করেছিল, সে ছিল দুরায়দের পুত্র সালামা। তা তাঁর হাঁটুতে এসে পড়েছিল এবং তাতেই তিনি নিহত হন।
এ প্রসঙ্গে সালামা তার কবিতায় বলে:
জানতে যদি চাও হে, কী বা আমার পরিচয়, জেনে নাও, আমার নাম সালামা নিশ্চয়।
জানতে যদি চাও হে, আরো পরিচয় নিখুঁত জেনে নাও, আমি হচ্ছি সামাদীরের পুত।
জেনে নাও আমি হচ্ছি সেই সুপুরুষ বীর তরবারিতে কাটি যে مسلمانوں শির।
আর সামাদীর হচ্ছে তার মায়ের নাম।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 বনূ রিআবের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দু'আ

📄 বনূ রিআবের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দু'আ


বনূ রিআবের অনেক লোকই যুদ্ধে নিহত হয়। লোকজনের মধ্যে বলাবলি হয় যে, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন কায়স-যিনি বনু ওহাব ইব্‌ন রিআবের একজন ছিলেন এবং ইবনু আওরা নামে যাকে অভিহিত করা হতো- তিনি বলে উঠলেন; বনু রিআবের তো সর্বনাশ হয়ে গেল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! লোকেরা বলে যে, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) দু'আ করলেন:
اللهم اجبر مصيبتهم
"হে আল্লাহ্! তুমিই তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দাও! তাদের বিপদের প্রতিবিধান করো!"

📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 মালিক ইব্‌ন আওফ

📄 মালিক ইব্‌ন আওফ


পরাজিত হওয়ার পর মালিক ইব্‌ন আওফ বের হয়ে একটি গিরিপর্বতে তার অশ্বারোহী দলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। সে তার সাথীদের লক্ষ্য করে বললো: যতক্ষণ না তোমাদের দুর্বলরা চলে যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা এখানে দাঁড়াও। ততক্ষণে তোমাদের পশ্চাতে যারা রয়ে গেছে, তারা এসে তোমাদের সাথে মিলিত হবে। সেমতে সে নিজেও সেখানে দাঁড়িয়ে রইলো। ততক্ষণে যে পরাজিত দুর্বলরা তার সাথে এসে মিলিত হয়েছিল তারা অতিক্রম করে গেল। এ ব্যাপারে মালিক ইব্‌ন আওফ কবিতার ছন্দে বলে:
আমার অশ্ব মুহাজ-এর উপর যদি হামলা না হতো দু' দু'বার তা'হলে দুর্জনদের পথ রুদ্ধ হয়ে আসতো শাদীক প্রান্তরের নিম্নাঞ্চলে খর্জুর বীথির পাশে, হামলা না হতো যদি দাহমান ইবন নসরের, তা হলে বনূ জা'ফর ও বনূ হিলালের লোকদের অত্যন্ত দুর্ভোগ সোহারের পিছু হটতে হতো।
ইবন হিশাম বলেন: এগুলো মালিক ইব্‌ন আওফের অন্য যুদ্ধকালে বর্ণিত কবিতা। এর প্রমাণ হচ্ছে এই যে, এ বর্ণনার শুরুতে আছে যে দুরায়দ ইব্‌ন সাম্মা জিজ্ঞাসা করেছিল : বন্ জা'ফর ও বনু কিলাব গোত্রদ্বয় এ যুদ্ধের ব্যাপারে কী ভূমিকা নিয়েছে? লোকজন জবাবে বলেছিল : তারা এ যুদ্ধে আসেনি। অথচ এ কবিতায় মালিক ইব্‌ন আওফ বলছে: "বনূ কিলাব ও বনূ কিলালকে পিছু হটতে হতো।"
এথেকেই পরিষ্কার প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এ পংক্তিগুলো এ যুদ্ধকালে মালিক ইব্‌ন আওফ বলেনি। তা সে অন্য কোন যুদ্ধকালেই বলে থাকবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية