📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 দুরায়দের হত্যা প্রসংগে তার কন্যার শোকগাথা

📄 দুরায়দের হত্যা প্রসংগে তার কন্যার শোকগাথা


রবী'আর হাতে দুরায়দের হত্যা প্রসঙ্গে দুরায়দ-দুহিতা উমরা তার শোকগাথায় বলে:
শপথ তোমার জীবনের, দুরায়দের ব্যাপারে আমার লেশমাত্র শঙ্কা ছিল না সুমায়রা প্রান্তরে, বিপজ্জনক বাহিনীর কোন আশঙ্কাও আমি অন্তরে পোষণ করতাম না।
আল্লাহ্ বনূ সুলায়মকে দেবেন তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল। তারা যে রূঢ় আচরণ করেছে, তিনিও তাদের সাথে করবেন তদ্রূপ রূঢ় আচরণ।
আর আমরা যখন আমাদের ঘোড়া নিয়ে রণক্ষেত্রে তাদের দিকে ধাবিত হবো,- হবো তাদের মুখোমুখী; তখন তিনি তাদের নির্বাচিত লোকদের রক্তে আমাদের তৃষ্ণা নিবারণ করবেন। (হে দুরায়দ!)
তাদের কত দুর্দিনেই না তুমি তাদের হয়ে গড়ে তুলেছো মস্ত প্রতিরোধ, অথচ তখন তাদের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা হয়েছিল। আর তাদের কত সম্ভ্রান্ত মহিলাদের না তুমি আযাদ করে দিয়েছো! আর তাদের কত মহিলাকেই না করেছো বন্ধনমুক্ত!
আর সুলায়মের কত লোকই না তোমাকে কতরূপ উপাধিতে সম্বোধন করতো। আর যখন তাদের প্রাণান্তকর অবস্থা ছিল তখন তুমি তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছ! কিন্তু এর প্রতিদানে তারা করেছে চরম দুর্ব্যবহার। আর দিয়েছে আমাকে এমনি মর্মবেদনা— যাতে আমার পায়ের গোছার অস্থিমজ্জা পর্যন্ত— গলে প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে। হে দুরায়দ!
তোমার অশ্বখুরের দাগ মুছে গেছে যী-বকর থেকে নুহাক প্রান্তর অবধি। হায়, সে পদচিহ্নগুলো আর কোনদিনই দেখা যাবে না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উমরা বিন্ত দুরায়দ তার কবিতায় আরো বলে

📄 উমরা বিন্ত দুরায়দ তার কবিতায় আরো বলে


তারা বললো: আমরা হত্যা করেছি দুরায়দকে। আমি বললাম: তারা যথার্থই বলেছে।
তারপর আমার অশ্রু আমার কামিজের উপর গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
যদি সে সর্বগ্রাসী শক্তি না হতো, যা সকল জাতিকে তার প্রভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে,
তা হলে সুলায়ম ও কা'ব গোত্র- বুঝতে পারতো যে, কী করে হুকুম তামিল করতে হয়।
যদি তা না হতো, তা হলে- এমন একটি বাহিনী তাদের আঘাত হানতো, কখনো প্রতি দিন, আবার কখনো একদিন অন্তর। যাদের অস্ত্রের আঁচ পেলেই তারা শিউরে উঠতো।
ইব্‌ন হিশام বলেন: মতান্তরে দুরায়দের হত্যাকারীর নাম ছিল-আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন কুনাঈ' ইন উহ্হ্বান ইবন সা'লাবা ইব্‌ন রবী'আ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ আমর আশ'আরীর শাহাদত

📄 আবূ আমর আশ'আরীর শাহাদত


ইবন ইসহাক বলেন: শত্রু বাহিনীর মধ্যকার যারা আওতাসের দিকে পালিয়েছিল, তাদের পশ্চাদ্ধাবনের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবূ আমির আশআরী (রা)-কে প্রেরণ করেন। তিনি পরাজিতদের এক দলের নিকটে পৌঁছে যান। উভয় পক্ষে দূর থেকে তীর নিক্ষেপের যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। একটি তীর এসে আবূ অমিরের উপর পতিত হয়, আর তাতেই তিনি শহীদ হন। তারপর তাঁর চাচাতো ভাই আবূ মূসা আশআরী পতাকা ধারণ করেন এবং তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। আল্লাহ্ তাঁর হাতে বিজয় দান করেন এবং মুশরিকদের পরাজিত করেন। লোকে বলে যে, আবূ আমির আশআরী (রা)-কে যে ব্যক্তি তীর নিক্ষেপ করেছিল, সে ছিল দুরায়দের পুত্র সালামা। তা তাঁর হাঁটুতে এসে পড়েছিল এবং তাতেই তিনি নিহত হন।
এ প্রসঙ্গে সালামা তার কবিতায় বলে:
জানতে যদি চাও হে, কী বা আমার পরিচয়, জেনে নাও, আমার নাম সালামা নিশ্চয়।
জানতে যদি চাও হে, আরো পরিচয় নিখুঁত জেনে নাও, আমি হচ্ছি সামাদীরের পুত।
জেনে নাও আমি হচ্ছি সেই সুপুরুষ বীর তরবারিতে কাটি যে مسلمانوں শির।
আর সামাদীর হচ্ছে তার মায়ের নাম।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনূ রিআবের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দু'আ

📄 বনূ রিআবের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দু'আ


বনূ রিআবের অনেক লোকই যুদ্ধে নিহত হয়। লোকজনের মধ্যে বলাবলি হয় যে, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন কায়স-যিনি বনু ওহাব ইব্‌ন রিআবের একজন ছিলেন এবং ইবনু আওরা নামে যাকে অভিহিত করা হতো- তিনি বলে উঠলেন; বনু রিআবের তো সর্বনাশ হয়ে গেল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! লোকেরা বলে যে, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) দু'আ করলেন:
اللهم اجبر مصيبتهم
"হে আল্লাহ্! তুমিই তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দাও! তাদের বিপদের প্রতিবিধান করো!"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00