📄 গুপ্তচরদের সাক্ষ্য
ইবন ইসহাক বলেন : তারপর মালিক লোকজনের উদ্দেশ্যে বললো : তোমরা যখন মুসলিম বাহিনীকে আসতে দেখবে, তখন তোমরা তোমাদের তরবারির কোষসমূহ ভেঙ্গে ফেলবে এবং একযোগে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।
রাবী হলেন : উমাইয়া ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমর ইবন উসমান আমার নিকট বর্ণনা করেন; মালিক ইব্ন আওফ তার বাহিনী থেকে কিছু গুপ্তচরকে মুসলিম বাহিনীর সংবাদ সংগ্রহের জন্যে প্রেরণ করে। তারা তার কাছে এ অবস্থায় ফিরে আসলো যে, তাদের সব পরিকল্পনা ভন্ডুল হয়ে গেছে। তখন সে তাদের বিপর্যস্ত অবস্থা দেখে জিজ্ঞাসা করলো : তোমাদের সর্বনাশ হোক, তোমাদের এ দুবারস্থা কেন? জবাবে তারা বললো : চিত্র-বিচিত্র ঘোড়ার পিঠে সওয়ার কিছু শাদা-শুভ্র লোক দেখতে পেলাম। আল্লাহ্র কসম! তারপর আমাদের যে দশা দেখতে পাচ্ছেন, তা ঠেকাই, সে সাধ্য আমাদের ছিল না।
আল্লাহ্র শপথ! এমন একটি আলৌকিক ঘটনা দেখার পরও মালিক ইব্ন আওফকে তার পূর্ব পরিকল্পনা মত কাজ করে যাওয়া থেকেও বিরত রাখতে পারলো না। বরং সে তার পরিকল্পনা মত এগিয়ে গেল।
📄 ইব্ন আবূ হাদরাদের গুপ্তচর মিশন
ইবন ইসহাক বলেন: হাওয়াযিনের এ যুদ্ধ প্রস্তুতির সংবাদ জানতে পেরে নবী করীম (সা) আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ হাদরাদ আসলামীকে তাদের গোপন সংবাদাদি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাদের মধ্যে ঢুকে পড়তে এবং তাদের সংবাদ নিয়ে ফিরে আসতে নির্দেশ দিলেন। সে মতে ইব্ন আবু হাদরাদ বেরিয়ে পড়লেন। তিনি যথাসময়ে তাদের মধ্যে গিয়ে ঢুকে পড়লেন এবং তাদের মধ্যে অবস্থান করে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনে শুনে আসলেন। এ সময় তিনি মালিক ইব্ন আওফ ও বনূ হাওয়াযিনের সমস্ত পরিকল্পনা সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে সব খবর অবহিত করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন উমর ইবন খাত্তাব (রা)-কে ডেকে তাঁকেও সে সংবাদ অবহিত করলেন। সব শুনে উমর (রা) বললেন: ইব্ন আবূ হাদরাদ সত্য বলেনি। ইব্ন আবূ হাদরাদ তখন বলে উঠলেন: আজ যদি আপনি আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন, (তা হলে এটা আশ্চর্যের কিছুই নয়!), হে উমর! একদা আপনি সত্যধর্মকেও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন, আমার চাইতে যিনি শতগুণে উত্তম সেই পবিত্রসত্তা (অর্থাৎ, মহানবী (সা)-কেও আপনি মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন! তখন উমর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে লক্ষ্য করে বললেন: ইব্ন আবূ হাদরাদ কী বলছে, তা কি আপনি শুনছেন না ইয়া রাসূলাল্লাহ্? তখন মৃদুহাস্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: قد كنت ضالا فهداك الله يا عمر তুমি যে বিভ্রান্ত পথহারা ছিলে তাতে তো সন্দেহ নেই হে উমর, তারপর আল্লাহ্ তোমাকে হিদায়াত দান করেছেন।
📄 সাফওয়ানের বর্ম ধার নেয়া
রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন হাওয়াযিন গোত্রের মুকাবিলার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রংণ করলেন, তখন তাঁর কাছে বলা হলো যে সাফওয়ান ইবন উমাইয়ার কাছে তার নিজস্ব যথেষ্ট বর্ম ও অস্ত্র রয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে ডেকে পাঠালেন। লোকটি তখনো পৌত্তলিক¹। তিনি তাকে বললেন: হে আবূ উমাইয়া! আমাদেরকে তোমার অস্ত্রপাতি একটু ধার দাও না। আমরা আগামীকাল তোমার অস্ত্র নিয়ে শত্রুর মুকাবিলা করবো। সাফওয়ান বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনি কি কেড়ে নেবেন? তিনি বললেন: না, ধার স্বরূপ, এ নিশ্চয়তাসহ নেবো যে, তা তোমার কাছে ফেরত দেবো। জবাবে সাফওয়ান বললেন: তা হলে আপত্তি নেই তারপর তিনি এক শ' বর্ম এবং সে অনুপাতে অস্ত্রপাতি দিলেন যা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট ছিল। লোকজন বলে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সাফওয়ানের কাছে প্রয়োজন মাফিক অস্ত্রপাতি চেয়েছিলেন, আর তিনি তা-ই তাঁকে দিয়েছিলেন।
টিকাঃ
১. পূর্বেই বলা হয়েছে সাফওয়ান ইসলাম গ্রহণের কথাটি ভেবে দেখার জন্যে ইতোপূর্বে একমাস সময় নিয়েছিলেন। এটা ঐ এক মাস সময়ের মধ্যকার ঘটনা।
📄 মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা
রাবী বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) রওনা হয়ে পড়লেন। তাঁর সাথে তখন মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে আগত দশ হাজার সাহাবী এবং মক্কাবাসী দুই হাজারসহ মোট বার হাজার সৈন্য ছিল।