📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ওহাবের জবাবী কবিতা

📄 ওহাবের জবাবী কবিতা


প্রত্যুত্তরে বনূ লায়স গোত্রের জনৈক ওহাব বলে উঠেন:
دعونا الى الاسلام والحق عامرا * فما ذنبنا في عامر اذ تولت
আমরা বনূ আমিরকে ইসলামের পানে দাওয়াত দিয়েছি, তারপর তারা যদি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালায়, তা হলে আমাদের কী অপরাধ?
وما ذنبنا في عامر لا أبا لهم * لان سفهت احلامهم ثم وضلت
বনূ আমিরের পিতার অমঙ্গল হোক, আমাদের কী অপরাধ—যদি তাদের জ্ঞানবুদ্ধি বিভ্রান্ত হয় ও তারা নির্বুদ্ধিতার শিকার হয়?
বনূ জুযায়মার এক ব্যক্তি তখন নিম্নের পংক্তিগুলো বলে:
ليهنئ بني كعب مقدم خالد * وأصحابه إذ صبحتنا الكتائب
খালিদের এবং তাঁর সহচরদের আগমন বনূ কা'বের জন্য মুবারক হোক! যখন অতি প্রত্যুষে তাঁর বাহিনীসমূহ এসে আমাদের উপর চড়াও হলো।
فلا ترة يسعى بها ابن خويلد * وقد كنت مكفيا لو انك غائب
তুমি যদি গায়েব হতে তা হলে এটাই তোমার জন্যে যথেষ্ট হতো তা হলে বৈরিতা চরিতার্থ করার এবং রক্তপাতের জন্যে বেচারা খালিদকে কোন প্রয়াসই চালাতে হতো না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনূ জুযায়মার জনৈক পলাতিক বালকের কবিতা

📄 বনূ জুযায়মার জনৈক পলাতিক বালকের কবিতা


বনূ জুযায়মার জনৈক পলাতক যুবক যে তার মা ও দু'বোনকে নিয়ে খালিদের বাহিনীর কবল থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলো সে যেতে যেতে বলে :
رخين أذيال المروط واربعن * مشى حيبات كأن لم يفزعن
ان تمنع اليوم نساء تمنعن
অর্থাৎ-"যে নারী এতকাল ছিল সুরক্ষিতা আজ যদি হারায় মান হয় উপেক্ষিতা
ঢিলা করে দাও তবে অবগুণ্ঠন চলো সে প্রাণবন্ত নারীর মতন
যাদের হয়নি করা ভয় প্রদর্শন।"

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনু জুযায়মার যুবকদের কবিতা

📄 বনু জুযায়মার যুবকদের কবিতা


বনু জুযায়মার কতিপয় যুবক—যাদেরকে বনু মাসাহিক বলা হতো তারাও খালিদের আগমন সংবাদে কতিপয় পংক্তি বলে। তাদের একজন বলে :
قد علمت صفراء بيضاء الاطل * يحوزها ذد ثلة وزوابل
لا غنين اليوم ما اغنى رجل
সে সুবর্ণা শুভ্রকটি প্রিয়া, যাকে ছাগপাল ও উটপালের রাখাল পাহারা দিয়ে রাখে, সে সম্যক জানে, আজ আমি তার জন্যে যথেষ্ট যেমনটি যথেষ্ট হওয়া উচিত একজন সুপুরুষের পক্ষে।
অপর বালক গেয়ে উঠলো :
لا تملأ الحيزوم منها نهسا
ضرب المحلين مخاضا قعسا * * قد علمت صفراء تلهى العرسا
لاضرين اليوم ضربا وعسا
আমার সুবর্ণা প্রিয়া স্ত্রী যে তার বরকে নিহত করে রেখেছে আর যে এত স্বল্পাহারী যে, তার বক্ষের অস্থিগুলো পর্যন্ত পুষ্ট সবল পরিপূর্ণ নয়, সে সম্যক জানে, আজকের দিন আমি শত্রুদের তলোয়ারের এমনি আঘাত হানবো, যেমনটি হারাম-সীমা থেকে হারামবহির্ভূত হালাল এলাকায় চলমান লোকেরা তাদের একগুয়ে গর্ভবতী উস্ত্রীকে প্রহার করে।
অপর একটি যুবক গেয়ে উঠে:
* شن البنان في غداة برده
* یرزم بين ايكة وجحده
* بالصدق الغداة منى نحده
* اقسمت ما ان خادر ذو لبده
* جهم المحيا ذو سبال ورده
* ضار بنأ كال الرجال وحده
আমি শপথ করে বলছি, সেই কেশরযুক্ত সিংহ যার ঘাড়ে ও মুখে রয়েছে বড় বড় কেশর, যার পাঞ্জা বড় ও ভারী, রক্তিম চেহারাবিশিষ্ট ভীষণ হিংস্র-মূর্তি যে নিবিড় অরণ্যে ও তার নিজ বিবরে গর্জনরত থাকে এবং যে কেবল মানুষের গোশত খেতে অভ্যস্ত, বীরত্ব ও পরাক্রমে আমি সে হিংস্র সিংহের চাইতেও ভীষণতর।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মূর্তির ধ্বংস

📄 মূর্তির ধ্বংস


তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদকে মূর্তি সংহারের জন্যে প্রেরণ করলেন। উচ্ছা ছিল আসলে নাখলানামক স্থানে অবস্থিত একটি ঘর বা মন্দিরগৃহ, যার প্রতি কুরায়শের এ জনপদ কিনানা ও মুদার সকলেই ভক্তি-সম্মান প্রদর্শন করতো। বনু হাশিমের মিত্রগোত্র ও বনু সুলারমের শাখাগোত্র বনূ শায়বান ছিল এর সেবায়েত। তার সালমী সেবায়েত যখন খালিদের আগমন সংবাদ পেল, তখন সে তার তলোয়ার তার উপর ঝুলিয়ে দিয়ে সে ঐ পাহাড়ে গিয়ে আরোহণ করলো, আর যেতে যেতে কবিতায় বললো:
* ایا عز شدی شدة لاشوى لها
* يا عز ان لم تقتلى المرء خالدا
* على خالد القي القناع وشمري
* قبوئی با ثم عاجد او تنصری
হে উজ্জা! তুমি এমনি আঘাত হানো যে, যাতে হাত পা নিশ্চল অসাড় হয়ে যায়। খালিদের উপর তুমি অবগুন্ঠন ঢেলে দাও তারপর দামন গুটিয়ে নাও!
হে উজ্জা, যদি তুমি খালিদকে সংহার করতে সমর্থ না হও, তা হলে তুমি এক তাৎক্ষণিক পাপের যোগ্য হও অথবা তুমি খৃস্টান হয়ে যাও! (কারণ, তুমি যে সারবত্তাহীন এক নিষ্কর্মা তা তো সপ্রমাণিত হয়েই গেল)।
খালিদ (রা) যখন সেখানে গিয়ে উপনীত হলেন, তখন তিনি তা সংহার করলেন। তারপর নির্বিঘ্নে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ফিরে এলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: ইব্‌ন শিহাব যুহরী আমার নিকট উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ উত্তবা ইবন মাসউদ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) মক্কা বিজয়ের পর সেখানে পনের রাত অবস্থান করেন এবং সালাতে কসর করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: মক্কা বিজয়ের ঘটনাটি অষ্টম হিজরীর রমযান মাসের দশ রাত বাকী থাকতে সংঘটিত হয়েছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00