📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদের ওযর পেশ

📄 খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদের ওযর পেশ


ইবন ইসহাক বলেন: যারা খালিদকে এ ব্যাপারে নির্দোষ মনে করেন তারা বলেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হুযাফা সাহসী আমাকে না বলা পর্যন্ত আমি যুদ্ধে লিপ্ত হইনি। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমাকে তারা ইসলাম গ্রহণ না করলে তাদের বিরুদ্ধে লড়তে আদেশ দিয়েছেন।
ইন হিশাম বলেন: আবূ আমর মাদানী বলেছেন, খালিদ (রা) যখন ঐ সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে উপনীত হন, তখন তারা বলেছিলেন: "আমরা ধর্মান্তরিত হয়েছি! আমরা ধর্মান্তরিত হয়েছি!!"
ইবন ইসহাক বলেন: তারা যখন অস্ত্রসংবরণ করলো, আর জাহদাম বনু জুযায়মার প্রতি খালিদের কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করলো, তখন সে বলে উঠলো: হে বনূ জুযায়মার লোকজন, যুদ্ধের মওকা হারালে, এখন তোমরা যে আপদে লিপ্ত হলে, সে ব্যাপারে আমি পূর্বেই তোমাদের সতর্ক করেছিলাম। (কিন্তু হায়, তোমরা তাতে কান দিলে না!)

টিকাঃ
১. প্রথমদিকে মুসলমানদেরকে 'সাবী' বলা হতো। কেননা, প্রাচীন আরবের সাবীরাও মূর্তিপূজা থেকে বিরত থাকতেন। সে হিসাবে তারা বলেছিল: আমরা সাবী হয়ে গিয়েছি, মানে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়ে গিয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে খালিদ তার মর্ম অনুধাবনে বা তা বিশ্বাস করতে ব্যর্থ হন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খালিদ ও আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফের বাক-বিতণ্ডা

📄 খালিদ ও আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফের বাক-বিতণ্ডা


আমি যতদূর জেনেছি, এ নিয়ে খালিদ (রা) ও আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রা)-এর মধ্যে বচসা হয়। আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রা) তাঁকে লক্ষ্য করে বলেন: ইসলামের যুগে তুমি একটা আস্ত জাহিলিয়াতের কাজ করলে!
জবাবে খালিদ (রা) বললেন: আমি তো তোমার পিতার হত্যাকারীকে হত্যা করেছি। তখন প্রতিউত্তরে আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রা) বললেন: তুমি মিথ্যে বলছো এবং আমিই আমার পিতার হন্তাকে হত্যা করেছি। তুমি তো তোমার চাচা ফাকীহ ইব্‌ন মুগীরার হন্তাকেই হত্যা করেছো। এমন কি এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে অপ্রীতিকর অবস্থায় সৃষ্টি হয়। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট যখন এ সংবাদ পৌঁছলো তখন তিনি বললেন :
مهلا يا خالد دع عنك اصحابي فو الله لو كان لك احد ذهبا ثم انفقت في سبيل الله ما ادركت غدوة رجل من اصحابی ولا روحته
"ধীরে হে খালিদ! ধীরে! আমার সাহাবীদের ব্যাপারে হুঁশিয়ার! আল্লাহ্র কসম, যদি তোমার কাছে উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও থাকে, আর তা তুমি আল্লাহ্র পথে বিলিয়ে দাও, তবু তুমি আমার সাহাবীদের এক সকাল অথবা এক বিকালের সাওয়াব লাভেও সমর্থ হবে না।"

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 জাহিলিয়াতের যুগে কুরায়শ ও বনূ জুযায়মার মধ্যের ঘটনা

📄 জাহিলিয়াতের যুগে কুরায়শ ও বনূ জুযায়মার মধ্যের ঘটনা


ফাকীহ ইন্ন মুগীরা, আওফ ইব্‌ন আব্দ মান্নাফ ও আফফান ইব্‌ন আবুল আস ইব্‌ন উমাইয়া বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ইয়ামানে গিয়েছিলেন। আফফানের সাথে তাঁর পুত্র উসমান এবং আওফের সাথে তাঁর পুত্র আবদুর রহমানও ছিলেন। উক্ত তিন ব্যক্তি ইয়ামানে মৃত্যুবরণকারী জনৈক বনূ জাযায়মগোত্রীয় ব্যক্তির অর্থ-সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের নিকট পৌঁছেয়ে দেবার উদ্দেশ্যে ইয়ামান থেকে নিয়ে আসছিলেন। তাঁরা বনু জুযায়মা গোত্রের উক্ত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের নিকট পৌঁছবার পূর্বেই ঐ গোত্রের খালিদ ইব্‌ন হিশাম নামক এক ব্যক্তি তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করে উক্ত অর্থ-সম্পদ দাবী করলো। তাঁরা তার কাছে তা অর্পণে অস্বীকৃতি জানালে সে তার সঙ্গীসাথী নিয়ে তাদের সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হলো। তাঁরাও তার সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হন। এ যুদ্ধে আওফ ও ফাকীহ ইব্‌ন্ন মুগীরা নিহত হন। পক্ষান্তরে আফ্ফান ও তাঁর পুত্র উসমান বেঁচে যান। তারা ফাকীহ্ ইব্‌ন মুগীর ও আওফ ইব্‌ন আব্দ আওফের অর্থ-সম্পদ নিয়ে যায়। আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রা) তাঁর পিতার ঘাতক উক্ত খালিদ ইবন হিশামকে হত্যা করে পিতৃহত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। তখন কুরায়শ গোত্র বনূ জুযায়মার সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হতে মনস্থ করে। বনূ জুযায়মারা বলে: আমাদের গোটা গোত্র তোমাদের লোকদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে কয়েকব্যক্তি মূর্খতাবশে তোমাদের লোকদের উপর হামলা করে তাদেরকে হত্যা করেছে। আমরা তার কিছুই অবগত নই। আমরা তোমাদের প্রাপ্য রক্তপণ এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্যে প্রস্তুত রয়েছি। কুরায়শরা তাদের এ ওযরখাহী ও প্রস্তাব মেনে নেয় এবং এভাবে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সালমার কবিতা

📄 সালমার কবিতা


বনূ জুযায়মার এক ব্যক্তি এ উপলক্ষে নিম্নোক্ত কবিতা বলেন। কেউ কেউ বলেন এর রচয়িতা সালমা নাম্নী এক মহিলা:
للاقت سليم يوم ذلك ناطحا * ولو لا مقال القوم للقوم اسلموا
ومرة حتى يتركوا البرك ضابحا * لما صعهم بسر واصحاب جحدم
যদি এক সম্প্রদায় অন্য সম্প্রদায়কে না বলতো যে, আত্মসমর্পণ ও সন্ধির পথে এসো, তা হলে সেদিন সুলায়ম গোত্র শিং মেরে লড়াই করতো, বুসরা, জাহদাম এবং মুরার সঙ্গী-সাথীরা তাদের উপর এমন তলোয়ার চালাতো যে, তারা কেবল তাদের উটগুলোকে আর্তনাদরত অবস্থায় ছেড়ে দিত।
فكائن ترى يوم الغميصاء من فتى * اصيب ولم يجرح وقد كان جارحا
الظت بخطاب الايامي وطلقت * غداتئذ منهن من كان ناكحا
তা হলে তুমি সে যুবককে, যে নিহত হয়েছে, গামীসার প্রান্তরে প্রত্যক্ষ করতে এমনভাবে যে সে আহত অবস্থায় থাকতো না বরং অনেককে সে হতাহত করে ছাড়তো। গামীসা প্রান্তরের বিবাহিতা মহিলাদের সে তখন বিধবা করে দিত এবং এ বিধবাদের সংখ্যা এত বেশি হতো যে, তাদের বিয়ে করার প্রস্তাবদাতাদের প্রাচুর্যে গামীসা ভূমি বিরক্ত হয়ে উঠতো।
ইব্‌ন হিশام বলেন: উক্ত কবিতায় ব্যবহৃত بسر — এবং الظت بخطاب শব্দগুলো ইব্‌ন ইসহাক বর্ণিত নয়, অন্য কারো বর্ণিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00