📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বুজায়দের কবিতা

📄 বুজায়দের কবিতা


বুজায়দ ইব্‌ন ইমরান খুযাঈ তাঁর কবিতায় বলেন :
وقد انشاء الله السحاب بنصرنا * ركام صحاب الهيدب المتراكب
আমাদের সাহায্যার্থে আল্লাহ্ মেঘমালা সৃষ্টি করেছেন-যা যমীনের উপর স্তরে স্তরে সজ্জিত রয়েছে।
وهجرتنا في ارضنا عندنا بها * كتاب اتى من خير ممل وكاتب
আর আল্লাহ্ আমাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন এমন স্থানে হিজরত, যেখানে আমাদের কাছে কিতাব এসেছে উত্তম শ্রুতি লিখিয়ে ও উত্তম লিখনের মাধ্যমে।
ومن اجلنا حلت بمكة حرمة * لندرك ثأرا بالسيوف القواضب
আমাদের জন্যে মক্কায় হুরমতকে হালাল করা হয়েছে-যাতে করে আমরা শাণিত তলোয়ারের দ্বারা রক্তশোধ করতে পারি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মক্কা বিজয়ের পর খালিদের বনূ জুযায়মা গোত্রে গমন এবং খালিদের ভুলের প্রতিবিধানের উদ্দেশ্যে আলীর যাত্রা

📄 মক্কা বিজয়ের পর খালিদের বনূ জুযায়মা গোত্রে গমন এবং খালিদের ভুলের প্রতিবিধানের উদ্দেশ্যে আলীর যাত্রা


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) (মক্কা বিজয়ের পর) আল্লাহর পথে লোকজনকে আহ্বান জানানোর উদ্দেশ্যে মক্কার আশে পাশের এলাকাসমূহে কয়েকটি জামাআতকে প্রেরণ করেন। তিনি তাঁদের যুদ্ধের আদেশ দেননি। এসব জামাআতের মধ্যে খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)ও ছিলেন। তিনি তাঁকে তিহামার নিম্নাঞ্চলে মুবাল্লিগ হিসাবে প্রেরণ করেন-যোদ্ধা হিসাবে নয়। তিনি বনূ জুযায়মার উপর গিয়ে চড়াও হন এবং তাদের কয়েক ব্যক্তিকে হত্যাও করে ফেলেন।¹
ইবন হিশাম বলেন: আব্বাস ইন্ন মিরদাস এ উপলক্ষে বলেন:
وقدمته فانه قد تقدما فان تك قد أمرت في القوم خالدا *
نصیب به في الحق من كان اظلما بجند هداه الله انت اميره *
আপনি যদি খালিদকে জামাআতের আমীর বানিয়ে দিয়ে অগ্রসর করে দিয়ে থাকেন, তা হলে তিনি এমন একটি বাহিনীসহ অগ্রসর হয়েছেন, যাদের আল্লাহ্ হিদায়াত দান করেছেন;
আর তার আসল আমীর হচ্ছেন স্বয়ং আপনি। আমরা তার মাধ্যমে এমন সম্প্রদায়কে নির্মূল করে দেবো যারা অন্ধকারে ধুঁকে মরছে।
ইবন হিশাম বলেন: এ পংক্তি দুটো ইব্‌ন মিরদাসের সে কবিতার অংশ যা' তিনি হুনায়ন যুদ্ধের সময় বলেছিলেন। আমরা যথাস্থানে তা ইন্‌শা আল্লাহ্ বর্ণনা করবো।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট হাকীম ইবন হাকীম-আব্বাদ ইব্‌ন হানীফ- ইন্ন আলীর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, মক্কা বিজয়কালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-কে দাঈ' বা আল্লাহ্ পথে আহ্বানকারীরূপে প্রেরণ করেন-তিনি তাঁকে যোদ্ধারূপে প্রেরণ করেন নি। তাঁর সাথে তখন সুলায়ম ইন্ন মানসূর ও মুদলিজ ইবন মুরা প্রমুখ আরব কবীলাসমূহও ছিল। তাঁরা গিয়ে বনূ জুযায়মা ইব্‌ন আমির ইব্‌ন আব্দ মানাত ইব্‌ন কিনানার উপর চড়াও হন। ঐ গোত্রের লোকজন তাঁকে আসতে দেখে অস্ত্রধারণ করে। তখন খালিদ (রা) বলে উঠেন: ওহে, অস্ত্র সংবরণ কর, কেননা, লোকজন ইতোমধ্যেই ইসলাম গ্রহণ করে ফেলেছে।
ইবন ইসহাক বলেন: বনূ জুযায়মার কোন কোন বিজ্ঞজন আমার নিকট এমর্মে বর্ণনা করেছেন যে, খালিদ যখন আমাদের অস্ত্র সংবরণের নির্দেশ দিলেন, তখন আমাদের গোত্রের জাহ্দম নামক একব্যক্তি বলে উঠল: তোমাদের সর্বনাশ, হে বনু জুযায়মা, আল্লাহর কসম! এ হচ্ছে খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ! অস্ত্র সংবরণের পরই তোমাদের গ্রেফতারীর পালা। আর গ্রেফতারীর পরই উড়ানো হবে তোমাদের গর্দান। আল্লাহর কসম! আমি কস্মিনকালেও অস্ত্র সংবরণ করবো না। তখন তার গোত্রের লোকজন তাকে পাকড়াও করলো এবং বললো: হে জাহদাম, তুমি কি চাও যে আমাদের রক্তপ্রবাহিত হোক? লোকজন ইসলাম গ্রহণ করে ফেলেছে। তারা অস্ত্র সংবরণ করেছে। যুদ্ধ থেমে গেছে। লোকজন নিরাপদ হয়ে গেছে। তারা তার অস্ত্রপাতি তার কাছ থেকে কেড়ে নিল এবং গোটা সম্প্রদায় খালিদের কথায় অস্ত্রসংবরণ করলো।
ইবন ইসহাক বলেন: হাকীম ইন্ন হাকীম আমার নিকট আবূ জা'ফর মুহাম্মদ ইব্‌ আলীর বরাতে বলেন: যখন তারা অস্ত্রসংবরণ করলো, তখন খালিদের আদেশে তাদের বেঁধে ফেলা হলো, তারপর তলোয়ারের মুখে তাদের অনেককেই হত্যা করা হলো। যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট এ খবর পৌছলো, তখন তিনি তাঁর পবিত্র হস্তদ্বয় আকাশের দিকে উঠিয়ে বললেন :
اللهم اني أبرأ اليك مما صنع خالد بن الوليد
"হে আল্লাহ্! খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদের ক্রিয়া-কর্মের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি তা থেকে মুক্ত।"

টিকাঃ
১. একে গাযওয়ায়ে গামীত বা গামীতের যুদ্ধ বলা হয়ে থকে। গামীত হচ্ছে বন্ জুযায়মের জলাশয় বা কূপের নাম।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর স্বপ্ন ও আবূ বকর (রা)-এর ব্যাখ্যা

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর স্বপ্ন ও আবূ বকর (রা)-এর ব্যাখ্যা


ইন্ন হিশাম বলেন: আমার নিকট বিজ্ঞজন বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবরাহীম ইন্ন জা'ফর মাহমূদী-এর বরাতে বলেন। একদা রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি যেন এক লুকমা খেজুরের হালুয়া খেলাম এবং এর স্বাদ আস্বাদন করলাম। এর কিছুটা আমার গলায় আটকে গেল। আলী তার হাত আমার গলায় ঢুকিয়ে তা বের করে আনলো। তা শুনে স্বপ্নের ব্যাখ্যাস্বরূপ আবূ বকর (রা) বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি যে সমস্ত জামাআত প্রেরণ করেছেন, তার কোন কোনটি আপনার ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্জন করে ফিরবে আর কোন কোনটিতে অপ্রীতিকর ব্যাপারও ঘটবে, তারপর আপনি তার প্রতিবিধানের জন্যে আলীকে পাঠাবেন, তিনি সে সমস্যার জটিলতা দূর করবেন।
ইবন হিশাম বলেন: রাবী আমার নিকট বর্ণনা করল, সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি দৌঁড়ে এসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এ সংবাদটি দিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) জিজ্ঞাসা করলো: কেউ কি এ ব্যাপারে খালিদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেনি বা তার আদেশ অগ্রাহ্য করেনি?
সে ব্যক্তি বললো: জ্বী হ্যাঁ, একজন ফর্সামুখী লোক এর প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু খালিদ তাকে ধমক দিয়ে নিবৃত্ত করেন। আরেকজন দীর্ঘাঙ্গী লোকও খালিদের প্রতিবাদ করেন এবং তিনি তাঁর সাথে রীতিমত তর্কে প্রবৃত্ত হন, তাঁদের এ বিতর্ক চরমে পৌঁছে। তখন উমর ইবন খাত্তাব (রা) বলে উঠলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এ দু'জনের প্রথম জন হচ্ছে আমার পুত্র আবদুল্লাহ্, আর দ্বিতীয়জন আবূ হুযাফার আযাদকৃত গোলাম সালিম।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রক্তপণ ও ক্ষতিপূরণ দানের জন্য আলী (রা)-কে প্রেরণ

📄 রক্তপণ ও ক্ষতিপূরণ দানের জন্য আলী (রা)-কে প্রেরণ


ইবন ইসহাক বলেন: হাকীম ইবন হাকীম আমার নিকট আবূ জা'ফর মুহাম্মদ ইবন আলী সূত্রে বর্ণনা করেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী ইবন আবূ তালিব (রা)-কে ডেকে বললেন: হে আলী! তুমি ঐসব সম্প্রদায়ের কাছে যাও এবং তাদের ব্যাপারটি দেখ এবং জাহিলিয়াতের রীতিনীতিকে তোমার পদতলে দলিত কর!
সে মতে আলী বের হয়ে তাদের কাছে উপনীত হলেন। তিনি তাঁর সাথে রাসূলুল্লাহ্ (সা) প্রদত্ত প্রচুর অর্থ-সম্পদও নিয়ে গেলেন। তিনি তাদের রক্তপণ এবং তাদের অর্থ সম্পদের ক্ষতিপূরণ শোধ করলেন। এমন কি তাদের কুকুরের জন্য কাষ্ঠনির্মিত পানপাত্রটাও তিনি তাদের পরিশোধ করে দেন। যখন তিনি রক্তপণ এবং অর্থ সম্পদের সব ক্ষতিপূরণ দিলেন, কারো কোন পাওনাই আর অবশিষ্ট রইলো না, তখনও তাঁর কাছে যথেষ্ট অর্থ সম্পদ অবশিষ্ট রয়ে গেল। তিনি তাদের সব পাওনা শোধ করে তাদের জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের আর কারো কোন রক্তপণ বা অর্থের ক্ষতিপূরণ কি অপরিশোধকৃত রয়েছে? জবাবে তারা বললো: জ্বী, না।
তখন তিনি বললেন: এ অবশিষ্ট অর্থসম্পদও আমি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আদেশ যথাযথভাবে পালনের ক্ষেত্রে সতর্কতাবশত দিয়ে দিচ্ছি-ঐ পাওনার পরিবর্তে তিনি সম্যক জানেন, কিন্তু তোমরা জানো না। তারপর তিনি সেরূপই করলেন। এরপর তিনি ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এ সংবাদ জানালেন। সব শুনে তিনি বললেন: أصبت وأحسنت
"তুমি ঠিকই করেছো এবং চমৎকার কাজ করেছো।"
রাবী বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হলেন এবং তাঁর পবিত্র হস্তদ্বয় এমনভাবে ঊর্ধ্ব দিকে তুলে ধরলেন যে, তাঁর উভয় স্কন্দের নিম্নাংশ দেখা যাচ্ছিলো। তিনি তখন বলছিলেন :
اللهم انى ابرأ اليك مما صنع خالد بن الوليد ثلاث مرات
"হে আল্লাহ্! খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ যে কর্মকাণ্ড করেছে, তার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। এরূপ তিনি তিনবার বললেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00