📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুফরীতে অবিচল হুবায়রা ও তার কবিতা

📄 কুফরীতে অবিচল হুবায়রা ও তার কবিতা


ইব্‌ন ইসহাক বলেন: বনু মাখযূমের হুবায়রা ইব্‌ন আবূ ওহাব কুফরীর উপর অবিচল থেকে কাফির অবস্থায়ই মারা যায়। আবূ তালিব দুহিতা উম্মু হানী, যাঁর আসল নাম ছিল হিন্দ, তিনি ছিলেন তার স্ত্রী। উম্মু হানীর ইসলাম গ্রহণের সংবাদ শুনে হুবায়রা তার কবিতায় বলে:
হিন্দু কি তোমার নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল? নাকি তার বিচ্ছিন্নতার আবেদন তোমার কাছে এলো?
বিপদ-দুর্যোগ এভাবেই আসে-যায়।
নাজরানের এক সুরক্ষিত মযবুত দুর্গশীর্ষে যেখানে আমি রাত্রিযাপন করছিলাম, তার কাল্পনিক মূর্তি আমার নিকট চলে এলো- একটি রাত যেতে না যেতেই, আর তা বিনিদ্র রাখলো সারারাত ধরে আমাকে।
শপথ সে ভর্ৎসনাকারিণীর- যে এক রাতে উঠে আমাকে ভর্ৎসনা করছিল আর সে যখন আমাকে ভর্ৎসনা করছিল তখন সে ছিল চরম বিভ্রান্তির শিকার।
সে আমাকে বলছিল: আমি যদি আমার গোত্রের আনুগত্য করি (অর্থাৎ কুফরী অবলম্বন করে থাকি) তা হলে আমি নাকি ধ্বংস হয়ে যাবো, অথচ তার বিরহ ছাড়া আর কিছুই আমাকে ধ্বংস করতে পারবে না।
আমি এমন এক গোত্রের লোক- যখন তার সংগ্রাম সাধনা তুঙ্গে থাকে তখন তার অবস্থা দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে উঠে।
তখন আমি আমার গোত্রের প্রতি একাত্মতা ও সমর্থন ঘোষণা করে- তাদের পাশে দাঁড়িয়ে যাই, যখন তাদের সংগ্রাম চলে- দীর্ঘকায় বল্লম বর্শার ছায়াতলে।
আর যখন তাদের হাতে তলোয়ার হয়ে যায় খেলনা স্বরূপ, যেন শিশুদের হাতের রুমাল। যা তারা একে অপরের গায়ে ছুড়ে মারে, আর তলোয়ারের ছায়াতলেই কাটে তাদের জীবন।
আমি অত্যন্ত ঘৃণা করি ওসব বিদ্বেষপরায়ণদের, আর তাদের বিদ্বেষপূর্ণ আচরণকে। আমার ও আমার পরিবার পরিজনের জীবিকা তো আল্লাহ্রই হাতে। (ওদের হাতে নয় তাই ওদেরকে আমি পরোয়া করি না।)
কোন ব্যক্তির তাৎপর্যবিহীন কথাবার্তা হচ্ছে এরূপ, যেরূপ তীর চালানো, যাতে ফলা নেই।
তাই, তুমি যদি মুহাম্মদের ধর্মের আনুগত্য কর, তাঁর সংগে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা কর। তা হলে দূরবর্তী এমন কোন পাহাড়ে চলে যাও, যেখানে গোলাকৃতির ধূলাধূসরিত কঙ্কররাজী রয়েছে, আর যেখানে তোমার নামগন্ধ নেই।
ইবন ইসহাক বলেন: এক বর্ণনায় মূল আরবী কবিতায়- وعطفت الارحام منك حبالها এর স্থলে আছে : وقطعت الارحام منك حبالها অর্থাৎ (মুহাম্মদের ধর্মের আনুগত্য গ্রহণের মাধ্যমে তুমি) তোমার পক্ষ থেকে আত্মীয়তা বন্ধন ছিন্ন করলে (আমার সাথে)।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মক্কা বিজয়ের দিন উপস্থিত মুসলমানদের সংখ্যা

📄 মক্কা বিজয়ের দিন উপস্থিত মুসলমানদের সংখ্যা


ইবন ইসহাক বলেন: মক্কা বিজয়ের সময়ে উপস্থিত মুসলমানদের সংখ্যা সর্বসাকুল্যে দশ হাজার ছিল।
বনূ সুলায়মের - সাত শ' জন। কেউ কেউ এ সংখ্যা এক হাজার বলেছেন। বনূ গিফারের - চার শ' জন। আসলাম গোত্রের - চার শ' জন। মুযায়না গোত্রের - এক হাজার তিন জন। অবশিষ্ট সকলেই ছিলেন কুরায়শ, আনসার ও তাঁদের মিত্র এবং আরবের তামীম, কায়স ও আসাদ গোত্রের লোক।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মক্কা বিজয়কালীন হাসান ইবন সাবিতের কবিতা

📄 মক্কা বিজয়কালীন হাসান ইবন সাবিতের কবিতা


কথিত আছে যে, হাসান ইবন সাবিত আনসারী (রা) মক্কা বিজয়ের দিন এ কবিতাটি আবৃত্তি করেছিলেন :
عفت ذات الاصابع فالجواء * الى عذراء منزلها خلاء
যাতুল আসাবি ও জাওয়া থেকে শুরু করে আযরা পর্যন্ত কোথাও কোন মঞ্জিলে কোন জনমানব নেই।
ديار من بني الحسحاس قفر * تعفيها الروامس والسماء
(বনূ আসাদের শাখাগোত্র) বনু হাস্হাসের বাড়িঘর এখন ধু-ধু প্রান্তর। বায়ু ও বৃষ্টি এগুলোর নাম নিশানা পর্যন্ত মিটিয়ে দিয়েছে।
وكانت لا يزال بها انيس * خلاك مروجها نعم وشاء
অথচ একদা এখানেও ছিল সমব্যথী, সহমর্মী। আর তাদের চারণক্ষেত্রেও বিচরণ করতো দলে দলে উট ও বকরী।
فدع هذا ولكن من لطيف * يورقني اذا ذهب العشاء
এখন তার কথা ছেড়ে দাও, বল দেখি আমার প্রেমাস্পদের কল্পনার কী হবে, যে গভীর রাতে এসে আমাকে জাগিয়ে তোলে।
لشعثاء التي قد تيمته * فليس لقلبه منها شفاء
(আমার প্রেমাস্পদ স্ত্রী) শা'ছার জন্যে শত্রুর রক্তপিপাসু ও প্রাণের বৈরী তীর রাখা রয়েছে। কিন্তু তাকে হত্যার মাধ্যমে তার অন্তরের শান্তিলাভ কোনদিনই ঘটবে না।
كان خبيئة من بيت رأس * يكون مزاجها عسل وماء
(তারজন্য আমার সে প্রেম) জর্দানের 'বায়তে-রাসে' তৈরী মদের ন্যায়, যা মধু ও পানির মিশ্রণে তৈরী।
اذا ما الأشربات ذكرن يوما * فمن لطيب الراح الفداء
যেদিন মদের গুণাগুণ আলোচনা করা হয়, সেদিন এগুলো থেকে সুঘ্রাণ বের হয়।
نوليها الملامة ان المنا * اذا ما كان مغث او لحاء
আমরা তাকে ভর্ৎসনা করি, আর তা পরিপূর্ণ হয় যখন এর সাথে থাকে চড়-থাপ্পড় অথবা গালমন্দ।
ونشربها فتتركنا ملوك * واسدا ما ينهنهن اللقاء
আমরা সে মদ পান করি, যা আমাদের বাদশাহ ও সিংহের সাথে সাক্ষাৎ করতেও বাধা দেয় না।
عدمنا خيلنا ان لم تروها * تشير النقع موعدها كداء
আমরা যেন আমাদের ঘোড়াগুলো হারিয়ে ফেলি, যদি তোমরা সেগুলোকে 'কিদায়'¹ ধূলি ওড়াতে না দেখো।
ينازت عن الاعنة مصغيات * على أكتافها الاسل الظماء
এমন অবস্থায় যে, সেগুলো লাগামের বশ মানতে চায় না- আর সেগুলোর কাঁধে রয়েছে তৃষ্ণার্ত তীর।
তظل جيادنا متمطرات * يلطمهن بالخمر النساء।
আমাদের ঘোড়াগুলো (মক্কা বিজয়ের দিন) একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়েছিল। আর মহিলারা তাদের ওড়না দিয়ে সেগুলোর ধুলোবালি ঝেড়ে দিচ্ছিলো।
فأما تعرضوا عنا اعتمرنا * وكان الفتح وانكشف الغطاء
সুতরাং হয় তোমরা আমাদের পথ ছেড়ে দাও, আমরা উমরা আদায় করবো, বিজয় সম্পন্ন হবে এবং পর্দা উঠে যাবে।
والا فاصبردا لجلاد يوم * يعين الله فيه من يشاء
নচেৎ যুদ্ধের কষ্ট বরণের জন্যে তৈরী হও। আল্লাহ্ তা'আলা তাতে যাকে ইচ্ছা সাহায্য করবেন।
وجبريل رسول الله فينا * وروح القدس ليس له كفاء
আল্লাহ্ দূত জিবরাঈল (আ) আমাদের মধ্যে রয়েছেন। রূহুল কুদ্দস বা পবিত্রাত্মা জিবরাঈলের সমকক্ষ আর কেউই হতে পারে না।
وقال الله قد ارسلت عبدا * يقول الحق ان نفع البلاء
আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন: আমি আমার বান্দাকে রাসূল করে পাঠিয়েছি। তিনি সত্য বলবেন। যদি আমরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই, (তবেই মুক্তি)!
شهدت به فقوموا صدقوه * فقلتم لا نقوم ولانشاء
আমি তাঁর সত্যতার সাক্ষ্য দিয়েছি। সুতরাং তোমরাও দাঁড়িয়ে তাঁর সত্যতার সাক্ষ্য দাও, কিন্তু তোমরা বললে: না, আমরা তা করবো না এবং আমরা তা চাইও না।
وقال الله قد سيرت جندا * هم الانصار عرضتها اللقاء
আর আল্লাহ্ তা'আলা বললো: আমি আমার বাহিনীকে প্রেরণ করেছি। তারাই হলো সাহায্যকারী। তাদের কাজই হলো দুশমনের মুকাবিলা করা।
لنا في كل يوم من معد * سباب او قتال او هجاء
মাআদ গোত্রের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই আমাদের জন্যে রয়েছে গালিগালাজ, যুদ্ধবিগ্রহ অথবা কটাক্ষ ও নিন্দা।
فنحكم بالقوافي من هجانا * ونضرب حين تختلط الدماء
এজন্যে যারা আমাদের কুৎসা ও নিন্দা করে, আমরা আমাদের কাব্য দ্বারা তাদের ফয়সালা করে দেই। আর যখন রণক্ষেত্রে রক্তের নদী প্রবাহিত হয়, তখন আমরা তাদের প্রতি তলোয়ারের আঘাত হেনে থাকি।
الا ابلغ ابا سفيان عنى * مغلغلة فقد برح الخفاء
ওহে! আবূ সুফিয়ান—যে আত্মগোপন করে রয়েছে এবং এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে সময় কাটাচ্ছে, তাকে আমার পক্ষ থেকে পয়গাম পৌছিঁয়ে দাও—
বান সিوفنا تركنك عبد * وعبد الدار سادتها الاماء
যে, আমাদের (আনসারদের) তরবারি মক্কা বিজয়ের দিন তোমাকে একটি তুচ্ছ দাসে পরিণত করেছে এবং বনূ আবদুদ-দারের সর্দাররা মর্যাদার দিক থেকে একেবারে বাঁদী দাসীর পর্যায়ে চলে গিয়েছে।
هجوت محمدا و اجبت عنه * وعند الله في ذاك الجزاء
তুমি মুহাম্মদ (সা)-এর নিন্দা করেছো, আর আমি তাঁর পক্ষ থেকে জবাব দিয়েছি। আর আল্লাহ্র নিকট এজন্যে রয়েছে প্রতিদান।
اتهجوه ولست له بكف * فشر كما لخير كما الفداء
ওহে, তুমি কি তাঁর নিন্দা করো, অথচ কোনমতেই তুমি তার সমকক্ষ নও? সুতরাং তোমাদের দু'জনের মধ্যে উত্তম জনের জন্যে তোমাদের অধম জন কুরবান হতে পারে। (অর্থাৎ মুহাম্মদ (সা)-এর জন্যে তুমি আবু সুফিয়ান কুরবান হতে পারো।)
هجوت مبارک برا حنينا * آمين الله شيمته الوفاء
তুমি এমন এক মহামানবের নিন্দা করেছো, যিনি বরকতময়, পুণ্যবান একনিষ্ঠ মুসলিম এবং আল্লাহ্ আমানতদার- যাঁর স্বভাবই হচ্ছে বিশ্বস্ততা।
أ من يهجو رسول الله منكم * و يمدحه و ينصره سواء ؟
ঐ ব্যক্তি কি কখনো রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রশংসাকারী ও তাঁর সাহায্যকারীর সমমর্যাদা সম্পন্ন হতে পারে-যে তাঁর নিন্দা করে থাকে?
فإن أبى و والده وعرضي * لعرض محمد منكم وقاء
ওহে, শুনে রাখো, নিঃসন্দেহে আমার পিতা এবং তাঁরও পিতা এবং আমার মান-মর্যাদা সবকিছু মুহাম্মদ (সা)-এর মান-মর্যাদাকে তোমাদের হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করার জন্যে রক্ষাকবচ স্বরূপ।
لسانی صارم لاعيب فيه * وبحرى لا تكدره الدلاء
আমার রসনা শাণিত তলোয়ারসম, তাতে কোন ত্রুটি নেই। আর আমার সমুদ্র এমন-ই. যাতে বার বার বালতি পড়লেও তা তার পানিকে ঘোলা করতে পারবে না।
ইন হিশাম বলেন: হাসান ইবন সাবিত (রা) মক্কা বিজয়ের দিন এ কবিতাটি আবৃত্তি করেন।
কোন কোন বর্ণনায় - لسانی صارم لاعيب فيه এর স্থলে আছে: لساني صارم لا عتب فيه অর্থাৎ আমার রসনা এমনিই এক অবিশ্রান্ত শাণিত তলোয়ার-যাতে নেই কোন অবসাদ।
আমার নিকট যুহরী (র) সূত্রে এ বর্ণনা পৌছেছে যে, যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) দেখতে পেলেন যে মহিলারা তাদের দোপাট্টা দিয়ে ঘোড়ার মুখের ধূলি ঝেড়ে দিচ্ছে, তখন তিনি আবূ বকর (রা)-এর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।

টিকাঃ
১. মক্কার নিকটবর্তী একটি স্থান।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আনাস ইব্‌ন যুনায়মের কবিতা

📄 আনাস ইব্‌ন যুনায়মের কবিতা


ইবন ইসহাক বলেন: আনাস ইবন যুনায়ম দায়লী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট ওযর পেশ করে আমর ইবন সালিম খুযাঈ-এর নিম্নের কবিতাটি বলেন:
انت الذي تهدى معد با مرد * بل الله يهديهم وقال لك اشهد
আপনি কি সেই সত্তা, যাঁর হিদায়াত দ্বারা মা'আদ গোত্রের লোকজনকে সরল পথ প্রদর্শন করা যেতে পারে। বরং আল্লাহ্ তাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করবেন। আর আল্লাহ্ আপনাকে বলেছেন-আপনি সাক্ষী থাকুন।
وما حملت من نافة فوق رحلتها * ابر و أوفى ذمة من محمد
কোন উষ্ট্রীই এমন কোন সওয়ারকে তার হাওদাতে করে বহন করেনি, যিনি মুহাম্মদ (সা) থেকে অধিকতর পূণ্যবান, অধিকতর অঙ্গীকার পালনকারী-
أحت على خير وأسبغ نائلا * إذا راح كاليف الصقيل المهند
যিনি মুহাম্মদ (সা)-এর চেয়ে মঙ্গলের অধিকতর প্রেরণা দানকারী, তাঁর চেয়ে বেশী দাতা, যখন যুদ্ধ বাঁধে, তখন তিনি এমন দ্রুত চলেন, যেমনটি চলে শাণিত ভারতীয় তলোয়ার।
واکسی لبرد الخال قبل ابتذاله * واعطى لرأس السابق المتجرد
নিজে ব্যবহার না করেই যিনি বহুমূল্য ইয়ামানী চাদর অন্যকে পরিয়ে দিতে সর্বাধিক তৎপর এবং দ্রুতগামী বহুমূল্য ঘোড়া দানের ক্ষেত্রে যিনি তাঁর চেয়ে বেশী পারঙ্গম।
و تعلم رسول الله انك مدركي * وان وعيدا منك كالاخذ باليد
হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি জেনে নিন, আমার আপনাকে ছেড়ে যাওয়ার উপায় নেই. আপনি এমনিভাবে আমার পূর্ণ সত্তার উপর প্রভাব বিস্তার করে রেখেছেন। আর আপনার হুঁশিয়ারি যেন সাক্ষাৎ হাতে ধরা।
تعلم رسول الله انك قادر * على كا صرم متهمین و منجد
জেনে নিন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি নিম্নভূমি ও উচ্চভূমির সকল বাড়ির উপরই ক্ষমতাবান (অর্থাৎ সবই আপনার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।)
تعلم بان الركب ركب عويمر * هم الكاذبون المخلفوا كل موعد
আপনি জেনে নিন, আমরের বাচ্চার দলের লোকজন হচ্ছে ঐসব লোক, যারা মিথ্যাচারী এবং প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারী।
ونبوا رسول الله اني هجوته * فلا حملت سوطى الى إذن يدى
তারা রাসূলূল্লাহকে বলেছে যে, আমি নাকি তাঁর নিন্দাবাদ করেছি। যদি তা সত্য হতো, তা হলে আমি যেন নিজ হাতেই নিজেকে বেত্রাঘাত করতাম। (অর্থাৎ তা হতো আমার নিজ হাতে নিজেকে বেত্রাঘাত করা তুল্য।)
سوى انني قد قلت ويل ام فتية * أصيبوا بنحس لا يطلق واسعد
অবশ্য একথা আমি বলেছি যে, ঐসব কিশোর তরুণদের মায়েদের জন্য সর্বনাশ, যারা চরম ভাগ্যবিড়ম্বিতরূপে মারা গেছে। যাদের মধ্যে ছিল না কোন সম্ভাবনা বা সৌভাগ্য।
أصابهم من لم يكن لدمائهم * كفا ، فعزت عبرتي وتبلدی
তাদেরকে এমন সব লোকেরা ধ্বংস করেছে, যারা তাদের প্রাণের বিনিময়েও এদের রক্তপণ শোধের ক্ষমতা রাখে না। (অর্থাৎ তারা তাদের সমকক্ষ নয়) এজন্যেই আমি অশ্রু বহাচ্ছি এবং শোকাকুল ও উদ্বিগ্ন হচ্ছি।
فانك اخفرت ان كنت ساعيا * بعيد ابن عبد الله وابنة مهود
جميعا فإلا تدمع العين أكمد * ذويب وكلثوم وسلمى تتابعوا
আপনি নিঃসন্দেহে প্রতিজ্ঞাভঙ্গ করেছেন, যদি আপনি চেষ্টিত হয়ে থাকেন আব্দ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্, মুহাব্বিদের কন্যা, যুওয়াইব, কূলসূম ও সালমাকে উপর্যুপরি হত্যা করতে। তাদের জন্যে আমার চোখ যদি অশ্রু নাও বহায়, অন্তর তো ব্যথিত হবে অবশ্যই।
وسلمى وسلمى ليس حى كمثله * واخوته وهل ملوك كأعبد
আর সালমা! সালমা হচ্ছে এমন এক ব্যক্তি-যার সমকক্ষ এবং যার ভাইদের সমকক্ষ কোন ব্যক্তি হতে পারে না। আর রাজা বাদশাহরা কি দাসদের মতো হয়? (কখনো তাদের মর্যাদা এক হতে পারে না)
فاني لا دينا فتقت ولا دما * هرقت تبين عالم الحق واقصد
আর না আমি কোন দীনের পর্দা ছিন্ন করেছি, আর না কাউকে হত্যা করে, রক্তপণের দায়িত্ব ঘাড়ে নিয়েছি। আপনি বাস্তব জগৎকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সুসম পথ অবলম্বন করুন!

টিকাঃ
১. ইয়ামান ও এ পথে গমনকারী হাজীদের ইহরাম বাঁধার স্থান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00