📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কা'বার হুরমত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খুতবা

📄 কা'বার হুরমত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খুতবা


ইব্‌ন ইসহাক বলেন: সাঈদ আবু সাঈদ মাকবুরী আমার নিকট আবূ শুরায়হ খুযাঈর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আমর ইবন যুবায়র¹ যখন তাঁর ভাই আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন যুবায়রের সাথে লড়বার উদ্দেশ্যে মক্কায় আসলেন, তখন আমি তার নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম: এসব কী হচ্ছে? রাসূলুল্লাহ (সা)-এর মক্কা বিজয়ের সময় আমরা তাঁর সঙ্গে ছিলাম। মক্কা বিজয়ের পরের দিন বনু খুযাআর লোকজন হুযায়ল গোত্রের এক ব্যক্তির উপর হামলা করে তাকে হত্য করে, অথচ লোকটি মুশরিক ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) সে সম্পর্কে আমাদের সামনে এরূপ খুতবা দেন :
يا ايها الناس ان الله حرم مكة يوم خلق السموات والارض فهى حرام من حرام الى يوم القيامة فلا يحل لامرئ يومن بالله واليوم الآخر ان يسفك فيها دما ولا يعضد فيها شجرا لم تحلل لاحد كان قبلى ولا تحلل لاحد يكون بعدى ولم تحلل لى الا هذه الساعة غضبا على اهلها الا ثم قد رجعت كحرمتها بالامس فليبلغ الشاهد منكم الغائب فمن قال لكم ان رسول الله قاتل فيها فقولوا : ان الله قد احلها لرسوله ولم يحللها لكم يا معشر خذاعة ارفعوا ايديكم عن القتل فقد كثر القتل ان نفع لقد قتلتم قتيلا لا دينه فمن قتل بعد مقامى هذا فاهله بخير النظرين ان شاءوا قدم قاتله وان شاء وا فعقله
হে মানবমণ্ডলী! আল্লাহ্ তা'আলা যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন সেদিনই তিনি মক্কাকে হারাম বা সম্মানিত করেছেন। কিয়ামতের দিন অবধি তা এভাবেই সম্মানিত থাকবে। সুতরাং আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাস পোষণ করে এমন কোন ব্যক্তির পক্ষে এতে রক্তপাত করা বা তার গাছপালা কাটা বৈধ নয়। এসব আমার পূর্ববর্তী কারো জন্য বৈধ করা হয়নি, আর আমার পরবর্তী কারো জন্য কোনদিন বৈধ করা হবে না। এর অধিবাসীদের প্রতি (আল্লাহর) ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ শুধু এ মুহূর্তে আমার জন্যে তা বৈধ করা হয়েছে। ওহে, শুনে রাখ, এর বিগত দিনের মতো আবার এর মর্যাদা (হুরমত) ফিরে এসেছে। সুতরাং তোমাদের যারা উপস্থিত আছে, তারা যেন অনুপস্থিতদেরকে এ পয়গাম পৌঁছিয়ে দেয়। সুতরাং যখন তোমাদের কেউ একথা বলবে যে, আল্লাহর রাসূল তো এখানে লড়াই করেছেন, তখন তোমরা জবাবে বলবে: আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের জন্য তা বৈধ করেছিলেন। তোমাদের জন্য তিনি তা বৈধ করেন নি। হে খুযাআ গোত্রের লোকজন! তোমরা হত্যা ও খুন-খারাবী থেকে তোমাদের হাত গুটিয়ে নাও। খুন-খারাবী ঢের হয়েছে। এতে কোন মঙ্গল নেই। তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছো, আমি তার রক্তপণ শোধ করে দেবো। আমার এ ঘোষণার পর যে ব্যক্তিই নিহত হবে, তার উত্তরাধিকারীদের দু'টি বিকল্প অধিকার থাকবে। তারা যদি চায় তাহলে তার ঘাতকের নিকট থেকে কিসাস গ্রহণ করতে পারবে, (খুনের বদলে খুন)। আর চাইলে তার রক্তপণও আদায় করে নিতে পারবে।
এ খুতবা প্রদানের পর পরেই রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনু খুযাআর ঐ নিহত ব্যক্তিটির রক্তপণ আদায় করে দেন।
(আবূ শুরায়হ এর এ বক্তব্য শোনার পর) আমর বলে উঠলেন: যাও বুড়ো, তোমার কাজে যাও! আমরা এর হুরমত বা মর্যাদা সম্পর্কে তোমার চাইতে বেশীই অবগত আছি। কা'বার মর্যাদা কোন রক্তপাতকারী, আনুগত্য বর্জনকারী এবং জিযিয়া দিতে অস্বীকারকারীর শাস্তি বিধানের অন্তরায় নয়।
তখন আবূ শুরায়হ তার জবাবে বললেন: انى كنت شاهاً وكنت غائبا ولقد أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يبلغ شاهدنا غائبنا وقد ابلغتك وانت وشانك
"আমি সেদিন উপস্থিত ছিলাম, আর আপনি অনুপস্থিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদের উপস্থিতদেরকে আমাদের অনুপস্থিতদের কাছে পয়গাম পৌঁছিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি আপনার কাছে তার সে পয়গামটি পৌঁছিয়ে দিলাম। এবার আপনার করণীয় কি তা আপনিই বুঝুন।"

টিকাঃ
১. আসলে ইনি আমর ইবন যুবায়র ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমর ইবন সাঈদ ইব্‌ন আস। ইব্‌ন যুবায়রের ভাই যেহেতু উমাইয়াদের পক্ষে এবং তাঁর ভাইয়ের বিপক্ষে ছিলেন, এজন্যই ইবন হিশাম বা রাবী বাক্কায়ী এরূপ ধারণা হয়েছে বলে রওযুল উনুফে সুহায়লী অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) সর্বপ্রথম যে রক্তপণ আদায় করেন

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) সর্বপ্রথম যে রক্তপণ আদায় করেন


ইব্‌ন হিশাম বলেন: আমার নিকট এ মর্মে বিবরণ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সর্বপ্রথমে যার রক্তপণ আদায় করেছিলেন সে হচ্ছে জুনায়দাব ইব্‌ন আকওয়া। বনু কা'বের লোকজন তাকে হত্যা করেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) একশ উস্ত্রী দিয়ে তার রক্তপণ আদায় করেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আনসারদের আশংকা

📄 আনসারদের আশংকা


ইব্‌ন হিশাম বলেন: ইয়াহইয়া ইব্‌ন সাঈদ সূত্রে আমি জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) মক্কা বিজয় করে যখন তাতে প্রবেশ করেন, তখন তিনি সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে আল্লাহ্র নিকট দু'আ করতে থাকেন। আনসারগণ তা প্রত্যক্ষ করে তাঁরা পরস্পরে বলাবলি করতে লাগলেন: তোমাদের কী ধারণা, আল্লাহ্ যখন তার ভূমি ও নগরীতে তাঁকে বিজয় দান করেছেন, তখন তিনি কি এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন?
তারপর যখন তিনি দু'আ থেকে নিষ্ক্রান্ত হলেন, তখন তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা এতক্ষণ কী বলাবলি করছিলে? তারা জবাব দিলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কিছুই না। তিনি যখন পীড়াপীড়ি করলেন, তখন তাঁরা সে ব্যাপারটি তাঁকে জানালেন। তখন নবী করীম (সা) বললেন:
معاذ الله المحيا محياكم والممات مماتكم
আল্লাহ্র পানাহ্! জীবনে মরণে আমি তোমাদেরই সাথে থাকবো।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মূর্তি ধ্বংস

📄 মূর্তি ধ্বংস


ইব্‌ন হিশাম বলেন: ইব্‌ন শিহাব যুহরী উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) সূত্রে আমার জনৈক আস্থাভাজন রাবী মারফত আমি জানতে পেরেছি যে, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর বাহনে চড়ে মক্কায় প্রবেশ করেন। তিনি বাহনের উপর সওয়ার অবস্থায়ই বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন। বায়তুল্লাহর চারদিকে তখন শীসা বাঁধানো অনেক মূর্তি ছিল। নবী করীম (সা) তাঁর হস্তস্থিত ছড়ির দ্বারা মূর্তিগুলোর দিকে ইঙ্গিত করতে করতে বলছিলেন:
جاء الحق وزهق الباطل ان الباطل كان زهوقا
"সত্য সমাগত, অসত্য অপসৃত। অসত্য অপসৃয়মানই বটে।"
যে সমস্ত মূর্তির মুখমণ্ডলের দিকে তিনি ইশারা করেন, সেগুলো চিৎ হয়ে আর যেগুলোর পশ্চাৎভাগের দিকে ইশারা করেন, সেগুলো উপুড় হয়ে পড়ে যায়। এভাবে সব ক'টি মূর্তিই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
তামীম ইব্‌ন আসাদ খুযাঈ এ সম্পর্কে তাঁর কবিতায় বলেন:
. وفي الاصنام معتبر وعلم * لمن يرجو الثواب او العقابا
"মূর্তিগুলোর এ পরিণতিতে রয়েছে শিক্ষা তাদের জন্য যারা এগুলোর কাছে শাস্তি বা পুরস্কার আশা করে।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00