📄 ইন্ন হারিসের কৈফিয়তমূলক কবিতা
ইসলাম গ্রহণকালে কবিতার মাধ্যমে নিজের পূর্বের কটু বাক্যের জন্যের কৈফিয়ত পেশ করে তিনি নিম্নরূপ বক্তব্য প্রকাশ করেন:
আপনার জীবনের শপথ, যখন আমি কুফরের ঝাণ্ডা হাতে চেষ্টিত ছিলাম লাত মানাতের ঘোড়-সওয়ারদেরকে মুহাম্মদের ঘোড়সওয়ারদের মুকাবিলায় জয়যুক্ত করার উদ্দেশ্যে, তখন নিঃসন্দেহে আমি ছিলাম ঐ ব্যক্তির তুল্য, যে ঘুঁটঘুটে অন্ধকার রাতে— চারদিকে হাত পা মারছিল।
এখন সে সময়টি এসেছে,
যখন আমাকে হাতে ধরে সঠিক পথে চালিত করা হচ্ছে। আর আমি এখন সঠিক পথের পথিক।
একজন দিশারী আমাকে পথ প্রদর্শন করেছেন, আমার প্রবৃত্তি নয়।
তিনি আমাকে উঠিয়ে দিয়েছেন হিদায়েতের রাজপথে, যার বিরুদ্ধে এতকাল আমি লড়ে এসেছি, তিনি আমাকে যুক্ত করে দিয়েছেন আল্লাহ্র সাথে, যার বিরুদ্ধে আমি প্রাণপণে লড়ে— দিন দিন তাঁকে দূরে— আরো দূরে সরিয়ে দিয়েছি।
আমি সর্বশক্তি নিয়োগ করে মুহাম্মদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতাম এবং তাঁর থেকে দূরে থাকতাম। অথচ মুহাম্মদের সংগে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে আমি এ সম্পর্ক প্রকাশ করতাম না।
তাঁর কথা আর কি বলব! তিনি তো এমন ব্যক্তি, যিনি নিজের ইচ্ছামত কিছুই বলেন না, যদি এরূপ করতেন, তাহলে শুধু তাঁর নিন্দাই করা হতো না, বরং তাঁকে মিথ্যাবাদী বলা হতো।
আমি এখন তাঁকে খুশি করতে চাই এবং প্রতিটি ব্যাপার আমার সম্প্রদায়ের সাথে আর সম্পৃক্ত থাকতে চাই না; যতক্ষণ না আমাকে সঠিক পথের সন্ধান দেওয়া হয়।
সাকীফ গোত্রকে বলে দাও যে, এখন আমি তাদের সাথী হয়ে যুদ্ধ করতে চাই না। তাদের আরো বলে দাও, তারা যেন এখন আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে ধমক দেয়।
আমি সেই সেনাদলে ছিলাম না, যারা আমাদেরকে পাঁকড়াও করেছিল এবং ঐ সেনাদলকে আমি মুখ বা হাতের ইশারায় ডাকিনি।
এরা সেই গোত্র-যারা বহুদূর থেকে এসেছিল, এদের টেনে আনা হয়েছিল, এরা 'সুহাম ও সুরুদ'¹ নামক স্থান থেকে এসেছিল।
তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মাত্রায যাহ্রানে অবতরণ করলেন, আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিব বলেন: তখন আমি মনে মনে বললাম, হায়, ধ্বংস কুরায়শদের! তারা এসে নিরাপত্তার আবেদন জানানোর আগেই যদি রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলপূর্বক মক্কায় ঢুকেই পড়েন, তা হলে কুরায়শরা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন: তারপর আমি রাসূলের সাদা রঙের খচ্চরে চড়ে বসি। তারপরে আমি বেরিয়ে পড়ি এবং আরাক নামক স্থানে এসে পৌঁছি। তখন আমি মনে মনে বলছিলাম: হায়, আমি যদি কোন কাঠুরিয়া, গোয়ালা কিংবা অন্য কাউকে পেতাম, যে মক্কায় গিয়ে কুরায়শদের রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর অবস্থান সম্পর্কে সংবাদ দেবে; যাতে করে অতর্কিতভাবে আক্রান্ত হবার আগেই তারা তাঁর কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানাবে, তা হলে কতই না উত্তম হতো!
আব্বাস (রা) বলেন: আল্লাহর কসম! রাসূলের খচ্চরের পিঠে চড়ে আমি চলছি, আর যে উদ্দেশ্যে আমি বের হয়েছিলাম তার অনুসন্ধান করছি, এমন সময় আমি আবু সুফিয়ান এবং বুদায়ল ইবন ওরকার কথোপকথন শুনতে পেলাম। তখন তারা দু'জনে বাদানুবাদ করছিল। আবু সুফিয়ান বলছিল: আমি এ রাতের মত এত আগুন এত অধিক সংখ্যক লোক-লশকর তো আর কখনো দেখিনি!
আব্বাস বলেন, এর জবাবে বুদায়ল বলছিল: আল্লাহর কসম! এরা খুযাআ গোত্রের লোক, নিশ্চয়ই এরা যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করেছে।
আব্বাস (রা) বলেন: জবাবে আবু সুফিয়ান বলছিল, এ আগুন ও লোক-লশকর বন্ খুযাআর হতেই পারে না। তাদের সংখ্যা ও শক্তি এর চাইতে অনেক কম।
আব্বাস ইব্ন আবদুল (রা) মুত্তালিব বলেন: আবু সুফিয়ানের কণ্ঠস্বর চিনতে পেরে আমি বলে উঠলাম: 'হে আবু হান্যালা' সেও তখন আমার কণ্ঠস্বর চিনতে পারলো। সে বললো আবুল ফযল নাকি? আব্বাস বলেন: তখন আমি বললাম: 'হ্যাঁ।'
সে বললো: 'আমার বাবা-মা তোমার জন্যে কুরবান! তুমি যে এখানে, ব্যাপার কী? আমি বললাম: ধ্বংস হও, হে আবু সুফিয়ান! ঐ চেয়ে দেখ, আল্লাহ্র রাসূলকে লোকজন পরিবেষ্টিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। আল্লাহ্র শপথ! কুরায়শদের ধ্বংস অনিবার্য।
আবু সুফিয়ান বলল: তা হলে এখন উপায়? আমার বাপ-মা তোমার জন্যে কুরবান হোন! আব্বাস বলেন: আমি তখন বললাম, আল্লাহ্র কসম! রাসূলুল্লাহ্ যদি তোমাকে নাগালে পান, তা হলে তরবারি দ্বারা তোমার গর্দান উড়িয়েই তবে ছাড়বেন। তুমি বরং এ খচ্চরের পিঠে চড়ে বসো। আমি তোমাকে আল্লাহ্র রাসূলের নিকট নিয়ে গিয়ে তাঁর কাছে তোমার জন্যে নিরাপত্তার আবেদন জানাই।
আব্বাস (রা) বলেন: সে মতে সে আমার পিছনে খচ্চরের উপর চড়ে বসে। তার সঙ্গীদ্বয় ফিরে চলে যায়। আমি তাকে সঙ্গে নিয়ে চলে এলাম। যখনই আমি মুসলমানদের কোন আগুনের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, তখনই মুসলমানরা পরস্পর বলাবলি করছিল: ইনি কে? যখন তাঁরা আমাকে খচ্চরের পিঠে উপবিষ্ঠ দেখতে পেতো, তখন বলে উঠতো, ওহ্, উনি তো রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর চাচা, তাঁরা খচ্চরে মওয়ার হয়ে যাচ্ছেন। এভাবে আমি উমর ইব্ন খাত্তাব (রা)-এর আগুনের পাশে দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। তিনি বলে উঠলেন: এ লোকটি কে? বলে তিনি দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকাতে লাগলেন। তারপর যখন তিনি বাহনের পিছনে আবু সুফিয়ানকে দেখতে পেলেন, তখন তিনি লাফিয়ে উঠলেন এবং বললেন: এতো আল্লাহ্হ্ দুশমন আবু সুফিয়ান দেখছি! "সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ্, যিনি কোন প্রকার সন্ধিচুক্তি ছাড়াই তাকে আমাদের নাগালের মধ্যে এনে দিয়েছেন।" তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ছুটলেন। আর আমি চাবুক কষে খচ্চরকে উত্তেজিত করে তাঁর আগেই পৌঁছে গেলাম, ঠিক যেমনটি ধীরগতি সম্পন্ন কোন মানুষের আগেই দ্রুতগতির সওয়ারী গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যায়।
আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিব (রা) আরো বলেন: তারপর আমি খচ্চর থেকে নেমে রাসূলুল্লাহ্র কাছে উপস্থিত হলাম। সাথে সাথে উমর (রা)ও সেখানে প্রবেশ করলেন। ঘরে ঢুকেই তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! এই যে আবু সুফিয়ান, কোন প্রকার সন্ধিচুক্তি ছাড়াই আল্লাহ্ তা'আলা একে আমাদের নাগালের মধ্যে দিয়েছেন। অনুমতি হলে আমি এর গর্দানটা উড়িয়ে দেই।
আব্বাস (রা) বলেন: আমি তখন বলে উঠলাম: "ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কিন্তু একে আশ্রয় দিয়েছি।" তারপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর একান্ত পাশ ঘেঁষে বসে তাঁর মাথায় হাত দিয়ে বললাম: আল্লাহ্র কসম, আজকের রাত আমি ছাড়া আর কেউই তার সাথে একান্তে মিলিত হয়নি বা কানাঘুষা করেনি। তারপর আবু সুফিয়ানের ব্যাপারে উমর যখন অনেক কিছু বলে ফেললেন, তখন আমি বললাম: থামো হে উমর, আল্লাহর শপথ, এ ব্যক্তি যদি আদী ইব্ন কা'আব গোত্রের লোক হতো, তাহলে তুমি এতসব বলতে না! কিন্তু তুমি জানো যে, এ আব্দে মানাফ গোত্রের লোক, তাই তোমার এত বাড়াবাড়ি! উত্তরে উমর বললেন: থামো, হে আব্বাস! আল্লাহর কসম, যেদিন তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছিলে, সেদিন তোমার ইসলাম গ্রহণ আমার নিকট (আমার পিতা) খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ অপেক্ষা অধিকতর প্রিয় ছিল। যদি তিনি ইসলাম গ্রহণ করতেন—করেন আমি জানি যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট তোমার ইসলাম গ্রহণ, খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ অপেক্ষা সেদিন প্রিয়তর হতো।
টিকাঃ
১. সুহাম ও সুরুদ ইয়ামানে অবস্থিত দু'টি স্থানের নাম।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) কর্তৃক আবু সুফিয়ানের আশ্রয় দানও তার ইসলাম গ্রহণ
তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আব্বাস, একে আপনি আপনার তাঁবুতে নিয়ে যান। আগামী দিন সকালে একে আমার কাছে নিয়ে আসবেন!
আব্বাস (রা) বলেন: তারপর আমি তাকে আমার তাঁবুতে নিয়ে গেলাম। আমার কাছেই সে রাত্রিযাপন করলো। পরদিন প্রত্যুষে আমি তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমতে হাযির হলাম। আবু সুফিয়ানকে দেখে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: ধ্বংস হও, হে আবু সুফিয়ান! এখনো কি তোমার বোঝার সময় হয়নি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, সে বলল, আপনার প্রতি আমার মা-বাবা কুরবান হোন! আপনি কতনা ধৈর্যশীল, মহানুভব ও আত্মীয় বৎসল! আল্লাহর কসম, আমার এ প্রত্যয় জন্মেছে যে, আল্লাহর সঙ্গে সত্যিই যদি অপর কোন উপাস্য থাকতেনই, তা হলে এ অবস্থায় তিনি আমার কিছু না কিছু উপকার অবশ্যই করতেন।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবার বললেন: আবু সুফিয়ান, এখনো কি তোমার এ কথাটি বুঝবার সময় হলো না যে, আমি আল্লাহ্র সত্য রাসূল?
জবাবে আবু সুফিয়ান বললেন: আমার বাপ-মা আপনার জন্যে কুরবান হোন! আপনি কতই না ধৈর্যশীল, মহানুভব ও আত্মীয় বৎসল! আল্লাহ্র কসম, এ ব্যাপারে অবশ্য এখনো আমার মনে কিছুটা খটকা রয়ে গেছে।
একথা শুনে আব্বাস (রা) বলে উঠলেন: দূর! তুমি এক্ষুণি ইসলাম গ্রহণ কর তো! তোমার গর্দানটা উড়িয়ে দেয়ার আগেই তুমি এমর্মে সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহ্র রাসূল!
আব্বাস (রা) বলেন: তখন আবু সুফিয়ান সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করে ইসলাম গ্রহণ করে। আব্বাস (রা) বলেন: তখন আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আবু সুফিয়ান গৌরবপ্রিয় লোক, তাই আপনি তার জন্যে কোন বিশেষ ব্যবস্থা করুন! তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: হ্যাঁ, যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ!
যে ব্যক্তি নিজের ঘরের দ্বার রুদ্ধ রাখবে সে নিরপদ !! • এবং যে ব্যক্তি মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে, সেও নিরাপদ !!!
📄 আবূ সুফিয়ানের সামনে সৈন্যদের মহড়া
তারপর যখন আবু সুফিয়ান চলে যাওয়ার জন্য রওনা হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আব্বাস, গিরিপর্বতের নিকট উপত্যকার সঙ্কীর্ণ স্থানে একে একটু থামাবেন যাতে করে আল্লাহ্র সৈনিকরা সে পথে অতিক্রমকালে সে তাদেরকে এক নযর দেখতে পায়। আব্বাস (রা) বলেন: তারপর আমি বেরিয়ে পড়ি এবং রাসূলুল্লাহ্র আদেশ অনুসারে উপত্যকার সঙ্কীর্ণ স্থানে তাকে একটু থামাই।
আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিব বলেন: তারপর এক একটি করে গোত্র আপন আপন পতাকা হস্তে পথ অতিক্রম করতে থাকে। যখনই কোন একটি গোত্র অতিক্রম করছিল, তখনই আবূ সুফিয়ান জিজ্ঞাসা করছিল: এরা কারা আব্বাস? আর জবাবে আমি বলছিলাম: এঁরা হচ্ছে সুলায়ম গোত্র! তখন সে বলছিল সুলায়মের সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক! তারপর আরেকটি গোত্র অতিক্রম করলে সে আবার জিজ্ঞাসা করলো আব্বাস! এরা কারা? আমি বললাম: এরা হচ্ছে মুযায়না গোত্র। সে বলে উঠে মুযায়না দিয়ে আমার কী কাজ? এভাবে একে একে সবক'টি গোত্র অতিক্রম করছিল, তখনই সে আমাকে জিজ্ঞাসা করছিল যে, এদের কী পরিচয়? আর আমার থেকে তাদের পরিচয় পেয়ে সে বলছিল এদের সাথে আমার কী সম্পর্ক? অবশেষে সবুজ বাহিনী পরিবেষ্টিত হয়ে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা) অতিক্রম করলেন। ইবন হিশাম বলেন: তাঁদের দেহস্থিত বিপুল লৌহবর্ম এবং রমরমা ভাবের জন্যে তাঁদেরকে 'সবুজ বাহিনী' বলে অভিহিত করা হয়।
ইবন ইসহাক বলেন: এ বাহিনীতে মুহাজির এবং আনসার সাহাবিগণ ছিলেন। তাঁদের সকলেই লৌহবর্ম পরিহিত ছিলেন। তা লক্ষ্য করে আবু সুফিয়ান বলে উঠলেন: সুবহানাল্লাহ্! এরা কারা হে আব্বাস? তিনি বলেন: আমি তখন বললাম: মুহাজির ও আনসার পরিবেষ্টিত আল্লাহর রাসূল! আবু সুফিয়ান বললেন: আল্লাহর কসম! আজ এমন কোন শক্তি নেই যারা এদের মুকাবিলা করতে পারে! তোমার ভাতিজার রাজত্ব তো দেখছি বিশাল আকার ধারণ করেছে, হে আব্বাস! আমি বললাম এ হচ্ছে নবৃওয়াতের শান, হে আবু সুফিয়ান। এটা রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ নয়। সে বললো হ্যাঁ, তুমি যথার্থই বলেছো।
📄 আবূ সুফিয়ানের প্রত্যাবর্তন
আব্বাস (রা) বলেন: তখন আমি বললাম, এবার তুমি জলদি তোমার সম্প্রদায়ের কাছে চলে যাও। আবু সুফিয়ান সে মতে তার সম্প্রদায়ের লোকজনের নিকট উপস্থিত হয়ে উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করলো:
"হে কুরায়শকুল! এই যে মুহাম্মদ তোমাদের মাথার উপর এসে পড়েছেন। তাঁর মুকাবিলা করার শক্তি তোমাদের নেই। সুতরাং যে আবূ সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ!" তার একথা শুনে উতবা তনয়া হিন্দা উঠে দাঁড়াল এবং তার কাছে এসে তার গোঁফ ধরে বললো : اقتلوا الحميت الدسم الاحمس
তোমরা মেরে ফেল! বড় মন্দ নেতা সে। আবু সুফিয়ান বললো: সর্বনাশ হোক্ তোমাদের! এর কথায় তোমরা বিভ্রান্তি হয়ো না! তোমাদের মধ্যে এমন এক মহাশক্তির আগমন ঘটেছে, যার মুকাবিলা করার সাধ্য তোমাদের নেই। যে কেউ আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ!
লোকেরা বলে উঠলো: "আল্লাহ্ তোমাকে ধ্বংস করুন! তোমার ঘর আমাদের কী কাজে আসবে? আর ক'জন লোকেরই বা তোমার ঘরে সংকুলান হবে?" তখন, আবু সুফিয়ান বললো: "যে ব্যক্তি নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকবে, সেও নিরাপদ! আর যে ব্যক্তি মসজিদে (হারাম) প্রবেশ করবে, সেও নিরাপদ !!"
এ ঘোষণা শুনে জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে আপন আপন ঘর ও মসজিদের দিকে ছুটে যায়।