📄 জা'ফর উদ্দেশ্যে হাসান ইন্ন সাবিত (রা)-এর শোকগাথা
আমি অনেক ক্রন্দন করলাম। আর আমার নিকট জা'ফরের হত্যাকাণ্ড ছিল এক অসহনীয় গুরুভার। সৃষ্টি জগতের মধ্যে তিনিই ছিলেন নবীর সর্বাধিক প্রিয়জন।
আমার কাছে যখন জা'ফরের মৃত্যু সংবাদ দেয়া হলো আমি তখন চীৎকার করে বলে উঠলাম : নবীর পতাকা 'উকাব' আর এর ছায়াতলে এখন আর কে লড়বে
জা'ফরের মত অগ্রসেনার ভূমিকা পালন করে— যখন তলোয়ারগুলো হবে নিষ্কোষিত, আর বল্লম উপর্যুপরি নিক্ষিপ্ত হয়ে করবে তার তৃষ্ণা নিবারণ?
ফাতিমার স্বনামধন্য নন্দন জা'ফরের পরে? যিনি সৃষ্টি জগতের সকলের তুলনায় উত্তম কুল-মর্যাদার দিক থেকে এবং সমধিক মর্যাদাবান বদান্যতার দিক থেকে।
অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে যিনি সর্বাধিক আপোষহীন। সত্যের সামনে যিনি সর্বাধিক অবনত মস্তক, অকপটে।
বদান্যতায় যিনি সর্বাধিক মুক্ত হস্ত অশ্লীল কুবাক্য উচ্চারণে সর্বাধিক সকুণ্ঠ, সদাচার অনুষ্ঠানে যিনি সর্বাধিক করিৎকর্মা
তবে একমাত্র নবী মুহাম্মদ (সা) ছাড়া। কেননা, সৃষ্টিজগতে তাঁর তুল্য আর কেউই নেই। সৃষ্টিকূলের মাঝে তিনিই তো সেরা পুরুষ।
📄 মৃতার যুদ্ধের দিন হাসান ইন্ন সাবিতের মর্সিয়া
মৃতার যুদ্ধের দিনে হাসান ইব্ন সাবিত (রা) যায়দ ইবন হারিসা এবং আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-এর জন্য শোক প্রকাশ করে বলেন:
অতিরিক্ত কান্নায় শুকিয়ে যাওয়া অশ্রুধারী হে নয়ন, তোমার এ অশ্রু মোটেও যথেষ্ট নয়— তুমি আরো কাঁদো, আরো অশ্রু বহাও!
অবকাশ মুহূর্তে এ কবরবাসীদের কথা স্মরণ কর। স্মরণ কর মৃতার কথা, আর সেখানকার সে ঘটনাটি— যখন মুসলিম বাহিনী পশ্চাদ অপসরণ করে— পালানোর দুঃসহ ঘটনাটি ঘটেছিল যায়দকে একাকী রণক্ষেত্রে ফেলে।
হায় বেচারা যায়দ! কী উত্তম পরিণতি হলো এ বেচারা বন্দীটির! (শাহাদতের পিয়ালা তিনি পান করলেন!)
মানবকূলের সর্দার— সৃষ্টিকূলের সর্বোত্তম পুরুষের তিনি স্নেহভাজন।
তাঁর প্রতি অনুরাগ প্রতিটি বুকে বিরাজমান। একমাত্র আহমদ নবীই এমন— যাঁর কোন জুড়ি নেই— তাঁর দুঃখশোকে আর আনন্দে, আমরা সর্বাধিক একাত্মতাবোধ করি।
নিঃসন্দেহে যায়দ আমাদের আমীরের দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ দায়িত্ব পালনে তিনি মিথ্যা বা কপটতার আশ্রয় নেননি।
হে আমার অশ্রুপূর্ণ নয়ন!
খাযরাজী আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহার জন্যে অশ্রু বিসর্জনেও তুমি কার্পণ্য করো না।
কেননা, এই খাযরাজী ছিলেন সেখানকার সিপাহসালার আর তিনি চেষ্টার কোন ত্রুটিই করেননি।
তাঁদের শাহাদতের সংবাদটি আমাদের কাছে পৌছে— ভেঙ্গে দিয়েছে আমাদের মনোবল, এখন আমাদের রাত অতিবাহিত হয় বিষাদ আর— আহাজারীর মধ্য দিয়ে।
📄 মৃতা প্রত্যাগত জনৈক মুসলমানের বেদনাগাথা
মৃতার যুদ্ধ-প্রত্যাগত জনৈক মুসলমান তাঁর বেদনাগাঁথা গেয়েছেন এভাবে:
আমার বেদনার্ত থাকার জন্যে এটাই যথেষ্ট যে, আমি ফিরে এসেছি— অথচ জা'ফর, যায়দ ও আবদুল্লাহ্ মৃতা প্রান্তরে সমাধিস্থ হয়ে রইলেন।
তাঁরা শাহাদাতবরণ করে মঞ্জিলে মাকসূদে পৌঁছে গিয়েছেন, আর আমি রয়ে গিয়েছি আরো কঠিন পরীক্ষার জন্যে।
তাঁদের তিন জনকে এগিয়ে নেয়া হলো, আর তাঁরাও স্বচ্ছন্দে এগিয়ে গেলেন— মৃত্যুর কঠিন রক্তিম পথে।
📄 মৃতার যুদ্ধে শহীদান
মৃতার যুদ্ধের শাহীদানের নাম তাঁদের গোত্রের নামসহ নিম্নরূপ:
কুরায়শের শাখা বনূ-হাশিমে: জা'ফর ইব্ন আবূ তালিব (রা) ও যায়দ ইব্ন হারিসা (রা)।
'আদী ইব্ন কা'ব গোত্রের: মাসউদ ইব্ন আসওয়াদ ইবন হারিসা ইব্ন নাযলা (রা)।
মালিক ইব্ন হাসল গোত্রের: ওহাব ইবন সা'দ ইব্ন আবু সারাহ্ (রা)।
আনসারদের হারিস ইব্ন খাযরাজ গোত্রের: আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা (রা) ও আব্বাদ ইব্ন কায়স (রা)।
গানাম ইব্ন মালিক ইব্ন নাজ্জার গোত্রের: হারিস ইব্ন নু'মান ইব্ন আসাফ (রা)।
মাযিন ইব্ন নাজ্জার গোত্রের: সুরাকা ইব্ন আমর ইব্ন আতিয়্যা (রা)।
ইব্ন হিশام বলেন: ইব্ন শিহাব যুহরী মৃতার যে সব শহীদের নাম উল্লেখ করেছেন, তাঁরা হলেন:
মাযিন ইব্ন নাজ্জার গোত্রের: আবূ কুলায়ব ইব্ন আমর ইব্ন যায়দ (রা) ও জাবির ইব্ন আমর ইব্ন যায়দ (রা)। এঁরা দু'জন সহোদর ভাই ছিলেন।
মালিক ইব্ন আক্সা গোত্রের: সা'দ ইব্ন হারিস ইব্ন আব্বাদ এর পুত্রদ্বয় আমর (রা) ও আমির (রা)।
ইব্ন হিশাম বলেন: কোন কোন বর্ণনায় আবূ কুলাব ইব্ন আমর এবং জাবির ইব্ন আমরও বলা হয়েছে। অর্থাৎ আবু কুলায়ব স্থলে আবূ কুলাব।