📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 একই যুদ্ধে তিনজন সেনাপতির নিয়োগ

📄 একই যুদ্ধে তিনজন সেনাপতির নিয়োগ


ইবন ইসহাক বলেন: মুহাম্মদ ইব্‌ন জা'ফর ইবন যুবায়র আমার নিকট উরওয়া ইব্‌ন যুবায়র সূত্রে বর্ণনা করেন, অষ্টম হিজরীতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) মৃতা অভিমুখে একটি অভিযান প্রেরণ করেন। যায়দ ইব্‌ন হারিসা (রা)-কে সে বাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত করে তিনি বলে দিলেন, যায়দ যদি শহীদ হয়ে যায়, তা হলে জা'ফর ইব্‌ন আবূ তালিব সেনাপতির দায়িত্ব পালন করবে, আর জা'ফরও যদি শহীদ হয়ে যায়, তাহলে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহা সেনাপতির দায়িত্ব পালন করবে। যুরকানীর বর্ণনায় এও রয়েছে যে, নবী (সা) বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহাও যদি শহীদ হয়ে যায়, তাহলে মুসলমানরা যেন তাদের মধ্য থেকে একজনকে সেনাপতি নির্ধারণ করে নেয়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহার কবিতা

📄 আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহার কবিতা


যথাসময়ে তিন হাজার মুজাহিদ রসদসামগ্রী নিয়ে রওনা হওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। যাত্রার প্রাক্কালে জনতা রাসূল (সা)-এর সেনাপতিদেরকে একে একে বিদায় সম্বর্ধনা জানালেন। তাঁরা যথারীতি তাঁদেরকে অভিবাদন জানালেন। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)-কে বিদায় জানাবার পালা এলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। তা দেখে লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো: হে ইব্‌ন রাওয়াহা! ব্যাপার কী, আপনি কাঁদছেন কেন?
জবাবে তিনি বললেন: আল্লাহ্র কসম। দুনিয়ার প্রতি আমার কোন মোহ নেই এবং তোমাদের প্রতিও কোন আসক্তি নেই। কাঁদছি এজন্যে যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এমন একটি আয়াত তিলাওয়াত করতে শুনেছি, যাতে জাহান্নামের উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ্ বলেন : وَاِنْ مِّنْكُمْ اِلاَّ وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا অর্থাৎ-"এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে, এ তোমার রবের অনিবার্য সিদ্ধান্ত।" (১৯ : ৭১)
কিন্তু আমি তো এ ব্যাপারে অবগত নই যে, সেখানে অবতরণের পর সেখান থেকে সরে আসতে পারবো কিনা! শুনে উপস্থিত লোকজন সেনাপতি ও সেনাদলের জন্য এরূপ দু'আ করলো : صحبكم الله ودفع عنكم وردكم البنا صالحين -আল্লাহ্ তোমাদের সাথী হোন এবং বিপদাপদ থেকে তোমাদের হিফাযত করুন !! এবং নিরাপদে তোমাদেরকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনুন !!!
তখন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) এ কবিতা আবৃত্তি করলেন :
ولكني اسئل الرحمن مغفرة * وضربة ذات فرغ تقذف الزبدا او طعنة بيدي حران مجهزة * بحرية تنفذ الاحشاء والكبدا حتى يقال اذا مروا على جدثي * ارشده الله من غاز وقد رشدا
অর্থাৎ-কিন্তু আমি পরম দয়ালু আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি মাগফিরাতের আর এমন প্রচণ্ড আঘাতের, যা রক্তের ফোয়ারা বইয়ে দেবে। কিংবা কোন বল্লমের এমন এক আঘাত, যা কলিজা ও নাড়িভুঁড়ি ভেদ করে চলে যাবে। যাতে করে লোকেরা আমার মাযার অতিক্রমকালে বলবে যে, আল্লাহ্ এই গাযীকে হিদায়াত দান করেছেন এবং ইনি হিদায়াতের পথ অবলম্বনও করেছিলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: তারপর লোকজন যাত্রার জন্যে প্রস্তুত হলে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমতে হাযির হলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে বিদায় সম্ভাষণ জানালে তিনি কবিতার ছন্দে বললেন :
فثبت الله ما اتاك من حسن * تثبیت موسى ونصرا كالذي نصروا انى تفرست فيك الخير نافلة * الله يعلم اني ثابت البصر انت الرسول فمن يحرم نوافله * والوجه منه فقد ازرى به القدر

অর্থাৎ, আল্লাহ্ আপনাকে যে কল্যাণ দান করেছেন (ইয়া রাসূলাল্লাহ্!) তাতে তিনি আপনাকে অবিচল রাখুন। যেমনটি অবিচল রেখেছিলেন মূসা (আ)-কে। আর তিনি আপনাকে সেরূপ সাহায্যও করুন যেরূপ সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছিলেন আপনার পূর্বসূরী নবী রাসূলগণ।
আমি আমার প্রজ্ঞা দ্বারা একথা সুস্পষ্টভাবে অনুধাবন করেছি যে, আপনার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ ও মঙ্গল রয়েছে। আর আল্লাহ্ সম্যক অবগত, আমি যা বলছি বুঝে শুনেই বলছি।
আপনি আল্লাহ্র রাসূল। অতএব যে ব্যক্তি নবীর বদান্যতা ও সন্তুষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে, বঞ্চনা এবং লাঞ্ছনাই হবে তার ললাট লিখন।
ইবন হিশাম বলেন: জনৈক কাব্যবিশারদ পংক্তিগুলো আমাকে এভাবে শুনিয়েছেন: انت الرسول فمن يحرم نوافله * والوجه منه فقد ازرى به القدر في المرسلين ونصرا كا الذي نصروا ثبت الله ما اتاك من حسن * فراسة خالفت فيك الذي نظروا انى تفرست فيك الخير نافلة *
অর্থাৎ-আপনি আল্লাহর রাসূল। যে ব্যক্তি নবীর দান ও সন্তুষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে, দূর্ভাগ্য তাকে অপদস্থ করেই ছাড়বে। রাসূলদের মধ্যে আল্লাহ্ প্রদত্ত আপনার গুণাবলী সুপ্রমাণিত এবং পূর্ববর্তী নবী রাসূলগণের ন্যায় আপনাকেও আল্লাহ্ তা'আলা পদেপদে সাহায্য করেছেন। আমার দিব্যজ্ঞানে আমি বুঝতে পেরেছি যে, আপনার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ ও মঙ্গল নিহিত রয়েছে। আমার এ অভিজ্ঞতা আপনার ব্যাপারে মুশরিকদের দৃষ্টিভঙ্গির সম্পূর্ণ বিপরীত।
ইবন ইসহাক বলেন: অবশেষে মুজাহিদ বাহিনী রওনা হন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও তাদেরকে বিদায় জানানোর জন্যে বের হয়ে আসেন। বিদায় দিয়ে তিনি ফিরে আসলে আবদুল্লাহ্ ইবন রাওয়াহা (রা) কবিতার ছন্দে বললেন: خلف السلام على امراً ودعته * في النخل خير مشيع وخليك
"আমাদের চলে যাওয়ার পর শান্তি বর্ষিত হোক সে মহান ব্যক্তির প্রতি—খেজুর বাগানে যাকে আমি বিদায় জানিয়েছি। তিনি সর্বোত্তম বিদায় সম্ভাষণকারী এবং সর্বোত্তম বন্ধু।"
তারপর এ মুসলিম বাহিনী রওনা হয়ে যায় এবং সিরিয়ার মাআন নামক স্থানে গিয়ে পৌছে। এমন সময় মুসলমানগণ জানতে পারলেন যে, হিরাক্লিয়াস বালকা অঞ্চলের মাআব নামক স্থানে এক লক্ষ রোমক সৈন্য নিয়ে অবস্থান করছে। এদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে লাখম, জুযাম, কায়ন, বাহ্রা ও বিল্লী গোত্রের আরও এক লাখ সৈন্য। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছে মালিক ইবন যাফিলা নামক এক ব্যক্তি। এ খবর পেয়ে মুসলমানরা সেখানে দু'রাত অবস্থান করেন এবং চিন্তাভাবনা করে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করেন যে, পত্র লিখে আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে আমাদের শত্রুদের সংখ্যা সম্পর্কে অবহিত করা উচিত। তিনি হয়ত আরো সৈন্য পাঠিয়ে আমাদের সাহায্য করবেন, কিংবা অন্য কোন নির্দেশ দিবেন। তখন আমরা সে মতে কাজ করব।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 শাহাদতের আগ্রহ

📄 শাহাদতের আগ্রহ


ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করতে বীরত্বব্যঞ্জক এক ভাষণ দেন। তাতে তিনি বলেন:
"লোকসকল! আল্লাহর কসম, এখন তোমরা যা অপসন্দ করছো, সে শাহাদত লাভের উদ্দেশ্যেই তোমরা কিন্তু বেরিয়ে এসেছো। আমরা মুসলমানরা সংখ্যা, শক্তি ও আধিক্যের জোরে লড়াই করি না। সে দীনের জন্যে আমাদের লড়াই, যার দ্বারা আল্লাহ্ আমাদেরকে গৌরবান্বিত করেছেন। অতএব, সম্মুখপানে অগ্রসর হও! দু'টি কল্যাণের একটি আমাদের জন্য অবশ্যম্ভাবী, হয় বিজয়, নয় শাহাদত।
বর্ণনাকরী বলেন: তাঁর এ তেজোদীপ্ত ভাষণ শুনে সকলে বলে উঠলো: সত্যিই তো, ইব্‌ন রাওয়াহা যথার্থই বলেছেন।
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহার কবিতা তারা থমকে দাঁড়ালে তিনি তাঁর কবিতায় বললেন:
جلبنا الخيل من اجاء وفرع * تغر من الحشيش لها العكوم حذوناها من الصوان سبتا * ازل كأن صفحته اديم اقامت ليلتين على معان * فاعقب بعد فترتها جموم
"আজা ও ফারার গিরিকন্দর থেকে আমরা সে সব অশ্ব নিয়ে বের হয়েছি, যেগুলোকে খাওয়ানো হয় বোঝা বোঝা ঘাস এবং যেগুলোর পায়ে আমরা পরিয়ে দিয়েছি এমন লৌহ পাদুকা যার উপরিভাগ অত্যন্ত মসৃণ এবং চর্মের ন্যায় কোমল। মাআন নামক স্থানে দু'রাত অবস্থান করার পর দুর্বলতা ও স্থবিরতা দূর হয়ে এগুলোর মধ্যে জেগে উঠে নতুন উদ্যম।
فرحنا والجياد مسومات * تنفس في مناخرها السموم فلا وابي مآب لنأتينها * وان كانت بها عرب وروم
তারপর শুরু হয় আমাদের অভিযাত্রা। আমাদের চিহ্নিত অশ্বগুলো তখন নাসারন্ধে গ্রহণ করছিল উষ্ণবায়ু। আমি শপথ করে বলছি, প্রতিপক্ষ আরবের হোক অথবা রোমেরই হোক, মাআবে আমরা পৌঁছবই।
فعبأنا اعنتها فجاءت * عوابس والغبار لها بريم بذى لجب كأن البيض فيه * اذا برزت قوانسها النجوم
তারপর আমরা অশ্বগুলো বাগ টেনে ধরি। ফলে, সেগুলো অত্যন্ত অনীহা সত্ত্বেও, অপ্রসন্ন মুখে এবং ধূলি-ধূসরিত অশ্রুচোখে থমকে দাঁড়ায়।
এসব অশ্ব এমন বিরাট বাহিনীর সাথে এসেছে, যাদের শিরস্ত্রাণগুলো নক্ষত্রমালার মতো চমকাচ্ছিলো।

অবশেষে বিলাসমত্ত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত মহিলাদেরকে আমাদের বল্লমসমূহ তালাক দিয়ে দিল। এবার তারা ইচ্ছা করলে দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারে অথবা বিধবার জীবনও অতিবাহিত করতে পারে।
ইন হিশাম বলেন: অন্য বর্ণনায় আছে : جلنا الخيل من اجاء فرح এবং ... فعبانا اعنتها পংক্তি দু'টি ইবন ইসহাক বর্ণিত নয়, অন্যের বর্ণিত।
শাহাদতের আগ্রহ
ইবন ইসহাক বলেন: তারপর মুসলমানরা সম্মুখপানে অগ্রসর হয়। এ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ বকর আমার কাছে জনৈক রাবী সূত্রে যায়দ ইব্‌ন আরকাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন: আমি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহার পোষ্য ইয়াতীম ছিলাম। সে সফরে তিনি আমাকেও সঙ্গে করে নিয়ে যান। আমাকে তাঁর বাহনের হাওদার পিছনে বসিয়ে নিয়ে তিনি চলতে শুরু করেন। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, তখন ছিল রাতের বেলা। চলার পথে তিনি কতকগুলো পংক্তি সুর করে গেয়ে চলেছিলেন আর আমি তন্ময় হয়ে তা শুনছিলাম। সে পংক্তিগুলো ছিল এরূপ:
اذا اديتني وحملت رحلی * مسيرة اربع بعد الحساء فشأنك انعم وخلاك ذم * ولا ارجع الى اهلي وراثي "হে নক্স! যখন তুমি তোমার হক আদায় করেছ এবং কঙ্করময় ভূমি অতিক্রম করার পর, চার দিনের সফরের জন্যে আমার হাওদা বোঝাই করে দিয়েছ তখন তোমার জন্যে রয়েছে অনেক নিয়ামত। এর অন্যথা করলে তুমি হবে নিন্দনীয়। আমি আর আমার পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে যাবো না।
بارض الشام مشتهى الثواء وجاء المسلمون وغادرونی * وردك كل ذي نسب قريب * الى الرحمن منقطع الاخاء ولا نخل اسا فلها رواء هنالك لا ابالي طلع بعل * এসব মুসলমান আমাকে সিরিয়ার মাটিতে আমার কাঙ্ক্ষিত শাহাদতস্থলে আমাকে রেখে যেতে এসেছে।
হে আমার নক্স, হে আমার মন, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করে আমার আত্মীয়-স্বজনরা তোকে দয়াময় আল্লাহর হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে। তথায় না কোন নবোক্কুরিত চারাগাছের পরোয়া থাকবে, না থাকবে সবুজ-শ্যামল খেজুর বাগানের পরোয়া, যার শাখাসমূহকে ঝুঁকিয়ে ঝুঁকিয়ে আমি তার ফল চয়ন করবো। (পার্থিব সকল মোহ থেকে আমি মুক্ত থাকবো।)"
যায়দ ইব্‌ন আরকাম বলেন: তাঁর এ পংক্তিগুলো শুনে আমি কেঁদে ফেলি। তিনি আমাকে তাঁর হস্তস্থিত চাংক দ্বারা মৃদু খোঁচা দিয়ে বললেন: বোকা কোথাকার, তোমার এতে অসুবিধাটা কি যে, আল্লাহ্ আমাকে শাহাদত দান করবেন, আর তুমি আমার বাহনের সামনে পেছনে যেখানে ইচ্ছা বসে ঘরে ফিরে যাবে?
ইবন ইসহাক বলেন: তারপর সে সফরেরই কোন এক পর্যায়ে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহা এ পংক্তিটিও সুর করে গাইলেন: يا زيد زيد العملات الذبل * تطاول الليل هديت فانزل হে যায়দ-ঐ সব দ্রুতগামী উষ্ট্রীর মালিক যায়দ-যেগুলো উপর্যুপরি সফরে দুর্বল, কাহিল হয়ে পড়েছে। অনেক রাত হয়ে গেছে। তোমাকে সরল পথ প্রদর্শন করা হোক, সত্বর তুমি নেমে পড় (এবং লড়াই শুরু করে আমার শাহাদতের আকাঙক্ষা পূরণ করে দাও!)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রোমকবাহিনী এবং তাদের মিত্রদের সাথে সম্মুখযুদ্ধ

📄 রোমকবাহিনী এবং তাদের মিত্রদের সাথে সম্মুখযুদ্ধ


যায়দ ইব্‌ন হারিসা (রা) মুসলিম বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হয়ে মা'আন নামক স্থানে অবতরণ করেন। এ সময় তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা সংবাদ পেলেন যে, হিরাক্লিয়াস এক লক্ষ রোমক সৈন্য এবং লাখ্‌ম, জুযام, কায়ন, বাহরা ও বালী প্রভৃতি গোত্রের এক লক্ষ আরব সৈন্যসহ মাআব নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেছেন। মুসলিম বাহিনী যখন এ সংবাদ পেলেন তখন তাঁরা মা'আনে দুই রাত অপেক্ষা করলেন। তারপর তাঁরা পরস্পর পরামর্শ করলেন। কেউ কেউ বললেন: আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে পত্র মারফত আমাদের শত্রু সৈন্যের সংখ্যাধিক্যের কথা অবহিত করি। তিনি হয় আমাদের সাহায্যের জন্য অতিরিক্ত সৈন্য প্রেরণ করবেন, অথবা অন্য কোন নির্দেশ দেবেন, আমরা তা পালন করবো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00