📄 মায়মূনা (রা)-এর সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিবাহ
রাসূলুল্লাহ্ (সা) এ সফরেই মায়মূনা বিন্ত হারিস হিলালীকে বিবাহ করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর চাচা আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিব এ বিবাহ পড়ান। তিনি ছিলেন মায়মূনার বৈপিত্রেয় বোন উম্মুল ফযলের স্বামী।
ইবন হিশাম বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর আযাদকৃত গোলাম আবূ রাফি'কে আব্বাসের নিকট এ মর্মে প্রেরণ করেন যে, তিনি যেন তাঁর সাথে মায়মূনার বিবাহ পড়ান।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবান ইবন সালিহ্ বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মক্কায় উমরাতুল কাযা পালন করতে আসেন, তখন মায়মূনা বিধবা ছিলেন। তাঁর স্বামী ছিলেন আবূ রুহম ইব্ন আবদুল উযযা ইব্ন আবূ কায়স। আবান বলেন: জনৈক বর্ণনাকারী আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) মায়মূনার পাণিপ্রার্থী হয়ে লোক পাঠান। তখন মায়মূনা তাঁর ব্যাপারটি তাঁর বোন উম্মুল ফযলের হাতে ন্যস্ত করেন। উম্মুল ফযল এ ব্যাপারে তাঁর স্বামী আব্বাসের সাথে পরামর্শ করেন এবং আব্বাস রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে তাঁর বিবাহ দিয়ে দেন।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মক্কা থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য কুরায়শদের চাপ
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) মক্কায় তিন দিন অবস্থান করেন। চতুর্থ দিন সকালে কুরায়শদের কতিপয় নেতা যথা—সুহায়ল ইব্ন আমর, হুওয়ায়তিব ইব্ন আবদুল উযযা প্রমুখ তাঁর কাছে হাযির হন। ইতোপূর্বে কুরায়শ সরদারগণ তাদের একত্রিত করেছিলেন। তারা এসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বললো: এবার আপনার সময় সীমা শেষ হয়ে গেছে। সুতরাং আমাদের এখান থেকে চলে যান। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁদের বললেন: আর সামান্য সময় যদি আমাকে এখানে থাকতে দিতে, যাতে আমি তোমাদের মধ্যে বিবাহ করে নেই এবং তোমাদের জন্যে আমরা খানা-পিনার আয়োজন করি, তা হলে তোমাদের এমন কী অসুবিধা হতো। তখন তারা বললো: আপনার খানা-পিনার কোন প্রয়োজন আমাদের নেই, আপনি আমাদের এখান থেকে চলে যান।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) চলে যাওয়ার হুকুম দিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে লোকজনও বেরিয়ে পড়লো। তিনি তাঁর আযাদকৃত গোলাম আবূ রাফি'কে আগে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি মায়মূনা (রা)-কে সাথে নিয়ে সারিক নামক স্থানে গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে মিলিত হলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখানে তাঁর সাথে বাসর উদযাপন করেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখান থেকে যাত্রা করেন। এমন কি শেষ পর্যন্ত তিনি মদীনায় এসে উপনীত হন।
📄 উমরাতুল কথা সম্পর্কে নাযিলকৃত কুরআনের আয়াত
আমার নিকট ইয়াহইয়া ইব্ন আব্বাদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন যুবায়র তাঁর পিতার সূত্রে আব্বাদ আমার নিকট বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: উমরাতুল কাযা সম্পর্কেই আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
الشَّهْرُ الْحَرَامُ بِالشَّهْرِ الْحَرَامِ وَالْحُرُمَاتُ قِصَاصٌ
“হারাম মাস হারাম মাসেরই অনুরূপ, আর পবিত্র বিষয়সমূহ পরস্পরের জন্যে সমান। (২ : ১৯৪)
অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমাদেরকে হারাম মাসে প্রবেশ করার অধিকার দিয়েছেন; যেমনটি তোমরাও তাঁকে হারাম মাসে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছিলে। অতঃপর তোমরা পরস্পর সমান সমান হলে।