📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবান ইবন সাঈদের কবিতা

📄 আবান ইবন সাঈদের কবিতা


আমর ইব্‌ন সাঈদ এবং খালিদ ইব্‌ন সাঈদ ভ্রাতৃদ্বয় যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তাঁদের সহোদর আবান ইব্‌ন সাঈদ তাঁর কবিতায় বলেন: হায়, যরীবায় সমাহিত ব্যক্তিটি যদি দেখতে পেতেন, আমর ও খালিদ ধর্মের ব্যাপারে কী এক জঘন্য অপপ্রচারে মেতে উঠেছে! তারা আমাদের ব্যাপারে নারী সুলভ আচরণ— অবলম্বন করেছে।
এরা আমাদের শত্রুদের মদদ যুগিয়ে যাচ্ছে, যাদের পক্ষ থেকে আমাদেরকে অনেক লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করতে হচ্ছে!
উল্লেখ্য, তাঁদের তিনজনের পিতা সাঈদ ইব্‌ন 'আস তায়েফের নিকটবর্তী যারীবা নামক স্থানে তাঁর একটি খামার বাড়িতে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিলেন। যারীবার সমাহিত ব্যক্তিটি বলে তাঁরই দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

আমর ইব্‌ন সাঈদ এবং খালিদ ইব্‌ন সাঈদ ভ্রাতৃদ্বয় যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তাঁদের সহোদর আবান ইব্‌ন সাঈদ তাঁর কবিতায় বলেন: হায়, যরীবায় সমাহিত ব্যক্তিটি যদি দেখতে পেতেন, আমর ও খালিদ ধর্মের ব্যাপারে কী এক জঘন্য অপপ্রচারে মেতে উঠেছে! তারা আমাদের ব্যাপারে নারী সুলভ আচরণ— অবলম্বন করেছে।
এরা আমাদের শত্রুদের মদদ যুগিয়ে যাচ্ছে, যাদের পক্ষ থেকে আমাদেরকে অনেক লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করতে হচ্ছে!
উল্লেখ্য, তাঁদের তিনজনের পিতা সাঈদ ইব্‌ন 'আস তায়েফের নিকটবর্তী যারীবা নামক স্থানে তাঁর একটি খামার বাড়িতে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিলেন। যারীবার সমাহিত ব্যক্তিটি বলে তাঁরই দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খালিদ ইব্‌ন সাঈদ তার জবাবে বলেন

📄 খালিদ ইব্‌ন সাঈদ তার জবাবে বলেন


*আমার ভাইটি তো ভাই নয়, তার আচরণ নয় ভ্রাতৃ সুলভ। আমি তার ইজ্জত আক্রর উপর, উচ্চ-বাচ্যকারী বা কলঙ্ক লেপনকারী নই। তিনি কিন্তু কটু বাক্যে একটুও কার্পণ্যকারী নন, যখন তাঁর সঙ্কট কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠে—
তখন তিনি বলে উঠেন: হায়, যদি যরীবার মৃত ব্যক্তিটি পুনর্জীবিত হতেন, (আর প্রত্যক্ষ করতেন তার পুত্রধনদের কাণ্ডকারখানা) তাঁর কথা ছেড়ে দাও ভাইটি, তিনি তো চলে গেছেন তাঁর পথে— (ঐ সুদূরে) অদূরের এ ব্যক্তিটির দিকে— তুমি মনোনিবেশ কর! (দেখ, তোমার নিজের প্রতি) যে (মনোযোগের) অধিকতর মুখাপেক্ষী। (মৃত ব্যক্তির কথা না ভেবে নিজের চরকায় তেল দাও! (এক) একটু ভেবে-চিন্তে দেখ, তোমার নিজের হবেটা কী!)
মুআইকিব ইব্‌ন আবূ ফাতিমা-মুসলমানদের বায়তুল মালের দায়িত্ব পালনকারী উমর ইবন খাত্তাবের খাজাঞ্চী। ইনি সাঈদ ইব্‌ন 'আসের খান্দানের সাথে থাকবেন।
আবূ মূসা আশআরী আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন কায়স-ইনি উতবা ইব্‌ন রবী'আ ইব্‌ন আব্দ শামসের খান্দানের সাথে চুক্তিবদ্ধ মিত্র ছিলেন। এঁরা ছিলেন মোট চারজন।
বনু আসাদ ইবন আবদুল উয্যা ইবন কুসাই থেকে: আসওয়াদ ইব্‌ন নাওফাল ইব্‌ন খুয়ায়লিদ। (একজন)
বনু আবদুদ্দার ইবন কুসাই থেকে: জাহাশ ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আব্দ শুরাহবীল-তাঁর সাথে আমর ইব্‌ন জাহাশ ও খুযায়মা ইব্‌ন জাহাশ তাঁর পুত্রদ্বয় ছিলেন। উম্মু হারমালা বিন্ত আসওয়াদ- তাঁর স্ত্রী। এই স্ত্রী ও পুত্রদ্বয় আবিসিনিয়ায় থাকা অবস্থায়ই মৃত্যুমুখে পতিত হন। (একজন)
বনু যুহরা ইবন কিলাব থেকে: আমির ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাস ও উতবা ইবন মাসউদ-হুযায়ল গোত্রীয় 'আসেরের মিত্র। (দুইজন)
বনু তায়ম ইবন মুররা ইবন কা'ব থেকে: হারিস ইবুন খালিদ ইবন সাখর, তাঁর সাথে তাঁর স্ত্রী রীতা বিন্ত হারিস ইব্‌ন জুবায়লাও ছিলেন, যিনি আবিসিনিয়ায়ই ইন্তিকাল করেছিলেন। (একজন)
বনু জুমাহ ইবন আমর ইবন হাসীস ইবন কা'ব থেকে: মাহমিয়া ইব্‌ন জুযা-ইনি যুবায়দ গোত্রের মিত্র ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে পাঁচ জনের একটি জামাআতের আমীর করে পাঠিয়েছিলেন। (একজন)
বনু আদী ইবন কা'ব ইবন জুয়াই থেকে: মামার ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন নায়লা। (একজন)
বনু আমির ইবন লুয়াই ইব্‌ন গালিব থেকে: আবু হাতিব ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আব্দ শাম্স মালিক ইব্‌ন রবী'আ ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আব্দ শামস তাঁয় সাথে ছিলেন- 'উমরা বিন্ত সা'দী ইব্‌ন ওয়াকদান ইব্‌ন আব্দ শাস। (দুইজন পুরুষ)

*আমার ভাইটি তো ভাই নয়, তার আচরণ নয় ভ্রাতৃ সুলভ। আমি তার ইজ্জত আক্রর উপর, উচ্চ-বাচ্যকারী বা কলঙ্ক লেপনকারী নই। তিনি কিন্তু কটু বাক্যে একটুও কার্পণ্যকারী নন, যখন তাঁর সঙ্কট কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠে—
তখন তিনি বলে উঠেন: হায়, যদি যরীবার মৃত ব্যক্তিটি পুনর্জীবিত হতেন, (আর প্রত্যক্ষ করতেন তার পুত্রধনদের কাণ্ডকারখানা) তাঁর কথা ছেড়ে দাও ভাইটি, তিনি তো চলে গেছেন তাঁর পথে— (ঐ সুদূরে) অদূরের এ ব্যক্তিটির দিকে— তুমি মনোনিবেশ কর! (দেখ, তোমার নিজের প্রতি) যে (মনোযোগের) অধিকতর মুখাপেক্ষী। (মৃত ব্যক্তির কথা না ভেবে নিজের চরকায় তেল দাও! (এক) একটু ভেবে-চিন্তে দেখ, তোমার নিজের হবেটা কী!)
মুআইকিব ইব্‌ন আবূ ফাতিমা-মুসলমানদের বায়তুল মালের দায়িত্ব পালনকারী উমর ইবন খাত্তাবের খাজাঞ্চী। ইনি সাঈদ ইব্‌ন 'আসের খান্দানের সাথে থাকবেন।
আবূ মূসা আশআরী আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন কায়স-ইনি উতবা ইব্‌ন রবী'আ ইব্‌ন আব্দ শামসের খান্দানের সাথে চুক্তিবদ্ধ মিত্র ছিলেন। এঁরা ছিলেন মোট চারজন।
বনু আসাদ ইবন আবদুল উয্যা ইবন কুসাই থেকে: আসওয়াদ ইব্‌ন নাওফাল ইব্‌ন খুয়ায়লিদ। (একজন)
বনু আবদুদ্দার ইবন কুসাই থেকে: জাহাশ ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আব্দ শুরাহবীল-তাঁর সাথে আমর ইব্‌ন জাহাশ ও খুযায়মা ইব্‌ন জাহাশ তাঁর পুত্রদ্বয় ছিলেন। উম্মু হারমালা বিন্ত আসওয়াদ- তাঁর স্ত্রী। এই স্ত্রী ও পুত্রদ্বয় আবিসিনিয়ায় থাকা অবস্থায়ই মৃত্যুমুখে পতিত হন। (একজন)
বনু যুহরা ইবন কিলাব থেকে: আমির ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাস ও উতবা ইবন মাসউদ-হুযায়ল গোত্রীয় 'আসেরের মিত্র। (দুইজন)
বনু তায়ম ইবন মুররা ইবন কা'ব থেকে: হারিস ইবুন খালিদ ইবন সাখর, তাঁর সাথে তাঁর স্ত্রী রীতা বিন্ত হারিস ইব্‌ন জুবায়লাও ছিলেন, যিনি আবিসিনিয়ায়ই ইন্তিকাল করেছিলেন। (একজন)
বনু জুমাহ ইবন আমর ইবন হাসীস ইবন কা'ব থেকে: মাহমিয়া ইব্‌ন জুযা-ইনি যুবায়দ গোত্রের মিত্র ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে পাঁচ জনের একটি জামাআতের আমীর করে পাঠিয়েছিলেন। (একজন)
বনু আদী ইবন কা'ব ইবন জুয়াই থেকে: মামার ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন নায়লা। (একজন)
বনু আমির ইবন লুয়াই ইব্‌ন গালিব থেকে: আবু হাতিব ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আব্দ শাম্স মালিক ইব্‌ন রবী'আ ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আব্দ শামস তাঁয় সাথে ছিলেন- 'উমরা বিন্ত সা'দী ইব্‌ন ওয়াকদান ইব্‌ন আব্দ শাস। (দুইজন পুরুষ)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবিসিনিয়ায় গমনকারী অবশিষ্ট মুহাজিরগণ যাঁরা পরে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন

📄 আবিসিনিয়ায় গমনকারী অবশিষ্ট মুহাজিরগণ যাঁরা পরে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন


বনু হারিস ইব্‌ন ফিহির ইব্‌ন মালিক থেকে : হারিস ইব্‌ন আব্দ কায়স ইব্‌ন লকীত। (একজন)
যে দু'টি জাহাজে করে আবিসিনিয়া থেকে মুহাজিরগণকে নিয়ে আসা হয়, তাতে আবিসিনিয়ায় মৃত্যুবরণকারী মুহাজিরগণের স্ত্রীরা ও ছিলেন।
উপরোল্লিখিত ব্যক্তিগণকে নাজ্জাশী দুইটি জাহাজে করে আমর ইব্‌ন উমাইয়া যামরীর সাথে পাঠিয়ে দিয়ে ছিলেন। সুতরাং দুইটি জাহাজে করে যারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমতে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাঁদের মোট সংখ্যা ছিল ১৬ জন পুরুষ।
আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী যে সব মুহাজির বদরের পূর্বে প্রত্যাবর্তন করেন নি এবং যাদেরকে নাজ্জাশী দু'টি জাহাজে করে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট প্রেরণ করেন নি, আর যাঁরা তার পরবর্তীকালে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন এবং যাঁরা আবিসিনিয়ায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিলেন তাঁদের নামের তালিকা ও বংশ পরিচয় নিম্নরূপ :
বনু উমাইয়া ইব্‌ন আব্দ শামস ইব্‌ন আবদ মান্নাফ থেকে : উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন জাহাশ ইব্‌ন রিআব আসাদী, আসলে এ ব্যক্তি ছিল বনু উমাইয়া ইব্‌ন আব্দ শামসের মিত্র। তার সাথে তার সহধর্মিণী উম্মু হাবীবা বিন্ত আবু সুফিয়ান ও কন্যা হাবীবা বিন্ত উবায়দুল্লাহও ছিলেন। এ হাবীবার মা হিসাবেই উম্মু হাবীবা উপনামের খ্যাতি নতুবা আসলে তার নাম ছিল 'রামালা'। উবায়দুল্লাহ্ মুসলমানদের সাথে মুসলমান রূপেই আবিসিনিয়ায় গেলেও, সেদেশের ভূমিতে পদার্পণ করেই এ ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করে খৃস্টান হয়ে যায় এবং খৃস্টানরূপেই সেখানে তার জীবনাবসান হয়। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) উন্মু হাবীবা বিন্ত আবু সুফিয়ানের পাণি গ্রহণ করেন।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: মুহাম্মদ ইব্‌ন জা'ফর ইব্‌ন যুবায়র উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন জাহাশ मुसलमानों সাথে মুসলমান রূপে হিজরত করলেও আবিসিনিয়ার ভূমিতে পদার্পণ করেই সে খৃস্ট ধর্মে দীক্ষিত হয়। তারপর যখনই রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কোন মুসলমান সাহাবীর নিকট দিয়ে সে পথ অতিক্রম করতো। তখন সে বলত : فَتَحْنَا وَصَأْوَصَأْتُمْ আমাদের চোখ খুলে গেছে, আর তোমরা এখনো সত্যের সন্ধানে রয়েছো, তোমাদের চোখ এখনো খুলেনি। এটা এরূপ যেমনটি হয় কুকুর ছানাদের বেলায়। কুকুর ছানা যখনই চোখ খুলতে চায়, তখনই তা বন্ধ হয়ে যায়। সে তার নিজের এবং তাঁদের জন্যে এ উপমা ব্যবহারের দ্বারা একথা বুঝাবার চেষ্টা করতো যে, তার চোখ খুলেছে বলেই সে যথার্থ সত্যের সন্ধান পেয়ে গেছে। মুসলমানদের চোখ বন্ধ বলেই তারা সত্য উপলব্ধির জন্য চেষ্টা করলেও তাদের চোখে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, এ জন্যে তাঁরা এখনও সত্যের সন্ধান পাননি।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন (এ দলে আরো ছিলেন) : কায়স ইব্‌ন আবদুল্লাহ্-ইনি বনু আসাদ ইব্‌ন খুযায়মার একজন। তিনি উম্মু হাবীবার সঙ্গিনী উমাইয়া বিন্ত কায়সের পিতা। তাঁর স্ত্রী বারাকা বিন্ত ইয়াসার হচ্ছেন আবু সুফিয়ান ইব্‌ন হারবের আযাদকৃত দাসী। তাঁরা দু'জন ছিলেন উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন জাহাশ ও উম্মু হাবীবা বিন্ত আবু সুফিয়ানের স্তন্যদাত্রী। সুতরাং তাঁরা দু'জন যখন আবিসিনিয়া অভিমুখে বের হন, তখন ঐ দু'জনকেও তাঁরা সঙ্গে নিয়ে যান (মোট ২ জন)।
বনু আসাদ ইবন আব্দ উয্যা ইন্ন কুসাই থেকে: 7 * ইয়াযীদ ইব্‌ন যামআ ইব্‌ন আসওয়াদ ইব্‌ন মুত্তালিব ইব্‌ন আসাদ। তিনি হুনায়ন দিবসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে থেকে যুদ্ধ করে শাহাদাত বরণ করেন।
* উমর ইবন উমাইয়া ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন আসাদ ইনি আবিসিনিয়ায় ইন্তিকাল করেন (মোট ২ জন)।
বনু আবদুদদার ইবন কুসাই থেকে: আবু রুম ইব্‌ন উমায়র ইবন হাশিম ইব্‌ন হাশিম ইব্‌ন আব্দ মান্নাফ ইব্‌ন আবদুদ্দার, ফিরায় ইব্‌ন নযর ইবন হারিস ইব্‌ন কালদা ইব্‌ন আলকা ইব্‌ন আব্দ মান্নাফ ইব্‌ন আবদুদ্দার (২ জন)।
বনু যুহরা ইবন কিলাব ইবন মুরা থেকে: মুত্তালিব ইব্‌ন আযহার ইব্‌ন আব্দ আওফ ইব্‌ন আব্দ ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন যুহরা-তাঁর সাথে তাঁর স্ত্রী রামালা বিন্ত আবূ আওফ ইবুন যুবায়রা ইবন সাঈদ ইবন সা'দ ইব্‌ন সাহম। ইনি আবিসিনিয়ায় ইন্তিকাল করেন। তাঁর স্ত্রী সেখানে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব নামক এক পুত্র সন্তান প্রসব করেন। ইসলামের ইতিহাসে এ সন্তানই সর্বপ্রথম পিতার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হন (১ জন)।
বনু তায়মা ইবন মুরা ইবন কা'ব ইবন লুয়াঈ থেকে: আমর ইবন উসমান ইব্‌ন আমর ইব্‌ন কা'ব ইবন সা'দ ইব্‌ তায়ম-ইনি কাদিসিয়ায় যুদ্ধের সময় সা'দ ইব্‌ন আবু ওযাক্কাসের সহযোদ্ধারূপে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হন (১ জন)।
বনু মাখযুম ইবন ইয়াকয়া ইবন মুরা ইবন কা'ব থেকে: হাব্বার ইব্‌ন সুফিয়ান ইব্‌ন আবদুল আসাদ-ইনি আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর খিলাফত আমলে শাম দেশের আজনাদাইনে শাহাদত বরণ করেন। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সুফিয়ান ইনি পূর্বোক্ত হাব্বারের সহোদর। ইয়ারমুকের যুদ্ধে শামদেশে উমর ফারুকের শাসনামলে শাহাদত বরণ করেন। কিন্তু তিনি সেখানে শহীদ হয়েছিলেন কিনা তাতে সন্দেহ রয়েছে। হিশাম ইব্‌ আবূ হুযায়ফা ইব্‌ন মুগীরা (মোট ৩ জন)।
বনু জুমাহ ইবন আমার ইবন হুসায়স ইবন কা'ব থেকে হাতিব ইন্ন হারিস ইবন মামার ইবন হাবীর ইব্‌ন ওয়াহাব ইবন হুযাফা ইব্‌ন জুমাহ্। তাঁর সাথে মুহাম্মদ ও হারিস উপরোক্ত হাতিবের পুত্রদ্বয়। হাতিবের সাথে তাঁর স্ত্রী ফাতিমা বিন্ত মুজাল্লালও ছিলেন। হাতিব সে দেশেই মুসলমান রূপে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর স্ত্রী ও পুত্রদ্বয় নাজ্জাশী প্রেরিত জাহাজ দু'টির মধ্যে একটির যাত্রী ছিলেন। হাত্তাব ইব্‌ন হারিস উপরোক্ত হাতিবের সহোদর। সাথে তাঁর স্ত্রী ফুকায়হা ও বিন্ত ইয়াসারও ছিলেন। হাত্তাবও মুসলমানরূপে আবিসিনিয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর স্ত্রীও উক্ত দু'জাহাজের মধ্যে একটি জাহাজে করে ফিরে আসেন। সুফিয়ান ইব্‌ন মামার ইবন হাবীব-তাঁর দুই পুত্র জুমাদা ও জাবির এবং তাঁদের মা হুসনা, সাথে তাঁদের বৈপেত্ৰেয় তাই শুরাহবিল ইবন হুসনাও ছিলেন। সুফিয়ান এবং তাঁর পুত্রদ্বয়-জুনাফা ও জাবির উমর (রা)-এর খিলাফতকালে ইন্তিকাল করেন। (মোট ৬ জন)
বনু সাহম ইবন আমর ইবন হুসায়স ইবন কা'ব থেকে: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আদী ইবন সা'দ ইব্‌ন সাহম কবি। ইনি আবিসিনিয়ায় ইন্তিকাল করেন। কায়স ইবন হুযাফা ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আদী ইবন সা'দ ইব্‌ন সাহম। আবু কায়স ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আদী ইবন সা'দ ইব্‌ন সাহম-ইনি আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর খিলাফত আমলে ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হুযাফা ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন সাহম ইনি পারস্য সম্রাট কিসরার দরবারে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দূত রূপে গিয়েছিলেন। হারিস ইবন হারিস ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আদী। বিশর ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আদী। মামার ইবন হারিস ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আদী। সাঈদ ইব্‌ন আমর-ইনি হারিস ইবন হারিসের বৈপেত্ৰেয় তামীম বংশীয় ভাই। আবূ বকর (রা)-এর খিলাফত আমলে আজনাদাইনের যুদ্ধে ইনি শহীদ হন। সাঈদ ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন কায়স উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর খিলাফত আমলে ইয়ারমুকের যুদ্ধের ইনি শহীদ হন। সাইব ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন কায়স রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে তায়েফে ইনি আহত হয়েছিলেন। উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর খিলাফাত-আমলে ফাহলে' তিনি শাহাদত বরণ করেন। কেউ কেউ বলেন, ইনি খায়বরের যুদ্ধে নিহত হন। এতেও সন্দেহ আছে। উমায়র ইব্‌ন রিয়াব ইবন হুযায়ফা ইব্‌ন মাহশাম ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন সাহম-ইনি আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর শাসনামলে খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদের সহযোদ্ধারূপে ইয়ামামার যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে ফেরার পথে আইনূত তামার নামক স্থানে শাহাদত বরণ করেন (মোট ১১ জন)।
বনু আদী ইবন কা'ব ইব্‌ন লুয়াঈ থেকে: উরওয়া ইব্‌ন আবদুল উয্যা ইবন হুরদান ইব্‌ন আওফ ইবন উবায়দ ইব্‌ন উয়ায়জ ইব্‌ন আদী ইব্‌ন কা'ব-ইনি হাবשায় ইন্তিকাল করেন। সাদী ইব্‌ন নাফ্লা ইব্‌ন আবদুল উয্যা ইব্‌ন হুরছান-ইনিও হাকשাতেই মৃত্যু মুখে পতিত হন (মোট ২ জন)।
আদীর সাথে তাঁর পুত্র নু'মানও ছিলেন। হাবশা থেকে প্রত্যাবর্তনকারী মুসলমানদের সাথে তিনিও ফিরে এসেছিলেন। উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর খিলাফত আমলে তিনি তাঁকে মীসান নামক স্থানের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিলেন। এ স্থানটি বসরায় অবস্থিত। তিনি তার কবিতার পংক্তিতে লাস্যময়ী নারী ও সুরা সাকী প্রভৃতি অনাকাংক্ষিত ব্যাপারে তাঁর নিজ উচ্ছ্বাস-আবেগ প্রভৃতি প্রকাশ করার পর বলেন:
لعل أمير المؤمنين يسوه تنادمنا في الجوسق المتهدم .
আমীরুল মু'মিনীন সম্ভবত: এটা পছন্দ করবেন না, তিনি হয়ত: আমাকে ভগ্ন দুর্গে আটকে তিরস্কৃত করবেন। যখন উমর (রা)-এর নিকট এ কবিতার খবর পৌঁছলো, তখন তিনি বললেন:
نعم والله ان ذلك يسونى فمن لقيه فليخبره اني قد عز لته
হ্যাঁ হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! এটা আমার কাছে অত্যন্ত খারাপ লেগেছে। যারই তার সাথে সাক্ষাৎ হবে, সে যেন তাকে জানিয়ে দেয় যে, আমি তাকে বরখাস্ত করেছি।
এরপর সত্যি সত্যি তিনি তাঁকে পদচ্যুত করেন। তারপর সাইব আমীরুল মু'মিনীনের দরবারে হাযির হয়ে অজুহাত পেশ করে বলেন: আল্লাহর কসম, হে আমীরুল মু'মিনীন! আমি যা বলেছি বলে আপনি সংবাদ পেয়েছেন, তার কিছুই আমি কার্যত করিনি। আমি একজন কবি মানুষ। নেহায়েত কবি সুলভ কল্পনাবশে আমি কিছু বাড়তি কথাবার্তা বলেছি, যা সাধারণত: কবিরা করেই থাকে, এতে আমার দোষ নেবেন না। তখন উমর (রা) তাঁকে লক্ষ্য করে বলেন:
وايم الله لا تعمل لي على عمل ما بقيت وقد قلت ما قلت
আল্লাহর কসম! আমি যতদিন বেঁচে আছি, তোমাকে আর কোন দায়িত্ব কাজে নিযুক্ত করবো না। তোমরা যা বলার তা তো তুমি বললে।
বনু আমির ইবন লুয়াই ইব্‌ন গালিব ইবন ফিহির থেকে: সালীত ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আব্দ শাম্স ইব্‌ন আব্দ উদ্দ ইব্‌ন নসর ইবন মালিক ইব্‌ন হিস্স ইন আমির এঁকেই রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর দূত রূপে ইয়ামামার শাসক হুয়া ইব্‌ন আলী হানাফী-এর দরবারে প্রেরণ করেছিলেন (১ জন)।
বন হারিছ ইবন ফিহির ইবন মালিক থেকে: উসমান ইব্‌ন গানাম ইব্‌ন যুহায়র ইব্‌ন আবূ শাদ্দাদ, সা'দ ইব্‌ন আব্দ কায়স ইন লকীত ইব্‌ন আমির ইবন উমাইয়া ইবন হারিস ইব্‌ন ফিহির ও ইয়ায ইব্‌ন যুহায়র ইব্‌ন আবূ শাদ্দাদ (মোট ৩ জন)।
সুতরাং আবিসিনিয়ায় গমনকারী সেসব মুহাজির মক্কায় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকটে এসে পৌঁছাতে পারেন নি বা বদর যুদ্ধেও অংশ গ্রহণ করতে পারেনি, যারা বদর যুদ্ধের পরে আসেন এবং উপরে উক্ত নাজ্জাশী প্রেরিত জাহাজ দু'টিতেও আসেননি, তাঁদের সংখ্যা মোট চৌত্রিশ জন ছিল।

টিকাঃ
১. দামেস্কের নিকটবর্তী একটি স্থান। দামেস্ক বিজয়ের এক বছর পর রোমকদের সাথে এখানে مسلمانوں একটি সংর্ঘষ হয়েছিল।

বনু হারিস ইব্‌ন ফিহির ইব্‌ন মালিক থেকে : হারিস ইব্‌ন আব্দ কায়স ইব্‌ন লকীত। (একজন)
যে দু'টি জাহাজে করে আবিসিনিয়া থেকে মুহাজিরগণকে নিয়ে আসা হয়, তাতে আবিসিনিয়ায় মৃত্যুবরণকারী মুহাজিরগণের স্ত্রীরা ও ছিলেন।
উপরোল্লিখিত ব্যক্তিগণকে নাজ্জাশী দুইটি জাহাজে করে আমর ইব্‌ন উমাইয়া যামরীর সাথে পাঠিয়ে দিয়ে ছিলেন। সুতরাং দুইটি জাহাজে করে যারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমতে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাঁদের মোট সংখ্যা ছিল ১৬ জন পুরুষ।
আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী যে সব মুহাজির বদরের পূর্বে প্রত্যাবর্তন করেন নি এবং যাদেরকে নাজ্জাশী দু'টি জাহাজে করে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট প্রেরণ করেন নি, আর যাঁরা তার পরবর্তীকালে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন এবং যাঁরা আবিসিনিয়ায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিলেন তাঁদের নামের তালিকা ও বংশ পরিচয় নিম্নরূপ :
বনু উমাইয়া ইব্‌ন আব্দ শামস ইব্‌ন আবদ মান্নাফ থেকে : উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন জাহাশ ইব্‌ন রিআব আসাদী, আসলে এ ব্যক্তি ছিল বনু উমাইয়া ইব্‌ন আব্দ শামসের মিত্র। তার সাথে তার সহধর্মিণী উম্মু হাবীবা বিন্ত আবু সুফিয়ান ও কন্যা হাবীবা বিন্ত উবায়দুল্লাহও ছিলেন। এ হাবীবার মা হিসাবেই উম্মু হাবীবা উপনামের খ্যাতি নতুবা আসলে তার নাম ছিল 'রামালা'। উবায়দুল্লাহ্ মুসলমানদের সাথে মুসলমান রূপেই আবিসিনিয়ায় গেলেও, সেদেশের ভূমিতে পদার্পণ করেই এ ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করে খৃস্টান হয়ে যায় এবং খৃস্টানরূপেই সেখানে তার জীবনাবসান হয়। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) উন্মু হাবীবা বিন্ত আবু সুফিয়ানের পাণি গ্রহণ করেন।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: মুহাম্মদ ইব্‌ন জা'ফর ইব্‌ন যুবায়র উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন জাহাশ मुसलमानों সাথে মুসলমান রূপে হিজরত করলেও আবিসিনিয়ার ভূমিতে পদার্পণ করেই সে খৃস্ট ধর্মে দীক্ষিত হয়। তারপর যখনই রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কোন মুসলমান সাহাবীর নিকট দিয়ে সে পথ অতিক্রম করতো। তখন সে বলত : فَتَحْنَا وَصَأْوَصَأْتُمْ আমাদের চোখ খুলে গেছে, আর তোমরা এখনো সত্যের সন্ধানে রয়েছো, তোমাদের চোখ এখনো খুলেনি। এটা এরূপ যেমনটি হয় কুকুর ছানাদের বেলায়। কুকুর ছানা যখনই চোখ খুলতে চায়, তখনই তা বন্ধ হয়ে যায়। সে তার নিজের এবং তাঁদের জন্যে এ উপমা ব্যবহারের দ্বারা একথা বুঝাবার চেষ্টা করতো যে, তার চোখ খুলেছে বলেই সে যথার্থ সত্যের সন্ধান পেয়ে গেছে। মুসলমানদের চোখ বন্ধ বলেই তারা সত্য উপলব্ধির জন্য চেষ্টা করলেও তাদের চোখে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, এ জন্যে তাঁরা এখনও সত্যের সন্ধান পাননি।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন (এ দলে আরো ছিলেন) : কায়স ইব্‌ন আবদুল্লাহ্-ইনি বনু আসাদ ইব্‌ন খুযায়মার একজন। তিনি উম্মু হাবীবার সঙ্গিনী উমাইয়া বিন্ত কায়সের পিতা। তাঁর স্ত্রী বারাকা বিন্ত ইয়াসার হচ্ছেন আবু সুফিয়ান ইব্‌ন হারবের আযাদকৃত দাসী। তাঁরা দু'জন ছিলেন উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন জাহাশ ও উম্মু হাবীবা বিন্ত আবু সুফিয়ানের স্তন্যদাত্রী। সুতরাং তাঁরা দু'জন যখন আবিসিনিয়া অভিমুখে বের হন, তখন ঐ দু'জনকেও তাঁরা সঙ্গে নিয়ে যান (মোট ২ জন)।
বনু আসাদ ইবন আব্দ উয্যা ইন্ন কুসাই থেকে: 7 * ইয়াযীদ ইব্‌ন যামআ ইব্‌ন আসওয়াদ ইব্‌ন মুত্তালিব ইব্‌ন আসাদ। তিনি হুনায়ন দিবসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে থেকে যুদ্ধ করে শাহাদাত বরণ করেন।
* উমর ইবন উমাইয়া ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন আসাদ ইনি আবিসিনিয়ায় ইন্তিকাল করেন (মোট ২ জন)।
বনু আবদুদদার ইবন কুসাই থেকে: আবু রুম ইব্‌ন উমায়র ইবন হাশিম ইব্‌ন হাশিম ইব্‌ন আব্দ মান্নাফ ইব্‌ন আবদুদ্দার, ফিরায় ইব্‌ন নযর ইবন হারিস ইব্‌ন কালদা ইব্‌ন আলকা ইব্‌ন আব্দ মান্নাফ ইব্‌ন আবদুদ্দার (২ জন)।
বনু যুহরা ইবন কিলাব ইবন মুরা থেকে: মুত্তালিব ইব্‌ন আযহার ইব্‌ন আব্দ আওফ ইব্‌ন আব্দ ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন যুহরা-তাঁর সাথে তাঁর স্ত্রী রামালা বিন্ত আবূ আওফ ইবুন যুবায়রা ইবন সাঈদ ইবন সা'দ ইব্‌ন সাহম। ইনি আবিসিনিয়ায় ইন্তিকাল করেন। তাঁর স্ত্রী সেখানে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব নামক এক পুত্র সন্তান প্রসব করেন। ইসলামের ইতিহাসে এ সন্তানই সর্বপ্রথম পিতার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হন (১ জন)।
বনু তায়মা ইবন মুরা ইবন কা'ব ইবন লুয়াঈ থেকে: আমর ইবন উসমান ইব্‌ন আমর ইব্‌ন কা'ব ইবন সা'দ ইব্‌ তায়ম-ইনি কাদিসিয়ায় যুদ্ধের সময় সা'দ ইব্‌ন আবু ওযাক্কাসের সহযোদ্ধারূপে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হন (১ জন)।
বনু মাখযুম ইবন ইয়াকয়া ইবন মুরা ইবন কা'ব থেকে: হাব্বার ইব্‌ন সুফিয়ান ইব্‌ন আবদুল আসাদ-ইনি আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর খিলাফত আমলে শাম দেশের আজনাদাইনে শাহাদত বরণ করেন। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সুফিয়ান ইনি পূর্বোক্ত হাব্বারের সহোদর। ইয়ারমুকের যুদ্ধে শামদেশে উমর ফারুকের শাসনামলে শাহাদত বরণ করেন। কিন্তু তিনি সেখানে শহীদ হয়েছিলেন কিনা তাতে সন্দেহ রয়েছে। হিশাম ইব্‌ আবূ হুযায়ফা ইব্‌ন মুগীরা (মোট ৩ জন)।
বনু জুমাহ ইবন আমার ইবন হুসায়স ইবন কা'ব থেকে হাতিব ইন্ন হারিস ইবন মামার ইবন হাবীর ইব্‌ন ওয়াহাব ইবন হুযাফা ইব্‌ন জুমাহ্। তাঁর সাথে মুহাম্মদ ও হারিস উপরোক্ত হাতিবের পুত্রদ্বয়। হাতিবের সাথে তাঁর স্ত্রী ফাতিমা বিন্ত মুজাল্লালও ছিলেন। হাতিব সে দেশেই মুসলমান রূপে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর স্ত্রী ও পুত্রদ্বয় নাজ্জাশী প্রেরিত জাহাজ দু'টির মধ্যে একটির যাত্রী ছিলেন। হাত্তাব ইব্‌ন হারিস উপরোক্ত হাতিবের সহোদর। সাথে তাঁর স্ত্রী ফুকায়হা ও বিন্ত ইয়াসারও ছিলেন। হাত্তাবও মুসলমানরূপে আবিসিনিয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর স্ত্রীও উক্ত দু'জাহাজের মধ্যে একটি জাহাজে করে ফিরে আসেন। সুফিয়ান ইব্‌ন মামার ইবন হাবীব-তাঁর দুই পুত্র জুমাদা ও জাবির এবং তাঁদের মা হুসনা, সাথে তাঁদের বৈপেত্ৰেয় তাই শুরাহবিল ইবন হুসনাও ছিলেন। সুফিয়ান এবং তাঁর পুত্রদ্বয়-জুনাফা ও জাবির উমর (রা)-এর খিলাফতকালে ইন্তিকাল করেন। (মোট ৬ জন)
বনু সাহম ইবন আমর ইবন হুসায়স ইবন কা'ব থেকে: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আদী ইবন সা'দ ইব্‌ন সাহম কবি। ইনি আবিসিনিয়ায় ইন্তিকাল করেন। কায়স ইবন হুযাফা ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আদী ইবন সা'দ ইব্‌ন সাহম। আবু কায়স ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আদী ইবন সা'দ ইব্‌ন সাহম-ইনি আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর খিলাফত আমলে ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হুযাফা ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন সাহম ইনি পারস্য সম্রাট কিসরার দরবারে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দূত রূপে গিয়েছিলেন। হারিস ইবন হারিস ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আদী। বিশর ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আদী। মামার ইবন হারিস ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আদী। সাঈদ ইব্‌ন আমর-ইনি হারিস ইবন হারিসের বৈপেত্ৰেয় তামীম বংশীয় ভাই। আবূ বকর (রা)-এর খিলাফত আমলে আজনাদাইনের যুদ্ধে ইনি শহীদ হন। সাঈদ ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন কায়স উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর খিলাফত আমলে ইয়ারমুকের যুদ্ধের ইনি শহীদ হন। সাইব ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন কায়স রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে তায়েফে ইনি আহত হয়েছিলেন। উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর খিলাফাত-আমলে ফাহলে' তিনি শাহাদত বরণ করেন। কেউ কেউ বলেন, ইনি খায়বরের যুদ্ধে নিহত হন। এতেও সন্দেহ আছে। উমায়র ইব্‌ন রিয়াব ইবন হুযায়ফা ইব্‌ন মাহশাম ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন সাহম-ইনি আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর শাসনামলে খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদের সহযোদ্ধারূপে ইয়ামামার যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে ফেরার পথে আইনূত তামার নামক স্থানে শাহাদত বরণ করেন (মোট ১১ জন)।
বনু আদী ইবন কা'ব ইব্‌ন লুয়াঈ থেকে: উরওয়া ইব্‌ন আবদুল উয্যা ইবন হুরদান ইব্‌ন আওফ ইবন উবায়দ ইব্‌ন উয়ায়জ ইব্‌ন আদী ইব্‌ন কা'ব-ইনি হাবשায় ইন্তিকাল করেন। সাদী ইব্‌ন নাফ্লা ইব্‌ন আবদুল উয্যা ইব্‌ন হুরছান-ইনিও হাকשাতেই মৃত্যু মুখে পতিত হন (মোট ২ জন)।
আদীর সাথে তাঁর পুত্র নু'মানও ছিলেন। হাবশা থেকে প্রত্যাবর্তনকারী মুসলমানদের সাথে তিনিও ফিরে এসেছিলেন। উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর খিলাফত আমলে তিনি তাঁকে মীসান নামক স্থানের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিলেন। এ স্থানটি বসরায় অবস্থিত। তিনি তার কবিতার পংক্তিতে লাস্যময়ী নারী ও সুরা সাকী প্রভৃতি অনাকাংক্ষিত ব্যাপারে তাঁর নিজ উচ্ছ্বাস-আবেগ প্রভৃতি প্রকাশ করার পর বলেন:
لعل أمير المؤمنين يسوه تنادمنا في الجوسق المتهدم .
আমীরুল মু'মিনীন সম্ভবত: এটা পছন্দ করবেন না, তিনি হয়ত: আমাকে ভগ্ন দুর্গে আটকে তিরস্কৃত করবেন। যখন উমর (রা)-এর নিকট এ কবিতার খবর পৌঁছলো, তখন তিনি বললেন:
نعم والله ان ذلك يسونى فمن لقيه فليخبره اني قد عز لته
হ্যাঁ হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! এটা আমার কাছে অত্যন্ত খারাপ লেগেছে। যারই তার সাথে সাক্ষাৎ হবে, সে যেন তাকে জানিয়ে দেয় যে, আমি তাকে বরখাস্ত করেছি।
এরপর সত্যি সত্যি তিনি তাঁকে পদচ্যুত করেন। তারপর সাইব আমীরুল মু'মিনীনের দরবারে হাযির হয়ে অজুহাত পেশ করে বলেন: আল্লাহর কসম, হে আমীরুল মু'মিনীন! আমি যা বলেছি বলে আপনি সংবাদ পেয়েছেন, তার কিছুই আমি কার্যত করিনি। আমি একজন কবি মানুষ। নেহায়েত কবি সুলভ কল্পনাবশে আমি কিছু বাড়তি কথাবার্তা বলেছি, যা সাধারণত: কবিরা করেই থাকে, এতে আমার দোষ নেবেন না। তখন উমর (রা) তাঁকে লক্ষ্য করে বলেন:
وايم الله لا تعمل لي على عمل ما بقيت وقد قلت ما قلت
আল্লাহর কসম! আমি যতদিন বেঁচে আছি, তোমাকে আর কোন দায়িত্ব কাজে নিযুক্ত করবো না। তোমরা যা বলার তা তো তুমি বললে।
বনু আমির ইবন লুয়াই ইব্‌ন গালিব ইবন ফিহির থেকে: সালীত ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আব্দ শাম্স ইব্‌ন আব্দ উদ্দ ইব্‌ন নসর ইবন মালিক ইব্‌ন হিস্স ইন আমির এঁকেই রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর দূত রূপে ইয়ামামার শাসক হুয়া ইব্‌ন আলী হানাফী-এর দরবারে প্রেরণ করেছিলেন (১ জন)।
বন হারিছ ইবন ফিহির ইবন মালিক থেকে: উসমান ইব্‌ন গানাম ইব্‌ন যুহায়র ইব্‌ন আবূ শাদ্দাদ, সা'দ ইব্‌ন আব্দ কায়স ইন লকীত ইব্‌ন আমির ইবন উমাইয়া ইবন হারিস ইব্‌ন ফিহির ও ইয়ায ইব্‌ন যুহায়র ইব্‌ন আবূ শাদ্দাদ (মোট ৩ জন)।
সুতরাং আবিসিনিয়ায় গমনকারী সেসব মুহাজির মক্কায় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকটে এসে পৌঁছাতে পারেন নি বা বদর যুদ্ধেও অংশ গ্রহণ করতে পারেনি, যারা বদর যুদ্ধের পরে আসেন এবং উপরে উক্ত নাজ্জাশী প্রেরিত জাহাজ দু'টিতেও আসেননি, তাঁদের সংখ্যা মোট চৌত্রিশ জন ছিল।

টিকাঃ
১. দামেস্কের নিকটবর্তী একটি স্থান। দামেস্ক বিজয়ের এক বছর পর রোমকদের সাথে এখানে مسلمانوں একটি সংর্ঘষ হয়েছিল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হাবশাতে মৃতুবরণকারী মুহাজিরীন

📄 হাবশাতে মৃতুবরণকারী মুহাজিরীন


হাবশাতে যে সব মুহাজির বা তাঁদের সন্তানরা ইন্তিকাল করেন, তাঁদের তালিকা নিম্নে প্রদত্ত হলো:
বনু আব্দ শাম্স ইবন আবদ মান্নাফ থেকে: উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন জাহাশ ইব্‌ন রিয়াব বন উমাইয়ার মিত্র। যে খৃস্টানরূপে সেখানে মারা যায়।
বনু আসাদ ইব্‌ন আব্দ উজ্জা ইবন কুসাই থেকে: আমর ইবন উমাইয়া ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন আসাদ।
বনু জুমাহ থেকে: হাতিব ইব্‌ন হারিস ও তাঁর ভাই হাত্তাব ইবন হারিস।
বনু সাহম ইবন আমর ইবন হুসায়স ইব্‌ন কা'ব থেকে: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিস ইবন কায়স।
বনু আদী ইবন কা'ব ইব্‌ন লুয়াই থেকে: উরওয়া ইব্‌ন আব্দুল উয্যা ইব্‌ন হুরসান ইব্‌ন আওফ আদী ইব্‌ন নাযলা (মোট ৭ জন)।

হাবশাতে যে সব মুহাজির বা তাঁদের সন্তানরা ইন্তিকাল করেন, তাঁদের তালিকা নিম্নে প্রদত্ত হলো:
বনু আব্দ শাম্স ইবন আবদ মান্নাফ থেকে: উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন জাহাশ ইব্‌ন রিয়াব বন উমাইয়ার মিত্র। যে খৃস্টানরূপে সেখানে মারা যায়।
বনু আসাদ ইব্‌ন আব্দ উজ্জা ইবন কুসাই থেকে: আমর ইবন উমাইয়া ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন আসাদ।
বনু জুমাহ থেকে: হাতিব ইব্‌ন হারিস ও তাঁর ভাই হাত্তাব ইবন হারিস।
বনু সাহম ইবন আমর ইবন হুসায়স ইব্‌ন কা'ব থেকে: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিস ইবন কায়স।
বনু আদী ইবন কা'ব ইব্‌ন লুয়াই থেকে: উরওয়া ইব্‌ন আব্দুল উয্যা ইব্‌ন হুরসান ইব্‌ন আওফ আদী ইব্‌ন নাযলা (মোট ৭ জন)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00