📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 অনুমানের ভিত্তিতে ভাগাভাগি

📄 অনুমানের ভিত্তিতে ভাগাভাগি


আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবদুল্লাহ্ ইবন রাওয়াহাকে খায়বরে এ উদ্দেশ্যে প্রেরণ করতেন যে, তিনি যেন ইয়াহূদী ও مسلمانوں মধ্যে ওজন বা মাপ ব্যতিরেকেই অনুমানের ভিত্তিতে শস্য ভাগাভাগি করেন। তিনি সেমতে অনুমানভিত্তিক ভাগাভাগি করতেন। যদি কোন ক্ষেত্রে ইয়াহুদীরা আপত্তি উত্থাপন করে বলতো যে, আমাদের উপর যুলুম করে ফেললেন বা আপনাদের অংশে বেশি নিয়ে নিয়েছেন, তখন তিনি বলতেন: ঠিক আছে, তোমরা চাইলে অংশ বদল করে তোমাদের অংশ আমাদেরকে দিতে পার, তখন তারা বলে উঠতো:
بهذا قامت السموات والارض
"এই ইনসাফ ও ভারসাম্যের কারণেই আসমান-যমীন কায়েম রয়েছে।"
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহা এক বছর এই অনুমান ভিত্তিক ভাগাভাগির দায়িত্ব পালন করেন। তারপর মুতার যুদ্ধে তিনি শাহাদত লাভ করেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। তারপর জাব্বার ইব্‌ন সাখর ইব্‌ন উমাইয়া ইব্‌ন খানসা, যিনি বনূ সালামার লোক ছিলেন, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহার স্থলাভিষিক্ত হন এবং এ দায়িত্ব পালন করতে থাকেন।

আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবদুল্লাহ্ ইবন রাওয়াহাকে খায়বরে এ উদ্দেশ্যে প্রেরণ করতেন যে, তিনি যেন ইয়াহূদী ও مسلمانوں মধ্যে ওজন বা মাপ ব্যতিরেকেই অনুমানের ভিত্তিতে শস্য ভাগাভাগি করেন। তিনি সেমতে অনুমানভিত্তিক ভাগাভাগি করতেন। যদি কোন ক্ষেত্রে ইয়াহুদীরা আপত্তি উত্থাপন করে বলতো যে, আমাদের উপর যুলুম করে ফেললেন বা আপনাদের অংশে বেশি নিয়ে নিয়েছেন, তখন তিনি বলতেন: ঠিক আছে, তোমরা চাইলে অংশ বদল করে তোমাদের অংশ আমাদেরকে দিতে পার, তখন তারা বলে উঠতো:
بهذا قامت السموات والارض
"এই ইনসাফ ও ভারসাম্যের কারণেই আসমান-যমীন কায়েম রয়েছে।"
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহা এক বছর এই অনুমান ভিত্তিক ভাগাভাগির দায়িত্ব পালন করেন। তারপর মুতার যুদ্ধে তিনি শাহাদত লাভ করেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। তারপর জাব্বার ইব্‌ন সাখর ইব্‌ন উমাইয়া ইব্‌ন খানসা, যিনি বনূ সালামার লোক ছিলেন, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহার স্থলাভিষিক্ত হন এবং এ দায়িত্ব পালন করতে থাকেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহলের হত্যাকাণ্ড

📄 আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহলের হত্যাকাণ্ড


ইয়াহুদীদের সংগের ব্যাপারটি এভাবে চলতে থাকে। মুসলমানরা তাদের মধ্যে এ ব্যাপারে আপত্তিকর কিছু প্রত্যক্ষ করেননি। শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আমলেই আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহলের সাথে তারা বাড়াবাড়ি করে, এমন কি তারা তাঁকে হত্যা করে ফেলে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) এবং মুসলমানগণ এ ব্যাপারে ইয়াহুদীদেরকে অভিযুক্ত করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: যুহরী আমার নিকট সাহল ইব্‌ন আবূ হাসমার সূত্রে এবং বশীর ইবন ইয়াসার, বনূ হারিসার আযাদকৃত গোলাম-আমার নিকট সাহল ইব্‌ন আবু হাসমা থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহলকে খায়বরে হত্যা করা হয়। তিনি তাঁর কতিপয় বন্ধু-বান্ধবের ওখানে খেজুর তুলতে গিয়ে ছিলেন। তারপর একটি ঝর্ণার মধ্যে ঘাড় মটকানো অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায়। ঘাড় মটকিয়ে মেরে তাঁর লাশ ঐ ঝর্ণায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর সঙ্গী-সাথীরা সে অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ পেয়ে তা দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেন। তারপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট গিয়ে সমস্ত বিবরণ দেন।

টিকাঃ
১. বয়সের নবীন সুলভ জোশ, নিহত ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠতর সম্পর্ক এবং সমাজে তাঁর প্রতিপত্তি থাকায় তিনি আগে আগে কথা বলছিলেন।

ইয়াহুদীদের সংগের ব্যাপারটি এভাবে চলতে থাকে। মুসলমানরা তাদের মধ্যে এ ব্যাপারে আপত্তিকর কিছু প্রত্যক্ষ করেননি। শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আমলেই আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহলের সাথে তারা বাড়াবাড়ি করে, এমন কি তারা তাঁকে হত্যা করে ফেলে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) এবং মুসলমানগণ এ ব্যাপারে ইয়াহুদীদেরকে অভিযুক্ত করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: যুহরী আমার নিকট সাহল ইব্‌ন আবূ হাসমার সূত্রে এবং বশীর ইবন ইয়াসার, বনূ হারিসার আযাদকৃত গোলাম-আমার নিকট সাহল ইব্‌ন আবু হাসমা থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহলকে খায়বরে হত্যা করা হয়। তিনি তাঁর কতিপয় বন্ধু-বান্ধবের ওখানে খেজুর তুলতে গিয়ে ছিলেন। তারপর একটি ঝর্ণার মধ্যে ঘাড় মটকানো অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায়। ঘাড় মটকিয়ে মেরে তাঁর লাশ ঐ ঝর্ণায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর সঙ্গী-সাথীরা সে অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ পেয়ে তা দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেন। তারপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট গিয়ে সমস্ত বিবরণ দেন।

টিকাঃ
১. বয়সের নবীন সুলভ জোশ, নিহত ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠতর সম্পর্ক এবং সমাজে তাঁর প্রতিপত্তি থাকায় তিনি আগে আগে কথা বলছিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ফয়সালা

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ফয়সালা


নিহত ব্যক্তির ভাই আবদুর রহমান ইব্‌ন সাহল এবং তাঁর দু'জন চাচাতো ভাই অর্থাৎ মাসউদের দুই পুত্র হুয়ায়সা ও মুহায়্যসা এ মোকদ্দমাটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দরবারে পেশ করেন। বয়সে আবদুর রহমান ছিলেন নবীন। রক্তপণের আসল দাবীদার ছিলেন তিনিই, আর সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর প্রতিপত্তিও ছিল। তিনি যখন তাঁর চাচতো ভাইদের আগেই কথা বলতে লাগলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : বড়দেরকে! বড়দেরকে! (কথা বলতে দাও!)
ইব্‌ন হিশাম বলেন: মালিক ইব্‌ন আনাসের বর্ণনা মতে, কেউ কেউ রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর উচ্চারিত এ শব্দটিকে এভাবে বর্ণনা করেছেন : অর্থাৎ বড়কে বড় রূপে মান্য কর! বড়কে বড় রূপে মান্য কর!!
তখন তিনি চুপ করেন এবং তিনি পরে কথা বলেন। তাঁরা তাঁদের হত্যার কথা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট বিবৃত করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁদেরকে লক্ষ্য করে বলেন: তোমরা কি হত্যাকারীর নাম বলতে পারবে? তারপর এর সমর্থনে পঞ্চাশবার কসম খেতে পারবে? তা হলে আমি সে ব্যক্তিকে তোমাদের হাতে তুলে দেব।
জবাবে তাঁরা বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! যে ব্যাপারটি আমাদের সম্পূর্ণ অজ্ঞাত, সে ব্যাপারে তো আমরা কসম করতে পারবো না।
তারপর তিনি বললেন: আচ্ছা তারা (অর্থাৎ ইয়াহুদীরা) কি এ মর্মে পঞ্চাশবার কসম করে বলতে পারবে যে, না তারা তাকে হত্যা করেছে, আর না তাঁরা এ ব্যাপারে কিছু অবগত আছে? তাহলে তাঁরা খুনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেতে পারে।
তারা বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমরা তো ইয়াহুদীদের কসমকে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করি না। কেননা, পাপকর্মের ব্যাপারে কসমের চাইতে গুরুতর পাপ 'কুফরী' তাদের মধ্যে রয়েছে।
রাবী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর নিজের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তির রক্তপণস্বরূপ একশটি উটনী প্রদান করলেন।
সাহল (রাবী) বলেন: আল্লাহ্র কসম! আমি ঐ একশ'টি উটনীর মধ্যে লাল বর্ণের সেই কমবয়সী উটনীটির কথা কখনো ভুলতে পারবো না, যেটাকে আমি ধরতে গেলে সে আমাকে আঘাত করেছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্‌ন ইবরাহীম ইবন হারিস তায়মী, বন্ হারিসার আবদুর রহমান ইব্‌ন বুজায়দ ইব্‌ন কায়যীর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম বলেছেন: আল্লাহ্র কসম। সাহল তাঁর চাইতে অধিক জ্ঞানী ছিলেন না, তবে তিনি বয়সে বড় ছিলেন, তিনি বলেন: আল্লাহর কসম! ব্যাপারটি আসলে তা ছিল মা বরং সাহলের এরূপ ধারণা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) একথা বলেন নি, যে ব্যাপারে তোমরা জ্ঞাত নও, সে ব্যাপারে তোমরা হলফ করে বলো, বরং তিনি খায়বরের ইয়াহুদীদের কাছে ঐ সময় এ মর্মে পত্র লিখেছিলেন, যখন আনসারগণ তাঁর সাথে আলাপ করেন যে, তোমাদের লোকালয়ে যেহেতু নিহত ব্যক্তির শবদেহ পাওয়া গেছে, তাই তোমরা তার রক্তপণ আদায় কর। তখন তারা আল্লাহর নামে কসম করে লিখে পাঠায় যে, তারা তাঁকে হত্যা করেনি, আর তারা তাঁর হত্যাকারী সম্বন্ধে কিছু অবগতও নয়। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজেই তাঁর ফিদইয়া বা রক্তপণ আদায় করে দেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আমর ইব্‌ন শুআয়ব আবদুর রহমান ইব্‌ন বুজায়দের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, তিনি তাঁর হাদীসে ইয়াহুদীদের প্রতি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বক্তব্য এভাবে উদ্ধৃত করেছেন: "তোমরা তার রক্তপণ পরিশোধ কর, নচেৎ যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত হও।"
তখন তারা আল্লাহর নামে হলফ করে লিখে যে, না তারা তাঁকে হত্যা করেছে, আর না তারা তাঁর হত্যাকারী সম্পর্কে কিছু জানে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর নিজের পক্ষ থেকেই তাঁর রক্তপণ পরিশোধ করে দেন।

নিহত ব্যক্তির ভাই আবদুর রহমান ইব্‌ন সাহল এবং তাঁর দু'জন চাচাতো ভাই অর্থাৎ মাসউদের দুই পুত্র হুয়ায়সা ও মুহায়্যসা এ মোকদ্দমাটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দরবারে পেশ করেন। বয়সে আবদুর রহমান ছিলেন নবীন। রক্তপণের আসল দাবীদার ছিলেন তিনিই, আর সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর প্রতিপত্তিও ছিল। তিনি যখন তাঁর চাচতো ভাইদের আগেই কথা বলতে লাগলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : বড়দেরকে! বড়দেরকে! (কথা বলতে দাও!)
ইব্‌ন হিশাম বলেন: মালিক ইব্‌ন আনাসের বর্ণনা মতে, কেউ কেউ রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর উচ্চারিত এ শব্দটিকে এভাবে বর্ণনা করেছেন : অর্থাৎ বড়কে বড় রূপে মান্য কর! বড়কে বড় রূপে মান্য কর!!
তখন তিনি চুপ করেন এবং তিনি পরে কথা বলেন। তাঁরা তাঁদের হত্যার কথা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট বিবৃত করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁদেরকে লক্ষ্য করে বলেন: তোমরা কি হত্যাকারীর নাম বলতে পারবে? তারপর এর সমর্থনে পঞ্চাশবার কসম খেতে পারবে? তা হলে আমি সে ব্যক্তিকে তোমাদের হাতে তুলে দেব।
জবাবে তাঁরা বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! যে ব্যাপারটি আমাদের সম্পূর্ণ অজ্ঞাত, সে ব্যাপারে তো আমরা কসম করতে পারবো না।
তারপর তিনি বললেন: আচ্ছা তারা (অর্থাৎ ইয়াহুদীরা) কি এ মর্মে পঞ্চাশবার কসম করে বলতে পারবে যে, না তারা তাকে হত্যা করেছে, আর না তাঁরা এ ব্যাপারে কিছু অবগত আছে? তাহলে তাঁরা খুনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেতে পারে।
তারা বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমরা তো ইয়াহুদীদের কসমকে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করি না। কেননা, পাপকর্মের ব্যাপারে কসমের চাইতে গুরুতর পাপ 'কুফরী' তাদের মধ্যে রয়েছে।
রাবী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর নিজের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তির রক্তপণস্বরূপ একশটি উটনী প্রদান করলেন।
সাহল (রাবী) বলেন: আল্লাহ্র কসম! আমি ঐ একশ'টি উটনীর মধ্যে লাল বর্ণের সেই কমবয়সী উটনীটির কথা কখনো ভুলতে পারবো না, যেটাকে আমি ধরতে গেলে সে আমাকে আঘাত করেছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্‌ন ইবরাহীম ইবন হারিস তায়মী, বন্ হারিসার আবদুর রহমান ইব্‌ন বুজায়দ ইব্‌ন কায়যীর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম বলেছেন: আল্লাহ্র কসম। সাহল তাঁর চাইতে অধিক জ্ঞানী ছিলেন না, তবে তিনি বয়সে বড় ছিলেন, তিনি বলেন: আল্লাহর কসম! ব্যাপারটি আসলে তা ছিল মা বরং সাহলের এরূপ ধারণা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) একথা বলেন নি, যে ব্যাপারে তোমরা জ্ঞাত নও, সে ব্যাপারে তোমরা হলফ করে বলো, বরং তিনি খায়বরের ইয়াহুদীদের কাছে ঐ সময় এ মর্মে পত্র লিখেছিলেন, যখন আনসারগণ তাঁর সাথে আলাপ করেন যে, তোমাদের লোকালয়ে যেহেতু নিহত ব্যক্তির শবদেহ পাওয়া গেছে, তাই তোমরা তার রক্তপণ আদায় কর। তখন তারা আল্লাহর নামে কসম করে লিখে পাঠায় যে, তারা তাঁকে হত্যা করেনি, আর তারা তাঁর হত্যাকারী সম্বন্ধে কিছু অবগতও নয়। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজেই তাঁর ফিদইয়া বা রক্তপণ আদায় করে দেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আমর ইব্‌ন শুআয়ব আবদুর রহমান ইব্‌ন বুজায়দের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, তিনি তাঁর হাদীসে ইয়াহুদীদের প্রতি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বক্তব্য এভাবে উদ্ধৃত করেছেন: "তোমরা তার রক্তপণ পরিশোধ কর, নচেৎ যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত হও।"
তখন তারা আল্লাহর নামে হলফ করে লিখে যে, না তারা তাঁকে হত্যা করেছে, আর না তারা তাঁর হত্যাকারী সম্পর্কে কিছু জানে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর নিজের পক্ষ থেকেই তাঁর রক্তপণ পরিশোধ করে দেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উমর (রা) কর্তৃক ইয়াহুদীদের নির্বাসিত করা

📄 উমর (রা) কর্তৃক ইয়াহুদীদের নির্বাসিত করা


ইবন ইসহাক বলেন: আমি ইব্‌ন শিহাব যুহরীকে জিজ্ঞাসা করলাম: রাসূলুল্লাহ্ (সা) খায়বর ইয়াহুদীদেরকে যখন খেজুর প্রদান করতেন, তখন কী নিয়মে তিনি তাদেরকে খেজুর প্রদান করতেন? খিরাজ উশুল্ করার সময় দিতেন, অর্থাৎ প্রথমে খেজুর গাছ থেকে কাটিয়ে তা নিজ দায়িত্বে নিয়ে তারপর দিতেন, নাকি গাছে থাকতেই দিয়ে দিতেন? তখন ইব্‌ন শিহাব আমাকে জানালেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যুদ্ধ-বিগ্রহের পর খায়বর জয় করেছিলেন। আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে খায়বর গনীমতরূপে দান করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খুমুস বের করেন এবং মুসলমানদের মধ্যে তা ভাগবণ্টন করে দেন। আর এর অধিবাসীদের মধ্যে থেকে যারাই সেখান থেকেছে তারাই যুদ্ধের পর নির্বাসিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে ডেকে বলেন: তোমরা চাইলে আমি তোমাদেরকে এ ভূ-সম্পদ এ শর্তে দিতে পারি যে, তোমরা এতে তোমাদের শ্রম নিয়োগ করবে, উৎপন্ন-জাত ফসলাদি তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে এবং আল্লাহ্ যতদিন তোমাদেরকে এ অবস্থায় রাখবেন, আমিও তোমাদেরকে এ অবস্থায় রাখবো। তারা এ শর্ত মেনে নেয় এবং সে মতে তারা এতে শ্রম দিতে থাকে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহকে তাদের নিকটে প্রেরণ করতেন। তিনি ওজন ও মাপ ব্যতিরেকেই অনুমান ভিত্তিক ভাগাভাগি করে অংশ নিয়ে আসতেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নবীকে ওফাত প্রদান করলে আবু বকরও এ ব্যবস্থা কায়েম রাখেন। আল্লাহ্। তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তাঁর ইন্তিকাল পর্যন্ত এ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকে। তারপর উমর (রা)-এর খিলাফতের প্রথম আমলে তিনিও তা বহাল রাখেন। তারপর উমর (রা) জানতে পান যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর অন্তিম শয্যার বলে গেছেন : لا يجتمعن في جزمرة العرب دينان "আরব উপদ্বীপে যেন দু'টি দীন একত্রে না থাকে।"
'তারপর উমর (রা) বিষয়টি তদন্ত করেন এবং এর প্রমাণও পেয়ে যান। তখন তিনি ইয়াহুদীদের বলে পাঠান:
فمن كان عنده عهد من رسول الله صلى الله عليه وسلم من اليهود فليأتي به ، انفذه له ومن لم يكن عنده عهد من رسول الله صلى الله عليه وسلم من اليهود فليتجهز للجلاء -
যে ইয়াহূদীর কাছে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পক্ষ থেকে কোনরূপ অঙ্গীকারপত্র বা সনদ রয়েছে, সে তা নিয়ে আমার কাছে আসুক। আমি তা বহাল রাখবো, আর যে ইয়াহূদীর কাছে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রদত্ত কোন সনদপত্র নেই, সে দেশ ত্যাগের জন্য প্রস্তুত হোক।
সে মতে, যে ইয়াহুদীদের কাছে রাসূলুল্লাহ্ (সা) প্রদত্ত কোন সনদপত্র ছিল না, উমর (রা) তাকে নির্বাসিত করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের আযাদকৃত গোলাম নাফি', আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আবদুল্লাহ্ ইবন উমর) বলেন: একদা আমি, যুবায়র এবং মিকদাদ ইব্‌ন আসাওয়াদ খায়বরে আমাদের জমি-জমা দেখাশোনার উদ্দেশ্যে একত্রে বের হলাম। ওখানে পৌঁছে আমরা পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমাদের নিজ নিজ খামারে চলে গেলাম। রাতের অন্ধকারে আমি হামলার শিকার হলাম। আমি তখন আমার বিছানায় শায়িত ছিলাম। আমার দু'টি হাতে জোড়া থেকে কনুই স্থানচ্যুত করে দেওয়া হলো। প্রত্যুষে আমি চীৎকার করে আমার অপর দুই সাথীকে আহবান করতে লাগলাম। তাঁরা এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: কে এ কাণ্ড করলো? আমি বললাম আমি তো বলতে পারব না।
আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) বলেন: তাঁরা দু'জনে আমার হাতটি ঠিক করে দিলেন। তারপর তাঁরা আমাকে নিয়ে উমর (রা) নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি বললেন: এটা ইয়াহুদীদের কাজ। তারপর তিনি লোকজনের মধ্যে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। সে ভাষণে তিনি বললেন:
ايها الناس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان عامل يهود خيبر على انا نخرجهم اذا شئنا وقد عدوا على عبد الله بن عمر فقدعوا يدعه كما قد بلغكم مع عدوهم على الانصارى قبله . لاتشك انهم اصحابه - ليس لنا هناك عدو غيرهم فمن كان له مال بخيبر فلیلحق به فانی مخرج يهود - .
হে লোক সকল! রাসূলুল্লাহ্ (সা) এ শর্তে ইয়াহুদীদের শ্রমে নিয়োজিত করেছিলেন যে, আমরা যখন চাইব, তখনই তাদের বের করে দিতে পারবো। তারা আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমরের উপর বাড়াবাড়ি করেছে, যেমনটি আপনারা শুনেছেন। তারা তার দু'টি হাত মুচড়ে দিয়ে কনুই দু'টিকে জোড়া থেকে বিচ্যুত করেছে। ইতিপূর্বে তারা যে একজন আনসারীর উপর বাড়াবাড়ি করেছে, তা তো আছেই। আমাদের এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, এটা তাদেরই কাজ। কেননা, ওখানে তারা ছাড়া আমাদের আর কোন শত্রু নেই। সুতরাং খায়বরে যার কোন সম্পদ রয়েছে, তার সেখানে চলে যাওয়া উচিত। কেননা, আমি অবশ্যই ইয়াহুদীদের বের করে দেবো। তারপর তিনি সত্যিসত্যি তাদেরকে বের করে দেন।

ইবন ইসহাক বলেন: আমি ইব্‌ন শিহাব যুহরীকে জিজ্ঞাসা করলাম: রাসূলুল্লাহ্ (সা) খায়বর ইয়াহুদীদেরকে যখন খেজুর প্রদান করতেন, তখন কী নিয়মে তিনি তাদেরকে খেজুর প্রদান করতেন? খিরাজ উশুল্ করার সময় দিতেন, অর্থাৎ প্রথমে খেজুর গাছ থেকে কাটিয়ে তা নিজ দায়িত্বে নিয়ে তারপর দিতেন, নাকি গাছে থাকতেই দিয়ে দিতেন? তখন ইব্‌ন শিহাব আমাকে জানালেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যুদ্ধ-বিগ্রহের পর খায়বর জয় করেছিলেন। আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে খায়বর গনীমতরূপে দান করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খুমুস বের করেন এবং মুসলমানদের মধ্যে তা ভাগবণ্টন করে দেন। আর এর অধিবাসীদের মধ্যে থেকে যারাই সেখান থেকেছে তারাই যুদ্ধের পর নির্বাসিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে ডেকে বলেন: তোমরা চাইলে আমি তোমাদেরকে এ ভূ-সম্পদ এ শর্তে দিতে পারি যে, তোমরা এতে তোমাদের শ্রম নিয়োগ করবে, উৎপন্ন-জাত ফসলাদি তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে এবং আল্লাহ্ যতদিন তোমাদেরকে এ অবস্থায় রাখবেন, আমিও তোমাদেরকে এ অবস্থায় রাখবো। তারা এ শর্ত মেনে নেয় এবং সে মতে তারা এতে শ্রম দিতে থাকে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহকে তাদের নিকটে প্রেরণ করতেন। তিনি ওজন ও মাপ ব্যতিরেকেই অনুমান ভিত্তিক ভাগাভাগি করে অংশ নিয়ে আসতেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নবীকে ওফাত প্রদান করলে আবু বকরও এ ব্যবস্থা কায়েম রাখেন। আল্লাহ্। তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তাঁর ইন্তিকাল পর্যন্ত এ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকে। তারপর উমর (রা)-এর খিলাফতের প্রথম আমলে তিনিও তা বহাল রাখেন। তারপর উমর (রা) জানতে পান যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর অন্তিম শয্যার বলে গেছেন : لا يجتمعن في جزمرة العرب دينان "আরব উপদ্বীপে যেন দু'টি দীন একত্রে না থাকে।"
'তারপর উমর (রা) বিষয়টি তদন্ত করেন এবং এর প্রমাণও পেয়ে যান। তখন তিনি ইয়াহুদীদের বলে পাঠান:
فمن كان عنده عهد من رسول الله صلى الله عليه وسلم من اليهود فليأتي به ، انفذه له ومن لم يكن عنده عهد من رسول الله صلى الله عليه وسلم من اليهود فليتجهز للجلاء -
যে ইয়াহূদীর কাছে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পক্ষ থেকে কোনরূপ অঙ্গীকারপত্র বা সনদ রয়েছে, সে তা নিয়ে আমার কাছে আসুক। আমি তা বহাল রাখবো, আর যে ইয়াহূদীর কাছে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রদত্ত কোন সনদপত্র নেই, সে দেশ ত্যাগের জন্য প্রস্তুত হোক।
সে মতে, যে ইয়াহুদীদের কাছে রাসূলুল্লাহ্ (সা) প্রদত্ত কোন সনদপত্র ছিল না, উমর (রা) তাকে নির্বাসিত করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের আযাদকৃত গোলাম নাফি', আবদুল্লাহ্ ইবন উমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আবদুল্লাহ্ ইবন উমর) বলেন: একদা আমি, যুবায়র এবং মিকদাদ ইব্‌ন আসাওয়াদ খায়বরে আমাদের জমি-জমা দেখাশোনার উদ্দেশ্যে একত্রে বের হলাম। ওখানে পৌঁছে আমরা পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমাদের নিজ নিজ খামারে চলে গেলাম। রাতের অন্ধকারে আমি হামলার শিকার হলাম। আমি তখন আমার বিছানায় শায়িত ছিলাম। আমার দু'টি হাতে জোড়া থেকে কনুই স্থানচ্যুত করে দেওয়া হলো। প্রত্যুষে আমি চীৎকার করে আমার অপর দুই সাথীকে আহবান করতে লাগলাম। তাঁরা এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: কে এ কাণ্ড করলো? আমি বললাম আমি তো বলতে পারব না।
আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) বলেন: তাঁরা দু'জনে আমার হাতটি ঠিক করে দিলেন। তারপর তাঁরা আমাকে নিয়ে উমর (রা) নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি বললেন: এটা ইয়াহুদীদের কাজ। তারপর তিনি লোকজনের মধ্যে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। সে ভাষণে তিনি বললেন:
ايها الناس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان عامل يهود خيبر على انا نخرجهم اذا شئنا وقد عدوا على عبد الله بن عمر فقدعوا يدعه كما قد بلغكم مع عدوهم على الانصارى قبله . لاتشك انهم اصحابه - ليس لنا هناك عدو غيرهم فمن كان له مال بخيبر فلیلحق به فانی مخرج يهود - .
হে লোক সকল! রাসূলুল্লাহ্ (সা) এ শর্তে ইয়াহুদীদের শ্রমে নিয়োজিত করেছিলেন যে, আমরা যখন চাইব, তখনই তাদের বের করে দিতে পারবো। তারা আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমরের উপর বাড়াবাড়ি করেছে, যেমনটি আপনারা শুনেছেন। তারা তার দু'টি হাত মুচড়ে দিয়ে কনুই দু'টিকে জোড়া থেকে বিচ্যুত করেছে। ইতিপূর্বে তারা যে একজন আনসারীর উপর বাড়াবাড়ি করেছে, তা তো আছেই। আমাদের এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, এটা তাদেরই কাজ। কেননা, ওখানে তারা ছাড়া আমাদের আর কোন শত্রু নেই। সুতরাং খায়বরে যার কোন সম্পদ রয়েছে, তার সেখানে চলে যাওয়া উচিত। কেননা, আমি অবশ্যই ইয়াহুদীদের বের করে দেবো। তারপর তিনি সত্যিসত্যি তাদেরকে বের করে দেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00