📄 ইন্তিকালের প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ওসীয়ত
ইব্ন ইসহাক বলেন: আমার নিকট সালিহ্ ইব্ন কায়সান, ইব্ন শিহাব যুহরী সূত্রে উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন উতবা ইব্ন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তিনটি ব্যাপার ছাড়া অন্য কোন কিছুর ওসীয়ত ইন্তিকালের সময় করেন নি: ১. খায়বরের গনীমত সম্ভার থেকে রাহাভীন গোত্রকে ১০০ ওসাক, দারিয়্যীন গোত্রকে ১০০ ওসাক এবং সাব্বায়্যীন ও আশআরীদেরকে ১০০ ওসাক প্রদান করতে তিনি ওসীয়ত করেন। ২. উসামা ইব্ন যায়দ ইব্ন হারিসার নেতৃত্বে বাহিনী প্রেরণ করবে। ৩. জাযীরাতুল আরব বা আরব উপদ্বীপে দু'টি ধর্ম রাখা হবে না।
টিকাঃ
১. ইয়ামানের একটি গোত্র।
২. সিরিয়া অভিমুখে।
৩. শুধু ইসলামই থাকবে। কুরআনের আয়াত حتى يكون الدين كلمه الله এর দিকে ইঙ্গিত।
📄 ফিদাক সমাচার
রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন খায়বর থেকে নিষ্ক্রান্ত হলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা ফিদাকবাসীদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করে দেন। খায়বরবাসীদের উপর আল্লাহ্ তা'আলা যা ঘটিয়েছেন, তার সংবাদ পেয়েই তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট বলে পাঠায় যে, ফিদাকের অর্ধেক ভূ-সম্পদের বিনিময়ে তারা তাঁর সাথে সন্ধি করতে আগ্রহী। তাদের দূত তাঁর নিকট এ প্রস্তাবটি খায়বরে অথবা তায়েফে অথবা তাঁর মদীনায় পদার্পণের পর পেশ করে। আর তিনি তা গ্রহণও করেন। এজন্যে ফিদাকের ভূ-সম্পদ কেবল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর জন্যই হয়ে যায়। কেননা, এজন্যে ঘোড়া বা উট দৌড়াতে (অর্থাৎ যথারীতি যুদ্ধে গমনের প্রয়োজন) হয়নি।
📄 দারীদের নামের তালিকা
যাদের জন্য খায়বরের সম্পদ দানের ওসীয়ত রাসূলুল্লাহ্ (সা) করেছিলেন।
এঁরা হচ্ছেন দার ইব্ন হাবীব ইব্ন নুমারা ইব্ন নুমারা ইব্ন লাখমের বংশধর। এঁরা সিরিয়া থেকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট এসেছিলেন। তাঁদের নাম হচ্ছে:
১. তামীম ইব্ন আওস
২. তার ভাই নাঈম ইব্ন আওস
৩. ইয়াযীদ ইব্ন কায়স
৪. উরফা ইব্ন মালিক-রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর নাম আবদুর রহমান রাখেন।
ইব্ন হিশাম বলেন: কেউ কেউ তাকে উয্যা ইব্ন মালিক ও তার ভাইকে মুরান ইব্ন মালিক বলেছেন।
ইব্ন হিশাম তার ভাইকে মারওয়ান ইব্ন মালিক বলেছেন।
ইব্ন ইসহাক বলেন:
১৬. ফাকা ইব্ন নু'মান,
৭. জাবালা ইব্ন মালিক,
১৮. আবূ হিন্দ ইব্ন বারি'
৯. তার ভাই তাইয়্যব ইব্ন বারি রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার নাম রাখেন আবদুল্লাহ্।
📄 যাদের জন্য খায়বরের সম্পদ দ্রানের ওসীয়ত রাসূলুল্লাহ্ (সা) করেছিলেন
আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবদুল্লাহ্ ইবন রাওয়াহাকে খায়বরে এ উদ্দেশ্যে প্রেরণ করতেন যে, তিনি যেন ইয়াহূদী ও মুসলমানদের মধ্যে ওজন বা মাপ ব্যতিরেকেই অনুমানের ভিত্তিতে শস্য ভাগাভাগি করেন। তিনি সেমতে অনুমানভিত্তিক ভাগাভাগি করতেন। যদি কোন ক্ষেত্রে ইয়াহুদীরা আপত্তি উত্থাপন করে বলতো যে, আমাদের উপর যুলুম করে ফেললেন বা আপনাদের অংশে বেশি নিয়ে নিয়েছেন, তখন তিনি বলতেন: ঠিক আছে, তোমরা চাইলে অংশ বদল করে তোমাদের অংশ আমাদেরকে দিতে পার, তখন তারা বলে উঠতো:
بهذا قامت السموات والارض
"এই ইনসাফ ও ভারসাম্যের কারণেই আসমান-যমীন কায়েম রয়েছে।"
আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা এক বছর এই অনুমান ভিত্তিক ভাগাভাগির দায়িত্ব পালন করেন। তারপর মুতার যুদ্ধে তিনি শাহাদত লাভ করেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। তারপর জাব্বার ইব্ন সাখর ইব্ন উমাইয়া ইব্ন খানসা, যিনি বনূ সালামার লোক ছিলেন, আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহার স্থলাভিষিক্ত হন এবং এ দায়িত্ব পালন করতে থাকেন।