📄 আঠারটি ইউনিট
যাঁদের মধ্যে খায়বরের ভূ-সম্পদ ভাগবণ্টন করা হয়, ব্যক্তি ও ঘোড়া মিলিয়ে এঁদের মোট সংখ্যা আঠারো শ'ই ছিল। লোক সংখ্যা ছিল চৌদ্দ শ' এবং ঘোড়ার সংখ্যা ২০০। প্রতিব্যক্তি অংশ এবং প্রতিটি ঘোড়ার জন্য দু'অংশ হিসাবে প্রদান করা হয়। প্রত্যেক পদাতিকের জন্য এক অংশ করে এবং প্রত্যেক অশ্বরোহীকে এক অংশ করে দান করা হয়। এভাবে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় আঠারশ'।
ইবন হিশাম বলেন: খায়বর দিবসে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আরবী ঘোড়া এবং সংকর জাতের ঘোড়াসমূহকে ভিন্ন ভিন্নভাবে বিন্যাস করেছিলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: সর্বমোট আঠারো শ' অংশ মোট ১৮টি ইউনিট বিভক্ত করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রতিটি ইউনিটে ১০০ করে অংশ ছিল। সে ইউনিটগুলো ছিল নিম্ন লিখিত নামে : ১. আলী ইব্ন আবু তালিব (রা), ২. যুবায়র ইব্ন আওয়াম (রা), ৩. তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা), ৪. উমর ইব্ন খাত্তাব (রা), ৫. আবদুর রহমান ইব্ন আওফ (রা), ৬. আসিম ইব্ন আদী (রা), ইনি আজশান গোত্রীয়, ৭. উসায়দ ইব্ন হুযায়র (রা), ৮. হারিস ইন্ন খাযরাজ (রা), ৯. নায়েম (রা), ১০. বনু বায়াযা, ১১. বনু উবায়দ, ১২. বনূ হারাম-এঁরা ছিল বনূ সালামার অন্তর্ভুক্ত, ১৩. উবায়দুস্ সাহহাম
ইবন হিশাম বলেন: তাঁকে এজন্যে উবায়দুস্ সাহ্হাম বলা হতো যে, তিনি খায়বর দিবসে বিভিন্ন সাহম (অংশ) কিনে নিয়েছিলেন। তাঁর পূর্ণ পরিচয় হলো উবায়দ ইব্ন আওস। ইনি হারিসা ইবন হারিস ইব্ন খাযরাজ ইবন আমর ইবন মালিক ইন্ন আওস গোত্রের একজন।
ইবন ইসহাক বলেন: অন্যান্য ইউনিটগুলো হলো: ১৪. বনু সায়িদা, ১৫. বনূ গিফার ও আসলাম, ১৬. বনূ নাজ্জার, ১৭. বনূ হারিসা ও ১৮. বনূ আওস।
সর্বপ্রথম খায়বরের যে ইউনিটটি বের করা হয়, তা হলো নাতাতের যুবায়র ইব্ন আওয়ামের ইউনিট। এতে খায়বরের খু'আ এবং তার পার্শ্ববর্তী সুরায়র মৌজা দু'টি ছিল। তারপর দ্বিতীয় ইউনিট ছিল বায়াযা, তৃতীয় উসায়দ ইব্ন হুযায়রের ইউনিট, চতুর্থ বনু হারিস ইব্ন খাযরাজের ইউনিট। পঞ্চম নামের-এর ইউনিট, যাতে বনু আওফ ইব্ন খাযরাজ, মুযায়না ও তাদের সহ অংশীদারদের ভাগ ছিল। এখানেই মাহমূদ ইব্ন মাসলামা শহীদ হয়েছিলেন। এ হলো: নাতাতের পাঁচ ইউনিট। তারপর শাক্ক দুর্গের এলাকার ভাগবণ্টনের পালা আসে। সে ভাগ-বণ্টনটি ছিল এরূপ: সর্বপ্রথম আসিম ইবন 'আদীর ইউনিট বের করে দেওয়া হয়। এঁরা ছিলেন আজলান গোত্রের লোক। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর অংশ ছিল এঁদের সাথেই।
দ্বিতীয় ইউনিট ছিল-আবদুর রহমান ইব্ন আওফের ইউনিট। তারপর সায়িদা, তারপর নাজ্জার, তারপর আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা), তারপর তালহা ইব্ন উবায়দুল্লাহ্, তারপর গিফার (রা) ও আসলাম এর ইউনিট, তারপর উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর ইউনিট, তারপর সালামা ইব্ন উবায়দ ও বনু হারামের ইউনিটদ্বয়, তারপর হারিসার ইউনিট, তারপর উবায়দুস-সাহহামের ইউনিট, তারপর আওসের ইউনিট, তারপর লাফীকের ইউনিট-এতে জুহানা এবং সমস্ত আরব গোত্রসমূহের, আর যারা আরবরে অংশগ্রহণ করেছিলেন-তাদের সকলেই ছিলেন। তার মুকাবিলায় ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর অংশ, যা আসিম ইব্ন আদীর ইউনিটে তিনি লাভ করেছিলেন।
তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) কুতায়বার' ভাগ-বণ্টনে মনোনিবেশ করেন। এটা হলো ওয়াদী খাস।' এ প্রান্তরটি তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন, তাঁর সহধর্মিণিগণ এবং অন্যান্য পুরুষ ও নারীদের মধ্যে ভাগবণ্টন করে দেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যে ভাবে তা বণ্টন করেন, তার হিসাব নিম্নে দেওয়া হলো:
১. নবী দুহিতা ফাতিমা (রা) ২০০ ওসাক
২. আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা) ১০০ ওসাক
৩. উসামা ইব্ন যায়দ (রা) ২০০ এবং ৫০ ওসাক খেজুর বীচিও তিনি তাঁকে প্রদান করেন।
৪. উম্মু মু'মিনীন আয়েশা (রা) ২০০ ওসাক
৫. আবু বকর ইন্ন কুহাফা (রা) ১০০ ওসাক
৬. আকীল ইব্ন আবু তালিব (রা) ১৪০ ওসাক
৭. জা'ফরের পুত্রগণ ৫০ ওসাক
৮ রবী'আ ইব্ন হারিস (রা) ১০০ ওসাক
৯. সালত ইন্ন মাগ্রামা ও তাঁর দুই পুত্র (রা) (শুধু সালতকে ৪০ ওসাক) ১০০ ওসাক
১০. আবু নাসাবাকা (রা) ৫০ ওসাক
১১. রুকানা ইব্ন আব্দ ইয়াযীদ (রা) ৫০ ওসাক
১২. কায়স ইব্ন মাখরামা (রা) ৩০ ওসাক
১৩. আবুল কাসিম ইব্ন মাখরামা ৪০ ওসাক
১৪. উবায়দা ইব্ন হারিসের কন্যাগণ ও হুসায়ন ইবন হারিসের কন্যা ১০০ ওসাক
১৫. উবায়দ ইব্ন আব্দ ইয়াযীদ (রা) ৬০ ওসাক
১৬. আওস ইব্ন মাখরামার পুত্র ৩০ ওসাক
১৭. মিস্তা ইব্ন আছাছা ও ইলয়াসের পুত্র ৫০ ওসাক
১৮. উম্মু রুমায়ছা ৪০ ওসাক
১৯. নঈম ইব্ন হিন্দ ৩০ ওসাক
২০. বুহায়না বিনুত হারিস ৩০ ওসাক
২১. উজায়র ইব্ন আব্দ ইয়াযীদ ৩০ ওসাক
২২. উম্মু হাকাম' ৩০ ওসাক
২৩. জানা বিন্ত আবূ তালিব ৩০ ওসাক
২৪. ইব্ন আরকাম ৫০ ওসাক
২৫. আবদুল রহমান ইব্ন আবু বক্কর (রা) 80 ওসাক
২৬. হামনা বিন্ত জাহাশ ৩০ ওসাক
২৭. উম্মু যুবায়র 80 ওসাক
২৮. দাবা'আ বিন্ত যুবায়র ৪০ ওসাক
২৯. আবু কুনায়সের পুত্র ৩০ ওসাক
৩০. উম্মু তালিব ৪০ ওসাক
৩১. আবু বুসরা ২০ ওসাক
৩২. নুমায়লা কালবী ৫০ ওসাক
৩৩. আবদুল্লাহ্ ইব্ন ওয়াহাব ও তাঁর দুই কন্যা ৯০ ওসাক তন্মধ্যে তাঁর দুই পুত্রের (৪০ ওসাক)
৩৪. উম্মু হাবীবা বিন্ত জাহাশ ৩০ ওসাক
৩৫. মালকু ইব্ন আবদা ৩০ ওসাক
৩৬. নবী সহধর্মিণিগণ ৭০০ ওসাক
টিকাঃ
১. যার নাম 'রওযুল আনাফ' সুহায়লী ওয়াদী খাল্লাম বলেছেন।
১. বস্তুত: ইনি হলেন উম্মু হাকীম। ইনি যুবায়র ইবন আবদুল মুত্তালিবের কন্যা এবং রবী'আ ইব্ন হারিসের স্ত্রী ছিলেন। পক্ষান্তরে, উম্মু হাকাম হচ্ছেন আবু সুফিয়ানের কন্যা, যিনি মক্কা বিজয়ের পরেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তা না হলে বলা যেতো যে, ইবন ইসহাক তাঁর কথাই বুঝিয়েছেন। কিন্তু তিনি তখনও মুসলমান হননি। তাই রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে তাঁর খায়বরে গমনের বা গনীমত প্রাপ্তির প্রশ্নই সেখানে অবান্তর।
২. সম্ভবত: এটা মুদ্রণ প্রমাদ। হয় আবদুল্লাহ্ ইব্ন ওয়াহব ও তাঁর দুই পুত্র হবে। সে মতে ৪০ ওসাক দুই পুত্রের এবং বাকী ৫০ ওসাক তাঁর জন্যে ছিল। নতুবা পরবর্তী লাইনেও দুই কন্যা হবে। -অনুবাদক
📄 নবী সহধর্মিণীগণের জন্য বরাদ্দপত্র
বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম
মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ (সা) খায়বরের গম থেকে তাঁর রমণীগণের জন্যে যে বরাদ্দ দেন, তার বিবরণ: তিনি তাঁর সহধর্মিণীদের জন্যে একশ আশি ওসাক গম বরাদ্দ করেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দুহিতা ফাতিমা জন্যে ৮৫ ওসাক উসামা ইব্ন যায়দের জন্যে ৪০ ওসাক মিকদাদ ইব্ন আসওয়াদের জন্যে ১৫ ওসাক উম্মু রুমায়সার জন্যে ৫ ওসাক উসমান ইব্ন আফফান (রা)-এর সাক্ষীস্বরূপ থাকেন এবং আব্বাস তা লিখেন।
📄 ইন্তিকালের প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ওসীয়ত
ইব্ন ইসহাক বলেন: আমার নিকট সালিহ্ ইব্ন কায়সান, ইব্ন শিহাব যুহরী সূত্রে উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন উতবা ইব্ন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তিনটি ব্যাপার ছাড়া অন্য কোন কিছুর ওসীয়ত ইন্তিকালের সময় করেন নি: ১. খায়বরের গনীমত সম্ভার থেকে রাহাভীন গোত্রকে ১০০ ওসাক, দারিয়্যীন গোত্রকে ১০০ ওসাক এবং সাব্বায়্যীন ও আশআরীদেরকে ১০০ ওসাক প্রদান করতে তিনি ওসীয়ত করেন। ২. উসামা ইব্ন যায়দ ইব্ন হারিসার নেতৃত্বে বাহিনী প্রেরণ করবে। ৩. জাযীরাতুল আরব বা আরব উপদ্বীপে দু'টি ধর্ম রাখা হবে না।
টিকাঃ
১. ইয়ামানের একটি গোত্র।
২. সিরিয়া অভিমুখে।
৩. শুধু ইসলামই থাকবে। কুরআনের আয়াত حتى يكون الدين كلمه الله এর দিকে ইঙ্গিত।
📄 ফিদাক সমাচার
রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন খায়বর থেকে নিষ্ক্রান্ত হলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা ফিদাকবাসীদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করে দেন। খায়বরবাসীদের উপর আল্লাহ্ তা'আলা যা ঘটিয়েছেন, তার সংবাদ পেয়েই তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট বলে পাঠায় যে, ফিদাকের অর্ধেক ভূ-সম্পদের বিনিময়ে তারা তাঁর সাথে সন্ধি করতে আগ্রহী। তাদের দূত তাঁর নিকট এ প্রস্তাবটি খায়বরে অথবা তায়েফে অথবা তাঁর মদীনায় পদার্পণের পর পেশ করে। আর তিনি তা গ্রহণও করেন। এজন্যে ফিদাকের ভূ-সম্পদ কেবল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর জন্যই হয়ে যায়। কেননা, এজন্যে ঘোড়া বা উট দৌড়াতে (অর্থাৎ যথারীতি যুদ্ধে গমনের প্রয়োজন) হয়নি।