📄 আয়মনের পক্ষ থেকে কৈফিয়ত
হাসান ইব্ন সাবিত (রা) আয়মান ইবন উম্মু আয়মন ইবন উবায়দের পক্ষ থেকে কৈফিয়ত দিয়েও কবিতা লিখেন। ইনি খায়বর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেননি। তিনি ছিলেন বন্ আওফ ইব্ন খাযরাজ গোত্রের লোক। তাঁর মা উম্মু আয়মন ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আযাদকৃত দাসী। উম্মু আয়মনের আরেকটি পরিচয় হচ্ছে-তিনি উসামা ইব্ন যায়দের মাও বটে। সে মতে, আয়মন উসামা ইব্ন যায়দের বৈপিত্রেয় ভাই। হাসান (রা) তাঁর সে কৈফিয়তমূলক কবিতায় বলেন:
على حين ان قالت لا يمن امة ....... وما كان منه عنده غير ايسر -
আয়ুমনের মা যখন তাকে তিরস্কার করে বলছিলেন- খায়বর যুদ্ধের অশ্বারোহীদের সাথে যোগ না দিয়ে, হে আয়মন! তুই কাপুরুষতা প্রদর্শন করলি।
আসলে সেদিন আয়মন কিন্তু মোটেই কাপুরুষতা প্রদর্শন করেন নি; বরং তাঁর ঘোড়াটি আটা মিশ্রিত নেশাযুক্ত পানি পানে হয়ে পড়েছিল পীড়িত। যদি না তার অশ্বটি সেদিন ব্যাধিগ্রস্ত হতো, তবে অবশ্যই অশ্বারোহীরূপে এমন যুদ্ধই তিনি করতেন, যাতে (ডান হাত ছাড়া) বাম হাতের আর প্রয়োজনই হতো না।
ইব্ন হিশাম বলেন: এ শেষোক্ত পংক্তিটি আবু যায়দ আনসারী আমাকে শুনিয়েছেন, আর বলেছেন যে, আসলে এ পংক্তিটি কা'ব ইবন মালিকের রচিত। আর তিনি এ পংক্তিটি আমাকে শুনিয়েছেন এভাবে: বরং তাঁকে আটকিয়ে ফেলেছে তাঁর ঘোড়ার অবস্থা যদি তা না হতো, তা হলে তিনি কোন ত্রুটি করতেন না।
📄 নাজিয়া ইবন জুনদাব আসলামীর কবিতা
ইবন ইসহাক বলেন: নাজিয়া ইব্ন জুনদীব আসলামীও অনুরূপ তাঁর কবিতায় বলেন:
কিসের নেশায় বুঁদ হয় রও বান্দারা আল্লাহর? এতো শুধু দেখি পানাহারই যেন হয়ে গেল সারাসার। অর্থচ থাকিবে জান্নাত মাঝে নিয়ামত চমৎকার।
নাজিয়া ইব্ন জুনদাব আসলামী আরো বলেন:
যে আমাকে না চেনার ভান করে, বা পাত্তাই দিতে চায় না, (তার জন্যে আমি পরিচয় দিচ্ছি) পিতা মোর জুনদাব কত প্রতিপক্ষ এমন যে, যুদ্ধকালে তারা অধঃমুখী। তাদের মরদেহে হয় শকুন ও শিয়ালের উৎসব।
ইন হিশাম বলেন: এ পংক্তিটি কিছু শব্দগত পার্থক্যসহ রাবী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।
📄 খায়বর সম্পর্কে কা'বের কবিতা
ইবন হিশামের বর্ণনা মতে যা তিনি আবু যায়দ আনসারীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, কা'ব ইবন মালিক (রা) ও খায়বর দিবস সম্পর্কে কবিতা রচনা করেন। তাতে তিনি বলেন: আমরা খায়বর, আর তার ঝর্ণাগুলোর ঘাটে গিয়ে- আমাদের তৃষ্ণা নিবারণ করেছি- এমন সব যুরা কিশোরদেরকে সঙ্গে নিয়ে, যাদের হাতের শিরাসমূহ ভেসে উঠেনি, প্রতিটি অপকর্মকে যারা প্রতিহত করে। আপন লক্ষ্য অর্জনের জন্যে যারা মুক্তহস্ত, দুর্বল চেতা নয়, প্রতিটি ময়দানে শত্রুদের মুকাবিলায় কঠোর। প্রতি শীত মওসুমে তাদের চুলোয় থাকে ছাইয়ের বিশাল স্তূপ, (কেননা অগণিত অতিথি অভ্যাগতের জন্যে চুলো জ্বলে অনুক্ষণ)।
তাদের মাশরফী আর হিন্দুস্থানী তলোয়ারের ধার (শত্রুদের গর্দান) কাটছিল। নিহত হওয়াকে যারা জ্ঞান করে প্রশাংসাই বলে, যদি হতে পারে শহীদ, আহমদ নবীর জন্যে, আল্লাহর কাছে কামনা করে এ শাহাদত আর সাফল্য।..
মুহাম্মদ (সা)-এর হক্কসমূহ রক্ষার্থে সদাব্যস্ত- তারা মুখ ও হাতের সাহায্যে সর্বদা তাঁর পক্ষে লড়াই করে- এবং তাঁর প্রতিরক্ষা কাজে নিয়োজিত থাকে। যেখানেই তাঁর সংশয় সন্দেহ দেখা দেয়, সেখানেই তারা তাঁর সাহায্যার্থে এগিয়ে যায়। মুহাম্মদ প্রাণ রক্ষার্থে তারা উৎসর্গ করে নিজেদের জীবন। গায়েবের খবরদিকে তারা সত্যজ্ঞান করে একান্তভাবে, এর দ্বারা তারা কামনা করে কাল-কিয়ামতের মর্যাদা।
📄 খায়বরের অর্থ-সম্পদের ভাগ-বণ্টন
ইবন ইসহাক বলেন: খায়বরের সম্পদরাশি অর্থাৎ শাক, নাতাৎ এবং কুতায়বাতে ভাগবণ্টন করা হয়। শাক্ ও নাতাৎ দুর্গে مسلمانوں অংশ ধার্য হয় এবং কুতায়বায় আল্লাহর নামে খুম্স (এক-পঞ্চমাংশ) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর অংশ, নিকটাত্মীয়গণ ও ইয়াতীম মিসকীনের অংশ, নবী সহধর্মীণিগণের ভাতা, রাসূলুল্লাহ (সা) ও ফিদাকবাসীদের মধ্যে সন্ধির মাধ্যমরূপে যারা কাজ করেন- তাঁদের ভাতা ধার্য হয়। এঁদের মধ্যে মাহীসা ইবন মাসউদও ছিলেন। তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সা) ত্রিশ ওসাক' যব এবং ত্রিশ ওসাক খেজুর দান করেছিলেন।
খায়বরে প্রাপ্ত 'সম্পদ হুদায়বিয়ার অংশগ্রহণকারী সকলের মধ্যেই বণ্টন করা হয়- চাই খায়বরে অংশগ্রহণ করে থাকুন বা না থাকুন। আর একমাত্র জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমর ইব্ন হারাম ছাড়া হুদায়বিয়ায় অংশগ্রহণকারী আর কেউই খায়বরে অনুপস্থিত ছিলেন না। রাসূলুল্লাহ তাঁকেও উপস্থিতদের সমপরিমাণ অংশ দান করেছিলেন। খায়বরে দু'টি মাঠ ছিল- একটি ওয়াদী সুরায়র নামক মাঠ, অপরটি ওয়াদী খাস নামক মাঠ' খায়বর এ দু'ভাগেই বিভক্ত ছিল। শাক্ ও নাতাৎ দুর্গ দু'টি মোট ১৮টি ভাগে বিভক্ত করা হয়। তন্মধ্যে নাতাৎ এ ৫ ভাগ এবং শাক্ দুর্গে ১৩ ভাগ ছিল। এ আঠার অংশকে মোট আঠার শ' অংশে ভাগবণ্টন করে দেওয়া হয়।
টিকাঃ
১. এক ওসাক অর্থাৎ এক উটের বোঝা, বা ষাট সা' (এক সা' প্রায় সাড়ে তিন সের) অর্থাৎ প্রায় ২০০ কেজির সমপরিমাণ।
২. সুহায়লী রাওযুল আনল্ফ কিতাবে এ মাঠটিকে ওয়াদী খাল্স নামে উল্লেখ করেছেন।