📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খায়বার সম্পর্কে হাসানের কবিতা

📄 খায়বার সম্পর্কে হাসানের কবিতা


ইবন ইসহাক বলেন: খায়বর প্রসঙ্গে যে সমস্ত কবিতা রচিত হয়, তার মধ্যে হাসান ইবন সাবিত (রা)-এর রচিত এ কবিতাটিও ছিল:
بنسما قاتلت خيابر عما ..... موت الهزال غير جميل
খায়বরবাসীরা যা জমিয়েছিল কৃষিজমি ও খেজুরবাগানে তা রক্ষার্থে তাদের প্রতিরোধ যুদ্ধ ছিল একান্তই নিম্নমানের। তারা মৃত্যুকে অপছন্দ করে, ফলশ্রুতিতে তাদের হেরেম সমূহকে বৈধ করে নেয়া হয়, তারা যে আচরণ করে তা একান্তই ইতর সুলভ। এরা কি মৃত্যু থেকে পলায়ন করে? কাপুরুষোচিত ও দুর্বলের মৃত্যু- নিশ্চয়ই নয় উত্তম ও কাংক্ষিত মৃত্যু।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আয়মনের পক্ষ থেকে কৈফিয়ত

📄 আয়মনের পক্ষ থেকে কৈফিয়ত


হাসান ইব্‌ন সাবিত (রা) আয়মান ইবন উম্মু আয়মন ইবন উবায়দের পক্ষ থেকে কৈফিয়ত দিয়েও কবিতা লিখেন। ইনি খায়বর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেননি। তিনি ছিলেন বন্ আওফ ইব্‌ন খাযরাজ গোত্রের লোক। তাঁর মা উম্মু আয়মন ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আযাদকৃত দাসী। উম্মু আয়মনের আরেকটি পরিচয় হচ্ছে-তিনি উসামা ইব্‌ন যায়দের মাও বটে। সে মতে, আয়মন উসামা ইব্‌ন যায়দের বৈপিত্রেয় ভাই। হাসান (রা) তাঁর সে কৈফিয়তমূলক কবিতায় বলেন:
على حين ان قالت لا يمن امة ....... وما كان منه عنده غير ايسر -
আয়ুমনের মা যখন তাকে তিরস্কার করে বলছিলেন- খায়বর যুদ্ধের অশ্বারোহীদের সাথে যোগ না দিয়ে, হে আয়মন! তুই কাপুরুষতা প্রদর্শন করলি।
আসলে সেদিন আয়মন কিন্তু মোটেই কাপুরুষতা প্রদর্শন করেন নি; বরং তাঁর ঘোড়াটি আটা মিশ্রিত নেশাযুক্ত পানি পানে হয়ে পড়েছিল পীড়িত। যদি না তার অশ্বটি সেদিন ব্যাধিগ্রস্ত হতো, তবে অবশ্যই অশ্বারোহীরূপে এমন যুদ্ধই তিনি করতেন, যাতে (ডান হাত ছাড়া) বাম হাতের আর প্রয়োজনই হতো না।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: এ শেষোক্ত পংক্তিটি আবু যায়দ আনসারী আমাকে শুনিয়েছেন, আর বলেছেন যে, আসলে এ পংক্তিটি কা'ব ইবন মালিকের রচিত। আর তিনি এ পংক্তিটি আমাকে শুনিয়েছেন এভাবে: বরং তাঁকে আটকিয়ে ফেলেছে তাঁর ঘোড়ার অবস্থা যদি তা না হতো, তা হলে তিনি কোন ত্রুটি করতেন না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নাজিয়া ইবন জুনদাব আসলামীর কবিতা

📄 নাজিয়া ইবন জুনদাব আসলামীর কবিতা


ইবন ইসহাক বলেন: নাজিয়া ইব্‌ন জুনদীব আসলামীও অনুরূপ তাঁর কবিতায় বলেন:
কিসের নেশায় বুঁদ হয় রও বান্দারা আল্লাহর? এতো শুধু দেখি পানাহারই যেন হয়ে গেল সারাসার। অর্থচ থাকিবে জান্নাত মাঝে নিয়ামত চমৎকার।
নাজিয়া ইব্‌ন জুনদাব আসলামী আরো বলেন:
যে আমাকে না চেনার ভান করে, বা পাত্তাই দিতে চায় না, (তার জন্যে আমি পরিচয় দিচ্ছি) পিতা মোর জুনদাব কত প্রতিপক্ষ এমন যে, যুদ্ধকালে তারা অধঃমুখী। তাদের মরদেহে হয় শকুন ও শিয়ালের উৎসব।
ইন হিশাম বলেন: এ পংক্তিটি কিছু শব্দগত পার্থক্যসহ রাবী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খায়বর সম্পর্কে কা'বের কবিতা

📄 খায়বর সম্পর্কে কা'বের কবিতা


ইবন হিশামের বর্ণনা মতে যা তিনি আবু যায়দ আনসারীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, কা'ব ইবন মালিক (রা) ও খায়বর দিবস সম্পর্কে কবিতা রচনা করেন। তাতে তিনি বলেন: আমরা খায়বর, আর তার ঝর্ণাগুলোর ঘাটে গিয়ে- আমাদের তৃষ্ণা নিবারণ করেছি- এমন সব যুরা কিশোরদেরকে সঙ্গে নিয়ে, যাদের হাতের শিরাসমূহ ভেসে উঠেনি, প্রতিটি অপকর্মকে যারা প্রতিহত করে। আপন লক্ষ্য অর্জনের জন্যে যারা মুক্তহস্ত, দুর্বল চেতা নয়, প্রতিটি ময়দানে শত্রুদের মুকাবিলায় কঠোর। প্রতি শীত মওসুমে তাদের চুলোয় থাকে ছাইয়ের বিশাল স্তূপ, (কেননা অগণিত অতিথি অভ্যাগতের জন্যে চুলো জ্বলে অনুক্ষণ)।
তাদের মাশরফী আর হিন্দুস্থানী তলোয়ারের ধার (শত্রুদের গর্দান) কাটছিল। নিহত হওয়াকে যারা জ্ঞান করে প্রশাংসাই বলে, যদি হতে পারে শহীদ, আহমদ নবীর জন্যে, আল্লাহর কাছে কামনা করে এ শাহাদত আর সাফল্য।..
মুহাম্মদ (সা)-এর হক্কসমূহ রক্ষার্থে সদাব্যস্ত- তারা মুখ ও হাতের সাহায্যে সর্বদা তাঁর পক্ষে লড়াই করে- এবং তাঁর প্রতিরক্ষা কাজে নিয়োজিত থাকে। যেখানেই তাঁর সংশয় সন্দেহ দেখা দেয়, সেখানেই তারা তাঁর সাহায্যার্থে এগিয়ে যায়। মুহাম্মদ প্রাণ রক্ষার্থে তারা উৎসর্গ করে নিজেদের জীবন। গায়েবের খবরদিকে তারা সত্যজ্ঞান করে একান্তভাবে, এর দ্বারা তারা কামনা করে কাল-কিয়ামতের মর্যাদা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00