📄 খায়বর শহীদগণ
ইব্ন ইসহাক বলেন: খায়বরে মুসলমানদের মধ্যে যাঁরা শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের নামের তালিকা নিম্নে প্রদত্ত হলো:
কুরায়শ, বনু উমাইয়া ইব্ন আব্দ শামস ও তাঁদের মিত্রদের মধ্য থেকে: রবীআ ইব্ন আছাম ইব্ন সাখিরা ইব্ন আমর ইব্ন বুকায়র ইব্ন আমির ইব্ন গুনাম ইব্ন দূদান ইব্ন আসাদ, সাকীফ ইব্ন আমর ও রিফা'আ ইব্ন মাসরূহ্।
📄 বনূ আসাদ ইব্ন আবদুল উয্যা থেকে
আবদুল্লাহ্ হুবায়ব-এক বর্ণনায় এঁকে ইব্ন হুবায়ব বলা হয়েছে। যেমন ইব্ন হিশাম বলেছেন-ইব্ন উহায়ব ইব্ন সুহায়ম ইব্ন গায়রাহ-ইনি বনু সা'দ ইব্ন লায়সের লোক এবং বনু আসাদ ও তাদের ভাগ্নেদের মিত্র।
আনসারদের বনু সালামা থেকে: বিশ্ব ইব্ন বরা' ইব্ন মা'রূর, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে প্রদত্ত বিষাক্ত ছাগীর গোশত খেয়ে ইনি মৃত্যুবরণ করেন। ফুযায়ল ইব্ন নু'মান। এ গোত্রের মোট এ দু'জনই শহীদ হন।
বনু যুরায়ক থেকে: মাসউদ ইবন সা'দ ইব্ন্ন কায়স ইন্ন খালদা ইবন আমির ইব্ন যুরায়ক।
আওসের বনু আব্দ আশহাল থেকে: মাহমূদ ইবন মাসলামা ইব্ন খালিদ ইব্ন 'আদী ইব্ন মুজদা'আ ইবন হারিসা ইব্ন হারিস।
বনু আমর ইব্ন আওফ থেকে: আবূ যায়াহ ইব্ন সাবিত ইব্ নু'মান ইব্ন উমাইয়া ইব্ন ইমরাউল কায়স ইবন সা'লাবা ইন্ন আমর ইব্ন আওফ। হারিস ইন্ন হাতিব, উরওয়া ইন্ন মরা ইন্ন সুরাকা, আওস ইন্ন কায়েদ, আনীফ ইব্ন হাবীব, সাবিত ইব্ন আসিলাও। তাল্ল্হা (ইব্ন ইয়াহইয়া ইব্ন মুলায়ল ইব্ন যামুরা)।
বনু গিফার থেকে: উমারা ইবন উব্বা-এঁকে তীর নিক্ষেপে শহীদ করা হয়।
আসলাম গোত্র থেকে: আমির ইব্ন 'আকওয়া, আসওয়াদ রাঈ-এঁর নামও ছিল আসলাম, ইবন হিশাম বলেন: আসওয়াদ রাই ছিলেন খায়বরের অধিবাসী। ইব্ন শিহাব যুহরী খায়বরের আরো যেসব শহীদের নাম উল্লেখ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
যুহরা গোত্র থেকে-মাসউদ ইব্ন রবী'আ ইনি আসলে কারা গোত্রের লোক এবং বন্ যুহরার মিত্র ছিলেন।
আনসারদের বনু আমার ইবন আওফ থেকে: আওস ইব্ন কাতাদা।
📄 খায়বর আসওয়াদ রাখালের ঘটনা
ইব্ন ইসহাক বলেন: আমার কাছে যে রূপ সংবাদ পৌঁছেছে, আসওয়াদ রাঈ-তথা রাখাল আসওয়াদের ঘটনাটি এরূপ: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন খায়বরের কোন একটি দুর্গ অবরোধ করেছিলেন, এমন সময় তিনি তাঁর বকরিপালসহ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমতে এসে হাযির হলেন। তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে জনৈক ইয়াহুদীর এ ছাগলগুলো চরাতেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বললেন! ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমার নিকট ইসলাম পেশ করুন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর নিকট ইসলাম পেশ করলেন। তিনি সাথে সাথে ইসলাম গ্রহণ করলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইসলামের দাওয়াত পেশ করার ব্যাপারে কাউকেই তুচ্ছ জ্ঞান করতেন না। তিনি অগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছেও ইসলাম পেশ করতেন।
আস্তয়াদ ইসলাম গ্রহণ করেই বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ঐ ছাগলপালের মালিকের ছাগলপালের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে আসছি। এগুলো আমার নিকট তার গচ্ছিত সম্পদ। এখন আমি এগুলোকে কি করবো? জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তুমি এগুলোর মুখের উপর আঘাত কর, এগুলো তাদের মালিকের কাছে ফিরে যাবে। অথবা এ রূপ কিছু একটা তিনি তাকে বললেন।
আসওয়াদ সে মতে এক মুঠো ধুলো নিয়ে ছাগলের মুখের উপর নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: মালিকের নিকট ফিরে যা। আল্লাহ্র কসম! আমি আর তোদের সঙ্গে থাকছি না। তারপর ছাগলগুলো দলবদ্ধ হয়ে এমনভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল যেন কোন ব্যক্তি সেগুলোকে হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত একেবারে দুর্গের মধ্যে গিয়ে সেগুলো প্রবেশ করলো। তারপর আসওয়াদ, ঐ দুর্গ অভিমুখে মুসলমানদের সাথে মিলিত হয়ে যুদ্ধের মানসে অগ্রসর হলেন। এমন সময় একটি পাথরের আঘাতে তিনি নিহত হন। অথচ তিনি আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোন সালাতও আদায় করার সুযোগ পাননি। তাঁর মরদেহ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট নীত হলো এবং তাঁর পিছনে রাখা হলো। তাঁকে তাঁর দেহের কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও তাঁর একদল সাহাবী তাঁর দিকে তাকাতে লাগলেন। এমন সময় তিনি হঠাৎ তাঁর মুখ তাঁর দিক থেকে ফিরিয়ে নিলেন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনি তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন কেন? তিনি বললেন: আয়াতলোচনা হুরদের মধ্যকার তার স্ত্রী এখন তার পাশে রয়েছে।
ইব্ন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ নুজায়হ্ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর নিকট এ মর্মে বর্ণনা করা হয়েছে যে, যখন কোন শহীদের মৃত্যু হয়, তখন তার দু'জন আয়াতলোচনা হুর স্ত্রী তার নিকট আসে। তারা তার মুখমণ্ডল থেকে ধুলোবালি মুছে দেয় এবং বলে, তোমার এ মুখমণ্ডলকে যে ধূলি-ধূসরিত করেছে, আল্লাহ্ তার মুখমণ্ডলকে ধূলি-ধূসরিত করুন এবং তোমাকে যে হত্যা করেছে, আল্লাহ্ তাকে হত্যা করুন।
📄 হাজ্জাজ ইব্ন আল্লাত সুলামীর ঘটনা
ইবন ইসহাক বলেন: খায়বার বিজয় সম্পন্ন হলে হাজ্জাজ ইব্ন আল্লাত সুলামী বাহযী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে আলাপ প্রসঙ্গে বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সা)! মক্কায় আমার সঙ্গিনী উম্মু শায়বা বিন্ত আবু তালহার কাছে আমার কিছু সম্পদ রয়েছে। ঐ মহিলাটি তাঁর সাথেই থাকতেন। তাঁর পুত্র মু'রিদ ইব্ন হাজ্জাজ ঐ মহিলারই গর্ভজাত সন্তান। "আর মক্কায় ব্যবসায়ীদের কাছে আমার-ব্যবসায়ের কিছু মালামাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সুতরাং ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমাকে মক্কায় যাওয়ার অনুমতি দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে অনুমতি দিলেন। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমার যে কিছু উল্টাপাল্টা বলার প্রয়োজন হবে। তিনি বললেন: বলবে!
হাজ্জাজ বলেন: তারপর আমি বেরিয়ে পড়লাম। যখন মক্কায় পদার্পণ করলাম, তখন আমি সানিয়াতুল বায়যায় কুরায়শের কয়েক ব্যক্তিকে পেলাম, যারা খবরাখবর জানতে চাচ্ছিল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ব্যাপারে লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। তারা খবর পেয়েছিল যে, তিনি খায়বর যাত্রা করেছেন। তারা সম্যক জানতো যে, খায়বর হচ্ছে হিজাযের উর্বরতম ও জনবহুল সমৃদ্ধ জনপদ। এজন্যে তারা পরম ঔৎসুক্যে ভরে খবরাখবর জানতে চাইতো এবং অশ্বারোহীদের নিকট জিজ্ঞাসাবাদ করতো। তারা যখন আমাকে দেখতে পেল, তখন বলতে লাগল: “এ যে হাজ্জাজ ইব্ন আল্লাত দেখছি। হাজ্জাজ বলেন: আর তারা আমার ইসলাম গ্রহণের সংবাদ জানতো না। তাই বলল, নিশ্চয়ই এর কাছে সংবাদ আছে। আমাদেরকে হে আবূ মুহাম্মদ, সংবাদ দাও, আমরা তো শুনতে পেয়েছি যে, ডাকাতটা খায়বর যাত্রা করেছে। আর এটা হচ্ছে ইয়াহুদী জনপদ এবং হিজাযের সমৃদ্ধতম এলাকা।
হাজ্জাজ বলেন: আমি বললাম, আমিও এরূপ শুনেছি। আমার কাছে এমন সংবাদও আছে যা শুনে তোমরা আনন্দিত হবে। তারপর আমাকে আর পায় কে? কুরায়শরা দল বেঁধে আমার উটের চারপাশে চক্কর লাগাতে লাগাতে বলতে লাগল সে সংবাদটি কী হাজ্জাজ?
হাজ্জাজ বলেন: আমি বললাম এমন শোচনীয় পরাজয়ই সে বরণ করেছে যেমন পরাজয়ের কথা তোমরা কোনদিন শুননি। আর তার সঙ্গী-সাথীরা এমনি শোচনীয়ভাবে নিহত হয়েছে যে, তোমরা এরূপ খুব কমই শুনে থাকবে। আর মুহাম্মদ তাদের হাতে এখন বন্দী। তারা বলাবলি করছে যে, আমরা নিজেরা মুহাম্মদকে হত্যা করবো না। বরং আমরা তাকে মক্কায় পাঠিয়ে দেবো। মক্কাবাসীরা তাদের আত্মীয়-স্বজনের হত্যার প্রতিশোধ স্বরূপ সকলের সামনে তাকে হত্যা করবে।
হাজ্জাজ বলেন: তারপর তারা প্রস্থান করলো এবং গোটা মক্কা জুড়ে শোরগোল হৈ হল্লা করে এখবর প্রচার করতে লাগল।
"তোমাদের কাছে সংবাদ এসেছে, ঐ মুহাম্মদ আসছে কেবল তোমাদের অপেক্ষা। তাকে তোমাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, তোমরা তাকে সর্বসমক্ষে প্রকাশ্যে হত্যা করবে।"
হাজ্জাজ বলেন: আমি বললাম, মক্কায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমার অর্থ-সম্পদ উদ্ধারের ব্যাপারে তোমরা আমাকে একটু সাহায্য কর এবং আমার খাতকদেরকে চাপ দিয়ে তা উদ্ধার করে দাও। আমি খায়বরে যেতে চাই এবং পরাজিত মুহাম্মদ ও তার সাথীদের মালপত্র কেনার জন্যে অন্যান্য ব্যবসায়ীর পূর্বেই আমি সেখানে যেতে চাই।
ইবন হিশাম বলেন: কারো কারো বর্ণনায় আছে, মুহাম্মদের 'গনীমত' কিনতে যাওয়ার কথা হাজ্জাজ বলেছিলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: তারপর তারা এত দ্রুত আমার অর্থ-সম্পদগুলো আদায় করে দিল, যত দ্রুত পাওনা আদায়ের কথা আমি কোনদিন কাকেও শুনিনি। তারপর আমি আমার সঙ্গিনীর কাছে গেলাম এবং বললাম তোমার কাছে রক্ষিত আমার অর্থগুলো তাড়াতাড়ি দিয়ে দাও, আমি খায়বরে যাবো এবং অন্য ব্যবসায়ীরা সেখানে গিয়ে পৌঁছবার আগেই আমি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসার দ্বারা লাভবান হতে চাই।
হাজ্জাজ বলেন: আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিব যখন এ সংবাদ শুনতে পেলেন, তখন তিনি আমার কাছে ছুটে এলেন এবং আমার পাশে এসে দাঁড়ালেন। আমি তখন ব্যবসায়ীদের একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলাম। তিনি এসে বললেন: কি হে হাজ্জাজ! তুমি এ কী সংবাদ নিয়ে এলে?
হাজ্জাজ বলেন: তখন আমি বললাম, আমার যে সম্পদ আপনার কাছে আমি রেখে গেছি, তা আপনার স্মরণ আছে তো? তিনি বললেন: হ্যাঁ। হাজ্জাজ বলেন: তখন আমি বললাম: আপনি একটু পরে আসুন। আপনার সাথে একান্তে কিছু কথা আছে। আমি এখন আমার পাওনা আদায়ে ব্যস্ত আছি, যেমন আপনি দেখতেই পাচ্ছেন। তাই, এখন আপনি চলে যান এবং আমার পাওনা আদায় করতে দিন।
হজ্জাজ বলেন: তারপর যখন আমি মক্কায় রক্ষিত আমার সমস্ত পাওনা আদায় করে নিলাম এবং মক্কা ত্যাগের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলাম, তখন আমি আব্বাসের সাথে গিয়ে দেখা করলাম এবং বললাম: হে ফযলের বাপ! আমার কথাগুলো খুবই গোপন রাখবেন। কেননা, তিন দিন পর্যন্ত আমি লোকজনের অনুসন্ধানের আশঙ্কা করি। তারপর আপনার যা ইচ্ছা হয় বলবেন। জবাবে তিনি বললেন: আমি তাই করবো।
তখন আমি বললাম "আমি আপনার ভাতিজাকে খায়বরবাসীদের রাজকন্যার সাথে বাসর করা অবস্থায় রেখে এসেছি।" তিনি এ দিয়ে সুফিয়া বিন্ত হুয়াইর কথা বুঝাচ্ছিলেন। তিনি খায়বর জয় করে নিয়েছেন এবং তার সমুদয় সম্পদ বের করে নিয়েছেন। এ সব কিছু তাঁর এবং তাঁর সাথীদের মালিকানাধীন।
তখন আব্বাস বলে উঠলেন: তুমি এ সব কী বলছো হে হাজ্জাজ? আমি বললাম: 'আল্লাহর কসম! আমি যা বলছি, সত্যই বলছি। আপনি আমার এ সব কথা গোপন রাখবেন। আর আমি ইতিমধ্যেই ইসলাম গ্রহণ করেছি। আমি কেবল আমার অর্থ-সম্পদগুলো নিয়ে যেতে এসেছি, এ আশঙ্কায় যে পাছে তা মারা পড়ে। তিন দিন চলে গেলে ইচ্ছা মত আপনি তা প্রকাশ করতে পারেন।
হাজ্জাজ বলেন: তারপর তৃতীয় দিন যখন উপস্থিত হলো, তখন আব্বাস নকশী শাল গায়ে দিয়ে সুগন্ধি মেখে, লাঠি হাতে কা'বায় এসে পৌছলেন। তিনি কা'বার তওয়াফ করলেন। কুরায়শরা তাঁকে দেখতে পেয়ে বলল: হে ফযলের বাপ! এমন কঠিন বিপদে এরূপ সহনশীলতা! আল্লাহর কসম! এতো বড় তাজ্জব ব্যাপার!
জবাবে তিনি বললেন: আল্লাহর কসম। তোমরা যা শুনেছ, তা ঠিক নয়। মুহাম্মদ খায়বর জয় করেছেন। খায়বরবাসীদের রাজকন্যার সাথে বাসর উদযাপনের অবস্থায় তাঁকে রেখে আসা হয়েছে। ওখানকার সমস্ত ধন-সম্পদ এখন তাঁর এবং তাঁর সহকারীদের করতল গত।
তারা জিজ্ঞাসা করলেন: এ সংবাদটি আপনার কাছে কে নিয়ে এলো? তিনি বললেন: যে তোমাদের কাছে ঐ সংবাদ নিয়ে এসেছে সে-ই। সে মুসলমান হওয়ার পরেই তোমাদের নিকট এসেছিল, তার অর্থ-সম্পদ সে নিয়ে গেছে এবং মুহাম্মদ ও তাঁর সাহাবীদের সাথে আবার মিলিত হওয়ার উদ্দেশ্যে সে চলেও গিয়েছে। সে থাকবেও তাদের সাথেই।
তখন তারা বলে উঠলেন: আল্লাহর বান্দারা! আল্লাহর দুশমন হাতছাড়া হয়ে গেল। আল্লাহর কসম। যদি একটু আঁচ করতে পারতাম, তা হলে তার ও আমাদের মধ্যে একটা বোঝাপড়া হতো! তাকে আমরা দেখিয়ে দিতাম মজাটা!
হাজ্জাজ বলেন: এর ক'দিন যেতে না যেতেই তাদের কাছে আমার দেওয়া সংবাদের যথার্থতা প্রমাণিত হয়ে গেল।