📄 আলী (রা)-এর হাতে খায়বর বিজয়
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট বুরায়দা ইব্ন সুফিয়ান ইব্ন ফারওয়া আসলামী বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা সুফিয়ান, সালমা ইব্ন আমর ইব্ন আকওয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবূ বকর সিদ্দীককে তাঁর ঝাণ্ডা হাতে দিয়ে, যা ছিল শ্বেত বর্ণের-প্রেরণ করেন। ইবন হিশামের বর্ণনা অনুযায়ী এ প্রেরণের উদ্দেশ্যে ছিল, তিনি যেন খায়বরের কোন কোন কেল্লা জয় করেন।
রাবী বলেন, কিন্তু তিনি যুদ্ধবিগ্রহ করেও কোন দুর্গ জয় না করেই ফিরে আসেন। অথচ তাঁর চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আগামীকাল আমি এমনি এক ব্যক্তিকে ঝাণ্ডা সমর্পণ করবো, যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসে। তাঁর হাতে আল্লাহ্ বিজয় দান করবেন। সে কখনও পালাবে না।'
রাবী বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী (রিদওয়ানুল্লাহি আলায়হি)-কে নিকটে ডাকলেন। তখন তাঁর চোখ উঠেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর চোখে নিজের মুখের লালা থুকে দিলেন। তারপর ঝাণ্ডা হাতে দিয়ে বললেন: এ ঝাণ্ডা হাতে তুলে নাও এবং যুদ্ধ কর-যাবৎ না আল্লাহ্ তোমাকে বিজয় দান করেন।
রাবী বলেন: সালামা বলেন, তারপর আলী (রা) গর্জন করতে করতে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে গেলেন। আমরা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর পিছু পিছু চললাম। এমন কি শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর হাতের ঝাণ্ডাটি কেল্লার পাদদেশে প্রস্তর স্তূপের মধ্যে উড্ডীন করলেন। দুর্গ শীর্ষ থেকে ইয়াহুদীরা তাঁকে প্রত্যক্ষ করতে লাগলো। তারা তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন: ওহে! তুমি কে?
জবাবে তিনি বললেন: আমি আলী ইব্ন আবূ তালিব।
তখন ইয়াহুদীরা বলে উঠলেন: মূসার উপর নাযিলকৃত কিতাবের কসম! তোমরা আমাদের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছো। অথবা এরূপ কিছু একটা তারা বললো। তারপর দুর্গ বিজয় সম্পন্ন না করে তিনি আর প্রত্যাবর্তন করলেন না।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্ন হাসান রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আযাদকৃত গোলাম আবু রাফি' সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন আলী ইব্ আধূ তালিব (রা)-কে তাঁর ঝাণ্ডা হাতে তুলে দিয়ে প্রেরণ করেন, তখন আমরাও তাঁর সাথে বের হয়েছিলাম। তিনি দুর্গের নিকটবর্তী হলে, দুর্গবাসীরা বের হয়ে এসে তাঁর সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হয়। জনৈক ইয়াহুদী তাঁকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে। ফলে তাঁর হাতে থেকে ঢাল পড়ে যায়। তখন তিনি দুর্গের নিকট থেকে একটি দরজা নিয়ে তাকেই ঢালস্বরূপ ব্যবহার করেন। দুর্গ জয় সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এটা হাতে রেখেই আত্মরক্ষা করে চলেন। তারপর তিনি তা হাত থেকে নিক্ষেপ করেন। এরপর আমিসহ আটজনে মিলে উক্ত দরজাটি উল্টে দিতে চেষ্টা করি, কিন্তু আমরা তা উল্টাতেও সমর্থ হয়নি।
টিকাঃ
১. আল্লামা ইদরীস কান্দোলভী তদীয় সীরাতুল মুস্তাফা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪২২ (দারুল, কিতাব, দেওবন্দে মুদ্রিত) কিতাবে হযরত উমর (রা)-কে দ্বিতীয় দিন প্রেরণের কথাও উল্লেখ করেছেন। হুযুর (সা)-কে উক্তবাক্যে 'যে আল্লাহ্ ও রাসূলকে ভালবাসে' এর সাথে এবং 'যাকে আল্লাহ্ ও রাসূলও ভালবাসেন' কথাটিও উদ্ধৃত করেছেন। তিনি তাতে আহমদ ও নাসাঈ প্রমুখের বরাত উল্লেখ করেছেন। অনুবাদক
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট বুরায়দা ইব্ন সুফিয়ান ইব্ন ফারওয়া আসলামী বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা সুফিয়ান, সালমা ইব্ন আমর ইব্ন আকওয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবূ বকর সিদ্দীককে তাঁর ঝাণ্ডা হাতে দিয়ে, যা ছিল শ্বেত বর্ণের-প্রেরণ করেন। ইবন হিশামের বর্ণনা অনুযায়ী এ প্রেরণের উদ্দেশ্যে ছিল, তিনি যেন খায়বরের কোন কোন কেল্লা জয় করেন।
রাবী বলেন, কিন্তু তিনি যুদ্ধবিগ্রহ করেও কোন দুর্গ জয় না করেই ফিরে আসেন। অথচ তাঁর চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আগামীকাল আমি এমনি এক ব্যক্তিকে ঝাণ্ডা সমর্পণ করবো, যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসে। তাঁর হাতে আল্লাহ্ বিজয় দান করবেন। সে কখনও পালাবে না।'
রাবী বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী (রিদওয়ানুল্লাহি আলায়হি)-কে নিকটে ডাকলেন। তখন তাঁর চোখ উঠেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর চোখে নিজের মুখের লালা থুকে দিলেন। তারপর ঝাণ্ডা হাতে দিয়ে বললেন: এ ঝাণ্ডা হাতে তুলে নাও এবং যুদ্ধ কর-যাবৎ না আল্লাহ্ তোমাকে বিজয় দান করেন।
রাবী বলেন: সালামা বলেন, তারপর আলী (রা) গর্জন করতে করতে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে গেলেন। আমরা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর পিছু পিছু চললাম। এমন কি শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর হাতের ঝাণ্ডাটি কেল্লার পাদদেশে প্রস্তর স্তূপের মধ্যে উড্ডীন করলেন। দুর্গ শীর্ষ থেকে ইয়াহুদীরা তাঁকে প্রত্যক্ষ করতে লাগলো। তারা তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন: ওহে! তুমি কে?
জবাবে তিনি বললেন: আমি আলী ইব্ন আবূ তালিব।
তখন ইয়াহুদীরা বলে উঠলেন: মূসার উপর নাযিলকৃত কিতাবের কসম! তোমরা আমাদের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছো। অথবা এরূপ কিছু একটা তারা বললো। তারপর দুর্গ বিজয় সম্পন্ন না করে তিনি আর প্রত্যাবর্তন করলেন না।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্ন হাসান রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আযাদকৃত গোলাম আবু রাফি' সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন আলী ইব্ আধূ তালিব (রা)-কে তাঁর ঝাণ্ডা হাতে তুলে দিয়ে প্রেরণ করেন, তখন আমরাও তাঁর সাথে বের হয়েছিলাম। তিনি দুর্গের নিকটবর্তী হলে, দুর্গবাসীরা বের হয়ে এসে তাঁর সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হয়। জনৈক ইয়াহুদী তাঁকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে। ফলে তাঁর হাতে থেকে ঢাল পড়ে যায়। তখন তিনি দুর্গের নিকট থেকে একটি দরজা নিয়ে তাকেই ঢালস্বরূপ ব্যবহার করেন। দুর্গ জয় সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এটা হাতে রেখেই আত্মরক্ষা করে চলেন। তারপর তিনি তা হাত থেকে নিক্ষেপ করেন। এরপর আমিসহ আটজনে মিলে উক্ত দরজাটি উল্টে দিতে চেষ্টা করি, কিন্তু আমরা তা উল্টাতেও সমর্থ হয়নি।
টিকাঃ
১. আল্লামা ইদরীস কান্দোলভী তদীয় সীরাতুল মুস্তাফা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪২২ (দারুল, কিতাব, দেওবন্দে মুদ্রিত) কিতাবে হযরত উমর (রা)-কে দ্বিতীয় দিন প্রেরণের কথাও উল্লেখ করেছেন। হুযুর (সা)-কে উক্তবাক্যে 'যে আল্লাহ্ ও রাসূলকে ভালবাসে' এর সাথে এবং 'যাকে আল্লাহ্ ও রাসূলও ভালবাসেন' কথাটিও উদ্ধৃত করেছেন। তিনি তাতে আহমদ ও নাসাঈ প্রমুখের বরাত উল্লেখ করেছেন। অনুবাদক
📄 আবু ইয়াসারের কাহিনী
ইবন ইসহাক বলেন: বুরায়দা ইব্ন সুফিয়ান আসলামী বনূ সালামার কোন কোন ব্যক্তির বরাতে আবূ ইয়াসার কা'ব ইব্ন আমর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর কসম! খায়বরে এক সন্ধ্যায় আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকটে ছিলাম। এমন সময় জনৈক ইয়াহুদীর ছাগলের পাল দুর্গের দিকে যাওয়ার পথে তাঁর সামনে পড়লো। আমরা তখন ইয়াহুদীদের অবরোধ করে রেখেছিলাম। তখন রাসূলাল্লাহ্ (সা) বলে উঠলেন: এ ছাগলের গোশত কে আমাদের খাওয়াতে পারবে?
আবূ ইয়াসার বলেন: আমি তখন বলে উঠলাম, আমিই তা পারব, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! তিনি বললেন: তবে তা-ই কর!
আবূ ইয়াসার বলেন: তারপর আমি উটপাখির মত দ্রুত বেগে ছুটে চললাম। রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে দৌঁড়াতে দেখে বলে উঠলেন:
اللهُمَّ امْتَعْنَا بِهِ -
হে আল্লাহ্! আমাদেরকে তার দ্বারা উপকৃত কর!
আবূ ইয়াসার বলেন: এমন সময় আমি গিয়ে ছাগলগুলোর নাগাল পাই, যখন পালের প্রথম ছাগলটি দুর্গের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। আমি পালের পেছনের দু'টি ছাগল ধরে বগলদাবা করে এমনভাবে দৌঁড়ে চলে এলাম, যেন আমার কাছে কিছুই নেই। শেষ পর্যন্ত তা এনে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে ছুঁড়ে মারলাম। লোকেরা সেগুলো যবাই করলো এবং সবাই মিলে তা খেলেন। আবু ইয়াসার ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সর্বশেষে মৃত্যুর বরণকারী সাহাবী। তিনি যখনই এ ঘটনা বর্ণনা করতেন, তখনই কাঁদতে কাঁদতে বলতেন : আমার জীবনের শপথ! সাহাবিগণ আমার দ্বারা ফায়দা লাভ করেছেন, এমন কি আমিই তাদের মধ্যে সর্বশেষে ইন্তিকালকারী ব্যক্তি।
ইবন ইসহাক বলেন: বুরায়দা ইব্ন সুফিয়ান আসলামী বনূ সালামার কোন কোন ব্যক্তির বরাতে আবূ ইয়াসার কা'ব ইব্ন আমর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর কসম! খায়বরে এক সন্ধ্যায় আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকটে ছিলাম। এমন সময় জনৈক ইয়াহুদীর ছাগলের পাল দুর্গের দিকে যাওয়ার পথে তাঁর সামনে পড়লো। আমরা তখন ইয়াহুদীদের অবরোধ করে রেখেছিলাম। তখন রাসূলাল্লাহ্ (সা) বলে উঠলেন: এ ছাগলের গোশত কে আমাদের খাওয়াতে পারবে?
আবূ ইয়াসার বলেন: আমি তখন বলে উঠলাম, আমিই তা পারব, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! তিনি বললেন: তবে তা-ই কর!
আবূ ইয়াসার বলেন: তারপর আমি উটপাখির মত দ্রুত বেগে ছুটে চললাম। রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে দৌঁড়াতে দেখে বলে উঠলেন:
اللهُمَّ امْتَعْنَا بِهِ -
হে আল্লাহ্! আমাদেরকে তার দ্বারা উপকৃত কর!
আবূ ইয়াসার বলেন: এমন সময় আমি গিয়ে ছাগলগুলোর নাগাল পাই, যখন পালের প্রথম ছাগলটি দুর্গের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। আমি পালের পেছনের দু'টি ছাগল ধরে বগলদাবা করে এমনভাবে দৌঁড়ে চলে এলাম, যেন আমার কাছে কিছুই নেই। শেষ পর্যন্ত তা এনে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে ছুঁড়ে মারলাম। লোকেরা সেগুলো যবাই করলো এবং সবাই মিলে তা খেলেন। আবু ইয়াসার ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সর্বশেষে মৃত্যুর বরণকারী সাহাবী। তিনি যখনই এ ঘটনা বর্ণনা করতেন, তখনই কাঁদতে কাঁদতে বলতেন : আমার জীবনের শপথ! সাহাবিগণ আমার দ্বারা ফায়দা লাভ করেছেন, এমন কি আমিই তাদের মধ্যে সর্বশেষে ইন্তিকালকারী ব্যক্তি।
📄 উম্মুল মু'মিনীন সুফিয়্যার ঘটনা
ইবন ইসহাক বলেন: উম্মুল মু'মিনীন সাফিয়্যা বিনত হুয়াই (রা) খায়বর যুদ্ধের সময় মুসলিমদের হাতে বন্দী হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন খায়বরের ইয়াহুদী নেতার কন্যা। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে বিবাহ করেন এবং তিনি উম্মুল মু'মিনীন হিসেবে সম্মানিত হন।
📄 কিনানা ইবন رবী'র শান্তি
ইবন ইসহাক বলেন: কিনানা ইবন রবী' ছিলেন খায়বরের একজন ইয়াহুদী নেতা। খায়বর যুদ্ধের পর তিনি মুসলিমদের সাথে শান্তি স্থাপন করেন এবং তাদের আনুগত্য স্বীকার করেন।