📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনূ সাহমের অবস্থা

📄 বনূ সাহমের অবস্থা


ইবন ইসহাক বলেন : তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) পর্যায়ক্রমে তাদের কেল্লাসমূহ এবং ধন-সম্পদ অধিকার করতে থাকেন।
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ বকর আমার নিকট বনু আসলামের কোন কোন ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন যে, বনু সাহম আসলামীরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে হাযির হয়ে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আল্লাহর কসম! আমরা অনেক সাধ্য-সাধনা করেছি, কিন্তু আমাদের হাতে কিছুই আসেনি। তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছেও কিছু পেলেন না-যা তিনি তাদের দিতে পারেন। তখন তিনি বললেন :
اللهم انك قد عرفت حالهم وان ليست بهم قوة وان ليس بيدي شيئ اعطيهم اياه فافتح عليهم اعظم حصونها عنهم غناء واكثرها طعاما و ودكا
হে আল্লাহ্! আপনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। তাদের কোন শক্তি নেই। এদিকে আমার হাতেও এমন কিছু নেই যে, আমি তাদেরকে তা দেবো। সুতরাং আপনি তাদের হাতে সবচাইতে বড় দুর্গটির বিজয় দিয়ে দিন, যাতে সর্বাধিক খাদ্য-দ্রব্য ও শস্যাদি রয়েছে।
সত্যি সত্যি সকাল হতে না হতেই আল্লাহ্ তা'আলা তাদের হাতে সা'আব ইব্‌ন মু'আযের দুর্গের বিজয় দান করলেন। আর তখন খায়বরে এর চাইতে অধিক খাদ্য ও শস্যসমৃদ্ধ উত্তম কোন দুর্গ ছিল না।
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে যে সব দুর্গের বিজয় দান করার ছিল, সেগুলোর বিজয় তাঁকে দান করলেন, আর যে সব ধন-সম্পদে তাঁর অধিকার প্রদানের ছিল, সেগুলোর উপর তাঁর অধিপত্য প্রদান করলেন, শেষ পর্যন্ত মুসলমানরা ইয়াহুদীদের 'ওতীহ্ ও সুলালিম' নামক দু'টি দুর্গে গিয়ে উপনীত হলেন। এ দু'টিই ছিল খায়বরে রাসূলুল্লাহ্ বিজিত সর্বশেষ দুর্গ। দশ দিনেরও অধিককাল ধরে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এ দু'টি দুর্গ অবরোধ করে রাখেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: খায়বর দিবসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবিগণের প্রতীকী বাক্য ছিল: يَا مَنْصُورُهُ أَمَتْ أَمْتُ সাহায্যপ্রাপ্ত, মার, মার।

ইবন ইসহাক বলেন : তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) পর্যায়ক্রমে তাদের কেল্লাসমূহ এবং ধন-সম্পদ অধিকার করতে থাকেন।
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ বকর আমার নিকট বনু আসলামের কোন কোন ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন যে, বনু সাহম আসলামীরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে হাযির হয়ে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আল্লাহর কসম! আমরা অনেক সাধ্য-সাধনা করেছি, কিন্তু আমাদের হাতে কিছুই আসেনি। তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছেও কিছু পেলেন না-যা তিনি তাদের দিতে পারেন। তখন তিনি বললেন :
اللهم انك قد عرفت حالهم وان ليست بهم قوة وان ليس بيدي شيئ اعطيهم اياه فافتح عليهم اعظم حصونها عنهم غناء واكثرها طعاما و ودكا
হে আল্লাহ্! আপনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। তাদের কোন শক্তি নেই। এদিকে আমার হাতেও এমন কিছু নেই যে, আমি তাদেরকে তা দেবো। সুতরাং আপনি তাদের হাতে সবচাইতে বড় দুর্গটির বিজয় দিয়ে দিন, যাতে সর্বাধিক খাদ্য-দ্রব্য ও শস্যাদি রয়েছে।
সত্যি সত্যি সকাল হতে না হতেই আল্লাহ্ তা'আলা তাদের হাতে সা'আব ইব্‌ন মু'আযের দুর্গের বিজয় দান করলেন। আর তখন খায়বরে এর চাইতে অধিক খাদ্য ও শস্যসমৃদ্ধ উত্তম কোন দুর্গ ছিল না।
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে যে সব দুর্গের বিজয় দান করার ছিল, সেগুলোর বিজয় তাঁকে দান করলেন, আর যে সব ধন-সম্পদে তাঁর অধিকার প্রদানের ছিল, সেগুলোর উপর তাঁর অধিপত্য প্রদান করলেন, শেষ পর্যন্ত মুসলমানরা ইয়াহুদীদের 'ওতীহ্ ও সুলালিম' নামক দু'টি দুর্গে গিয়ে উপনীত হলেন। এ দু'টিই ছিল খায়বরে রাসূলুল্লাহ্ বিজিত সর্বশেষ দুর্গ। দশ দিনেরও অধিককাল ধরে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এ দু'টি দুর্গ অবরোধ করে রাখেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: খায়বর দিবসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবিগণের প্রতীকী বাক্য ছিল: يَا مَنْصُورُهُ أَمَتْ أَمْتُ সাহায্যপ্রাপ্ত, মার, মার।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মারহাবের হত্যা

📄 মারহাবের হত্যা


ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট বনু হারিসার আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল ইব্‌ন আব্দুর রহমান ইব্‌ন সাহল বর্ণনা করেছেন যে, জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ বলেছেন: ইয়াহুদী মারহাব সেদিন অস্ত্র সজ্জিত হয়ে উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধগীতি গাইতে গাইতে দুর্গে থেকে বেরিয়ে আসে। সে বলছিল:
জানে খায়বার, আমি মারহাব বীর পুরুষ, সশস্ত্র বীর নখদর্পণে রণ-আহব; যুদ্ধবাজ ব্যাঘ্র যখন হয় অগ্রসর, কাবু হয়ে যায় সে বল্লম আর অসিতে মোর। ঘেঁষে না নিকটে বরং পালায় ভয়েতে অনন্তর।
সাথে সাথে সে আহবান জানাচ্ছিল: কে আমার সাথে মল্ল যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে? তার জবাবে কা'ব ইবন মালিক (রা) এগিয়ে এলেন। তিনি বললেন:
জানে খায়বর আমি কা'ব সংকট নাশি বীর বাহাদুর যবে হয় রণ সর্বত্রাসী, যুদ্ধের অনল জ্বলিয়া উঠিলে যুদ্ধ হয় চক্কে অসি কর্তনকারী বিদ্যুৎত্ময়। এমনি দলন তোদেরে আমরা দলিব যে, কষ্টই তোদের পরিণত হবে সহজে। মারের বদলে হয় তো বা দেব উচিৎ মার, নয় তো লাভিব গনীমত (রুখে সাধ্য কার?) এমন হস্তে নাই যাতে লেশ বক্রতার।
ইবন হিশাম বলেন: নিম্নবর্ণিত পংক্তিগুলো আমাকে আবূ যায়দ আনসারী শুনিয়েছেন:
জানে খায়বার আমি কা'ব (যাই যে বলি :) (স্বরূপ প্রকাশি) সমর অগ্নি উঠিলে জ্বলি।
যুদ্ধের মহাবিভীষিকা রাখি নিয়ন্ত্রণে, দৃঢ়চেতা বীর লড়ি উদ্যমে অরি সনে। সাথে তরবারি কর্তনকারী বিদ্যুৎ প্রায় উঠে যে চমকি, কাঁপেনা হস্ত বক্রতার।
খণ্ড খণ্ড করিব জানিস তোদেরে কেটে, (ফলে) কষ্ট ও আর কষ্ট রবে না মোটে।
ইবন হিশাম বলেন: মারহাব ছিল হিময়ার গোত্রের লোক।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল, জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ আনসারীর সূত্রে বর্ণনা করেন:
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এর সাথে কে লড়বে। মুহাম্মদ ইব্‌ন মাসলামা অমনি এগিয়ে এসে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! ওর সাথে আমিই লড়বো, আমি অবশ্যই তা থেকে প্রতিশোধ নেবো; সে গতকালই আমার ভাইকে' হত্যা করেছে।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এগিয়ে যাও! হে আল্লাহ্! তুমি তাকে সাহায্য কর। জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ বলেন: যখন তাদের একজন অপর জনের নিকটবর্তী হলেন, তখন একটি খেজুর গাছ তাদের মধ্যে পড়লো। একজন অপরজন থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে খেজুর গাছটিকে আড়ালরূপে ব্যবহার করতে লাগলেন। যখনই একজন খেজুর গাছটির কোন শাখার আড়ালে আত্মগোপন করছিলেন, তখন তাঁর প্রতিপক্ষ সাথে সাথে তরবারির আঘাতে সে ডালটি কেটে দিচ্ছিলেন। এমনিভাবে উভয়ে গাছটির ডালগুলো কাটতে কাটতে এক পর্যায়ে ঐ গাছটির সমস্ত ডালপালা শেষ হয়ে গেল। এমন কি শেষ পর্যন্ত গাছটি একটি দণ্ডায়মান মানুষের মূর্তিরূপে দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর মারহাব মুহাম্মদু ইবন মাসলামার উপর তলোয়ারের একটি আঘাত করলো। তিনি তা ঢাল-দ্বারা প্রতিহত করলেন, এরপর তরবারি তাতেই আটকে গেল। এবার মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা) সজোরে তাঁর তরবারি দিয়ে আঘাত করলেন, এমন কি শেষ পর্যন্ত তিনি তাকে হত্যাই করলেন।

টিকাঃ
১. তাঁর ভাই বলতে তিনি মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-কে বুঝিয়েছেন।

ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট বনু হারিসার আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল ইব্‌ন আব্দুর রহমান ইব্‌ন সাহল বর্ণনা করেছেন যে, জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ বলেছেন: ইয়াহুদী মারহাব সেদিন অস্ত্র সজ্জিত হয়ে উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধগীতি গাইতে গাইতে দুর্গে থেকে বেরিয়ে আসে। সে বলছিল:
জানে খায়বার, আমি মারহাব বীর পুরুষ, সশস্ত্র বীর নখদর্পণে রণ-আহব; যুদ্ধবাজ ব্যাঘ্র যখন হয় অগ্রসর, কাবু হয়ে যায় সে বল্লম আর অসিতে মোর। ঘেঁষে না নিকটে বরং পালায় ভয়েতে অনন্তর।
সাথে সাথে সে আহবান জানাচ্ছিল: কে আমার সাথে মল্ল যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে? তার জবাবে কা'ব ইবন মালিক (রা) এগিয়ে এলেন। তিনি বললেন:
জানে খায়বর আমি কা'ব সংকট নাশি বীর বাহাদুর যবে হয় রণ সর্বত্রাসী, যুদ্ধের অনল জ্বলিয়া উঠিলে যুদ্ধ হয় চক্কে অসি কর্তনকারী বিদ্যুৎত্ময়। এমনি দলন তোদেরে আমরা দলিব যে, কষ্টই তোদের পরিণত হবে সহজে। মারের বদলে হয় তো বা দেব উচিৎ মার, নয় তো লাভিব গনীমত (রুখে সাধ্য কার?) এমন হস্তে নাই যাতে লেশ বক্রতার।
ইবন হিশাম বলেন: নিম্নবর্ণিত পংক্তিগুলো আমাকে আবূ যায়দ আনসারী শুনিয়েছেন:
জানে খায়বার আমি কা'ব (যাই যে বলি :) (স্বরূপ প্রকাশি) সমর অগ্নি উঠিলে জ্বলি।
যুদ্ধের মহাবিভীষিকা রাখি নিয়ন্ত্রণে, দৃঢ়চেতা বীর লড়ি উদ্যমে অরি সনে। সাথে তরবারি কর্তনকারী বিদ্যুৎ প্রায় উঠে যে চমকি, কাঁপেনা হস্ত বক্রতার।
খণ্ড খণ্ড করিব জানিস তোদেরে কেটে, (ফলে) কষ্ট ও আর কষ্ট রবে না মোটে।
ইবন হিশাম বলেন: মারহাব ছিল হিময়ার গোত্রের লোক।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল, জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ আনসারীর সূত্রে বর্ণনা করেন:
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এর সাথে কে লড়বে। মুহাম্মদ ইব্‌ন মাসলামা অমনি এগিয়ে এসে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! ওর সাথে আমিই লড়বো, আমি অবশ্যই তা থেকে প্রতিশোধ নেবো; সে গতকালই আমার ভাইকে' হত্যা করেছে।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এগিয়ে যাও! হে আল্লাহ্! তুমি তাকে সাহায্য কর। জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ বলেন: যখন তাদের একজন অপর জনের নিকটবর্তী হলেন, তখন একটি খেজুর গাছ তাদের মধ্যে পড়লো। একজন অপরজন থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে খেজুর গাছটিকে আড়ালরূপে ব্যবহার করতে লাগলেন। যখনই একজন খেজুর গাছটির কোন শাখার আড়ালে আত্মগোপন করছিলেন, তখন তাঁর প্রতিপক্ষ সাথে সাথে তরবারির আঘাতে সে ডালটি কেটে দিচ্ছিলেন। এমনিভাবে উভয়ে গাছটির ডালগুলো কাটতে কাটতে এক পর্যায়ে ঐ গাছটির সমস্ত ডালপালা শেষ হয়ে গেল। এমন কি শেষ পর্যন্ত গাছটি একটি দণ্ডায়মান মানুষের মূর্তিরূপে দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর মারহাব মুহাম্মদু ইবন মাসলামার উপর তলোয়ারের একটি আঘাত করলো। তিনি তা ঢাল-দ্বারা প্রতিহত করলেন, এরপর তরবারি তাতেই আটকে গেল। এবার মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা) সজোরে তাঁর তরবারি দিয়ে আঘাত করলেন, এমন কি শেষ পর্যন্ত তিনি তাকে হত্যাই করলেন।

টিকাঃ
১. তাঁর ভাই বলতে তিনি মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-কে বুঝিয়েছেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়াসিরের হত্যা

📄 ইয়াসিরের হত্যা


ইবন ইসহাক বলেন: তারপর মারহাবের সহোদর ইয়াসির কে আমার সাথে লড়বে? -বলে রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হলো। হিশাম ইব্‌ন উরওয়ার ধারণা মতে-যুবায়র ইব্‌ন আওয়াম তার সাথে মুকাবিলার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে আসেন। তখন তাঁর মা সুফিয়্যা বিন্ত আবদুল মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! সে আমার ছেলেকে হত্যা করে ফেলবে।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: বরং আপনার ছেলেই তাকে হত্যা করবে ইন্‌শা আল্লাহ্। তারপর যুবায়র (রা) বেরিয়ে পড়লেন এবং সত্যি সত্যি তাকে হত্যা করলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: হিশাম ইব্‌ন উরওয়া আমার নিকট বর্ণনা করেন, যুবায়রকে যখন কোন সময় বলা হতো যে, আল্লাহর কসম, সেদিন আপনার তলোয়ারখানা অত্যন্ত ধারালো ছিল। তখন জবাবে তিনি বলতেন: আল্লাহর কসম! তা মোটেও ধারালো ছিল না, বরং আমি জোর প্রয়োগ করে তাকে কাটতে বাধ্য করেছি।

ইবন ইসহাক বলেন: তারপর মারহাবের সহোদর ইয়াসির কে আমার সাথে লড়বে? -বলে রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হলো। হিশাম ইব্‌ন উরওয়ার ধারণা মতে-যুবায়র ইব্‌ন আওয়াম তার সাথে মুকাবিলার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে আসেন। তখন তাঁর মা সুফিয়্যা বিন্ত আবদুল মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! সে আমার ছেলেকে হত্যা করে ফেলবে।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: বরং আপনার ছেলেই তাকে হত্যা করবে ইন্‌শা আল্লাহ্। তারপর যুবায়র (রা) বেরিয়ে পড়লেন এবং সত্যি সত্যি তাকে হত্যা করলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: হিশাম ইব্‌ন উরওয়া আমার নিকট বর্ণনা করেন, যুবায়রকে যখন কোন সময় বলা হতো যে, আল্লাহর কসম, সেদিন আপনার তলোয়ারখানা অত্যন্ত ধারালো ছিল। তখন জবাবে তিনি বলতেন: আল্লাহর কসম! তা মোটেও ধারালো ছিল না, বরং আমি জোর প্রয়োগ করে তাকে কাটতে বাধ্য করেছি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আলী (রা)-এর হাতে খায়বর বিজয়

📄 আলী (রা)-এর হাতে খায়বর বিজয়


ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট বুরায়দা ইব্‌ন সুফিয়ান ইব্‌ন ফারওয়া আসলামী বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা সুফিয়ান, সালমা ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আকওয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবূ বকর সিদ্দীককে তাঁর ঝাণ্ডা হাতে দিয়ে, যা ছিল শ্বেত বর্ণের-প্রেরণ করেন। ইবন হিশামের বর্ণনা অনুযায়ী এ প্রেরণের উদ্দেশ্যে ছিল, তিনি যেন খায়বরের কোন কোন কেল্লা জয় করেন।
রাবী বলেন, কিন্তু তিনি যুদ্ধবিগ্রহ করেও কোন দুর্গ জয় না করেই ফিরে আসেন। অথচ তাঁর চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আগামীকাল আমি এমনি এক ব্যক্তিকে ঝাণ্ডা সমর্পণ করবো, যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসে। তাঁর হাতে আল্লাহ্ বিজয় দান করবেন। সে কখনও পালাবে না।'
রাবী বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী (রিদওয়ানুল্লাহি আলায়হি)-কে নিকটে ডাকলেন। তখন তাঁর চোখ উঠেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর চোখে নিজের মুখের লালা থুকে দিলেন। তারপর ঝাণ্ডা হাতে দিয়ে বললেন: এ ঝাণ্ডা হাতে তুলে নাও এবং যুদ্ধ কর-যাবৎ না আল্লাহ্ তোমাকে বিজয় দান করেন।
রাবী বলেন: সালামা বলেন, তারপর আলী (রা) গর্জন করতে করতে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে গেলেন। আমরা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর পিছু পিছু চললাম। এমন কি শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর হাতের ঝাণ্ডাটি কেল্লার পাদদেশে প্রস্তর স্তূপের মধ্যে উড্ডীন করলেন। দুর্গ শীর্ষ থেকে ইয়াহুদীরা তাঁকে প্রত্যক্ষ করতে লাগলো। তারা তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন: ওহে! তুমি কে?
জবাবে তিনি বললেন: আমি আলী ইব্‌ন আবূ তালিব।
তখন ইয়াহুদীরা বলে উঠলেন: মূসার উপর নাযিলকৃত কিতাবের কসম! তোমরা আমাদের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছো। অথবা এরূপ কিছু একটা তারা বললো। তারপর দুর্গ বিজয় সম্পন্ন না করে তিনি আর প্রত্যাবর্তন করলেন না।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হাসান রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আযাদকৃত গোলাম আবু রাফি' সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন আলী ইব্‌ আধূ তালিব (রা)-কে তাঁর ঝাণ্ডা হাতে তুলে দিয়ে প্রেরণ করেন, তখন আমরাও তাঁর সাথে বের হয়েছিলাম। তিনি দুর্গের নিকটবর্তী হলে, দুর্গবাসীরা বের হয়ে এসে তাঁর সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হয়। জনৈক ইয়াহুদী তাঁকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে। ফলে তাঁর হাতে থেকে ঢাল পড়ে যায়। তখন তিনি দুর্গের নিকট থেকে একটি দরজা নিয়ে তাকেই ঢালস্বরূপ ব্যবহার করেন। দুর্গ জয় সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এটা হাতে রেখেই আত্মরক্ষা করে চলেন। তারপর তিনি তা হাত থেকে নিক্ষেপ করেন। এরপর আমিসহ আটজনে মিলে উক্ত দরজাটি উল্টে দিতে চেষ্টা করি, কিন্তু আমরা তা উল্টাতেও সমর্থ হয়নি।

টিকাঃ
১. আল্লামা ইদরীস কান্দোলভী তদীয় সীরাতুল মুস্তাফা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪২২ (দারুল, কিতাব, দেওবন্দে মুদ্রিত) কিতাবে হযরত উমর (রা)-কে দ্বিতীয় দিন প্রেরণের কথাও উল্লেখ করেছেন। হুযুর (সা)-কে উক্তবাক্যে 'যে আল্লাহ্ ও রাসূলকে ভালবাসে' এর সাথে এবং 'যাকে আল্লাহ্ ও রাসূলও ভালবাসেন' কথাটিও উদ্ধৃত করেছেন। তিনি তাতে আহমদ ও নাসাঈ প্রমুখের বরাত উল্লেখ করেছেন। অনুবাদক

ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট বুরায়দা ইব্‌ন সুফিয়ান ইব্‌ন ফারওয়া আসলামী বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা সুফিয়ান, সালমা ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আকওয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবূ বকর সিদ্দীককে তাঁর ঝাণ্ডা হাতে দিয়ে, যা ছিল শ্বেত বর্ণের-প্রেরণ করেন। ইবন হিশামের বর্ণনা অনুযায়ী এ প্রেরণের উদ্দেশ্যে ছিল, তিনি যেন খায়বরের কোন কোন কেল্লা জয় করেন।
রাবী বলেন, কিন্তু তিনি যুদ্ধবিগ্রহ করেও কোন দুর্গ জয় না করেই ফিরে আসেন। অথচ তাঁর চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আগামীকাল আমি এমনি এক ব্যক্তিকে ঝাণ্ডা সমর্পণ করবো, যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসে। তাঁর হাতে আল্লাহ্ বিজয় দান করবেন। সে কখনও পালাবে না।'
রাবী বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী (রিদওয়ানুল্লাহি আলায়হি)-কে নিকটে ডাকলেন। তখন তাঁর চোখ উঠেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর চোখে নিজের মুখের লালা থুকে দিলেন। তারপর ঝাণ্ডা হাতে দিয়ে বললেন: এ ঝাণ্ডা হাতে তুলে নাও এবং যুদ্ধ কর-যাবৎ না আল্লাহ্ তোমাকে বিজয় দান করেন।
রাবী বলেন: সালামা বলেন, তারপর আলী (রা) গর্জন করতে করতে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে গেলেন। আমরা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর পিছু পিছু চললাম। এমন কি শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর হাতের ঝাণ্ডাটি কেল্লার পাদদেশে প্রস্তর স্তূপের মধ্যে উড্ডীন করলেন। দুর্গ শীর্ষ থেকে ইয়াহুদীরা তাঁকে প্রত্যক্ষ করতে লাগলো। তারা তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন: ওহে! তুমি কে?
জবাবে তিনি বললেন: আমি আলী ইব্‌ন আবূ তালিব।
তখন ইয়াহুদীরা বলে উঠলেন: মূসার উপর নাযিলকৃত কিতাবের কসম! তোমরা আমাদের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছো। অথবা এরূপ কিছু একটা তারা বললো। তারপর দুর্গ বিজয় সম্পন্ন না করে তিনি আর প্রত্যাবর্তন করলেন না।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হাসান রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আযাদকৃত গোলাম আবু রাফি' সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন আলী ইব্‌ আধূ তালিব (রা)-কে তাঁর ঝাণ্ডা হাতে তুলে দিয়ে প্রেরণ করেন, তখন আমরাও তাঁর সাথে বের হয়েছিলাম। তিনি দুর্গের নিকটবর্তী হলে, দুর্গবাসীরা বের হয়ে এসে তাঁর সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হয়। জনৈক ইয়াহুদী তাঁকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে। ফলে তাঁর হাতে থেকে ঢাল পড়ে যায়। তখন তিনি দুর্গের নিকট থেকে একটি দরজা নিয়ে তাকেই ঢালস্বরূপ ব্যবহার করেন। দুর্গ জয় সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এটা হাতে রেখেই আত্মরক্ষা করে চলেন। তারপর তিনি তা হাত থেকে নিক্ষেপ করেন। এরপর আমিসহ আটজনে মিলে উক্ত দরজাটি উল্টে দিতে চেষ্টা করি, কিন্তু আমরা তা উল্টাতেও সমর্থ হয়নি।

টিকাঃ
১. আল্লামা ইদরীস কান্দোলভী তদীয় সীরাতুল মুস্তাফা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪২২ (দারুল, কিতাব, দেওবন্দে মুদ্রিত) কিতাবে হযরত উমর (রা)-কে দ্বিতীয় দিন প্রেরণের কথাও উল্লেখ করেছেন। হুযুর (সা)-কে উক্তবাক্যে 'যে আল্লাহ্ ও রাসূলকে ভালবাসে' এর সাথে এবং 'যাকে আল্লাহ্ ও রাসূলও ভালবাসেন' কথাটিও উদ্ধৃত করেছেন। তিনি তাতে আহমদ ও নাসাঈ প্রমুখের বরাত উল্লেখ করেছেন। অনুবাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00