📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 দুর্গসমূহের অধিকার

📄 দুর্গসমূহের অধিকার


রাসূলুল্লাহ্ (সা) একের পর এক তাদের ধন-সম্পদ ও দুর্গসমূহ অধিকার করতে থাকেন। তাদের দুর্গসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনি 'নাঈম' দুর্গ অধিকার করেন। এ কেল্লার কাছেই মাহমূদ ইবন মাসলামাকে যাঁতার চাক্কির পাট উপর থেকে নিক্ষপ করে শহীদ করা হয়। তারপর কামূস দুর্গ জয় করা হয়। এটা ছিল বনু আবুল হুকায়কের দুর্গ। এখানে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সুফিয়্যা বিন্ত হুয়াই ইব্‌ন আখতাবসহ অনেক যুদ্ধবন্দী লাভ করেন। সুফিয়্যা ছিলেন কিনানা ইব্‌ন রবী ইব্‌ন আবুল হুকায়কের স্ত্রী। তাঁর দু'জন চাচাতো বোনও ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সুফিয়্যাকে তাঁর নিজের জন্যে বেছে নেন।'

রাসূলুল্লাহ্ (সা) একের পর এক তাদের ধন-সম্পদ ও দুর্গসমূহ অধিকার করতে থাকেন। তাদের দুর্গসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনি 'নাঈম' দুর্গ অধিকার করেন। এ কেল্লার কাছেই মাহমূদ ইবন মাসলামাকে যাঁতার চাক্কির পাট উপর থেকে নিক্ষপ করে শহীদ করা হয়। তারপর কামূস দুর্গ জয় করা হয়। এটা ছিল বনু আবুল হুকায়কের দুর্গ। এখানে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সুফিয়্যা বিন্ত হুয়াই ইব্‌ন আখতাবসহ অনেক যুদ্ধবন্দী লাভ করেন। সুফিয়্যা ছিলেন কিনানা ইব্‌ন রবী ইব্‌ন আবুল হুকায়কের স্ত্রী। তাঁর দু'জন চাচাতো বোনও ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সুফিয়্যাকে তাঁর নিজের জন্যে বেছে নেন।'

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খায়বর দিবসে রাসূলুল্লাহ্ (সা) যে সব জিনিস নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন

📄 খায়বর দিবসে রাসূলুল্লাহ্ (সা) যে সব জিনিস নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন


দাহইয়া ইব্‌ন খলীফা কালবী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে সুফিয়্যার জন্যে দরখাস্ত করেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন তাঁকে নিজের জন্যে বেছে নেন, তখন তার চাচাতো বোন দু'টি তিনি দাহ্ইয়াকে দান করেন। খায়বরে প্রচুর দাসীবাঁদী মুসলমানদের অধিকারে আসে।
সেদিন মুসলমানরা গৃহপালিত গাধার গোশত আহার করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) দাঁড়িয়ে কতিপয় বস্তু নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং সে গুলোর নামও ঘোষণা করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন যামরা ফিযারী আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ সলীতের সূত্রে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন: আমাদের কাছে যখন গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিষেধাজ্ঞা এসে পৌঁছে, তখন আমাদের ডেকচীগুলোতে গৃহপালিত গাধার গোস্ত টগবগ করে ফুটছিলো। আমরা তক্ষণি ডেকচী উপুড় করে তা ফেলে দেই।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ নূজায়হ্ মাকতুলের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেদিন তাঁদেরকে যুদ্ধবন্দী গর্ভবতী দাসীদের সাথে সহবাস করতে বারণ করে দেন। সাথে সাথে তিনি আরও যে সব ব্যাপারে নিষেধ করেন, সেগুলো হলো:
* গৃহপালিত গাধার গোশত ভক্ষণ,
* হিংস্র নখ ওয়ালা পশুর গোশত ভক্ষণ,
* গনীমতের মাল বিক্রি করা (ভাগবণ্টনের পূর্বে)।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট সালাম ইব্‌ন কারকারা, আমর ইবন দীনারের সূত্রে, তিনি জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ আনসারী থেকে, আর জাবির (রা) খায়বরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন নি, বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে বারণ করেন, তখন তিনি লোকদের ঘোড়ার গোশত খেতে অনুমতি প্রদান করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট ইয়াযীদ ইব্‌ন আবূ হাবীব, তুজায়বের আযাদকৃত গোলাম আবূ মারযুকের সূত্রে। তিনি হান্‌শ সানআনী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: একবার আমার মাগরিব অঞ্চলে রুয়ায়ফি ইব্‌ন সাবিত আনসারী (রা)-এর সংগে সহযোদ্ধারূপে যুদ্ধ করি। তিনি জারবা নামক মাগরিবের একটি গ্রাম জয় করেন, তারপর আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতে দাঁড়ান। তখন তিনি বলেন:
"হে লোক সকল! আজ আমি তোমাদের তা বলবো, যা আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে খায়বর দিবসে আমাদের বলতে শুনেছি, তার বাইরে আজ অন্য কিছু আমি তোমাদের বলবো না।"
সে দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদের মধ্যে দাঁড়ান, তারপর তিনি বলেন: আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি যার বিশ্বাস রয়েছে, এমন কোন ব্যক্তির পক্ষে এটা বৈধ নয় যে, সে পরের ক্ষেতে পানি সিঞ্চন করবে। অর্থাৎ গর্ভবতী যুদ্ধবন্দী মহিলাদের সাথে সহবাস করবে।
যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে, তার জন্যে এটা বৈধ নয় যে, কোন যুদ্ধবন্দী গর্ভবতী মহিলার গর্ভ প্রসবের পূর্বে তার সাথে সহবাস করবে।
আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাসী কারো জন্যে এটা বৈধ নয় যে, গনীমতের মাল ভাগবণ্টনের পূর্বে সে তা থেকে কিছু বিক্রি করবে।
আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাসী কারো জন্যে এটা বৈধ নয় যে, সে গনীমতের কোন জন্তুকে বাহনরূপে ব্যবহার করে, দুর্বল করে, তারপর তা গনীমত তহবিলে ফেরত দেবে।
আর এটাও আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন ব্যক্তির পক্ষে বৈধ নয় যে, গনীমতের দ্রব্য সামগ্রী থেকে কোন বস্ত্র পরিধান করে, তা জীর্ণ করে, পরে আবার তাতে জমা দেবে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট ইয়াযীদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন কুসায়ত উবাদা ইব্‌ন সামিত (রা) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খায়বর দিবসে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদের কাঁচা সোনা ও স্বর্ণমুদ্রার মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় বা বিনিময় করতে এবং কাঁচা রূপা এবং রৌপ্যমুদ্রায় বিনিময় করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন :
ابتاعوا تبر الذهب بالورق العين وتبر الفضة بالذهب العين
রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে কাঁচা সোনার এবং কাঁচা রৌপ্যের বিনিময় স্বর্ণমুদ্রার বিকিকিন বা বিনিময় করবে।

দাহইয়া ইব্‌ন খলীফা কালবী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে সুফিয়্যার জন্যে দরখাস্ত করেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন তাঁকে নিজের জন্যে বেছে নেন, তখন তার চাচাতো বোন দু'টি তিনি দাহ্ইয়াকে দান করেন। খায়বরে প্রচুর দাসীবাঁদী মুসলমানদের অধিকারে আসে।
সেদিন মুসলমানরা গৃহপালিত গাধার গোশত আহার করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) দাঁড়িয়ে কতিপয় বস্তু নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং সে গুলোর নামও ঘোষণা করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন যামরা ফিযারী আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ সলীতের সূত্রে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন: আমাদের কাছে যখন গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিষেধাজ্ঞা এসে পৌঁছে, তখন আমাদের ডেকচীগুলোতে গৃহপালিত গাধার গোস্ত টগবগ করে ফুটছিলো। আমরা তক্ষণি ডেকচী উপুড় করে তা ফেলে দেই।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ নূজায়হ্ মাকতুলের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেদিন তাঁদেরকে যুদ্ধবন্দী গর্ভবতী দাসীদের সাথে সহবাস করতে বারণ করে দেন। সাথে সাথে তিনি আরও যে সব ব্যাপারে নিষেধ করেন, সেগুলো হলো:
* গৃহপালিত গাধার গোশত ভক্ষণ,
* হিংস্র নখ ওয়ালা পশুর গোশত ভক্ষণ,
* গনীমতের মাল বিক্রি করা (ভাগবণ্টনের পূর্বে)।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট সালাম ইব্‌ন কারকারা, আমর ইবন দীনারের সূত্রে, তিনি জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ আনসারী থেকে, আর জাবির (রা) খায়বরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন নি, বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে বারণ করেন, তখন তিনি লোকদের ঘোড়ার গোশত খেতে অনুমতি প্রদান করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট ইয়াযীদ ইব্‌ন আবূ হাবীব, তুজায়বের আযাদকৃত গোলাম আবূ মারযুকের সূত্রে। তিনি হান্‌শ সানআনী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: একবার আমার মাগরিব অঞ্চলে রুয়ায়ফি ইব্‌ন সাবিত আনসারী (রা)-এর সংগে সহযোদ্ধারূপে যুদ্ধ করি। তিনি জারবা নামক মাগরিবের একটি গ্রাম জয় করেন, তারপর আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতে দাঁড়ান। তখন তিনি বলেন:
"হে লোক সকল! আজ আমি তোমাদের তা বলবো, যা আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে খায়বর দিবসে আমাদের বলতে শুনেছি, তার বাইরে আজ অন্য কিছু আমি তোমাদের বলবো না।"
সে দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদের মধ্যে দাঁড়ান, তারপর তিনি বলেন: আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি যার বিশ্বাস রয়েছে, এমন কোন ব্যক্তির পক্ষে এটা বৈধ নয় যে, সে পরের ক্ষেতে পানি সিঞ্চন করবে। অর্থাৎ গর্ভবতী যুদ্ধবন্দী মহিলাদের সাথে সহবাস করবে।
যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে, তার জন্যে এটা বৈধ নয় যে, কোন যুদ্ধবন্দী গর্ভবতী মহিলার গর্ভ প্রসবের পূর্বে তার সাথে সহবাস করবে।
আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাসী কারো জন্যে এটা বৈধ নয় যে, গনীমতের মাল ভাগবণ্টনের পূর্বে সে তা থেকে কিছু বিক্রি করবে।
আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাসী কারো জন্যে এটা বৈধ নয় যে, সে গনীমতের কোন জন্তুকে বাহনরূপে ব্যবহার করে, দুর্বল করে, তারপর তা গনীমত তহবিলে ফেরত দেবে।
আর এটাও আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন ব্যক্তির পক্ষে বৈধ নয় যে, গনীমতের দ্রব্য সামগ্রী থেকে কোন বস্ত্র পরিধান করে, তা জীর্ণ করে, পরে আবার তাতে জমা দেবে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট ইয়াযীদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন কুসায়ত উবাদা ইব্‌ন সামিত (রা) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খায়বর দিবসে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদের কাঁচা সোনা ও স্বর্ণমুদ্রার মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় বা বিনিময় করতে এবং কাঁচা রূপা এবং রৌপ্যমুদ্রায় বিনিময় করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন :
ابتاعوا تبر الذهب بالورق العين وتبر الفضة بالذهب العين
রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে কাঁচা সোনার এবং কাঁচা রৌপ্যের বিনিময় স্বর্ণমুদ্রার বিকিকিন বা বিনিময় করবে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনূ সাহমের অবস্থা

📄 বনূ সাহমের অবস্থা


ইবন ইসহাক বলেন : তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) পর্যায়ক্রমে তাদের কেল্লাসমূহ এবং ধন-সম্পদ অধিকার করতে থাকেন।
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ বকর আমার নিকট বনু আসলামের কোন কোন ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন যে, বনু সাহম আসলামীরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে হাযির হয়ে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আল্লাহর কসম! আমরা অনেক সাধ্য-সাধনা করেছি, কিন্তু আমাদের হাতে কিছুই আসেনি। তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছেও কিছু পেলেন না-যা তিনি তাদের দিতে পারেন। তখন তিনি বললেন :
اللهم انك قد عرفت حالهم وان ليست بهم قوة وان ليس بيدي شيئ اعطيهم اياه فافتح عليهم اعظم حصونها عنهم غناء واكثرها طعاما و ودكا
হে আল্লাহ্! আপনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। তাদের কোন শক্তি নেই। এদিকে আমার হাতেও এমন কিছু নেই যে, আমি তাদেরকে তা দেবো। সুতরাং আপনি তাদের হাতে সবচাইতে বড় দুর্গটির বিজয় দিয়ে দিন, যাতে সর্বাধিক খাদ্য-দ্রব্য ও শস্যাদি রয়েছে।
সত্যি সত্যি সকাল হতে না হতেই আল্লাহ্ তা'আলা তাদের হাতে সা'আব ইব্‌ন মু'আযের দুর্গের বিজয় দান করলেন। আর তখন খায়বরে এর চাইতে অধিক খাদ্য ও শস্যসমৃদ্ধ উত্তম কোন দুর্গ ছিল না।
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে যে সব দুর্গের বিজয় দান করার ছিল, সেগুলোর বিজয় তাঁকে দান করলেন, আর যে সব ধন-সম্পদে তাঁর অধিকার প্রদানের ছিল, সেগুলোর উপর তাঁর অধিপত্য প্রদান করলেন, শেষ পর্যন্ত মুসলমানরা ইয়াহুদীদের 'ওতীহ্ ও সুলালিম' নামক দু'টি দুর্গে গিয়ে উপনীত হলেন। এ দু'টিই ছিল খায়বরে রাসূলুল্লাহ্ বিজিত সর্বশেষ দুর্গ। দশ দিনেরও অধিককাল ধরে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এ দু'টি দুর্গ অবরোধ করে রাখেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: খায়বর দিবসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবিগণের প্রতীকী বাক্য ছিল: يَا مَنْصُورُهُ أَمَتْ أَمْتُ সাহায্যপ্রাপ্ত, মার, মার।

ইবন ইসহাক বলেন : তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) পর্যায়ক্রমে তাদের কেল্লাসমূহ এবং ধন-সম্পদ অধিকার করতে থাকেন।
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ বকর আমার নিকট বনু আসলামের কোন কোন ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন যে, বনু সাহম আসলামীরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে হাযির হয়ে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আল্লাহর কসম! আমরা অনেক সাধ্য-সাধনা করেছি, কিন্তু আমাদের হাতে কিছুই আসেনি। তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছেও কিছু পেলেন না-যা তিনি তাদের দিতে পারেন। তখন তিনি বললেন :
اللهم انك قد عرفت حالهم وان ليست بهم قوة وان ليس بيدي شيئ اعطيهم اياه فافتح عليهم اعظم حصونها عنهم غناء واكثرها طعاما و ودكا
হে আল্লাহ্! আপনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। তাদের কোন শক্তি নেই। এদিকে আমার হাতেও এমন কিছু নেই যে, আমি তাদেরকে তা দেবো। সুতরাং আপনি তাদের হাতে সবচাইতে বড় দুর্গটির বিজয় দিয়ে দিন, যাতে সর্বাধিক খাদ্য-দ্রব্য ও শস্যাদি রয়েছে।
সত্যি সত্যি সকাল হতে না হতেই আল্লাহ্ তা'আলা তাদের হাতে সা'আব ইব্‌ন মু'আযের দুর্গের বিজয় দান করলেন। আর তখন খায়বরে এর চাইতে অধিক খাদ্য ও শস্যসমৃদ্ধ উত্তম কোন দুর্গ ছিল না।
ইবন ইসহাক বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে যে সব দুর্গের বিজয় দান করার ছিল, সেগুলোর বিজয় তাঁকে দান করলেন, আর যে সব ধন-সম্পদে তাঁর অধিকার প্রদানের ছিল, সেগুলোর উপর তাঁর অধিপত্য প্রদান করলেন, শেষ পর্যন্ত মুসলমানরা ইয়াহুদীদের 'ওতীহ্ ও সুলালিম' নামক দু'টি দুর্গে গিয়ে উপনীত হলেন। এ দু'টিই ছিল খায়বরে রাসূলুল্লাহ্ বিজিত সর্বশেষ দুর্গ। দশ দিনেরও অধিককাল ধরে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এ দু'টি দুর্গ অবরোধ করে রাখেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: খায়বর দিবসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবিগণের প্রতীকী বাক্য ছিল: يَا مَنْصُورُهُ أَمَتْ أَمْتُ সাহায্যপ্রাপ্ত, মার, মার।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মারহাবের হত্যা

📄 মারহাবের হত্যা


ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট বনু হারিসার আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল ইব্‌ন আব্দুর রহমান ইব্‌ন সাহল বর্ণনা করেছেন যে, জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ বলেছেন: ইয়াহুদী মারহাব সেদিন অস্ত্র সজ্জিত হয়ে উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধগীতি গাইতে গাইতে দুর্গে থেকে বেরিয়ে আসে। সে বলছিল:
জানে খায়বার, আমি মারহাব বীর পুরুষ, সশস্ত্র বীর নখদর্পণে রণ-আহব; যুদ্ধবাজ ব্যাঘ্র যখন হয় অগ্রসর, কাবু হয়ে যায় সে বল্লম আর অসিতে মোর। ঘেঁষে না নিকটে বরং পালায় ভয়েতে অনন্তর।
সাথে সাথে সে আহবান জানাচ্ছিল: কে আমার সাথে মল্ল যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে? তার জবাবে কা'ব ইবন মালিক (রা) এগিয়ে এলেন। তিনি বললেন:
জানে খায়বর আমি কা'ব সংকট নাশি বীর বাহাদুর যবে হয় রণ সর্বত্রাসী, যুদ্ধের অনল জ্বলিয়া উঠিলে যুদ্ধ হয় চক্কে অসি কর্তনকারী বিদ্যুৎত্ময়। এমনি দলন তোদেরে আমরা দলিব যে, কষ্টই তোদের পরিণত হবে সহজে। মারের বদলে হয় তো বা দেব উচিৎ মার, নয় তো লাভিব গনীমত (রুখে সাধ্য কার?) এমন হস্তে নাই যাতে লেশ বক্রতার।
ইবন হিশাম বলেন: নিম্নবর্ণিত পংক্তিগুলো আমাকে আবূ যায়দ আনসারী শুনিয়েছেন:
জানে খায়বার আমি কা'ব (যাই যে বলি :) (স্বরূপ প্রকাশি) সমর অগ্নি উঠিলে জ্বলি।
যুদ্ধের মহাবিভীষিকা রাখি নিয়ন্ত্রণে, দৃঢ়চেতা বীর লড়ি উদ্যমে অরি সনে। সাথে তরবারি কর্তনকারী বিদ্যুৎ প্রায় উঠে যে চমকি, কাঁপেনা হস্ত বক্রতার।
খণ্ড খণ্ড করিব জানিস তোদেরে কেটে, (ফলে) কষ্ট ও আর কষ্ট রবে না মোটে।
ইবন হিশাম বলেন: মারহাব ছিল হিময়ার গোত্রের লোক।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল, জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ আনসারীর সূত্রে বর্ণনা করেন:
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এর সাথে কে লড়বে। মুহাম্মদ ইব্‌ন মাসলামা অমনি এগিয়ে এসে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! ওর সাথে আমিই লড়বো, আমি অবশ্যই তা থেকে প্রতিশোধ নেবো; সে গতকালই আমার ভাইকে' হত্যা করেছে।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এগিয়ে যাও! হে আল্লাহ্! তুমি তাকে সাহায্য কর। জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ বলেন: যখন তাদের একজন অপর জনের নিকটবর্তী হলেন, তখন একটি খেজুর গাছ তাদের মধ্যে পড়লো। একজন অপরজন থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে খেজুর গাছটিকে আড়ালরূপে ব্যবহার করতে লাগলেন। যখনই একজন খেজুর গাছটির কোন শাখার আড়ালে আত্মগোপন করছিলেন, তখন তাঁর প্রতিপক্ষ সাথে সাথে তরবারির আঘাতে সে ডালটি কেটে দিচ্ছিলেন। এমনিভাবে উভয়ে গাছটির ডালগুলো কাটতে কাটতে এক পর্যায়ে ঐ গাছটির সমস্ত ডালপালা শেষ হয়ে গেল। এমন কি শেষ পর্যন্ত গাছটি একটি দণ্ডায়মান মানুষের মূর্তিরূপে দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর মারহাব মুহাম্মদু ইবন মাসলামার উপর তলোয়ারের একটি আঘাত করলো। তিনি তা ঢাল-দ্বারা প্রতিহত করলেন, এরপর তরবারি তাতেই আটকে গেল। এবার মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা) সজোরে তাঁর তরবারি দিয়ে আঘাত করলেন, এমন কি শেষ পর্যন্ত তিনি তাকে হত্যাই করলেন।

টিকাঃ
১. তাঁর ভাই বলতে তিনি মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-কে বুঝিয়েছেন।

ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট বনু হারিসার আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল ইব্‌ন আব্দুর রহমান ইব্‌ন সাহল বর্ণনা করেছেন যে, জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ বলেছেন: ইয়াহুদী মারহাব সেদিন অস্ত্র সজ্জিত হয়ে উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধগীতি গাইতে গাইতে দুর্গে থেকে বেরিয়ে আসে। সে বলছিল:
জানে খায়বার, আমি মারহাব বীর পুরুষ, সশস্ত্র বীর নখদর্পণে রণ-আহব; যুদ্ধবাজ ব্যাঘ্র যখন হয় অগ্রসর, কাবু হয়ে যায় সে বল্লম আর অসিতে মোর। ঘেঁষে না নিকটে বরং পালায় ভয়েতে অনন্তর।
সাথে সাথে সে আহবান জানাচ্ছিল: কে আমার সাথে মল্ল যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে? তার জবাবে কা'ব ইবন মালিক (রা) এগিয়ে এলেন। তিনি বললেন:
জানে খায়বর আমি কা'ব সংকট নাশি বীর বাহাদুর যবে হয় রণ সর্বত্রাসী, যুদ্ধের অনল জ্বলিয়া উঠিলে যুদ্ধ হয় চক্কে অসি কর্তনকারী বিদ্যুৎত্ময়। এমনি দলন তোদেরে আমরা দলিব যে, কষ্টই তোদের পরিণত হবে সহজে। মারের বদলে হয় তো বা দেব উচিৎ মার, নয় তো লাভিব গনীমত (রুখে সাধ্য কার?) এমন হস্তে নাই যাতে লেশ বক্রতার।
ইবন হিশাম বলেন: নিম্নবর্ণিত পংক্তিগুলো আমাকে আবূ যায়দ আনসারী শুনিয়েছেন:
জানে খায়বার আমি কা'ব (যাই যে বলি :) (স্বরূপ প্রকাশি) সমর অগ্নি উঠিলে জ্বলি।
যুদ্ধের মহাবিভীষিকা রাখি নিয়ন্ত্রণে, দৃঢ়চেতা বীর লড়ি উদ্যমে অরি সনে। সাথে তরবারি কর্তনকারী বিদ্যুৎ প্রায় উঠে যে চমকি, কাঁপেনা হস্ত বক্রতার।
খণ্ড খণ্ড করিব জানিস তোদেরে কেটে, (ফলে) কষ্ট ও আর কষ্ট রবে না মোটে।
ইবন হিশাম বলেন: মারহাব ছিল হিময়ার গোত্রের লোক।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল, জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ আনসারীর সূত্রে বর্ণনা করেন:
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এর সাথে কে লড়বে। মুহাম্মদ ইব্‌ন মাসলামা অমনি এগিয়ে এসে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! ওর সাথে আমিই লড়বো, আমি অবশ্যই তা থেকে প্রতিশোধ নেবো; সে গতকালই আমার ভাইকে' হত্যা করেছে।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এগিয়ে যাও! হে আল্লাহ্! তুমি তাকে সাহায্য কর। জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ বলেন: যখন তাদের একজন অপর জনের নিকটবর্তী হলেন, তখন একটি খেজুর গাছ তাদের মধ্যে পড়লো। একজন অপরজন থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে খেজুর গাছটিকে আড়ালরূপে ব্যবহার করতে লাগলেন। যখনই একজন খেজুর গাছটির কোন শাখার আড়ালে আত্মগোপন করছিলেন, তখন তাঁর প্রতিপক্ষ সাথে সাথে তরবারির আঘাতে সে ডালটি কেটে দিচ্ছিলেন। এমনিভাবে উভয়ে গাছটির ডালগুলো কাটতে কাটতে এক পর্যায়ে ঐ গাছটির সমস্ত ডালপালা শেষ হয়ে গেল। এমন কি শেষ পর্যন্ত গাছটি একটি দণ্ডায়মান মানুষের মূর্তিরূপে দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর মারহাব মুহাম্মদু ইবন মাসলামার উপর তলোয়ারের একটি আঘাত করলো। তিনি তা ঢাল-দ্বারা প্রতিহত করলেন, এরপর তরবারি তাতেই আটকে গেল। এবার মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা) সজোরে তাঁর তরবারি দিয়ে আঘাত করলেন, এমন কি শেষ পর্যন্ত তিনি তাকে হত্যাই করলেন।

টিকাঃ
১. তাঁর ভাই বলতে তিনি মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-কে বুঝিয়েছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00