📄 খায়বরবাসীদের পলায়ন
ইবন ইসহাক বলেন : আমি যাকে অপবাদ দিতে পারি না, এমন একজন রাবী আমার কাছে আনাস ইবন মালিকের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ যখন কোন সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ পরিচালনা করতে মনস্থ করতেন, তখন তাদের উপর তিনি প্রত্যুষে আক্রমণ চালাতেন। যদি কোন জনপদে পৌঁছে ভোরে আযান শুনতে পেতেন, তা হলে তিনি আক্রমণ থেকে বিরত থাকতেন। আর যদি আযান শুনতে না পেতেন, তা হলে আক্রমণ চালাতেন। আমরা রাতের বেলা খায়বরে গিয়ে অবতরণ করলাম। রাসুলুল্লাহ (সা) সেখানে রাত্রীযাপন করলেন। প্রত্যুষে সেখানে তিনি আযান শুনতে পেলেন না। তখন তিনি বাহনে আরোহণ করলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে সাথে বাহনে আরোহণ করলাম। আমি নিজে আবু তালহার সাথে সহ-আরোহী হলাম। আমরা রাসুলুল্লাহ (সা)-এর এতই গা ঘেঁষে পাশাপাশি এগিয়ে যাচ্ছিলাম যে, আমার পা রাসুলুল্লাহ (সা) পবিত্র পদযুগল স্পর্শ করতে লাগলো। আমরা লক্ষ্য করলাম, খায়বরের কর্মজীবী লোকেরা প্রত্যুষে ঘর থেকে কর্মস্থলের দিকে বেরিয়ে পড়েছে। সঙ্গে তাদের বেলচা ও টুকরী রয়েছে। তারা যখন রাসুলুল্লাহ (সা) ও লোক-লশকর দেখতে পেলো, তখন তারা বলাবলি করতে লাগলো যে, ঐ যে মুহাম্মদ ও তাঁর পঞ্চবাহিনী দেখা যাচ্ছে। তখন তারা পলায়ন দিকে দৌড়ে পালালো। তখন রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন :
اللهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِيْنَ -
আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ, খায়বর উজাড় হয়ে গেল। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের আঙিনায় অবতীর্ণ হই, তখন ঐ সম্প্রদায়ের সকালের আর্তনাদ হয় অত্যন্ত মর্মস্পর্শী, যাদেরকে সর্তক করা হয়েছে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট হুমায়দ সূত্রে হারূন, আনাস (রা) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন।
টিকাঃ
১. লোক-লশকরকে পঞ্চবাহিনী বলার কারণ হলো : সে যুগে সাধারণত একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে পাঁচটি সৈন্য দলের সমাহার থাকতো : (১) অগ্রবর্তী বাহিনী, (২) দক্ষিণ বাহিনী, (৩) বাম দিকের বাহিনী, (৪) মধ্যবর্তী বাহিনী ও (৫) পশ্চাৎবর্তী বাহিনী।
ইবন ইসহাক বলেন : আমি যাকে অপবাদ দিতে পারি না, এমন একজন রাবী আমার কাছে আনাস ইবন মালিকের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ যখন কোন সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ পরিচালনা করতে মনস্থ করতেন, তখন তাদের উপর তিনি প্রত্যুষে আক্রমণ চালাতেন। যদি কোন জনপদে পৌঁছে ভোরে আযান শুনতে পেতেন, তা হলে তিনি আক্রমণ থেকে বিরত থাকতেন। আর যদি আযান শুনতে না পেতেন, তা হলে আক্রমণ চালাতেন। আমরা রাতের বেলা খায়বরে গিয়ে অবতরণ করলাম। রাসুলুল্লাহ (সা) সেখানে রাত্রীযাপন করলেন। প্রত্যুষে সেখানে তিনি আযান শুনতে পেলেন না। তখন তিনি বাহনে আরোহণ করলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে সাথে বাহনে আরোহণ করলাম। আমি নিজে আবু তালহার সাথে সহ-আরোহী হলাম। আমরা রাসুলুল্লাহ (সা)-এর এতই গা ঘেঁষে পাশাপাশি এগিয়ে যাচ্ছিলাম যে, আমার পা রাসুলুল্লাহ (সা) পবিত্র পদযুগল স্পর্শ করতে লাগলো। আমরা লক্ষ্য করলাম, খায়বরের কর্মজীবী লোকেরা প্রত্যুষে ঘর থেকে কর্মস্থলের দিকে বেরিয়ে পড়েছে। সঙ্গে তাদের বেলচা ও টুকরী রয়েছে। তারা যখন রাসুলুল্লাহ (সা) ও লোক-লশকর দেখতে পেলো, তখন তারা বলাবলি করতে লাগলো যে, ঐ যে মুহাম্মদ ও তাঁর পঞ্চবাহিনী দেখা যাচ্ছে। তখন তারা পলায়ন দিকে দৌড়ে পালালো। তখন রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন :
اللهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِيْنَ -
আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ, খায়বর উজাড় হয়ে গেল। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের আঙিনায় অবতীর্ণ হই, তখন ঐ সম্প্রদায়ের সকালের আর্তনাদ হয় অত্যন্ত মর্মস্পর্শী, যাদেরকে সর্তক করা হয়েছে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট হুমায়দ সূত্রে হারূন, আনাস (রা) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন।
টিকাঃ
১. লোক-লশকরকে পঞ্চবাহিনী বলার কারণ হলো : সে যুগে সাধারণত একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে পাঁচটি সৈন্য দলের সমাহার থাকতো : (১) অগ্রবর্তী বাহিনী, (২) দক্ষিণ বাহিনী, (৩) বাম দিকের বাহিনী, (৪) মধ্যবর্তী বাহিনী ও (৫) পশ্চাৎবর্তী বাহিনী।
📄 পথের মঞ্জিলসমূহ
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন খায়বরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, তখন তিনি ইসর পাহাড়ের পথ ধরে অগ্রসর হন। সেখানে তিনি একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর সাহবায় গিয়ে পৌঁছেন। তারপর সদলবলে রাজী প্রান্তরে শিবির স্থাপন করেন। এ মঞ্জিলটি খায়বর ও গাতফানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। উদ্দেশ্য ছিল এই যে, এ ভাবে তাঁরা গাতফান ও খায়বরবাসীদের মধ্যে অন্তরায় হয়ে যাবেন। ফলে, গাতফানবাসীরা খায়বরবাসীদের কোনরূপ সাহায্য বা রসদপত্র পৌঁছাতে সমর্থ হবে না। কেননা, গাতফানবাসীরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধে খায়বরবাসীদের সমর্থক ও সাহায্যকারী ছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন খায়বরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, তখন তিনি ইসর পাহাড়ের পথ ধরে অগ্রসর হন। সেখানে তিনি একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর সাহবায় গিয়ে পৌঁছেন। তারপর সদলবলে রাজী প্রান্তরে শিবির স্থাপন করেন। এ মঞ্জিলটি খায়বর ও গাতফানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। উদ্দেশ্য ছিল এই যে, এ ভাবে তাঁরা গাতফান ও খায়বরবাসীদের মধ্যে অন্তরায় হয়ে যাবেন। ফলে, গাতফানবাসীরা খায়বরবাসীদের কোনরূপ সাহায্য বা রসদপত্র পৌঁছাতে সমর্থ হবে না। কেননা, গাতফানবাসীরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধে খায়বরবাসীদের সমর্থক ও সাহায্যকারী ছিল।
📄 গাতফানীদের সাহায্য করার চেষ্টা
আমার নিকট এ মর্মে তথ্য পৌঁছেছে যে, গাতফানীরা যখন সংবাদ পেলো যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) খায়বরে মঞ্জিল স্থাপন করেছেন, তখন তারা লোকজনকে সমবেত করে তাঁর বিরুদ্ধে ইয়াহূদীদের সাহায্য করার মানসে বের হয়। কিন্তু এক মঞ্জিল পথ অতিক্রম করতেই তাদের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ সম্পর্কে এমনি ধারণায় উপনীত হয় যে, এটা তাদের জন্য শুভ হচ্ছে না এবং তাদের সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের এ উদ্যোগের বিরোধী, তখন তারা ফিরে যায় এবং নিজেদের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের নিকটেই অবস্থান গ্রহণ করে। এভাবে তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও খায়বরবাসীদের তাদের নিজেদের ব্যাপার নিজেদের মধ্যেই ফয়সালা করার জন্য ছেড়ে দেয়।
আমার নিকট এ মর্মে তথ্য পৌঁছেছে যে, গাতফানীরা যখন সংবাদ পেলো যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) খায়বরে মঞ্জিল স্থাপন করেছেন, তখন তারা লোকজনকে সমবেত করে তাঁর বিরুদ্ধে ইয়াহূদীদের সাহায্য করার মানসে বের হয়। কিন্তু এক মঞ্জিল পথ অতিক্রম করতেই তাদের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ সম্পর্কে এমনি ধারণায় উপনীত হয় যে, এটা তাদের জন্য শুভ হচ্ছে না এবং তাদের সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের এ উদ্যোগের বিরোধী, তখন তারা ফিরে যায় এবং নিজেদের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের নিকটেই অবস্থান গ্রহণ করে। এভাবে তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও খায়বরবাসীদের তাদের নিজেদের ব্যাপার নিজেদের মধ্যেই ফয়সালা করার জন্য ছেড়ে দেয়।
📄 দুর্গসমূহের অধিকার
রাসূলুল্লাহ্ (সা) একের পর এক তাদের ধন-সম্পদ ও দুর্গসমূহ অধিকার করতে থাকেন। তাদের দুর্গসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনি 'নাঈম' দুর্গ অধিকার করেন। এ কেল্লার কাছেই মাহমূদ ইবন মাসলামাকে যাঁতার চাক্কির পাট উপর থেকে নিক্ষপ করে শহীদ করা হয়। তারপর কামূস দুর্গ জয় করা হয়। এটা ছিল বনু আবুল হুকায়কের দুর্গ। এখানে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সুফিয়্যা বিন্ত হুয়াই ইব্ন আখতাবসহ অনেক যুদ্ধবন্দী লাভ করেন। সুফিয়্যা ছিলেন কিনানা ইব্ন রবী ইব্ন আবুল হুকায়কের স্ত্রী। তাঁর দু'জন চাচাতো বোনও ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সুফিয়্যাকে তাঁর নিজের জন্যে বেছে নেন।'
রাসূলুল্লাহ্ (সা) একের পর এক তাদের ধন-সম্পদ ও দুর্গসমূহ অধিকার করতে থাকেন। তাদের দুর্গসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনি 'নাঈম' দুর্গ অধিকার করেন। এ কেল্লার কাছেই মাহমূদ ইবন মাসলামাকে যাঁতার চাক্কির পাট উপর থেকে নিক্ষপ করে শহীদ করা হয়। তারপর কামূস দুর্গ জয় করা হয়। এটা ছিল বনু আবুল হুকায়কের দুর্গ। এখানে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সুফিয়্যা বিন্ত হুয়াই ইব্ন আখতাবসহ অনেক যুদ্ধবন্দী লাভ করেন। সুফিয়্যা ছিলেন কিনানা ইব্ন রবী ইব্ন আবুল হুকায়কের স্ত্রী। তাঁর দু'জন চাচাতো বোনও ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সুফিয়্যাকে তাঁর নিজের জন্যে বেছে নেন।'