📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উম্মু কুলছুমের হিজরত

📄 উম্মু কুলছুমের হিজরত


ইবন ইসহাক বলেন: ঐ সময়ে উব্বা ইব্‌ন আবূ মুআঈতের কন্যা উম্মু কুলছুম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে হিজরত করে আসেন। তাঁর দুই ভাই উমারা ও ওয়ালীদ তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকটে এসে হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্তানুসারে তাদের বোনকে ফেরত দেওয়া দাবী জানালো। তিনি তা করেন নি। কেননা, আল্লাহ্ তা'আলা তা করতে বারণ করে দেন।
ইবন ইসহাক বলেন: যুহরী আমার নিকট উরওয়া ইন্ন যুবায়রের সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন। আমি উরওয়ার নিকট এমন সময় গিয়ে প্রবেশ করলাম, যখন তিনি ওয়ালীদ ইব্‌ন আবদুল মালিকের পারিষদ ইব্‌ন আবূ হুনায়দার কাছে পত্র লিখছিলেন। ইব্‌ন আবূ হুনায়দা তাঁর কাছে নিম্নে উদ্ধৃত আল্লাহ্র বাণী সম্পর্কে প্রশ্ন করে পত্র লিখেছিলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ اللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيْمَانِهِنَّ ، فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الكُفَّارِ لَاهُنَّ حِلَّ لَهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّوْنَ لَهُنَّ وَأَتُوهُمْ مَّا أَنْفَقُوا وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ إِذَا أَتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الكَوَافِرِ -
হে মু'মিনগণ! তোমাদের নিকট মু'মিন নারীরা দেশত্যাগী হয়ে আসলে তোমরা তাদের পরীক্ষা করো। আল্লাহ্ তাদের ঈমান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জানতে পার যে তারা মু'মিন তবে তাদের কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাবে না। মু'মিন নারীগণ কাফিরদের জন্য বৈধ নয় এবং কাফিরগণ মু'মিন নারীদের জন্য বৈধ নয়। কাফিররা যা ব্যয় করেছে, তা তাদের ফিরিয়ে দিও। এরপর তোমরা তাদের বিয়ে করলে তোমাদের কোন অপরাধ হবে না, যদি তোমরা তাদেরকে তাদের মোহর দাও। তোমরা কাফির নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না (৬০: ১০)।
ইব্‌ন হিশাম বলেন : عصم শব্দটি বহুবচনের ব্যবহৃত এর একবচন وعصمة এর অর্থ রশি বা দড়ি। কবি আ'শা ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন সালাবা এ অর্থেই তাঁর কবিতায় বলেন:
إلى المرأقيس نطيل السرى ونأخذ من كل حي عصم
আমরা কায়স নামক ব্যক্তির দিকে রাতের যাত্রাকে দীর্ঘায়িত করি প্রত্যেক গোত্র থেকে এজন্য রশি সংগ্রহ করি।
وَسْـَٔلُوْا مَآ اَنْفَقْتُمْ وَلْيَسْـَٔلُوْا مَآ اَنْفَقُوْا ذٰلِكُمْ حُكْمُ اللّٰهِ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ وَاللّٰهُ عَلِيْمٌ حَكِيْمٌ
তোমরা যা ব্যয় করেছ তা ফেরত চাবে এবং কাফিররা ফেরত চাবে যা তারা ব্যয় করেছে। এটাই আল্লাহ্র বিধান, তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে থাকেন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (৬০: ১০)
রাবী বলেন, তারপর উরওয়া ইব্‌ন যুবায়র তাঁর নিকট লিখেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হুদায়বিয়ার দিন কুরায়שদের সাথে এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হন যে, অভিভাবকের অনুমতি ব্যতিরেকে যারাই তাঁর কাছে আসবে, তিনি তাদের ফেরত পাঠাবেন। যখন মহিলারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট হিজরত করে আসলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের মুশরিকদের কাছে ফেরত পাঠাতে বারণ করে দিলেন যখন তারা ইসলামের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন এবং যখন প্রতীয়মান হলো যে, তাঁরা সত্যি-সত্যি ইসলামের আকর্ষণেই ছুটে এসেছেন, তখন তাদের আটকিয়ে রাখতে হলে তাদের মোহরানা ফেরত দেওয়ার নিদের্শ দেওয়া হলো। এটা এ অবস্থায় প্রযোজ্য, যদি তারা مسلمانوں তাদের মহিলাদেরকে প্রদত্ত মোহরানা ফেরত দেয়। তাই বলা হলো:
ذٰلِكُمْ حُكْمُ اللّٰهِ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ وَاللّٰهُ عَلِيْمٌ حَكِيْمٌ
এটাই আল্লাহর বিধান; তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে থাকেন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় (৬০: ১০)।
তারপরই রাসূলুল্লাহ্ মক্কা থেকে হিজরত করে আগত মুসলিম মহিলাদের নিজেদের কাছে রেখে দিয়ে কেবল পুরুষদেরকেই ফেরত পাঠান, যেমনটা আল্লাহ্ নির্দেশ দেন যে, আটককৃত মুসলিম রমণীদের তাদের স্বামীদের পূর্ব প্রদত্ত মোহরানা ফেরত চেয়ে-পাঠাও এবং তারা যদি সত্যি সত্যি এরূপ আটককৃত মুসলিম রমণীদের তাদের স্বামীদের পূর্ব প্রদত্ত মোহরানা ফেরত পাঠিয়ে দেয়, তবে তোমরা তেমনিভাবে ফেরত পাঠিয়ে দিও।
যদি আল্লাহ্ এরূপ বিধান না দিতেন তা হলে পুরুষদের তিনি যেমন ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। তেমনি হিজরত করে আসা মুসলিম মহিলাদেরকেও অবশ্যই ফেরত পাঠিয়ে দিতেন। যদি হুদায়বিয়ার দিন এরূপ সন্ধিপত্র না হতো, তা হলে তিনি অবশ্যই মহিলাদের রেখে দিতেন, আর তাদের মোহরানাও ফেরত পাঠাতেন না। সন্ধির পূর্বেও মুসলিম মহিলাদের ব্যাপারে তিনি এরূপই করতেন।
ইবন ইসহাক বলেন, আমি যুহরীকে এ আয়াত সম্পর্কে এবং আল্লাহর বাণী:
وَإِنْ فَاتَكُمْ شَيْءٌ مِّنْ أَزْوَاجِكُمْ إِلَى الْكُفَّارِ فَعَاقَبْتُمْ فَأْتُوا الَّذِينَ ذَهَبَتْ أَزْوَاجُهُمْ مِّثْلَ مَا أَنْفَقُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي أَنْتُمْ بِهِ مُؤْمِنُونَ
তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফিরদের নিকট চলে যায় এবং তোমাদের যদি সুযোগ আসে, তখন যাদের স্ত্রীগণ হাতছাড়া হয়ে গিয়াছে তাদেরকে, তারা যা ব্যয় করেছে তা সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। ভয় কর আল্লাহকে, যাতে তোমরা বিশ্বাসী (৬০: ১১)।
তখন উরওয়া জবাব দিলেন: আল্লাহ্ তা'আলা বলছেন, যদি তোমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে কাফিরদের হাতে ফেলে এসে থাকে, আর তাদের কোন মহিলা যদি তোমাদের কাছে একান্তই না আসে, যাতে করে তোমরা তাদের কাছ থেকে মোহরানা আদায় করতে পার-যেমনটি তারা তোমাদের নিকট থেকে আদায় করে নেয়, তা হলে তোমরা তোমাদের হাতে তাদের যে গনীমতের মাল এসেছে, তা থেকে তোমরা তাদের মহিলাদের প্রদত্ত মোহরানার সমপরিমাণ সম্পদ তাদেরকে বিনিময় স্বরূপ দিয়ে দাও।
যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَات ...... بعصم الكوافر -
হে মু'মিনগণ! তোমাদের নিকট মু'মিন নারীরা দেশত্যাগী হয়ে আসলে তোমরা কাফির নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্কে রেখো না।
তখন যারা তাদের এরূপ স্ত্রীদের তালাক দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রা) তিনি তাঁর স্ত্রী কুরায়রা বিন্ত আবূ উমাইয়া ইব্‌ন মুগীরাকে তালাক দেন। তারপর মু'আবিয়া ইব্‌ন আবু সুফিয়ান তাঁকে বিবাহ করেন। তখন তাঁরা উভয়েই পৌত্তলিকরূপে জীবন যাপন করছিলেন। এভাবে তিনি তাঁর স্ত্রী উম্মু কুলছুম বিন্ত জারওয়ালকে তালাক দেন, যিনি উবায়দুল্লাহ্ ইবন উমর খুযায়রীর মা ছিলেন। আবূ হুযায়ফা ইব্‌ন্ন গানিমের পুত্র আবু জাহাম পরে তাকে বিবাহ করেন। ইনি উমর (রা)-এরই স্বগোত্রীয় লোক ছিলেন। এঁরাও দু'জনও তখনো পৌত্তলিক ছিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ

📄 মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ


ইব্‌ন হিশাম বলেন: আমার নিকট আবু উবায়দা বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে কোন একজন সাহাবী তাঁর মদীনায় আগমনের পর জিজ্ঞাসা করেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা) আপনি কি বলেন নি যে, আপনি নিরাপদে মক্কায় প্রবেশ করবেন?
তখন জবাবে তিনি বলেন :
بلى ، أَفَقُلْتُ لَكُمْ مِنْ عامى هذا
অবশ্যই বলেছি, কিন্তু আমি কি তোমাদের এ বছরই প্রবেশ করবো বলেছিলাম।
তখন সাহাবিগণ জবাব দিলেন: জ্বী-না।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন:
فَهُوَ كَمَا قَالَ لِي جِبْرَئِيلَ عَلَيْهِ السَّلام -
আমি জিবরাঈল (আ)-এর কথা অনুসারেই তা বলেছিলাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00