📄 সুহায়লের প্রতিজ্ঞা
ইবন ইসহাক বলেন: সুহায়ল ইব্ন আমর যখন জানতে পারলো যে, আবূ বসীর কুরায়שদের সাথী আমিরকে হত্যা করে ফেলেছেন, তখন সে কা'বার প্রাচীরে পিঠ ঠেকিয়ে প্রতিজ্ঞা করলো যে, এ ব্যক্তির রক্তপণ উশুল না করা পর্যন্ত আমি আমার পিঠ কা'বা প্রাচীর থেকে সরিয়ে নেবো না। তখন আবু সুফিয়ান ইব্ন হারব (তদানীন্তন অন্যতম কুরায়ש নেতা) বলে উঠলেন: আল্লাহর কসম! এটা একটা নিরেট নির্বুদ্ধিতা বৈ কিছুই নয়। আল্লাহ্র কসম! এর রক্তপণ কস্মিনকালেও উশুল করা যাবে না।
📄 আবূ আনীসের কবিতা
বনূ যাহরা গোত্রের মিত্র মাওহাব ইব্ন রিয়াহ্ আবূ আনীস সে প্রসঙ্গে নিম্নের কবিতাটি বলেন:
সুহায়লের নিকট থেকে আমার কাছে পৌঁছলো একটি ছোট্ট বার্তা, আমাকে তা জাগিয়ে রাখলো তাবৎ রাত, হারাম করে দিল আমার রাতের ঘুম।
তুমি যদি আমার প্রতি তোমার রোষ বা বিরাগ প্রকাশ করতে চাও, তবে স্বাচ্ছন্দে তা করতে পার, কেননা, তোমার সাথে আমার কোন শত্রুতা নেই।
তুমি কি আমাকে ভীতি প্রদর্শন করছো বনু মাখযুমের, অথচ আমার চতুর্পার্শ্বে রয়েছে বনু আব্দ মান্নাফ? অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, তুমি এমন লোকদের প্রতিও বৈরিতা পোষণ কর!
তুমি যদি আমার বল্লম চেপে ধর, তা হলে তুমি আমাকে কঠিন দুঃসময়েও দুর্বলভাষী দেখবে না।
পিতৃপুরুষের দিক থেকে যারা অভিজাত, বংশ মর্যাদায় আমি তাদেরও সেরা; যখন দুর্বলের প্রতি চলে নিপীড়ন, তখন আমি আমার স্ববংশীয় লোকজন নিয়ে— অবতীর্ণ হই তীর নিক্ষেপে।
তাঁরাই তো নিঃসন্দেহে ঐ সব লোক, যারা প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করে আসছে, মক্কার উঁচু অঞ্চল থেকে শুরু করে, নিম্নাঞ্চল ও প্রান্তরের অঞ্চল পর্যন্ত।
দ্রুতগামী ও মযবুত গড়নের অশ্বাদির সাহায্যে— তারা অত্যন্ত মারমুখী এবং যুদ্ধবিগ্রহ করতে করতে— .....অত্যন্ত শীর্ণদেহী হয়ে পড়েছে।
সা'দ গোত্রের লোকজন সম্যক জানে, খায়েফে আমাদের অভিজাত্যের প্রতীকী প্রাসাদ— অত্যন্ত মযবুত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।