📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ বসীরের কাহিনী

📄 আবূ বসীরের কাহিনী


ইন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মদীনায় পদার্পণ করলেন, তখন আবূ বসীর উতবা ইব্‌ন উসায়দ ইব্‌ন জারিয়া তাঁর কাছে এসে পৌঁছলেন। মক্কার যাঁদেরকে আটকে রাখা হয়েছিল তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তিনি যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট পৌছলেন, তখন আযহার ইব্‌ন আব্দ আওফ ইব্‌ন আব্দ ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন যাহরা এবং আখনাস ইব্‌ন শুরায়ক ইব্‌ন আমর ই ওয়াহাব সাকাফী তাঁর ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে পত্র লিখে বনূ আমির ইব্‌ন লুয়াঈর এক ব্যক্তিকে তাঁর কাছে পাঠালেন। তার সাথে তাদের আরেক জন আযাদকৃত গোলাম ছিল। তারা দুজনে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দরবারে আযহার ও আখনাসের পত্রসহ উপস্থিত হলো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন আবূ বসীরকে লক্ষ্য করে বললেন: হে আবু বসীর! আমরা ঐ সম্প্রদায়ের সাথে যে চুক্তিতে আবদ্ধ তা তোমার অজানা নেই। আর আমাদের ধর্মে বিশ্বাসভঙ্গেরও কোন অবকাশ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমার এবং তোমার সাথীদের মধ্যে যারা দুর্বল, তাদের জন্যে নিষ্কৃতি ও মুক্তির কোন ব্যবস্থা অবশ্যই করবেন। সুতরাং তুমি তোমার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যাও। তখন তিনি বললেন:
يَا رَسُولَ اللهِ أَتَرُدُّنِي إِلَى الْمُشْرِكِينَ يَفْتَنُونَنِي فِي دِينِي .
হে আল্লাহ্র রাসূল (সা)! আপনি কি আমাকে সেই মুশরিকদের কাছে ফিরিয়ে দেবেন, যারা আমার দীনকে বরবাদ করবে? তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন:
يَا أَبَا بَصِيْرَ انْطَلِقَ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى سَيَجْعَلُ لَكَ وَلِمَنْ مَعَكَ مِنَ الْمُسْتَعْصَفِينَ فَرْجًا وَمَخْرَجًا -
তুমি চলে যাও, হে আবূ বসীর। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা তোমার জন্যে এবং তোমার সঙ্গী-সাথী দুর্বলদের জন্যে অচিরেই মুক্তির একটা বন্দোবস্ত করে দেবেন।
এরপর তিনি তাদের সাথে চলে গেলেন। যখন তারা যুলহুলায়ফায় গিয়ে উপনীত হলেন, তখন তাঁরা একটি প্রাচীরের পাশে ঘেঁষে বসলেন। তাঁর সঙ্গী দু'জন ও তাঁর কাছেই বসলেন। তখন আবূ বসীর বললেন: হে বনূ আমির গোত্রীয় ভাইটি! তোমার তলোয়ারটি কি খুব ধারাল নাকি?
সে বললেন: হ্যাঁ, তখন তিনি বললেন: আমি কি এটা একটু দেখতে পারি? সে বললেন: তুমি চাইলে দেখতে পারো।
রাবী বলেন: তারপর আবূ বসীর তরবারি কোষমুক্ত করলেন এবং তার প্রতি তা তাক করলেন, আর এভাবে তার ভবলীলা সাঙ্গ করলেন। সঙ্গে সেই আযাদকৃত দাসটি তখন দ্রুত পালিয়ে গেল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট এসে উপস্থিত হলো। তিনি তখন মসজিদে উপবিষ্ট ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তাকে আসতে দেখে বলে উঠলেন:
লোকটি নিশ্চয়ই কোন ভীতিপ্রদ দৃশ্য দেখেছে। তারপর যখন লোকটি তাঁর নিকটে এলো, তখন তিনি বললেন: কিরে অভাগা, তোর কী হলো? তখন সে বলল:
• আপনার লোকটি আমার সঙ্গীকে হত্যা করে ফেলেছে।
* রাবী বলেন: আল্লাহ্র কসম! ইতিমধ্যেই আবূ বসীর তলোয়ার সজ্জিত অবস্থায় সেখানে উপস্থিত হলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকটে এসে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনার দায়িত্ব পূণ হয়েছে। আল্লাহ্ আপনাকে দায়িত্ব মুক্ত করেছেন। আপনি আমাকে সম্প্রদায়ের হাতে অর্পণ করেছেন। আমি আমাকে ধর্ম বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছি এবং আমাকে ফেরত পাঠানোর ঝামেলা থেকে আত্মরক্ষা করেছি। রাবী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন:
ويل امه محش حرب لوكان معه رجال !
তার মায়ের সর্বনাশ হোক।' তার সাথে আরো কয়েকজন থাকলে তো রীতিমত যুদ্ধই শুরু হয়ে যেতো।
তারপর আবূ বসীর সেখান থেকে প্রস্থান করলেন। সমুদ্রোপকূলে অবস্থিত যুলমারওয়ার নিকটবর্তী 'ঈস' নামক স্থানে গিয়ে তিনি অবস্থান গ্রহণ করলেন। এটা ছিল কুরায়שদের সিরিয়া গমনের পথ। এদিকে মক্কায় কুরায়শদের আটকে রাখা মুসলমানদের নিকট সংবাদটি যখন পৌঁছলো যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবু বসীরকে লক্ষ্য করে বলেছেন যে, তার সাথে আরও কয়েকজন থাকলে তো রীতিমত যুদ্ধই শুরু হয়ে যেতো, তখন তারা ও আবূ বসীরের সাথে মিলিত হওয়ার উদ্দেশ্যে 'ঈসের; উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন। দেখতে দেখতে তাদের সত্ত্বর জনের মত লোক আবু বসীরের নিকট সমবেত হলেন। তাঁরা কুরায়শদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুললেন। তাঁরা তাদের যাকেই হাতের কাছে পেতেন, তাকেই হত্যা করতেন এবং তাদের যে কাফিলাকেই তাঁদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে দেখতেন, তার উপরই হামলা চালাতেন। শেষ পর্যন্ত কুরায়শরা আত্মীয়তা বন্ধনের দোহাই দিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট পত্র লিখলো যে তিনি যেন ওঁদেরকে নিজের আশ্রয়ে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে রক্ষা করেন। তাঁদের ব্যাপারে তাদের আর কোন দাবী বা আপত্তি থাকবে না। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁদেরকে আশ্রয় দিলেন আর তাঁরা মদীনায় তাঁর নিকট গিয়ে উঠলেন। ইবন হিশাম আবু বসীরকে বলে অভিহিত করেন।

টিকাঃ
১. এটা আসলে কোন বদদু'আ বা অভিশাপ নয়। এটা আরবী একটা বাকরীতি। সাধারণত কেউ অসাধারণ বা সাংঘাতিক কোন কাজ করলে এরূপ বলা হয়ে থাকে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সুহায়লের প্রতিজ্ঞা

📄 সুহায়লের প্রতিজ্ঞা


ইবন ইসহাক বলেন: সুহায়ল ইব্‌ন আমর যখন জানতে পারলো যে, আবূ বসীর কুরায়שদের সাথী আমিরকে হত্যা করে ফেলেছেন, তখন সে কা'বার প্রাচীরে পিঠ ঠেকিয়ে প্রতিজ্ঞা করলো যে, এ ব্যক্তির রক্তপণ উশুল না করা পর্যন্ত আমি আমার পিঠ কা'বা প্রাচীর থেকে সরিয়ে নেবো না। তখন আবু সুফিয়ান ইব্‌ন হারব (তদানীন্তন অন্যতম কুরায়ש নেতা) বলে উঠলেন: আল্লাহর কসম! এটা একটা নিরেট নির্বুদ্ধিতা বৈ কিছুই নয়। আল্লাহ্র কসম! এর রক্তপণ কস্মিনকালেও উশুল করা যাবে না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ আনীসের কবিতা

📄 আবূ আনীসের কবিতা


বনূ যাহরা গোত্রের মিত্র মাওহাব ইব্‌ন রিয়াহ্ আবূ আনীস সে প্রসঙ্গে নিম্নের কবিতাটি বলেন:
সুহায়লের নিকট থেকে আমার কাছে পৌঁছলো একটি ছোট্ট বার্তা, আমাকে তা জাগিয়ে রাখলো তাবৎ রাত, হারাম করে দিল আমার রাতের ঘুম।
তুমি যদি আমার প্রতি তোমার রোষ বা বিরাগ প্রকাশ করতে চাও, তবে স্বাচ্ছন্দে তা করতে পার, কেননা, তোমার সাথে আমার কোন শত্রুতা নেই।
তুমি কি আমাকে ভীতি প্রদর্শন করছো বনু মাখযুমের, অথচ আমার চতুর্পার্শ্বে রয়েছে বনু আব্দ মান্নাফ? অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, তুমি এমন লোকদের প্রতিও বৈরিতা পোষণ কর!
তুমি যদি আমার বল্লম চেপে ধর, তা হলে তুমি আমাকে কঠিন দুঃসময়েও দুর্বলভাষী দেখবে না।
পিতৃপুরুষের দিক থেকে যারা অভিজাত, বংশ মর্যাদায় আমি তাদেরও সেরা; যখন দুর্বলের প্রতি চলে নিপীড়ন, তখন আমি আমার স্ববংশীয় লোকজন নিয়ে— অবতীর্ণ হই তীর নিক্ষেপে।
তাঁরাই তো নিঃসন্দেহে ঐ সব লোক, যারা প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করে আসছে, মক্কার উঁচু অঞ্চল থেকে শুরু করে, নিম্নাঞ্চল ও প্রান্তরের অঞ্চল পর্যন্ত।
দ্রুতগামী ও মযবুত গড়নের অশ্বাদির সাহায্যে— তারা অত্যন্ত মারমুখী এবং যুদ্ধবিগ্রহ করতে করতে— .....অত্যন্ত শীর্ণদেহী হয়ে পড়েছে।
সা'দ গোত্রের লোকজন সম্যক জানে, খায়েফে আমাদের অভিজাত্যের প্রতীকী প্রাসাদ— অত্যন্ত মযবুত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00