📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সাফল্যের সুসংবাদ

📄 সাফল্যের সুসংবাদ


তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَآثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا - وَمَغَانِمَ كَثِيرَةٌ يَأْخُذُونَهَا وَكَانَ اللهُ عَزِيزًا حَكِيمًا - وَعَدَكُمُ اللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةٌ تَأْخُذُونَهَا ، فَعَجَلَ لَكُمْ هذه وكَفَّ أَيْدِي النَّاسِ عَنْكُمْ ، وَلِتَكُونَ آيَةً لِّلْمُؤْمِنِينَ وَيَهْدِيَكُمْ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا - وَأُخْرَى لَمْ تَقْدِرُوا عَلَيْهَا قَدْ أَحَاطَ اللَّهُ بِمَا وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرًا -
মু'মিনরা যখন বৃক্ষতলে তোমার নিকট বায়'আত গ্রহণ করলো, তখন আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন। তাদের অন্তরে যা ছিল, তা তিনি অবগত ছিলেন। তাদের তিনি দান করলেন প্রশান্তি এবং তাদেরকে পুরস্কার দিলেন আসন্ন বিজয় ও বিপুল পরিমাণ যুদ্ধে লভ্য সম্পদ, যা তারা হস্তগত করবে; আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আল্লাহ্ তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল-সম্পদের যার অধিকারী হবে তোমরা। তিনি তা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করবেন। তিনি তোমাদের হতে মানুষের হাত নিবারিত করেছেন, যেন তা হয় মু'মিনদের জন্য এক নিদর্শন এবং আল্লাহ্ তোমাদের পরিচালিত করেন সরল পথে। আরও বহু সম্পদ রয়েছে যা এখনো তোমাদের অধিকারের আসেনি, তা তো আল্লাহ্র নিকট রক্ষিত আছে। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান (৪৮: ১৮-২১)।
তারপর আল্লাহর তা'আলা তাঁর পক্ষ থেকে কাফিরদের উপর বিজয় দানের পর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার কথা উল্লেখ করেন অর্থাৎ ঐ সমস্ত লোকদের সাথে যুদ্ধ করা থেকে, যাদের পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) কষ্ট পেয়েছিলেন। আর আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধাচরণ করতে বারণ করে দিয়েছিলেন। তারপর তিনি বলেন:
وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْ بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا .
আর তিনি মক্কা উপত্যকায় ওদের হাত তোমাদের হতে এবং তোমাদের হাত ওদের হতে নিবারিত করেছেন, ওদের উপর তোমাদের বিজয়ী করার পর। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ্ তা দেখেন (৪৮: ২৪)।
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
هُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَالْهَدْيَ مَعْكُوفًا أَنْ يَبْلُغَ مَحِلَهُ *
ওরাই তো কুফরী করেছিল এবং তোমাদের নিবৃত্ত করেছিল মসজিদুল হারাম হতে বাধা দিয়েছিল কুরবানীর জন্য আবদ্ধ পশুগুলোকে যথাস্থানে পৌঁছতে (৪৮: ২৫)।
ইবন হিশাম বলেন: এখানে المعكون শব্দটি المحبوس অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। (যার অর্থ বাধ্যগ্রস্ত)।
ইবন ইসহাক বলেন:
وَلَوْ لَا رِجَالٌ مُّؤْمِنُونَ وَنِسَاءٌ مُؤْمِنَاتٌ لَمْ تَعْلَمُوهُمْ أَنْ تَطْئُوهُمْ فَتُصِيبَكُمْ مِّنْهُمْ مُعَرَّةٌ بِغَيْرِ علم
তোমাদের যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হতো যদি না থাকতো এমন কিছু নর ও নারী যাদের তোমরা জান না, তোমরা তাদের পদদলিত করতে অজ্ঞাতসারে; ফলে ওদের কারণে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে (৪৮: ২৫)।
এ আয়াতে المعرة বলতে الغرم বা জরিমান বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ তাদের জন্যে অজ্ঞাতসারে তোমরা নিজেদের উপর জরিমান জরুরী করতে, তারপর তোমাদেরকে তার রক্তপণ দিতে হতো। معرة শব্দটি এখানে ثم। বা গুনাহ্ অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। কেননা, এখানে তার কোন সন্দেহ বা অবকাশ ছিল না।'
ইব্‌ন হিশাম বলেন: আমার নিকট মুজাহিদের এ বর্ণনা পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন, এ আয়াতটি ওয়ালীদ ইব্‌ন মুগীরা, সালামা ইব্‌ন্ন হিশাম, আইয়াש ইব্‌ন আবু রাবী'আ, আবু জান্দল ইব্‌ন সুহায়ল এবং তাঁদের মত আরো যাঁরা তদানীন্তন মক্কায় ছিল, তাঁদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: তারপর আল্লাহ্ তাবারাক তা'আলা আরো বলেন:
إِذْ جَعَلَ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي قُلُوبِهِمُ الحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الجَاهِلِيَّةِ -
যখন কাফিররা তাদের অন্তরে পোষণ করতো গোত্রীয় অহমিকা অজ্ঞতা যুগের অহমিকা (৪৮: ২৬)।
অর্থাৎ সুহায়ল ইব্‌ন আমর যখন বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম ও মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ লিখতেই তার মধ্যে কুণ্ঠা দেখা দিল।
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَى رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ -
তখন আল্লাহ্ তাঁর রাসূল ও মু'মিনদের উপর তাঁর প্রশান্তি দান করলেন (৪৮ : ২৬)
وَالزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى وَكَانُوا أَحَقُّ بِمَا وَأَهْلَهَا وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا
আর তাদের তাক্তয়ার বাক্যে সুদৃঢ় করলেন এবং তারাই ছিল এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। আল্লাহ্ সমস্ত বিষয়ে সম্যক জ্ঞান রাখেন (৪৮: ২৬)।
অর্থাৎ তাওহীদ তথা কালিমায়ে "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু" এর সাক্ষ্য দেওয়ার অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত তারাই ছিলেন।
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
لقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الدُّنْيَا بِالْحَقِّ لَتَدْخُلُنُ المَسْجِدَ الْحَرَامَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ مُحَلِّقِينَ رَءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ * فَعَلِمَ مَالِمْ تَعْلَمُوا فَجَعَلَ مِنْ دُونِ ذَلِكَ فَتْحًا قَرِيبًا .
নিশ্চয় আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেছেন আল্লাহ্র ইচ্ছায় তোমরা অবশ্যই মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে—কেউ কেউ মস্তক মুণ্ডিত করবে কেউ কেউ কেশ কর্তন করবে। তোমাদের কোন ভয় থাকবে না। আল্লাহ্ জানেন, যা তোমরা জান না এ ছাড়াও তিনি তোমাদের দিয়েছেন এক সদ্য বিজয় (৪৮ : ২৭)।
অর্থাৎ হুদায়বিয়ার সন্ধি।
যুহরী (র) বলেন: ইসলামের ইতিহাসে ইতিপূর্বে এর চাইতে বড় কোন বিজয় আর অর্জিত হয়নি। যেখানেই লোকজন সমবেত হতো বা পারস্পরিক সাক্ষাৎ হতো, সেখানেই যুদ্ধের সূচনা হতো। যখন এই সন্ধি স্থাপিত হলো এবং যুদ্ধের অবসান হলো এবং লোকজন একে অপর থেকে নিরাপদবোধ করতে লাগলো, তখন পারস্পরিক সাক্ষাতে তারা আলাপ- আলোচনা, ভাব বিনিময় এবং বির্তক ও বাদানুবাদের সুযোগ পেলো। যখনই কেউ ইসলাম সম্পর্কে কোন কথা বলতো এবং তা কারো বোধ্যগম্য হয়ে যেতো, তখনই সে ইসলাম গ্রহণ করতো। ফলে, দু'বছরে এত অধিক সংখ্যক লোক ইসলাম গ্রহণ করলো যে, ইতিপূর্বে সামগ্রিকভারে, যত লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তাদের সংখ্যা পূর্ববর্তীদের সমান ছিল বা পরবর্তী ইসলাম গ্রহণকারীদের সংখ্যা পূর্ববর্তীদের সংখ্যাকেও অতিক্রম করেছিল।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: যুহরীর এ বক্তব্যের যথার্থতার প্রকৃষ্ট প্রমাণ হলো—রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন হুদায়বিয়ার দিকে যাত্রা করেন, তখন জাবির ইবন আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুসারে, তাঁর সঙ্গী-সাথীদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দশ। পক্ষান্তরে, দু'বছর পর মক্কা বিজয়ের বছর যখন তিনি পুনরায় যাত্রা করেন, তখন তাঁর সঙ্গী-সাথীদের সংখ্যা ছিল দশ হাজার।

টিকাঃ
১. কেননা, অজ্ঞাতসারে এরূপ হত্যা করলে গুনাহ্ হতো না। শুধু তাদের রক্তপণ পরিশোধ করতে হতো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00