📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সন্ধির সাক্ষিগণ

📄 সন্ধির সাক্ষিগণ


রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন সন্ধিপত্র লেখানো থেকে নিষ্ক্রান্ত হলেন, তখন তিনি কয়েকজন মুসলমান ও কয়েকজন মুশরিককেও সন্ধির সাক্ষী বানিয়ে রাখলেন। তাঁরা হলেন: ১. আবু বকর সিদ্দীক (রা) ২. উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রা) ৩. আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রা) ৪. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সুহায়ল ইব্‌ন আমর (রা) ৫. সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাস (রা) ৬. মাহমুদ ইবন মাসলামা (রা) ৭. মিকরায ইব্‌ন হাফস—তিনি তখনো মুশরিক ছিলেন। ৮. আলী ইব্‌ন আবু তালিব (রা) সন্ধিপত্রটি আলী (রা)-ই লিখেছিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরবানীর উট যবাই

📄 কুরবানীর উট যবাই


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর তাঁবু হিল্ল' তথা হেরেম সীমার বাইরে ছিল। কিন্তু তিনি সালাত আদায় করতেন হেরেম সীমানার মধ্যে। সন্ধিপত্র স্বাক্ষরের পর তিনি কুরবানীর উটসমূহের কাছে যান এবং সেগুলো যবাই করেন। তারপর বসে মাথা মুণ্ডন করালেন। সেদিন তাঁর মস্তক যিনি মুণ্ডন করেছিলেন, আমার জানামতে তিনি ছিলেন খারাশ ইবন উমাইয়া ইব্‌ন ফযল খুযায়ী। লোকে যখন লক্ষ্য করলো যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) উট যবাই করে মস্তক মুণ্ডন করে ফেলেছেন, তখন তারাও দ্রুত এগিয়ে তাদের উটসমূহ যবাই করলো এবং মস্তক মুণ্ডন করতে লাগলো।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ আবূ নুজায়হ্-মুজাহিদ সূত্রে ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : হুদায়বিয়ার দিনে অনেকে মস্তক মুণ্ডন করেন, আবার অনেকে তাদের চুল খাটো করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন :
يَرْحَمُ اللهُ الْمُخَلَّقِينَ - আল্লাহ্ হলককারীদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।
তখন তাঁরা বললেন :
وَالْمُقَصِّرِينَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ আর কসরকারীদের প্রতি নয়, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ?
তিনি পুনরায় বললেন :
يَرْحَمُ اللهُ المُخَلقِينَ - আল্লাহ্ তা'আলা হলককারীদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।
তাঁরা বললেন :
وَالْمُقَصِّرِينَ يَا رَسُولَ اللَّهِ এবং কসরকারীদের প্রতিও নয়, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ?
তিনি পুনরায় বললেন :
يَرْحَمُ اللهُ المُحَلِّقِينَ আল্লাহ্ হলককারীদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন!
তখন তিনি আরো বললেন :
والمُقَصِّرِينَ এবং কসরকারীদের প্রতিও।
তখন তাঁরা বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কসরকারীদের প্রতি রহমতের উপর জোর না দিয়ে হলককারীদের প্রতি রহমতের উপর এত জোর দিলেন কেন? বললেন: এজন্যে যে তারা একটুও দ্বিধা করেনি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নাকে রূপার আংটা লাগানো উট

📄 নাকে রূপার আংটা লাগানো উট


আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ নুজায়হ বলেন: আমার নিকট মুজাহিদ আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) হুদায়বিয়ার দিন যে সব উট কুরবানী করেন, তার মধ্যে একটি ছিল আবু জাহেলের উট; যার নাকে একটি রূপার আংটা লাগানো ছিল। মুশরিকদের মর্মপীড়া বৃদ্ধি জন্যে এ ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়েছিল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সূরা ফাতহ নাযিলের প্রেক্ষাপট

📄 সূরা ফাতহ নাযিলের প্রেক্ষাপট


যুহরী তাঁর হাদীসে বর্ণনা করেন যে, তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে উপনীত হন, তখন সূরা ফাত্‌হ নাযিল হয়:
إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِينًا لِّيَغْفِرَ لَكَ اللهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ وَيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكَ وَيَهْدِيَكَ صراطا مستقيما .
নিশ্চয়ই আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়, এটা এই জন্য যে, যেন আল্লাহ্ তোমার অতীত ও ভবিষ্যৎ ত্রুটিসমূহ মার্জনা করেন এবং তোমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন ও তোমাকে সরল পথে পরিচালিত করেন (৪৮ : ১-২)।
তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও তাঁর সাহাবাদের কথা আলোচনা করা হয়। শেষ পর্যন্ত বায়'আতে রিদওয়ান প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ ۚ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُتُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهِ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا .
যারা তোমার বায়'আত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহরই বায়'আত গ্রহণ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর। সুতরাং যে তা ভঙ্গ করে, তা ভঙ্গ করার পরিণাম তারই এবং সে আল্লাহ্র সাথে অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তিনি তাকে মহাপুরস্কার দেন (৪৮: ১০)।
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা ঐসব বেদুঈনদের কথা উল্লেখ করেন, যারা জিহাদের ডাকে সাড়া দিতে পশ্চাৎপদ হয়েছিল। তারপর তিনি উল্লেখ করেন যে, যখন তাদের জিহাদের জন্য আল্লাহ্র রাসূল আহবান করেন, তখন তারা পিছপা হয়ে যায়:
سَيَقُولُ الْمُخْلَفُونَ مِنَ الْأَعْرَابِ شَغَلَتْنَا أَمْوَالُنَا وَأَهْلُونَا .
যে সকল আরব মরুবাসী গৃহে রয়ে গিয়েছে, তারা তোমাকে বলবে, আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজন আমাদের ব্যস্ত রেখেছে (৪৮: ১১)।
এভাবে তাদের অবস্থা তুলে ধরে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
سَيَقُولُ الْمُخَلَّفُونَ إِذا انْطَلَقْتُمْ إِلى مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوهَا ذَرُونَا نَتَّبِعْكُمْ -
তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাবে, তখন যারা গৃহে রয়ে গিয়েছিল, তারা বলবে, আমাদেরকে তোমাদের সংগে যেতে দাও (৪৮: ১৫)।
يُرِيدُونَ أَنْ يُبَدِّلُوا كَلامَ اللهِ قُلْ لَنْ تَتَّبِعُونَا كَذَالِكُمْ قَالَ اللَّهُ مِنْ قَبْلُ ۚ فَسَيَقُولُونَ بَلْ تَحْسُدُونَنَا بَلْ كَانُوا لَا يَفْقَهُونَ إِلَّا قَلِيلاً -
তারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করতে চায়। বল, তোমরা কিছুতেই আমাদের সঙ্গী হতে পারবে না। আল্লাহ্ পূর্বেই এইরূপ ঘোষণা করেছেন। তারা বলবে, তোমরা তো আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছো। বস্তুত ওদের বোধশক্তি সামান্য (৪৮: ১৫)।
তারপর তার পূর্ণ বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ্ একথাও বর্ণনা করেন যে, কিভাবে তাদের একটি 'শক্তিশালী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্যে আহবান জানানো হয়।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ নুজায়হ্ আতা ইব্‌ন আবূ রিবাহ ইব্‌ন আব্বাস সূত্রে বর্ণনা করেন যে, এখানে শক্তিশালী সম্প্রদায় বলতে পারসিক জাতিকে বুঝানো হয়েছে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি যুহরীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যাঁকে আমি মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দিতে পারি না, শক্তিশালী সম্প্রদায় বলতে (মুসায়লামা) কায্যাবের সঙ্গী-সাথী, হানীফা গোত্রের লোকদের বুঝানো হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00