📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সর্বমোট সংখ্যা

📄 সর্বমোট সংখ্যা


ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্‌ন মুসলিম ইব্‌ন শিহাব যুহরী উরওয়া ইব্‌ন যুবায়র সূত্রে মিসওয়ার ইব্‌ন মাখরামা ও মারওয়ান ইব্‌ন হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা দু'জনে তাঁর নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) হুদায়বিয়ার বছর শুধুমাত্র বায়তুল্লাহ্ যিয়ারতের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। যুদ্ধের অভিপ্রায় তাঁর ছিল না। তিনি তাঁর সংগে নিয়েছিলেন কুরবানীর সত্তরটি উট। তাঁর সংগে লোক ছিল সাত শ'। প্রতি দশজনের পক্ষ থেকে একটি করে উট ছিল।
আমার জানা মতে, জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) বলতেন: হুদায়বিয়ার সময় আমরা সঙ্গে ছিলাম চৌদ্দ শ' জন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সংঘাত পরিহার প্রসংগে

📄 সংঘাত পরিহার প্রসংগে


যুহরী বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যাত্রা শুরু করলেন। যখন তিনি সদলবলে উসফান নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন বিশর ইব্‌ন সুফিয়ান কাবী' তাঁর সংগে সাক্ষাৎ করলেন। ইন্ন হিশামের ভাষ্য মতে কেউ কেউ এ সাক্ষাৎকারীর নাম বলেছেন 'বুসর'। তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! কুরায়শরা আপনার আগমন সংবাদ পেয়েছে। তারা স্ত্রী-পুত্রদের সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। তারা চিতাবাঘের চর্ম পরিহিত। তারা যী-তুওয়ায় এসে শিবির স্থাপন করেছে। তারা আল্লাহর নামে প্রতিজ্ঞা করেছে যে, আপনাকে তারা কোনক্রমেই মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ। তারা তাঁকে আগেই কুরাউল গামীমে পাঠিয়ে দিয়েছে।
রাবী বলেন, জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: কুরায়শদের সর্বনাশ হোক। যুদ্ধ তাদের গ্রাস করে ফেলেছে। তারা যদি ব্যাপারটি আমার এবং আরবদের মধ্যে ছেড়ে দিতো, তা হলে তাদের কী অসুবিধা ছিল? তাদের অভিপ্রায় পূর্ণ হয়ে যাবে। আর যদি আল্লাহ্ তাদের বিরুদ্ধে আমাকেই জয়যুক্ত করেন, তবে তারাও দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করবে। আর যদি তারা তা না করে, তবে যতদিন তাদের শক্তি থাকে, ততদিন তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। কুরায়শরা কী ধারণা করে? আল্লাহ্র কসম! আমি সে উদ্দেশ্যে জিহাদ চালিয়ে যাবো, যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ্ আমাকে প্রেরণ করেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ্ আমাকে জয়যুক্ত না করবেন অথবা আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তারপর তিনি বললেন: এমন কে আছে, যে আমাদের তারা যে পথে আছে, সে পথ থেকে অন্য পথে নিয়ে যাবে?
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবু বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তখন আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল:
أَنَا يَا رَسُولَ الله
"আমি তা করবো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)!"
তারপর সে ব্যক্তি তাঁদের একটি পাথরে গিরিপথ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে চললো। যখন তাঁরা এ সংকীর্ণ দুর্গম গিরি-সংকট থেকে বেরিয়ে সমভূমি প্রান্তরের মোড়ে এসে পড়লেন, তখন তাঁর ভীষণ কষ্টে হাঁফিয়ে উঠেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) লোকদের বললেন:
قولُوا نَسْتَغْفِرُ اللهَ وَنَتُوبُ اليه .
-তোমরা বল, আমরা আল্লাহ্র দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই দরবারে তওবা করছি।
লোকেরা তা-ই বললেন অর্থাৎ তওবা ইস্তিগফার করলেন। তারপর তিনি বললেন:
وَاللَّهِ إِنَّهَا لَلْحَلَّهُ الَّتِي عُرِضَتْ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ فَلَمْ يَشْمُولُوهَا
আল্লাহর কসম, এই সেই 1 (আমাদের প্রভু আমাদের গুনাহ্ মাফ কর), যা বনী ইসরাঈলের সামনে পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা বলেনি।"
ইন শিহাব বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) লোকদের নির্দেশ দিলেন: ডানদিকের যাহরী হামশের মাঝখান দিয়ে ঐ পথে অগ্রসর হও, যা মক্কার নিম্নাঞ্চলে হুদায়বিয়ার দ্বারপথ স্বরূপ, যা সানিয়াতুল মিরারে গিয়ে পড়েছে।
তারপর তারা সে পথেই অগ্রসর হতে থাকেন। কুরায়শ বাহিনী যখন দূর থেকে মুসলিম বাহিনীর পথ চলার ধূলোবালি দেখতে পেলো, তখন তারা তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে ফেললো। তারা কুরায়শের কাছে ফিরে গেল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সদলবলে অগ্রসর হয়ে সানিয়াতুল মিরারে পৌঁছতেই তাঁর উটনী বসে গেল। তখন লোকেরা বলতে লাগলেন: উটনী বসে গেছে, আর অগ্রসর হবে না। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: না, তা নয়, বসে যাওয়া তার অভ্যাস নয়, বরং সেই পবিত্র সত্তাই তাকে বিরত করেছেন, যিনি হাতিসমূহকে মক্কার দিকে এগুতে বিরত করেছিলেন। আজ কুরায়שরা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী যে প্রস্তাবই আমাকে দেবে, আমি তাতে সম্মত হয়ে যাব। তারপর তিনি লোকদের বললেন: তোমরা অবতরণ কর। তখন তাঁকে বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! এ প্রান্তরে তো পানির কোন ব্যবস্থা নেই, এখানে আমরা কোথায় অবতরণ করবো? রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন তাঁর তৃণ থেকে একটি তীর বের করে জনৈক সাহাবীর হাতে তুলে দিলেন। তিনি তা নিয়ে ওখানকার একটি কূপের মধ্যখানে গেড়ে দিলেন, ফলে তৎক্ষণাৎ সেখানে থেকে পানি উঠতে শুরু করলো। এমন কি শেষ পর্যন্ত লোকদের সেখান থেকে পিছু হটে উটের অবস্থান স্থলে গিয়ে স্থান নিতে হলো।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নাজিয়ার কবিতা

📄 নাজিয়ার কবিতা


আসলাম গোত্রের লোকেরা 'নাজিয়া' কথিত গীতি কবিতার কিছু পংক্তি সুরসংযোগে গেয়ে শুনান। আমাদের ধারণা, উনিই সেই ব্যক্তি, যিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর তীর নিয়ে কূপে অবতরণ করেছিলেন। আসলাম গোত্রের লোকেরা বলেন: নাজিয়া কূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে লোকদের বালতি ভরে ভরে দিচ্ছিলেন। এমন সময় জনৈক আনসার বালিকা এসে বললেন:
يَا أَيُّهَا الْمَائِحُ دَلْوِي دُونَكَا
اني رَأَيْتَ النَّاسَ يَحْمد ونگا
يُشْنُونَ خَيْرًا وَيُمَجِدُونَكَ
হে ঐ ব্যক্তি, যে লোকদের বালতি ভরে পানি তুলে দিচ্ছে এই যে, নাও আমার বালতিটি। আমি দেখছি, লোক তোমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, তারা তোমার যশগানে মুখর, তারা তোমার আভিজাত্যের প্রশংসা করছে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: এক বর্ণনায় আছে-
انِّي رَأَيْتُ النَّاسِ يَمْدَحُونَكَا
অর্থাৎ তাঁর বর্ণনায় يحمدونکا শব্দটির পরিবর্তে يمدحونکا রয়েছে। (অর্থ অভিন্ন)।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: কুয়োর মধ্যে বালতি ভরার কাজে নিয়োজিত অবস্থায়ই নাজিয়া তখন জবাব দিলেন:
قد علمت جارية يمانيه
اني انا المائح واسمى ناجيه
ইয়ানী বালিকা ফেলেছে তাহা জানিয়া, বালতি ভরে দেই আমিই, নামটি আমার নাজিয়া
وطعنة ذات رشاش واهية
طعنتها عند صدور العاديه
ফোয়ারার মত কত যে জখম খুন ছিটায় আপন হাতের বল্লমে আমি দুশমনের সিনায় করেছি ঘা।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বুদায়ল ও খুযায়া গোত্রের লোকদের প্রসংগে

📄 বুদায়ল ও খুযায়া গোত্রের লোকদের প্রসংগে


যুহরী (র) বর্ণনা করেন: যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) একটু শান্ত হলেন, তখন বুদায়ল ইন্ন ওরকা খাযায়ী তার গোত্রের লোকদের নিয়ে তাঁর খিদমতে উপস্থিত হলেন। তারা তাঁর সংগে আলাপ আলোচনা প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনাদের আগমনের হেতু কি? তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের জানালেন যে, যুদ্ধের কোন অভিপ্রায় তাঁর নেই। নিছক বায়তুল্লাহ্র যিয়ারতের উদ্দেশ্যেই তিনি এসেছেন। একান্তই হারামের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই তাঁর উদ্দেশ্য। তিনি তাদের ঠিক সে জবাবই দিলেন, যা তিনি ইতিপূর্বে বিশর ইবন সুফিয়ানকে দিয়েছিলেন।
তারপর খুযায়ী গোত্রের লোকরা কুরায়শদের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন:
يا معشر قريش ، انكم تعجلون على محمد ان محمدا لم يأت لقتال وانما جاء زائر هذا البيت
যে কুরায়শ সম্প্রদায়! মুহাম্মদের বিষয়ে তোমরা শুধু শুধুই বাড়াবাড়ি করছো। তিনি তো আদৌ যুদ্ধের অভিপ্রায় আসেননি। তিনি কেবল বায়তুল্লাহর যিয়ারত করতেই এসেছেন।
একথা শুনে কুরায়শরা তাদের উপর ক্ষেপে গেল এবং তাদের অভিযুক্ত করে অশোভনীয় ভাবে তাদের সাথে কথাবার্তা বলতে লাগলো। তারা বললেন: যদিও তিনি যুদ্ধের অভিপ্রায়ে না এসে থাকেন, তবুও তিনি বলপূর্বক আমাদের এখানে ঢুকে পড়তে পারবেন না। আর এ ব্যাপারে আরবরাও যেন আমাদের সাথে কোন কথাবার্তা না বলে।
যুহরী (র) বলেন: খুযায়ীরা মুসলিম-মুশরিক নির্বিশেষে সকলেই ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর একান্ত অন্তরঙ্গ। মক্কায় যা কিছু ঘটতো, তার কিছুই তারা তাঁর কাছে গোপন রাখতো না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00