📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও সুহায়ল ইব্‌ন আমরের সন্ধি

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও সুহায়ল ইব্‌ন আমরের সন্ধি


ইব্‌ন ইসহাক বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) রমযান ও শাওয়াল (ষষ্ঠ হিজরী) মাস মদীনা অবস্থান করে, যিলকাদা মাসে উমরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। যুদ্ধের কোন ইচ্ছা তাঁর ছিল না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সাধারণ আহ্বান

📄 সাধারণ আহ্বান


ইবন হিশাম বলেন: এ সময় তিনি নুমায়লা ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ রায়সীকে মদীনার শাসনকর্তা হিসাবে নিযুক্ত করেন।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) আরবদের এবং আশে পাশের পল্লীবাসীদের তাঁর সংগে যাত্রার জন্যে প্রস্তুত হতে বলেন। তিনি আশংকা করছিলেন যে, কুরায়শরা ইতিপূর্বে অনেক ঘটনার অবতারণা করেছে, তারা যুদ্ধের জন্য এগিয়ে আসতে বা বায়তুল্লাহ্ যিয়ারতে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। পল্লীবাসীদের অনেকেই প্রস্তুত হতে বিলম্ব করে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) আনসার ও মুহাজির এবং মরুবাসীদের মধ্যকার যারা এসে পৌঁছলো, তাদের নিয়ে যাত্রা করলেন। তিনি কুরবানীর জন্তুও সঙ্গে নিলেন এবং উমরার উদ্দেশ্যে ইহ্রাম বেঁধে নিলেন, যাতে লোকে তাঁর যুদ্ধের ব্যাপারে নিরাপদবোধ করে এবং বুঝতে পারে যে, তিনি নিছক বায়তুল্লাহ্ যিয়ারতের উদ্দেশ্যে ও তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সর্বমোট সংখ্যা

📄 সর্বমোট সংখ্যা


ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্‌ন মুসলিম ইব্‌ন শিহাব যুহরী উরওয়া ইব্‌ন যুবায়র সূত্রে মিসওয়ার ইব্‌ন মাখরামা ও মারওয়ান ইব্‌ন হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা দু'জনে তাঁর নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) হুদায়বিয়ার বছর শুধুমাত্র বায়তুল্লাহ্ যিয়ারতের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। যুদ্ধের অভিপ্রায় তাঁর ছিল না। তিনি তাঁর সংগে নিয়েছিলেন কুরবানীর সত্তরটি উট। তাঁর সংগে লোক ছিল সাত শ'। প্রতি দশজনের পক্ষ থেকে একটি করে উট ছিল।
আমার জানা মতে, জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) বলতেন: হুদায়বিয়ার সময় আমরা সঙ্গে ছিলাম চৌদ্দ শ' জন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সংঘাত পরিহার প্রসংগে

📄 সংঘাত পরিহার প্রসংগে


যুহরী বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যাত্রা শুরু করলেন। যখন তিনি সদলবলে উসফান নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন বিশর ইব্‌ন সুফিয়ান কাবী' তাঁর সংগে সাক্ষাৎ করলেন। ইন্ন হিশামের ভাষ্য মতে কেউ কেউ এ সাক্ষাৎকারীর নাম বলেছেন 'বুসর'। তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! কুরায়শরা আপনার আগমন সংবাদ পেয়েছে। তারা স্ত্রী-পুত্রদের সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। তারা চিতাবাঘের চর্ম পরিহিত। তারা যী-তুওয়ায় এসে শিবির স্থাপন করেছে। তারা আল্লাহর নামে প্রতিজ্ঞা করেছে যে, আপনাকে তারা কোনক্রমেই মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ। তারা তাঁকে আগেই কুরাউল গামীমে পাঠিয়ে দিয়েছে।
রাবী বলেন, জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: কুরায়শদের সর্বনাশ হোক। যুদ্ধ তাদের গ্রাস করে ফেলেছে। তারা যদি ব্যাপারটি আমার এবং আরবদের মধ্যে ছেড়ে দিতো, তা হলে তাদের কী অসুবিধা ছিল? তাদের অভিপ্রায় পূর্ণ হয়ে যাবে। আর যদি আল্লাহ্ তাদের বিরুদ্ধে আমাকেই জয়যুক্ত করেন, তবে তারাও দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করবে। আর যদি তারা তা না করে, তবে যতদিন তাদের শক্তি থাকে, ততদিন তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। কুরায়শরা কী ধারণা করে? আল্লাহ্র কসম! আমি সে উদ্দেশ্যে জিহাদ চালিয়ে যাবো, যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ্ আমাকে প্রেরণ করেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ্ আমাকে জয়যুক্ত না করবেন অথবা আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তারপর তিনি বললেন: এমন কে আছে, যে আমাদের তারা যে পথে আছে, সে পথ থেকে অন্য পথে নিয়ে যাবে?
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবু বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তখন আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল:
أَنَا يَا رَسُولَ الله
"আমি তা করবো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)!"
তারপর সে ব্যক্তি তাঁদের একটি পাথরে গিরিপথ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে চললো। যখন তাঁরা এ সংকীর্ণ দুর্গম গিরি-সংকট থেকে বেরিয়ে সমভূমি প্রান্তরের মোড়ে এসে পড়লেন, তখন তাঁর ভীষণ কষ্টে হাঁফিয়ে উঠেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) লোকদের বললেন:
قولُوا نَسْتَغْفِرُ اللهَ وَنَتُوبُ اليه .
-তোমরা বল, আমরা আল্লাহ্র দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই দরবারে তওবা করছি।
লোকেরা তা-ই বললেন অর্থাৎ তওবা ইস্তিগফার করলেন। তারপর তিনি বললেন:
وَاللَّهِ إِنَّهَا لَلْحَلَّهُ الَّتِي عُرِضَتْ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ فَلَمْ يَشْمُولُوهَا
আল্লাহর কসম, এই সেই 1 (আমাদের প্রভু আমাদের গুনাহ্ মাফ কর), যা বনী ইসরাঈলের সামনে পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা বলেনি।"
ইন শিহাব বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) লোকদের নির্দেশ দিলেন: ডানদিকের যাহরী হামশের মাঝখান দিয়ে ঐ পথে অগ্রসর হও, যা মক্কার নিম্নাঞ্চলে হুদায়বিয়ার দ্বারপথ স্বরূপ, যা সানিয়াতুল মিরারে গিয়ে পড়েছে।
তারপর তারা সে পথেই অগ্রসর হতে থাকেন। কুরায়শ বাহিনী যখন দূর থেকে মুসলিম বাহিনীর পথ চলার ধূলোবালি দেখতে পেলো, তখন তারা তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে ফেললো। তারা কুরায়শের কাছে ফিরে গেল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সদলবলে অগ্রসর হয়ে সানিয়াতুল মিরারে পৌঁছতেই তাঁর উটনী বসে গেল। তখন লোকেরা বলতে লাগলেন: উটনী বসে গেছে, আর অগ্রসর হবে না। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: না, তা নয়, বসে যাওয়া তার অভ্যাস নয়, বরং সেই পবিত্র সত্তাই তাকে বিরত করেছেন, যিনি হাতিসমূহকে মক্কার দিকে এগুতে বিরত করেছিলেন। আজ কুরায়שরা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী যে প্রস্তাবই আমাকে দেবে, আমি তাতে সম্মত হয়ে যাব। তারপর তিনি লোকদের বললেন: তোমরা অবতরণ কর। তখন তাঁকে বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! এ প্রান্তরে তো পানির কোন ব্যবস্থা নেই, এখানে আমরা কোথায় অবতরণ করবো? রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন তাঁর তৃণ থেকে একটি তীর বের করে জনৈক সাহাবীর হাতে তুলে দিলেন। তিনি তা নিয়ে ওখানকার একটি কূপের মধ্যখানে গেড়ে দিলেন, ফলে তৎক্ষণাৎ সেখানে থেকে পানি উঠতে শুরু করলো। এমন কি শেষ পর্যন্ত লোকদের সেখান থেকে পিছু হটে উটের অবস্থান স্থলে গিয়ে স্থান নিতে হলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00