📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দরবারে
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্ন ইবরাহীম ইব্ন হারিস তায়মী বর্ণনা করেছেন, সাওয়ান যখন হাসানকে তরবারি দ্বারা আঘাত করলেন, তখন সাবিত ইব্ন কায়স ইবন শাম্মাস সাফওয়ানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তাঁর হাত দু'খানা তাঁর গলার সাথে রশি দিয়ে বেঁধে ফেললেন। তারপর এ অবস্থায় তাঁকে বনূ হারিস ইন্ন খাযরাজের পাড়ায় নিয়ে গেলেন। আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: এ কী হে? জবাবে তিনি বললেন: তুমি তাজ্জব হচ্ছো? সে তো হাসানকে তরবারি দ্বারা আঘাত করেছে। আল্লাহ্র কসম! আমার মনে হয়, সে তাকে মেরেই ফেলেছে।
আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা জিজ্ঞাসা করলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা) কি তুমি যা করেছো, সে ব্যাপারে কিছু জানতে পেরেছেন?
জবাবে তিনি বললেন : আল্লাহ্র কসম! তিনি তা জানেন না।
আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা বললেন : তুমি তো খুব দুঃসাহস দেখিয়েছো। তুমি লোকটিকে ছেড়ে দাও! তিনি তাঁকে ছেড়ে দিলেন। তারপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আসলেন এবং তাঁর কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) হাসান ও সাওয়ান উভয়কে ডেকে পাঠালেন। সাওয়ান ইবন মুআত্তাল বললেন : “ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ও আমাকে মনোকষ্ট দিয়েছে এবং আমার বিরুদ্ধে ব্যঙ্গ কবিতা লিখেছে। আমি ক্রোধে অধৈর্য হয়ে তাকে তরবারি দিয়ে আঘাত করেছি।” তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) হাসানকে লক্ষ্য করে বললেন :
احسن يا حسان ، اشوهت علی قومی ان هداهم الله للاسلام
"সুন্দর আচরণ করো, হে হাসান! তুমি কি আমার স্বজাতির লোকজনকে এজন্য (ইতর বলে) নিন্দা করছো যে, আল্লাহ্ তাদের ইসলামের দিকে হিদায়াত করেছেন?"
তারপর বললেন:
احسن يا حسان في الذي اصابك
"তোমার উপর যে আঘাত লেগেছে, সে ব্যাপারে তুমি সুন্দর আচরণ কর, হে হাসান!'
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্ন ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর বিনিময়ে তাঁকে ‘বায়রূহা’ (ভূমি) দান করলেন— যা আজ মদীনায় কাদার বনু হুদায়লা নামে খ্যাত। এটা ছিল আবু তালহা ইব্ন সাহলের মালিকানাধীন।
তিনি তা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পরিবারের জন্যে দান করে দেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তা হাসানকে দান করেন, আর দান করেন সীরীন নামের এক কিবতী দাসী। উক্ত সীরীনের গর্ভেই হাসানের পুত্র আবদুর রহমান ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন।
উক্ত সীরীন বলেন, আয়েশা (রা) বলতেন: ইব্ন মুআত্তাল অর্থাৎ সাওয়ান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে লোকে তাকে অত্যন্ত পূত-চরিত্রের অধিকারীরূপে পায়। তিনি নারী সংশ্রব থেকে দূরে থাকতেন। শেষ পর্যন্ত একটি যুদ্ধে তিনি শাহাদত লাভ করেন।
📄 হাসান ইবন সাবিত (রা)-এর কৈফিয়তমূলক কবিতা
হাসান ইব্ন সাবিত (রা) ইতিপূর্বে আয়েশা (রা)-এর ব্যাপারে অপপ্রচারে যে অংশ গ্রহণ করেছিলেন তার কৈফিয়ত দিতে গিয়ে তার কবিতায় বলেন: তিনি (আয়েশা) অতি পূতচরিত্রের অধিকারিণী, ভারী চলনের লোক। কোনরূপ সংশয় তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। (সকল সংশয় সন্দেহের উর্ধ্বে তিনি)
তাঁর প্রত্যুষ হয়, সরলা মহিলাদের নিন্দবাদ না করে। লুই ইব্ন গালিব গোত্রের এক বিদূষিণী বুদ্ধিমতী মহিলা তিনি সতত প্রয়াসী তিনি লভিতে মর্যাদা- যে মর্যাদা হয় না বিলীন। তিনি একজন পরিশীলিতা মহিলা, যাঁর স্বভাব-চরিত্র সহজাতভাবেই পূত-পবিত্র- করেছেন স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলা, পবিত্র করেছেন তাবৎ মন্দ ও বাতিল থেকে। তাই, যদি কিছু বলে থাকি আমি- যা তোমরা ধারণা করে থাকো, তার মানে এই নয় যে, আমার অঙ্গুলিগুলোই আমাকে বেত্রাঘাতের জন্যে চাবুক উঁচিয়েছে (অর্থাৎ উম্মুল মু'মিনীনের কুৎসা মানেই নিজের গায়ে নিজে বেত্রাঘাত করা, 'এটা কি কেউ স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে করতে পারে?) এটা কী করে সম্ভব!
অথচ আমার যত অনুরাগ ও সাহায্য আমি যাবৎ বেঁচে থাকবো তা নিবেদিত রাসূলের পরিবারবর্গের উদ্দেশ্যে; যাঁরা ভূষণ স্বরূপ মজসিল-মাহফিলের। দুনিয়ার সমস্ত মানুষের ঊর্ধ্বে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা, উচ্চতা প্রয়াসী লোকজনের লাফ-ঝাঁপ। তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা লাভে অক্ষম অপারগ। যে কথাবার্তা বলা হয়েছে (তাঁর কুৎসা স্বরূপ) তার কোন স্থায়িত্ব নেই, বরং এসব হচ্ছে তারই বক্তব্য যে আমার কুৎসা প্রচার করে।
ইন হিশাম বলেন: "লুই ইব্ন গালিব গোত্রের.... ও পরবর্তী পংক্তি এবং তাঁর পংক্তি : "দুনিয়া তাবৎ মানুষের ঊর্ধ্বে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা" আবূ যায়দ আনসারী থেকে বর্ণিত:
📄 হাসান ও মিসতার প্রতি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ
ইবন ইসহাক বলেন: হাসান ও তার সাথীরা আয়েশা (রা)-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হওয়ার পর তাঁকে আঘাত করা হওয়া সম্পর্কে مسلمانوں মধ্যকার জনৈক ব্যক্তি নীচের পংক্তিগুলো বলেন:
ইবন হিশাম বলেন: হাসান ও তাঁর সাথীদ্বয়ের প্রহৃত হওয়া সম্পর্কে এ পংক্তিগুলো বলা হয়েছিল।
হাসান স্বাদ আস্বাদন করেছে সে বস্তুর যার সে যোগ্য হয়েছিল, সাথে তার হামনা ও মিস্তা যখন তারা বলেছিল মন্দ কথা। অনুমান করে অপবাদ আরোপ করেছিল তারা তাদের নবীর সহধর্মিণীর প্রতি, ফলে তারা আরশের মহান অধিপতির ক্রোধের উদ্রেক করে, আর এজন্যে তারা শিকার হয় ভোগান্তির। এতে তারা মনোকষ্ট দেয় আল্লাহ্র রাসূলকে, ফলে তারা এমনি অপমানে আচ্ছন্ন হয় যা সর্বব্যাপী এবং চিরস্থায়ী।
আর তারা হলো লাঞ্ছনাগ্রস্ত। আর তাদের উপর আপতিত হলো- ধমাধম বেত্রাঘাত, যেমনটি আপতিত হয় টপটপ করে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি।