📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নির্দোষের সুসংবাদ

📄 নির্দোষের সুসংবাদ


আয়েশা (রা) বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখনো ঐ মজলিস ছেড়ে যাননি, এমন সময় আল্লাহ্ পক্ষ থেকে তাঁকে এমন এক অবস্থা আচ্ছন্ন করে ফেললো, যা তাঁকে (ওহী অবতরণের সময়) আচ্ছন্ন করতো। তাঁকে বস্ত্রাচ্ছাদিত করা হলো। তাঁর মাথার নীচে চামড়ার একটি বালিশ রেখে দেওয়া হলো। যে সময় আমি এসব প্রত্যক্ষ করছিলাম তখন আল্লাহ্র কসম! আমার মনে কোন বিকার বা ভীতি ছিল না। কেননা, আমি তো জানতামই যে, আমি এ দোষ থেকে মুক্ত। আর আল্লাহ্ আমার উপর যুলুম করবেন না। পক্ষান্তরে, আমার আব্বা-আম্মার অবস্থা ছিল এই যে, সেই পবিত্র সত্ত্বার কসম যাঁর হাতে আয়েশার প্রাণ, যতক্ষণ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সেই বিশেষ অবস্থার অবসান না ঘটছিল, ততক্ষণ যেন এ ভয়ে তাঁদের প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাচ্ছিল যে, লোকে যা বলাবলি করছে, পাছে আল্লাহ্র পক্ষ থেকেও তার সত্যতা প্রতিপন্ন হয়ে যায়।
আয়েশা (রা) বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সে বিশেষ অবস্থার অবসান হলো। তিনি উঠে বসলেন। শীতের মওসুমেও তাঁর পবিত্র শরীর থেকে মুক্তার দানার মত ঘাম ঝরছিল। তিনি তাঁর ললাটের ঘাম মুছতে মুছতে বললেন:
أبشرى يَا عَائِشَةُ ، فَقَدْ أَنْزَلَ اللهُ بَرَانَتَكَ -
হে আয়েশা! সুসংবাদ গ্রহণ করো। আল্লাহ্ তোমার নির্দোষ হওয়ার কথা নাযিল করেছেন।
আয়েশা (রা) বলেন: আমি তখন বলে উঠলাম: الحَمْدُ لله "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্রই।"
তারপর তিনি লোকজনের দিকে বের হলেন এবং তাদের লক্ষ্য করে খুতবা দিলেন। তিনি আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনে এ ব্যাপারে যা নাযিল করেছেন তা তাদেরকে তিলাওয়াত করে শুনালেন। তারপর তিনি গর্হিত অপপ্রচারে সর্বাধিক তৎপর মিস্তা ইব্‌ন উসাদা, হামনা বিন্ত জাহাশ এবং হাসান ইব্‌ন সাবিতকে অপবাদের নির্ধারিত 'হদ' বেত্রাঘাতের আদেশ প্রদান করলেন এবং যথারীতি সে আদেশ পালিত হলো।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আমার পিতা ইসহাক ইব্‌ন ইয়াসার বনূ নাজ্জারের কতিপয় লোকের বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ আইউব খালিদ ইব্‌ন যায়দকে তাঁর স্ত্রী উন্মু আইউব বললেন: ওহে আবু আইউব। লোকে আয়েশা সম্পর্কে কী বলাবলি করছে তাকি আপনি শুনেননি? জবাবে তিনি বললেন: শুনেছি বৈ কি! এটা নিছক অপপ্রচার। তুমি নিজে কি অমন কর্ম করতে পারবে, হে আইউবের মা? মহিলাটি জবাব ছিলেন না, আল্লাহ্র কসম! অমন কাজ আমার দ্বারা সম্ভব হবে না। আবু আইউব বললেন তা হলে আল্লাহর কসম! আয়েশা তোমার তুলনায় অধিকতর পুণ্যবতী! (সুতরাং তাঁর পক্ষে তা আরো বেশী অসম্ভব)।
আয়েশা (রা) বলেন: অপবাদকারীদের কণ্ঠে কণ্ঠে মিলিয়ে যারা গর্হিত অপপ্রচারে অংশ গ্রহণ করেছিল, তাদের কথা উল্লেখ করে যখন কুরআনের আয়াত নাযিল হলো, তাতে আল্লাহ্ তা'আলা বললেন:
إِنَّ الَّذِينَ جَانُو بِالْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِّنْكُمْ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَكُمْ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ ما اكْتَسَبَ مِنَ الإِثْمِ ، وَالَّذِي تَوَلَّى كَبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ -
যারা এ অপবাদ রটনা করেছে তারা তো তোমাদেরই একটি দল; এই অপবাদকে তোমরা তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করো না; বরং এতো তোমাদের জন কল্যাণকর তাদের প্রত্যেকের জন্য আছে তাদের কৃত পাপকর্মের ফল, এবং তাদের মধ্যে যে এই ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছে, তার জন্য আছে কঠিন শাস্তি (২৪: ১১)।
আর এরা হচ্ছেন হাসান ইব্‌ন সাবিত এবং সাথীরা যারা খারাপ কথা প্রচার করেছিলেন। ইন হিশাম বলেন: এরা হলো আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় ও তার সঙ্গী-সাথীরা। ইবন হিশাম বলেন : وَالَّذِي تَوَلَّى كَبْرَهُ বলতে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায়কেই বুঝানো হয়েছে। ইবন ইসহাক ও ইতিপূর্বে হাদীসে এর উল্লেখ করেছেন।
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
لَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بِأَنْفُسِهِمْ خَيْرًا
এ কথা শোনার পর মু'মিন পুরুষ এবং নারীগণ কেন নিজেদের বিষয়ে সৎ ধারণা করেনি এবং বলেনি এটা তো সুস্পষ্ট অপবাদ (১৪: ১২)।
অর্থাৎ তারাও আবু আইউব ও তাঁর সহধর্মিণীর মতো কথা কেন বললো না?
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِالْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُمْ مَا لَيْسَ لَكُمْ بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيْنًا وَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمٌ .
যখন তোমরা মুখে মুখে এটা ছড়াচ্ছিলে এবং এমন বিষয় মুখে উচ্চারণ করছিলে যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না এবং তোমরা একে তুচ্ছ গণ্য করেছিলে, যদিও আল্লাহর নিকট এটা ছিল গুরুতর বিষয় (২৪: ১৫)।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ বকর (রা) ও মিসতা প্রসংগে

📄 আবূ বকর (রা) ও মিসতা প্রসংগে


যখন আয়েশা (রা) এবং অপপ্রচারকারীদের ব্যাপারে উক্ত বর্ণনা কুরআনে অবতীর্ণ হলো, তখন আবূ বকর (রা), যিনি আত্মীয়তা ও মিসতাহর অভাব-অনটনের দিকে লক্ষ্য করে তার জন্যে অর্থ ব্যয় করতেন, তিনি বলে উঠলেন : আল্লাহর কসম! আর কস্মিনকালেও আমি মিসতার জন্যে না অর্থ ব্যয় করবো, আর না তার কোন উপকার সাধন করবো। কেননা, সে আয়েশা (রা)-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে এবং আমাদেরকে দারুন বিপাকে ফেলেছে। আয়েশা (রা) বলেন: তখন আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করলেন:
وَلَا يَأْتَلِ أُولُوا الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا أولى القربى وَالْمَسَاكِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ فِي سَبِيلِ الله وَلِيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا .
তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তাঁরা আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে এবং আল্লাহ্ রাস্তায় যারা গৃহ ত্যাগ করেছে তাদের কিছুই দেবে না। তারা যেন ওদের ক্ষমা করে এবং ওদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে (২৪: ২২)।
الا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
তোমারা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদের ক্ষমা করেন? আর আল্লাহ্র ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (২৪: ২২)।
وَلَا يَأْتَلِ أُولُوا الْفَضْلِ مِنْكُمْ : কুরআনে বর্ণিত : وَلا يَأْتَلِ أُولُوا الْفَضْلِ مِنْكُمْ -অর্থে এসেছে।
ইমরাউল কায়স ইবন হাজর কিন্দী তাঁর কবিতায় এক ব্যবহার করেছেন এভাবে:
الارب خصم فيك الوى رددته نصبح على تعذاله غير مؤتل
"শোন! তোমার ব্যাপারে শত্রুতাপোষণকারী ও ঝগড়াকারী এমন অনেক লোককে আমি প্রতিহত করেছি, যারা আমাকে তোমার ভালবাসার কারণে ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করার ক্ষেত্রে কোনরূপ ত্রুটি করেনি।”
ইবন ইসহাক বলেন, আয়েশা (রা) বলেন: তখন আবু বকর (রা) বলে উঠলেন :
بلى وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّ أَن يُغْفِرَ اللَّهُ لِي -
"হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই ভালবাসি যে, আল্লাহ্ আমাকে ক্ষমা করে দিন।"
তারপর তিনি মিস্তাহকে আগের মত খরচ দিয়ে যেতে থাকলেন। তিনি বললেন: وَاللَّهُ لَا أَنْزَعُهَا مِنْهُ أَبْدَا
"আল্লাহর কসম! আমি কখনো তা তার থেকে কেড়ে নেবো না।"

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সাফওয়ান ও হাসান প্রসংগে

📄 সাফওয়ান ও হাসান প্রসংগে


ইবন ইসহাক বলেন : সাফওয়ান ইব্‌ন মুআত্তাল যখন জানতে পারলেন যে, হাসান ইব্‌ন সাবিত তাঁর কবিতায় তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন, তখন তিনি তরবারি হাতে তাঁর জবাব দিতে বেরিয়ে পড়লেন। হাসান (রা) তাঁর কবিতায় সাফওয়ান ইব্‌ন মুআত্তাল এবং মুদার গোত্রীয় যে আরবরা তাঁর সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছিলেন। তিনি তাকে বলেন:
ইতর জনেরা হয়ে গিয়েছে কুলীন-সজ্জন, সংখ্যায় তারা এখন প্রচুর। ফরীয়ার পুত্র এখন শহরের অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব! তুই যার সাথী ওহে! তার মা নির্ঘাৎ সন্তানহারা, অথবা সে পড়েছে সিংহের পাঞ্জায়। আমার সে নিহত স্বজন, যার শবদেহ আনতে যাচ্ছিলাম ভোর বেলায়; না তার কোন রক্তপণ দেওয়া হচ্ছে, আর না খুনের বদলে খুন। সমুদ্রে যদি প্রবাহিত হয় উত্তরে হাওয়া তবে তা আমারই জন্যে। তার তর সইতে না পেরে সাগর উথাল-পাতাল করে, এমন কি তার কূলে ছড়িয়ে দেয় ফেনা রাশি। ঐ. সাগর ঝঞ্চাবায়ুর মুকাবিলায় আমার চাইতে বেশি পারঙ্গম কেউ নয়, কেননা, যুদ্ধের ঝঞ্ঝাবায়ু আমাকে দেখে যে, আমি ক্রুদ্ধাবস্থায় এমনি তোলপাড় করি, যেমনটি করে শিলাবর্ষণকারী মেঘমালা। এজন্যে সমুদ্র, আর সমুদ্রের মত ফৌজ, উভয়েই আমার ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত ও নত-মস্তক।
আর কুরায়শ কোনক্রমেই আমি তাদের সাথে সন্ধির জন্যে প্রস্তুত নই, যাবৎ না তারা হিদায়াতের সাথে আসে গোমরাহী ছেড়ে দিয়ে। যাবৎ না তারা পরিত্যাগ করছে লাতও উজ্জা দেবীকে আর সিজদাবনত হচ্ছে তাদের সকলে একক, অমুখাপেক্ষী আল্লাহর দরবারে। আর যাবৎ না তারা সাক্ষ্য দিচ্ছে- রাসূল তাদেরকে যা বলেছেন সবই সত্য, আর পূর্ণ না করছে আল্লাহ্ পাকাপোক্ত অঙ্গীকারগুলো।
বস্তুতঃ সাফওয়ান ইব্‌ন মুআত্তাল হাসান ইবন সাবিতের কাছে এলেন এবং তার প্রতি তলোয়ারের আঘাত করে বললেন: লও, এই ধার তলোয়ারের আমার তরফ থেকে, কেননা আমি সে যুবক যখন কেউ ব্যঙ্গ করে কবিতায় মোরে- দেই আমি তাকে এটি, কেননা আমি তো নই কবি। ইয়াকুব ইব্‌ন উতবা আমার কাছে এরূপই বর্ণনা করেছেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দরবারে

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দরবারে


ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্‌ন ইবরাহীম ইব্‌ন হারিস তায়মী বর্ণনা করেছেন, সাওয়ান যখন হাসানকে তরবারি দ্বারা আঘাত করলেন, তখন সাবিত ইব্‌ন কায়স ইবন শাম্মাস সাফওয়ানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তাঁর হাত দু'খানা তাঁর গলার সাথে রশি দিয়ে বেঁধে ফেললেন। তারপর এ অবস্থায় তাঁকে বনূ হারিস ইন্ন খাযরাজের পাড়ায় নিয়ে গেলেন। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: এ কী হে? জবাবে তিনি বললেন: তুমি তাজ্জব হচ্ছো? সে তো হাসানকে তরবারি দ্বারা আঘাত করেছে। আল্লাহ্র কসম! আমার মনে হয়, সে তাকে মেরেই ফেলেছে।
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহা জিজ্ঞাসা করলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা) কি তুমি যা করেছো, সে ব্যাপারে কিছু জানতে পেরেছেন?
জবাবে তিনি বললেন : আল্লাহ্র কসম! তিনি তা জানেন না।
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহা বললেন : তুমি তো খুব দুঃসাহস দেখিয়েছো। তুমি লোকটিকে ছেড়ে দাও! তিনি তাঁকে ছেড়ে দিলেন। তারপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আসলেন এবং তাঁর কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) হাসান ও সাওয়ান উভয়কে ডেকে পাঠালেন। সাওয়ান ইবন মুআত্তাল বললেন : “ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ও আমাকে মনোকষ্ট দিয়েছে এবং আমার বিরুদ্ধে ব্যঙ্গ কবিতা লিখেছে। আমি ক্রোধে অধৈর্য হয়ে তাকে তরবারি দিয়ে আঘাত করেছি।” তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) হাসানকে লক্ষ্য করে বললেন :
احسن يا حسان ، اشوهت علی قومی ان هداهم الله للاسلام
"সুন্দর আচরণ করো, হে হাসান! তুমি কি আমার স্বজাতির লোকজনকে এজন্য (ইতর বলে) নিন্দা করছো যে, আল্লাহ্ তাদের ইসলামের দিকে হিদায়াত করেছেন?"
তারপর বললেন:
احسن يا حسان في الذي اصابك
"তোমার উপর যে আঘাত লেগেছে, সে ব্যাপারে তুমি সুন্দর আচরণ কর, হে হাসান!'
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্‌ন ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর বিনিময়ে তাঁকে ‘বায়রূহা’ (ভূমি) দান করলেন— যা আজ মদীনায় কাদার বনু হুদায়লা নামে খ্যাত। এটা ছিল আবু তালহা ইব্‌ন সাহলের মালিকানাধীন।
তিনি তা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পরিবারের জন্যে দান করে দেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তা হাসানকে দান করেন, আর দান করেন সীরীন নামের এক কিবতী দাসী। উক্ত সীরীনের গর্ভেই হাসানের পুত্র আবদুর রহমান ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন।
উক্ত সীরীন বলেন, আয়েশা (রা) বলতেন: ইব্‌ন মুআত্তাল অর্থাৎ সাওয়ান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে লোকে তাকে অত্যন্ত পূত-চরিত্রের অধিকারীরূপে পায়। তিনি নারী সংশ্রব থেকে দূরে থাকতেন। শেষ পর্যন্ত একটি যুদ্ধে তিনি শাহাদত লাভ করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00