📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইবন উবায় এবং হামনা বিন্ত জাহাশ প্রসংগে

📄 ইবন উবায় এবং হামনা বিন্ত জাহাশ প্রসংগে


আয়েশা (রা) বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায় ইব্‌ন সালূলের ওখানে তার খাযরাজ গোত্রীয় কতিপয় সঙ্গী-সাথী-মিস্তাহ ও হামনা বিন্ত জাহাশের প্রচারিত অপবাদের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর হামনার এতে অংশ গ্রহণের কারণ হলো, তার বোন যয়নাব বিন্ত জাহাশ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর স্ত্রীরূপে তাঁর গৃহে ছিলেন। আর তিনি ছাড়া তাঁর অন্য কোন স্ত্রীই আমার সমপর্যায়ের ছিলেন না। কিন্তু যয়নাবকে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর দীনদারীসহ হিফাযত করেন। তিনি উত্তম বৈ কোন খারাপ মন্তব্য করেন নি। পক্ষান্তরে হামনা bিন্ত জাহাশ যথেষ্ট অপপ্রচার চালায়। সে তার বোনের খাতিরে আমার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতো। ফলে, এর দ্বারা সে দুর্ভাগ্যের অধিকারিণী হয়।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন উপরোক্ত বক্তব্য দিলেন, তখন উসায়দ ইবন হুযায়র দাঁড়িয়ে বললেন: "ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! ওরা যদি আওস বংশীয় হয়ে থাকে, তবে আমরা তার জন্যে যথেষ্ট। আর যদি ওরা আমাদের খাযরাজ গোত্রীয় ভাইদের মধ্য থেকে হয়ে থাকে, তা হলে আপনি আমাদের আদেশ দিন, আল্লাহর কসম! এমতাবস্থায় তাদের গর্দান উড়িয়ে দেয়াই সমীচীন হবে।"
তাঁর প্রতিবাদের সা'দ ইবন উবাদা উঠে দাঁড়ালেন। ইতিপূর্বে তাঁকে একজন সদাচারী ব্যক্তি বলে মনে করা হতো। তিনি বলে উঠলেন: "ওহে! আল্লাহর কসম! তুমি সঠিক বলোনি। এদের গর্দান উড়ানো যাবে না। আল্লাহ্ কসম! ওরা খাযরাজ গোত্রীয় বলেই তুমি এমনটি বলেছ, যদি ওরা তোমার স্ব-গোত্রীয় আওস হতো, তবে তুমি তা বলতে না।"
জবাবে উসায়দ বললেন: আল্লাহ্র কসম! তুমি মিথ্যা বলছো। বরং তুমি নিজেও একজন মুনাফিক এবং মুনাফিকদের পক্ষ থেকেই তুমি লড়ছো।
আয়েশা (রা) বলেন: লোকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হলো। এমন কি আওস ও খাযরাজ উভয় গোত্রে দাঙ্গা বেঁধে যাওয়ার উপক্রম হল। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) মিম্বর থেকে অবতরণ করলেন এবং তিনি আমার নিকট আসলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর জিজ্ঞাসাবাদ

📄 রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর জিজ্ঞাসাবাদ


আয়েশা (রা) বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী ইব্‌ন আবু তালিব (রা) ও উসামা ইব্‌ন যায়দ (রা)-কে ডেকে তাঁদের পরামর্শ জানতে চাইলেন। এঁদের মধ্যে উসামা আমার প্রশংসাই করলেন এবং উত্তম কথাই বললেন। তারপর তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনার পরিবার, আমরা তো তাঁর সম্পর্কে উত্তম বৈ কিছুই জানি না। এটা একটা অপপ্রচার ও মিথ্যাচার। আর আলী (রা) বললেন: "ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মেয়ে লোকতো প্রচুর রয়েছে। আর আপনার এ সামর্থ্যও রয়েছে যে, একজনের বদলে অপরজন নিয়ে আসবেন। আর আপনি দাসীকে জিজ্ঞেস করুন, সে আপনাকে সত্য সত্য সব বলে দেবে।"
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে বারী'রাকে ডাকলেন।
আয়েশা (রা) বলেন: আলী ইব্‌ন আবু তালিব তার পাশে এসে দাঁড়ালেন। তারপর তিনি তাকে ভীষণ প্রহার করলেন এবং বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে সত্য সত্য সব বলবি।
সে বলল: আল্লাহর কসম! উত্তম ছাড়া তাঁর সম্পর্কে আর কিছুই আমি জানি না। আমি তো আয়েশার মধ্যে কোন দোষই খুঁজে পাই না। তবে হ্যাঁ, আমি যখন রুটির জন্যে, খামীর তৈরি করি, আর তাঁকে একটু দেখতে বলি, তখন তিনি সেদিকে খেয়াল না করে নিদ্রায় বিভোর হয়ে পড়েন আর এদিকে ছাগী এসে তা খেয়ে ফেলে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আয়েশা (রা)-এর অবস্থা

📄 আয়েশা (রা)-এর অবস্থা


আয়েশা (রা) বলেন: তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমার নিকট আসেন। আমার পিতামাতা তখন আমার নিকটে ছিলেন। আনসারের একজন মহিলাও তখন আমার নিকটে ছিল। আমি তখন কাঁদছিলাম এবং সে মহিলাটিও আমার সাথে সাথে কাঁদছিল। তিনি বসলেন এবং আল্লাহ্র প্রশংসা করলেন। তারপর বললেন: "হে আয়েশা! লোকে কী বলাবলি করছে তা নিশ্চয়ই তুমি শুনে থাকবে। লোকে যা বলাবলি করে সেরূপ মন্দ কিছু যদি তুমি করে থাক, তবে আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর নিকট তওবা কর! কেননা, আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করে থাকেন।"
আল্লাহর কসম! তিনি এটুকু বলতেই আমার চোখ ফেটে-অশ্রু বেরিয়ে এলো। তারপর তাঁর কোন কথার অনুভূতি আমার রইলো না। অপেক্ষা করছিলাম, আমার পিতামাতা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এ কথার জবাব আমার পক্ষ থেকে দেবেন। কিন্তু তাঁরা একটি কথাও বললেন না।
আল্লাহ্র কসম! আমি আমার নিজের কাছে এর চেয়ে তুচ্ছ ও ক্ষুদ্র ছিলাম যে, আমার ব্যাপারে আল্লাহ্ কুরআন নাযিল করবেন এবং মসজিদসমূহে তা তিলাওয়াত করা হবে ও এর দ্বারা সালাত আদায় করা হবে। তবে আমার দৃঢ় আশা ছিল যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর নিদ্রায় অবশ্যই এমন কোন স্বপ্ন দেখবেন, যাদ্বারা আল্লাহ্ অপপ্রচারকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে আমাকে নির্দোষ প্রতিপন্ন করবেন। কেননা তিনি তো আমার নির্দোষ হওয়া সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন। অথবা তিনি যে কোনভাবে এ সংবাদটি তাঁকে আগত করবেন। কিন্তু আমার ব্যাপার কুরআন নাযিল হওয়া! আল্লাহ্র কসম! আমার সত্ত্বা আমার নিকট সে তুলনায় ছিল অনেক ছোট।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 চরম ধৈর্য

📄 চরম ধৈর্য


আয়েশা (রা) বলেন: আমি যখন লক্ষ্য করলাম যে, আমার পিতামাতা কিছু বলছেন না, তখন আমি তাদের বললাম: আপনারা কি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কথার জবাব দেবেন না?
তিনি বলেন: তাঁরা দু'জনে বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমরা কিভাবে তাঁর জবাব দেব, তা বুঝতে পারছি না।
তিনি বলেন: আমার জানা মতে, আবু বকরের পরিবারে তখন যে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা বিরাজ করছিল, এরূপ দিশাহারা অবস্থা আর কারো ঘরে বা বাড়িতেই ছিল না।
তিনি বলেন: যখন তাঁরা দু'জনে আমার ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন করলেন, তখন আমি মর্মাহত হলাম এবং খুব কান্নাকাটি করলাম। তারপর বললাম: আল্লাহ্র কসম। আপনি যা উল্লেখ করেছেন সে ব্যাপারে আমি কস্মিনকালেও আল্লাহ্র কাছে তওবা করবো না। আল্লাহ্ত্র কসম। আমি সম্যকভাবে জানি, লোকে যা বলাবলি করছে, সে ব্যাপারে আমি যদি স্বীকারোক্তি করি, তবে আল্লাহ্ সম্যক জানেন যে, আমি এ থেকে মুক্ত। সুতরাং যা হয়নি তাই আমাকে বলতে হবে। আর যদি আমি লোকে যা বলাবলি করছে তা অস্বীকার করি, তবে আপনারা তা বিশ্বাস করবেন না।
আয়েশা (রা) বলেন: তারপর আমি ইয়াকুব (আ)-এর নাম উল্লেখ করতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু তা স্মরণ করতে পারলাম না। তখন আমি বললাম আমি বরং তাই বলবো, যা ইউসুফের পিতা বলেছিলেন,
فَصَبْرٌ جَمِيلٌ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ -
ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছো সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্যস্থল। (১২: ১৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00