📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইবন উবায়ের ব্যাপারে ওহী অবতীর্ণ হলো

📄 ইবন উবায়ের ব্যাপারে ওহী অবতীর্ণ হলো


এবার ইব্‌ন উবায় ও তার মত মুনাফিকদের ব্যাপারে কুরআনের একটি সূরা নাযিল হলো, যাতে আল্লাহ্ তা'আলা তাদের স্বরূপ উদ্‌ঘাটিত করলেন। এ সূরাটি নাযিল হতেই রাসূলুল্লাহ্ (সা) যায়দ ইব্‌ন আরকামের কান ধরে বললেন:
هَذَا الَّذِي أَوْفَى اللَّهُ بِأُذُنِهٖ
"এ সেই, যার কানের সাথে আল্লাহ্ স্বয়ং একাত্মতা ঘোষণা করলেন।"
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায়র পুত্র আবদুল্লাহর কানেও এ সংবাদটি পৌঁছলো, যাঁর পিতার ব্যাপারে এ সূরাটি নাযিল হয়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 পিতার ব্যাপারে ইবন উবায়ের পুত্র আবদুল্লাহ্র ভূমিকা

📄 পিতার ব্যাপারে ইবন উবায়ের পুত্র আবদুল্লাহ্র ভূমিকা


ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আসিম ইব্‌ন কাতাদা বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ্ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করলেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সা)! আমি যতদূর জানতে পেরেছি, আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়ের ব্যাপারে আপনি যা অবগত হয়েছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে আপনি তাকে হত্যা করতে মনস্থ করেছেন। আপনি যদি একান্তই তা করতে চান, তা হলে আমাকে নির্দেশ দেন, আমিই তার মস্তক আপনার দরবারে এনে উপস্থিত করবো।
আল্লাহ্র কসম! খায়রাজের প্রতিটি লোকে জানে, তাদের মধ্যে আমার মত পিতৃভক্ত আর একটিও নেই। আমার আশঙ্কা হয়, পাছে আপনি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে এ আদেশ দেন, আর সে তাকে হত্যা করে লোক সমাজে ঘোরাফেরা করবে, আর আমি আমার মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে, শেষ পর্যন্ত একজন কাফিরের জন্য একজন মু'মিনকেই না হত্যা করে বসি। আর পরিণামে জাহান্নামে যাই। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমরা বরং তার সাথে নম্র ব্যবহার করব এবং যাবৎ সে আমাদের সঙ্গে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে উত্তমভাবে সঙ্গ দিয়ে যাব।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইন্ন উবায়ের সম্প্রদায় সম্পর্কে

📄 ইন্ন উবায়ের সম্প্রদায় সম্পর্কে


এরপর যখনই ইবন উবায় কোন অপকর্ম করে বসতো, তখন তার নিজের সম্প্রদায়ের লোকজনই তাকে ভর্ৎসনা করতো, তাকে ধর-পাকড় করতো এবং তার সাথে এজন্য রূঢ় আচরণ করতো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন তাদের এ অবস্থার কথা জানতে পারলেন, তখন উমর ইব্‌ন খাত্তাবকে লক্ষ্য করে বললেন: তোমার কি ধারণা হয় উমর, সেদিন তোমার কথামত যদি আমি তাকে কতল করতাম তা হলে তারাই রুষ্ট হয়ে নাক সিটকাতো, আর আজ যদি আমি তাদের তাকে হত্যা করতে বলি, তা হলে তারাই যে, হত্যা করবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। তখন উমর (রা) বললেন: আল্লাহর কসম! আমার সম্যক জানা আছে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কথা, আমার কথার তুলনায় অনেক বেশি বরকতময়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুকীস ইন্ন সুবাবার বাহানা

📄 মুকীস ইন্ন সুবাবার বাহানা


ইবন ইসহাক বলেন: মুকীস ইব্‌ন সুবাবা মক্কা থেকে বাহ্যত মুসলিম পরিচয় দিয়ে মদীনায় আসে। তখন সে বলে: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমি মুসলমান হয়ে আপনার নিকট উপস্থিত হয়েছি এবং আমার ভাইকে ভুলবশত হত্যার জন্য রক্তপণ দাবী করতে এসেছি। তার কথামত রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার ভাই হিশাম ইব্‌ন সুবাবার রক্তপণ আদায়ের নির্দেশ দিলেন।¹ তারপর সে অল্প ক'দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট অবস্থান করে। এরপর সে চলে যায় এবং যাবার সময় তার ভাইয়ের হত্যাকারীকে হত্যা করে যায় এবং মুরতাদ হয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। একথাটি সে তা কবিতায় এভাবে ব্যক্ত করে:
আমার হৃদয়টা শান্ত হলো— যখন সে অক্কা পেয়ে ঢলে পড়লো—ভূমিতে তার গ্রীবার পেশীগুলো থেকে রক্ত ঝরে ঝরে— রঙীন করছিল তার পরিধেয় বস্ত্রগুলোকে।
তাকে হত্যার পূর্বে আমার একটি ভাবনা ছিল— তাকে কেমন করে হত্যা করবো, অহরহ একটা দুশ্চিন্তা আমাকে পীড়া দিত, সে দুশ্চিন্তা আমার শয্যা গ্রহণ ও নিদ্রার পথে— বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তাকে হত্যা করার মাধ্যমে আমি পেয়ে গেছি আমার রক্তপণ, তারপর প্রথম সুযোগেই ছুটে এসেছি আমার দেবদেবীর পানে।
এভাবে আমি গ্রহণ করেছি ফিহরের প্রতিশোধে, আর তার রক্তপণের দায়িত্ব অর্পণ করেছি বনু নাজ্জারের সরদারদের ঘাড়ে যারা দুর্গের দায়িত্বে রয়েছে।
মুকীস ইব্‌ন সুবাবা আরো বলে:
আমি তলোয়ারের এক আঘাতেই তাকে কাবু করে ফেললাম যদ্বারা পেয়ে গেলাম পূর্ণ রক্তপণ, সে আঘাতে নির্গত হতে থাকে তার উদরের রক্ত ফোঁটায় ফোঁটায় যা উত্থিত হচ্ছিল ঊর্ধ্ব দিকে, আর নিঃশেষিত হচ্ছিল তার দেহের রক্ত। যখন পড়ছিল তার উপর মরণের মার, তখন আমি বলছিলাম : ওহে! বনু বকরের উপর যুলুম করে— কেউ যেন একথা না ভাবে যে, সে নিরাপদ!

টিকাঃ
১. সে নির্দেশ যথারীতি পালিতও হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00