📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আনসার ও মুহাজিরদের কলহ

📄 আনসার ও মুহাজিরদের কলহ


রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মুরায়সিয়া জলাশয়ের নিকট অবস্থান করছিলেন, তখন একটি দুর্ঘটনা ঘটে যায়। উমর ইব্‌ন খাত্তার (রা)-এর সংগে ছিল তাঁর একজন গিফার গোত্রের কর্মচারী। তাঁকে জাহ্জাহ্ ইবন মাসউদ নামে অভিহিত করা হতো। এ ব্যক্তি তাঁর ঘোড়া চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। জলাশয়ের কাছে গেলে এই জাহ্জাহ্ এবং সিনান ইব্‌ন ওবর জুহানির মধ্যে কলহের সূত্রপাত হয়। এ ব্যক্তিটি ছিলেন বনূ আওফের সাথে চুক্তিবদ্ধ মিত্র। শেষ পর্যন্ত উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। জুহানী হে আনসার সম্প্রদায়! বলে আনসারদের এবং জাহ্জ্জাহ্ হে মুহাজির সম্প্রদায়! বলে মুহাজিরদের সাহায্যার্থে আহ্বান জানায়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়ের তৎপরতা

📄 আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়ের তৎপরতা


আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায় ইবন সালুল ক্রুদ্ধ হয়ে উঠে। তার কাছে তখন যায়দ ইব্‌ন আরকামসহ তার সম্প্রদায়ের কতিপয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। যায়দ বয়সে ছিলেন তরুণ।
ইবন উবায় তখন বলে উঠলোঃ ওরা এমনটি করলো? তারা আমাদের মধ্যে পারস্পরিক ঘৃণা সৃষ্টি করে আমাদেরই দেশে, আমাদেরই উপর মাতব্বরী ফলাচ্ছে। আল্লাহ্র কসম! এ কুরায়শ ইতরদের লাই দিয়ে আমরা পূর্ববর্তী মুরুব্বীদের ঐ প্রবাদ বাক্যের মতই কাজ করেছি, যাতে তারা বলতেন:
سمن كَلبَكَ يَأْكُلك
"তুমি তোমার কুকুরকে খাইয়ে-দাইয়ে মোটা-তাজা কর যেন সে তোমাকেই শেষে পর্যন্ত খায়।"
"আল্লাহ্র কসম! এবার মদীনায় যদি ফিরে যাই, তবে আমাদের মধ্যকার সম্মানিতরা অপদস্থ ইতরদের অবশ্যই সেখানে থেকে বের করে দেবে।" তারপর তার সম্প্রদায়ের যে লোকজন সেখানে উপস্থিত ছিল, তাদেরকে লক্ষ্য করে সে বলল:
"তোমরা নিজেদের জন্য যা করেছ, এটা হচ্ছে তারই ফলশ্রুতি। তোমরা তাদেরকে নিজেদের দেশে স্থান দিয়েছ, তোমাদের ধন-সম্পদে তাদের ভাগ দিয়েছ। আল্লাহর কসম! যদি তোমরা তোমাদের হাতে যা রয়েছে, তা তাদের প্রদানে বিরত থাকো, তা হলে তারা তোমাদের দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হবে।"

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইবন উবায়ের মুনাফিকী

📄 ইবন উবায়ের মুনাফিকী


যায়দ ইব্‌ন আরকাম তা শুনতে পেলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে এসে তা বর্ণনা করলেন। এটা তখনকার কথা, যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) শত্রুদের ব্যাপার সামাল দিয়ে এসেছেন। যায়দ যখন তাঁকে এ সংবাদটি দিলেন, তখন উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রা) তাঁর নিকটে ছিলেন। তিনি বললেন: আব্বাদ ইন্ন বিশ্রকে তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে বললেন: লোকে যখন বলাবলি করবে, মুহাম্মদ তার সঙ্গীদের হত্যা করে থাকেন, তখন কেমন হবে, হে উমর? তা হতে দেওয়া যায় না, বরং এখন শিবির তুলে যাত্রা করার কথা ঘোষণা করে দাও। কিন্তু এটা ছিল দিনের এমন একটি সময়, যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) সাধারণত যাত্রা শুরু করতেন না। এ ঘোষণার পর লোকেরা যাত্রা করার জন্য তৈরি হলো।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উসায়দ ইবন হুযায়লের পরামর্শ

📄 উসায়দ ইবন হুযায়লের পরামর্শ


আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায় ইব্‌ন সালূল যখন শুনতে পেল যে, যায়দ ইব্‌ন আরকাম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে তার কাছ থেকে শোনা কথাগুলো বলে দিয়েছেন, তখন সে তাঁর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আল্লাহ্ নামে হলফ করে বলল: 'ও যা' বলেছে, আমি তা বলিনি। সে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসাবে গণ্য হতো। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে তখন তাঁর আনসার সাহাবীদের মধ্যে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা ইব্‌ন উবায়ের মুখ রক্ষার উদ্দেশ্যে তার সাফাই স্বরূপ বললেন: "ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! ঐ ছেলে মানুষটির হয়তো তার কথার মধ্যে এরূপ একটা ধারণা হয়েছে। আসলে হয়তো সে তিনি কি বলেছেন, তা ঠিক স্মরণও রাখতে পারেনি।"
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন যাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যাত্রা শুরু করলেন। তখন উসায়দ ইব্‌ন হুযায়র তাঁর সংগে দেখা করলেন। তিনি তাঁকে নবীর জন্য যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন ও অভিবাদন করে বললেন: হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ্র কসম, আপনি অসময়ে যাত্রা করছেন। এমন অসময়ে তো আপনি কখনো যাত্রা করেন না! তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর জবাবে বললেন: তোমাদের সাথীটি কি বলেছে, তা কি তুমি শুনতে পাওনি? তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: কোন্ সাথীটি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! তিনি জবাব দিলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায়।
উসায়দ জিজ্ঞাসা করলেন: সে কী বলেছে? রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: সে বলেছে, যখন সে মদীনায় ফিরে যাবে তখন অপেক্ষাকৃত সম্মানিতরা, অপেক্ষাকৃত হীনদেরকে মদীনা থেকে বের করেই তবে ছাড়াবে। তখন উসায়দ ইব্‌ন হুযায়র বললেন: আল্লাহ্র কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনি চাইলে তাকে (ঘাড়ে ধরে) মদীনা থেকে বের করে দিতে পারবেন। আল্লাহর কসম! সেই হীন, আর আপনি সম্মানিত ও প্রবল পরাক্রান্ত।
তারপর তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! এর প্রতি একটু নম্র আচরণ করবেন। আল্লাহ্র কসম! আল্লাহ্ আপনাকে এমন এক সময় আমাদের মধ্যে নিয়ে এলেন, যখন তার স্বজাতি তার জন্যে মোতির মালা গাঁথছিল যে তাঁকে তারা সম্মানিত করবে। (যা আর পরে বাস্তবায়িত হয়ে উঠেনি।) তাই সে ধারণা করে যে, আপনি তার রাজত্বটি ছিনিয়ে নিয়েছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00