📄 যুদ্ধের কারণ
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে আসিম ইব্ন উমর ইব্ন কাতাদা ও আবদুল্লাহ্ ইব্ আবূ বকরও মুহাম্মদ ইব্ন ইয়াহইয়া ইব্ন হিব্বান, প্রত্যেকে বনূ মুস্তালিক যুদ্ধের কিছু কিছু বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁরা সকলে যা বলেছেন, তার সারমর্ম হলো এরূপ:
রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট এমর্মে সংবাদ পৌঁছলো যে, বনু মুস্তালিক তাঁর (তথা মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে) যুদ্ধের জন্য সমবেত হচ্ছে। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে জুয়ায়রিয়ার পিতা হারিস ইব্ন আবূ যিরার। যিনি পরবর্তীতে উম্মুল মু'মিনীন হয়েছেন।
এ সংবাদ পেয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের সাথে মুকাবিলার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং তাদেরই একটি জলাশয় মুরায়সিয়ার নিকটে গিয়ে তিনি তাদের মুখোমুখী অবস্থান গ্রহণ করলেন। মুরায়সিয়া কুয়োটি কুদায়দের উপকণ্ঠে সাগর তীরের দিকে অবস্থিত ছিল। অবশেষে উভয়পক্ষে তুমুল সংঘর্ষ হয় এবং আল্লাহ্ তা'আলা বনু মুস্তালিককে পরাজিত করেন। তাদের মধ্যে যারা নিহত হবার, তারা নিহত হলো এবং আল্লাহ্ তা'আলা তাদের স্ত্রী-পুত্র ও ধন-সম্পদ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে গনীমত স্বরূপ দান করলেন।
📄 ভুলক্রমে ই সুবাবা (রা)-এর শাহাদত লাভ
মুসলমানদের মধ্যকার কল্প ইব্ন আওফ ইব্ন আমির ইব্ লায়স ইব্ বক্র গোত্রের এক ব্যক্তি যাকে হিশাম ইব্ন সুবাবা নামে অভিহিত করা হতো তিনি শহীদ হন। উবাদা ইব্ন সামিতের দলের জনৈক আনসার তাঁকে শত্রু মনে করে ভুলবশত তাঁকে হত্যা করেন।
📄 আনসার ও মুহাজিরদের কলহ
রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মুরায়সিয়া জলাশয়ের নিকট অবস্থান করছিলেন, তখন একটি দুর্ঘটনা ঘটে যায়। উমর ইব্ন খাত্তার (রা)-এর সংগে ছিল তাঁর একজন গিফার গোত্রের কর্মচারী। তাঁকে জাহ্জাহ্ ইবন মাসউদ নামে অভিহিত করা হতো। এ ব্যক্তি তাঁর ঘোড়া চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। জলাশয়ের কাছে গেলে এই জাহ্জাহ্ এবং সিনান ইব্ন ওবর জুহানির মধ্যে কলহের সূত্রপাত হয়। এ ব্যক্তিটি ছিলেন বনূ আওফের সাথে চুক্তিবদ্ধ মিত্র। শেষ পর্যন্ত উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। জুহানী হে আনসার সম্প্রদায়! বলে আনসারদের এবং জাহ্জ্জাহ্ হে মুহাজির সম্প্রদায়! বলে মুহাজিরদের সাহায্যার্থে আহ্বান জানায়।
📄 আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়ের তৎপরতা
আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায় ইবন সালুল ক্রুদ্ধ হয়ে উঠে। তার কাছে তখন যায়দ ইব্ন আরকামসহ তার সম্প্রদায়ের কতিপয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। যায়দ বয়সে ছিলেন তরুণ।
ইবন উবায় তখন বলে উঠলোঃ ওরা এমনটি করলো? তারা আমাদের মধ্যে পারস্পরিক ঘৃণা সৃষ্টি করে আমাদেরই দেশে, আমাদেরই উপর মাতব্বরী ফলাচ্ছে। আল্লাহ্র কসম! এ কুরায়শ ইতরদের লাই দিয়ে আমরা পূর্ববর্তী মুরুব্বীদের ঐ প্রবাদ বাক্যের মতই কাজ করেছি, যাতে তারা বলতেন:
سمن كَلبَكَ يَأْكُلك
"তুমি তোমার কুকুরকে খাইয়ে-দাইয়ে মোটা-তাজা কর যেন সে তোমাকেই শেষে পর্যন্ত খায়।"
"আল্লাহ্র কসম! এবার মদীনায় যদি ফিরে যাই, তবে আমাদের মধ্যকার সম্মানিতরা অপদস্থ ইতরদের অবশ্যই সেখানে থেকে বের করে দেবে।" তারপর তার সম্প্রদায়ের যে লোকজন সেখানে উপস্থিত ছিল, তাদেরকে লক্ষ্য করে সে বলল:
"তোমরা নিজেদের জন্য যা করেছ, এটা হচ্ছে তারই ফলশ্রুতি। তোমরা তাদেরকে নিজেদের দেশে স্থান দিয়েছ, তোমাদের ধন-সম্পদে তাদের ভাগ দিয়েছ। আল্লাহর কসম! যদি তোমরা তোমাদের হাতে যা রয়েছে, তা তাদের প্রদানে বিরত থাকো, তা হলে তারা তোমাদের দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হবে।"