📄 হাসান ইন্ন সাবিত (রা)-এর আরো কবিতা
ইন্ন হিশাম বলেন: হাসান ইব্ন সাবিত যখন এ কবিতা আবৃত্তি করলেন, তখন সা'দ ইব্ন যায়দ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে প্রতিজ্ঞা করলেন যে, তিনি তার কখনো হাসানের সাথে বাক্যালাপ করবেন না। তিনি বললেন: যুদ্ধে গেল আমার ঘোড়া আর ঘোড়সওয়াররা, আর সে কৃতিত্ব বর্ণনা করলো মিকদাদের : তখন হাসান (রা) ওযরখাহী করে বললেন: আল্লাহর কসম! এটা আমার অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি কেবল ছন্দের মিলের জন্যে মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেছে! তারপর তিনি সা'দকে খুশী করার উদ্দেশ্যে নিম্নের পংক্তিটি আবৃত্তি করেন:
যদি তোমরা ইচ্ছা কর কোন প্রবল যোদ্ধা বীরের প্রাচুর্যময় ব্যক্তির। তা হলে ধরে গিয়ে সা'দকে সা'দ ইব্ন যায়দকে। কোন পরিস্থিতিই ঘটাতে পারে না- যার রূপান্তর, তথা মতান্তর।
কিন্তু সা'দ তাঁর সে ওযর মেনে নিতে পারেননি। তাঁর পংক্তিগুলোতে কোনই কাজ হয়নি।
হাসান ইব্ন সাবিত (রা) যী-কারদ যুদ্ধের দিন সম্পর্কে আরও বলেন:
উয়ায়না যখন এসেছিল মদীনায় সে কি ধারণা করেছিল, চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবে তার প্রাসাদসমূহকে? যে ব্যাপারকে তুমি চেয়েছিলে সত্য করে দেখাতে তাতে তোমাকে প্রতিপন্ন করা হলো মিথ্যাবাদী রূপে তোমরা বলেছিলে অচিরেই আমরা লাভ করবো প্রচুর গনীমত। তারপর যখন তুমি এলে মদীনায়- শুনতে পেলে তার সিংহসমূহের গর্জন, তখন ভেঙ্গে গেল তোমার স্বপ্নসাধ, আর মদীনার ব্যাপারে কেটে গেল তোমার মোহ। তারপর তারা পালালো এত দ্রুত যেমন দ্রুত পালায উটপাখী, আর তারা কোন উটের কাছেও ঘেঁষতে পারলো না গোটা বিশ্বের শাহানশাহের রাসূল ছিলেন আমাদের আমীর তিনি ছিলেন আমাদের প্রিয়তম আমীর।
এমন রাসূল, যাঁর আনীত সবকিছুকেই আমরা সত্য বলে-জানি, তিনি তিলাওয়াত করেন আলোকোজ্জ্বল প্রদীপ্ত কিতাব।
📄 কা'ব ইবন মালিক (রা)-এর কবিতা
কা'ব ইবন মালিক (রা) যী-কারদের অশ্বারোহীদের সম্পর্কে বলেন: অজ্ঞাত কুলশীল পথের সন্তানরা কি ভেবেছে যে, অশ্বারোহীতে আমরা তাদের সমকক্ষ নই? অথচ আমরা হচ্ছি সে সব লোক, যারা হত্যাকে গালি ভাবে না। চলন্ত বর্শা বল্লমকে দেখে যারা করে না পৃষ্ঠ প্রদর্শন। উটের কুজ দিয়ে আমরা আপ্যায়ন করি আমাদের অতিথিদের, আর বক্রচোখে তাকানো দাম্ভিকদের করি শিরশ্ছেদ। যুদ্ধ প্রতীকসহ যারা গর্বে স্ফীত বুক নিয়ে— অগ্রাভিমুখে সদর্পে অগ্রসর হয়, তাদের জন্যে আমাদের তলোয়ার শান্তি প্রদায়িনী প্রতিপন্ন হয় দুশমনের মুখ আমরা বন্ধ করে দেই এমনি যুবক-সেনার সাহায্যে, যারা সত্যসেনা, কুলীন, দানশীল, 'গাযা'-বনে বসতকারী, হিংস্র ব্যাঘ্রসম ক্রুর। তারা প্রতিরোধ সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়, তাদের জানমাল ইজ্জত আবরূ রক্ষার্থে— এমন সব তলোয়ার নিয়ে; যেগুলো খণ্ডিত করে— শিরস্ত্রাণ-আবৃত সুরক্ষিত শিরগুলোকেও। তাই বদর গোত্রের সাথে যখন দেখা হবে, তখন তোমরা তাদের জিজ্ঞেস করে নেবে, যুদ্ধের দিন ভায়েরা কেমনটি করেছিল? যখন তোমরা নির্গত হবে তোমাদের ঘর থেকে, তখন— যাদের সাথে তোমাদের সাক্ষাৎ হয়, তাদেরকে সত্য কথাটুকু বলবে। আর মজলিস বৈঠকসমূহে নিজেদের হালচাল গোপন করবে না কিন্তু! তোমরা ঠিক ঠিক বলে দেবে, ঐ সিংহের পাঞ্জার ভয়ে তটস্থ হয়ে আমরা তো পা পিছলে পড়েছি, যার বুকে প্রতিহিংসার আগুন— ধিক্ ধিক্ করে জ্বলতে থাকে— যাবৎ না সে হামলা করে।
📄 শাদ্দাদ ইব্ন আরিয (রা)-এর কবিতা
ইবন ইসহাক বলেন: শাদ্দাদ ইবন 'আরিয জুশামি (রা) যী-কারদের যুদ্ধের দিন উয়ায়না ইবন হিনের উদ্দেশ্যে যে কবিতা বলেছিলেন, তার পংক্তিগুলো নিম্নে দেওয়া হলো। উক্ত উয়ায়না ইন্ন হিস্স্নকে আবূ মালিক কুনিয়াত বা উপনামে ডাকা হতো।
হে আবু মালিক! তোমার ঘোটক যখন ঊর্ধ্বশ্বাসে পালাতে গিয়ে— নিহত হচ্ছিলো, তখন তুমি ফিরে হামলা করলে না কেন? তুমি উল্লেখ করেছো আজরের' দিকে প্রত্যাবর্তনের কথা, অথচ কথাটি তো ঠিক নয়, তোমার প্রত্যাবর্তনই ছিল বিপদসঙ্কুল। তুমি তোমার প্রাণকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলে, অথচ সে পালাচ্ছিল সে অসিরুদ্ধ ঘোড়াটির মত, যে দ্রুতবেগে পূর্ণোদ্যমে অতিক্রম করে যায় কোন প্রান্তর। যখন উত্তুরে বায়ু, তোমার উপর তার নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছিল, তখন সে এরূপ টগবগ করে ফুটছিলো, যেরূপ ফুটে উত্তপ্ত ডেগচীতে ফুটন্ত পানি। যখন তোমরা জেনে নিলে, আল্লাহর বান্দারা এমন হয়, প্রথম গমনকারী অপেক্ষা করে না পরবর্তীর জন্যে; অথন তোমরা চিনে নিলে সে সব অশ্বারোহীদের, যারা তোয়াক্কা করে না বীর যোদ্ধাদের সাথে যুঝতে, যখন তাদের (যুদ্ধার্থে) ছেড়ে দেয়া হয়। যখন তারা প্রতিরোধ করছিল ঘোড়াসমূহকে, তখন তাতে নেমে আসে তোমাদের দুর্ভাগ্যজনক অপমান, যদি তাদের সামনে গড়ে তোলা হতো প্রতিরোধ, তা হলে তারা রুখে দাঁড়াত আরো অপ্রতিরোধ্য রূপে। তারপর তারা সমতল ভূমিতে, নিজেদের রক্ষার্থে— শক্ত হাতে ধারণ করতো এমনি তলোয়ার, শান যাকে উত্তমরূপে শাণিত করে তুলেছে। (আর ঘটাতো তোমাদের মহা-প্রমাদ।)
টিকাঃ
১. মক্কার নিকটবর্তী স্থান।