📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 পাপ কাজের মানত নেই

📄 পাপ কাজের মানত নেই


নিহত গিফারীর স্ত্রী' রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উটনীসমূহের একটিতে চড়ে তাঁর খিদমতে এসে হাযির হলেন এবং পূর্ণ ঘটনা তাঁকে অবহিত করলেন। কথাবার্তা শেষ হল সে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! "আমি মানত করেছি, আল্লাহ্ তা'আলা যদি আমাকে এর পিঠে করে যালিমদের কবল থেকে নিষ্কৃতি দেন, তবে আমি এটি যবাই করব।”২ রাবী বলেন: একথাটি শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) মুচকি হেসে বললেন:
بئس ما جزيتها ان حملك الله عليها ونجاك بما : ثم تتحرينها ! انما هي ناقة من ابلى فارجعي الى اهلك على بركة الله
"তুমি তো উটনীকে অত্যন্ত মন্দ প্রতিদান দিলে হে! আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে এর পিঠে চড়ালেন। এর দ্বারা তোমাকে নিষ্কৃতি দিলেন, তারপর তুমি তাকে যবাই করতে চাও! ওহে! এটি তো আমার উটনী। তুমি আল্লাহ্র দেওয়া বরকত নিয়ে তোমার পরিবার পরিজনের মধ্যে ফিরে যাও।"
গিফারীর স্ত্রী এবং তার বক্তব্য এবং তার প্রতি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উক্তি সংক্রান্ত পূর্ণ বিবরণ আবূ যুবায়র মক্কী হাসান ইব্‌ন আবুল হাসানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

টিকাঃ
১. তাঁর নাম ছিল-'লায়লা'।
২ মূলে আছে 'আমি নহর করব'। উটের যবাই-এর পদ্ধতিকে নহর করা বলা হয়ে থাকে। নিষ্কৃতির শুকরানা স্বরূপ আল্লাহর রাহে উট যবাই করার মানত মহিলাটি করেছিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যী-কারদের যুদ্ধের দিনে কথিত কবিতা

📄 যী-কারদের যুদ্ধের দিনে কথিত কবিতা


যী-কারদের যুদ্ধের দিন যে সব কবিতা আবৃত্তি করা হয়েছিল, তাতে হাসান ইন্ন সাবিত (রা)-এর নিম্নলিখিত পংক্তিগুলোও ছিল: গতকাল যদি সায়া ভূমি দক্ষিণে, আমাদের ঘোড়াগুলো পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতো কঙ্করময় দুর্গম ভূমি, যা আমাদের ঘোড়াগুলোর খুরগুলোতে বিদ্ধ করছিল সুতীক্ষ্ণ কাঁকর; তা হলে এ ঘোড়াগুলো সত্যের ধারক-বাহক কুলীন সদ্বংশজাত তাদের আরোহীদেরকে নিয়ে তোমাদের সাথে লিপ্ত হতো সংঘর্ষে।
তখন এ অজ্ঞাত কুলশীল পথুয়া সন্তানদের জন্যে এটাই হতো নিরাপদতর যে, তারা মিকদাদের ঘোড়সওয়ারদের সাথে প্রবৃত্ত হতো না যুদ্ধে। আমরা ছিলাম আটজন মাত্র। আর তারা ছিল বিরাট বাহিনী; এতদসত্ত্বেও বর্শা-বল্লমের আঘাতে তারা হয়েছে ক্ষত-বিক্ষত। আমরা ছিলাম সেই সম্প্রদায়, যারা তাদের ওখানে পৌঁছে তাদের সাথে প্রবৃত্ত হয়েছে যুদ্ধে, তারা তাদের উত্তম ঘোড়ার লাগাম ধরে এগিয়ে চলছিল সামনের দিকে। কসম সেই উষ্ট্রগুলোর প্রতিপালকের, যেগুলো (আত্মোৎসর্গ করার উদ্দেশ্যে) মিনার পানে এগিয়ে চলছিল লাফিয়ে লাফিয়ে—পরম আনন্দে, আর সেগুলো চলছিল গিরিপথসমূহের কিনার ধরে। আমরা এগিয়ে চলছিলাম— এমন কি একেবারে তোমাদের গৃহে আঙিনায় গিয়ে— প্রস্রাব করালাম আমাদের ঘোটকসমূহকে, তারপর সেই ঘোটকগুলো নিয়ে, যেগুলো প্রতি মাঠে প্রান্তরে— ঘুরে ঘুরে চলে, তোমাদের স্ত্রীদের ও সন্তানদের নিয়ে ফিরে এলাম হাসিখুশি প্রসন্ন মুখে। যুদ্ধ বিগ্রহের দিনগুলো ক্ষয়ে দিয়েছে ঘোটকগুলোর পশ্চাৎভাগ, ভাসিয়ে তুলেছে ওগুলোর পিঠের হাড়গুলোকে। কেননা, ঐ দিনগুলোতে ওগুলোকে পরিচালনা করা হয়ে থাকে। অনুরূপভাবে যখন জ্বলে উঠে যুদ্ধের দাবানল, তখন আমাদের ঘোটকসমূহকে ভোরের বায়ুর দুধ পান করানো হয়ে থাকে। আর আমাদের চকমকে উজ্জ্বল লোহার তরবারিগুলো, লৌহ নির্মিত ঢালসমূহ এবং রণাকাংক্ষীদের মস্তকসমূহকে, কেটে খান খান করে দেয়। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের জন্যে সৃষ্টি করলেন প্রতিবন্ধকতা তাঁর দীনের মর্যাদা রক্ষার খাতিরে সৃষ্টি করলেন তিনি তাদের সামনে নানা বাধা বিপত্তির এ কাফিররা সুখে-স্বাচ্ছন্দে দিন গোজরান করছিল তাদের গৃহে।
কিন্তু যী-কারদের এ যুদ্ধের ফলে তাদের চেহারাসমূহ রূপান্তরিত হলো দাসদের চেহারায়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হাসান ইন্ন সাবিত (রা)-এর আরো কবিতা

📄 হাসান ইন্ন সাবিত (রা)-এর আরো কবিতা


ইন্ন হিশাম বলেন: হাসান ইব্‌ন সাবিত যখন এ কবিতা আবৃত্তি করলেন, তখন সা'দ ইব্‌ন যায়দ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে প্রতিজ্ঞা করলেন যে, তিনি তার কখনো হাসানের সাথে বাক্যালাপ করবেন না। তিনি বললেন: যুদ্ধে গেল আমার ঘোড়া আর ঘোড়সওয়াররা, আর সে কৃতিত্ব বর্ণনা করলো মিকদাদের : তখন হাসান (রা) ওযরখাহী করে বললেন: আল্লাহর কসম! এটা আমার অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি কেবল ছন্দের মিলের জন্যে মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেছে! তারপর তিনি সা'দকে খুশী করার উদ্দেশ্যে নিম্নের পংক্তিটি আবৃত্তি করেন:
যদি তোমরা ইচ্ছা কর কোন প্রবল যোদ্ধা বীরের প্রাচুর্যময় ব্যক্তির। তা হলে ধরে গিয়ে সা'দকে সা'দ ইব্‌ন যায়দকে। কোন পরিস্থিতিই ঘটাতে পারে না- যার রূপান্তর, তথা মতান্তর।
কিন্তু সা'দ তাঁর সে ওযর মেনে নিতে পারেননি। তাঁর পংক্তিগুলোতে কোনই কাজ হয়নি।
হাসান ইব্‌ন সাবিত (রা) যী-কারদ যুদ্ধের দিন সম্পর্কে আরও বলেন:
উয়ায়না যখন এসেছিল মদীনায় সে কি ধারণা করেছিল, চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবে তার প্রাসাদসমূহকে? যে ব্যাপারকে তুমি চেয়েছিলে সত্য করে দেখাতে তাতে তোমাকে প্রতিপন্ন করা হলো মিথ্যাবাদী রূপে তোমরা বলেছিলে অচিরেই আমরা লাভ করবো প্রচুর গনীমত। তারপর যখন তুমি এলে মদীনায়- শুনতে পেলে তার সিংহসমূহের গর্জন, তখন ভেঙ্গে গেল তোমার স্বপ্নসাধ, আর মদীনার ব্যাপারে কেটে গেল তোমার মোহ। তারপর তারা পালালো এত দ্রুত যেমন দ্রুত পালায উটপাখী, আর তারা কোন উটের কাছেও ঘেঁষতে পারলো না গোটা বিশ্বের শাহানশাহের রাসূল ছিলেন আমাদের আমীর তিনি ছিলেন আমাদের প্রিয়তম আমীর।
এমন রাসূল, যাঁর আনীত সবকিছুকেই আমরা সত্য বলে-জানি, তিনি তিলাওয়াত করেন আলোকোজ্জ্বল প্রদীপ্ত কিতাব।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কা'ব ইবন মালিক (রা)-এর কবিতা

📄 কা'ব ইবন মালিক (রা)-এর কবিতা


কা'ব ইবন মালিক (রা) যী-কারদের অশ্বারোহীদের সম্পর্কে বলেন: অজ্ঞাত কুলশীল পথের সন্তানরা কি ভেবেছে যে, অশ্বারোহীতে আমরা তাদের সমকক্ষ নই? অথচ আমরা হচ্ছি সে সব লোক, যারা হত্যাকে গালি ভাবে না। চলন্ত বর্শা বল্লমকে দেখে যারা করে না পৃষ্ঠ প্রদর্শন। উটের কুজ দিয়ে আমরা আপ্যায়ন করি আমাদের অতিথিদের, আর বক্রচোখে তাকানো দাম্ভিকদের করি শিরশ্ছেদ। যুদ্ধ প্রতীকসহ যারা গর্বে স্ফীত বুক নিয়ে— অগ্রাভিমুখে সদর্পে অগ্রসর হয়, তাদের জন্যে আমাদের তলোয়ার শান্তি প্রদায়িনী প্রতিপন্ন হয় দুশমনের মুখ আমরা বন্ধ করে দেই এমনি যুবক-সেনার সাহায্যে, যারা সত্যসেনা, কুলীন, দানশীল, 'গাযা'-বনে বসতকারী, হিংস্র ব্যাঘ্রসম ক্রুর। তারা প্রতিরোধ সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়, তাদের জানমাল ইজ্জত আবরূ রক্ষার্থে— এমন সব তলোয়ার নিয়ে; যেগুলো খণ্ডিত করে— শিরস্ত্রাণ-আবৃত সুরক্ষিত শিরগুলোকেও। তাই বদর গোত্রের সাথে যখন দেখা হবে, তখন তোমরা তাদের জিজ্ঞেস করে নেবে, যুদ্ধের দিন ভায়েরা কেমনটি করেছিল? যখন তোমরা নির্গত হবে তোমাদের ঘর থেকে, তখন— যাদের সাথে তোমাদের সাক্ষাৎ হয়, তাদেরকে সত্য কথাটুকু বলবে। আর মজলিস বৈঠকসমূহে নিজেদের হালচাল গোপন করবে না কিন্তু! তোমরা ঠিক ঠিক বলে দেবে, ঐ সিংহের পাঞ্জার ভয়ে তটস্থ হয়ে আমরা তো পা পিছলে পড়েছি, যার বুকে প্রতিহিংসার আগুন— ধিক্ ধিক্ করে জ্বলতে থাকে— যাবৎ না সে হামলা করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00