📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুশরিকদের মধ্যে যারা নিহত হয়

📄 মুশরিকদের মধ্যে যারা নিহত হয়


সমস্ত অশ্বারোহী যখন একত্রিত হলেন, তখন বনু সালামার আবু কাতাদা ইব্‌ন হারিস ইন্ন রিবয়ী প্রতিপক্ষের হাবীব ইন্ন উয়ায়না ইব্‌ন্ন হিস্স্নকে হত্যা করেন এবং তাঁকে তাঁর নিজ চাদর দ্বারা আবৃত করে নিজের লোকজনের মধ্যে মিশে যান। রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজে তখন মুস্লমানদের তত্ত্বাবধান করছিলেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: ইব্‌ন উম্মু মাকতুমকে তখন তিনি মদীনার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন।
ইবন ইসহাক বলেন নিহত হাবীবকে আবু কাতাদার চাদরে আবৃত দেখে লোকে ইন্নাল্লিল্লাহ পাঠ করতে লাগলো এবং বলাবলি করতে লাগলো যে, আবু কাতাদা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এটা কাতাদার শবদেহ নয়, বরং এ ব্যক্তি আবু কাতাদার হাতে নিহত হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে আবূ কাতাদা তার চাদর এর উপর রেখে দিয়েছে, যাতে লোকে বুঝাতে পারে যে, এটা তারই হাতে নিহত ব্যক্তির শবদেহ।
উকাশা ইব্‌ন মিহসান—উবার ও তার পুত্রকে একত্রে পেয়ে যান। তারা পিতাপুত্র উভয়েই একটা উটে চড়ে চলছিল। তিনি তাদের দু'জনকে একই বল্লমের মধ্যে গেঁথে ফেলেন এবং উভয়কে একত্রে হত্যা করেন। কিছু সংখ্যক উষ্ট্রী তাঁরা মুক্ত করে নেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যী- কারদের পাহাড়ে গিয়ে অবস্থান করেন। সেখানে লোকজন তাঁর সংগে গিয়ে মিলিত হয়। তিনি সেখানে এক দিন একরাত অবস্থান করেন। সালামা ইব্‌ন আকওয়া তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)। আমাকে যদি আপনি এক শ' লোক সাথে দেন, তবে অবশিষ্ট উষ্ট্রীগুলোও উদ্ধার করে নিয়ে আসতে পারি। সাথে সাথে শত্রুদের গর্দানসমূহও নিয়ে আসতে পারি। আমার জানা মতে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন তাঁকে বলেন:
انهم الآن يغبقون في غطفان -তারা এখন গাতফান গোত্রে গিয়ে উষ্ট্রীগুলোর দুধ পানে মত্ত রয়েছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 গনীমত বণ্টন

📄 গনীমত বণ্টন


তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) প্রতিশত মুসলমানের মধ্যে একটি করে উট হিসাবে সাহাবীদের মধ্যে গনীমত বণ্টন করে দেন এবং সেখান (এক দিন এক রাত) অবস্থানের পর মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 পাপ কাজের মানত নেই

📄 পাপ কাজের মানত নেই


নিহত গিফারীর স্ত্রী' রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উটনীসমূহের একটিতে চড়ে তাঁর খিদমতে এসে হাযির হলেন এবং পূর্ণ ঘটনা তাঁকে অবহিত করলেন। কথাবার্তা শেষ হল সে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! "আমি মানত করেছি, আল্লাহ্ তা'আলা যদি আমাকে এর পিঠে করে যালিমদের কবল থেকে নিষ্কৃতি দেন, তবে আমি এটি যবাই করব।”২ রাবী বলেন: একথাটি শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) মুচকি হেসে বললেন:
بئس ما جزيتها ان حملك الله عليها ونجاك بما : ثم تتحرينها ! انما هي ناقة من ابلى فارجعي الى اهلك على بركة الله
"তুমি তো উটনীকে অত্যন্ত মন্দ প্রতিদান দিলে হে! আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে এর পিঠে চড়ালেন। এর দ্বারা তোমাকে নিষ্কৃতি দিলেন, তারপর তুমি তাকে যবাই করতে চাও! ওহে! এটি তো আমার উটনী। তুমি আল্লাহ্র দেওয়া বরকত নিয়ে তোমার পরিবার পরিজনের মধ্যে ফিরে যাও।"
গিফারীর স্ত্রী এবং তার বক্তব্য এবং তার প্রতি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উক্তি সংক্রান্ত পূর্ণ বিবরণ আবূ যুবায়র মক্কী হাসান ইব্‌ন আবুল হাসানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

টিকাঃ
১. তাঁর নাম ছিল-'লায়লা'।
২ মূলে আছে 'আমি নহর করব'। উটের যবাই-এর পদ্ধতিকে নহর করা বলা হয়ে থাকে। নিষ্কৃতির শুকরানা স্বরূপ আল্লাহর রাহে উট যবাই করার মানত মহিলাটি করেছিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যী-কারদের যুদ্ধের দিনে কথিত কবিতা

📄 যী-কারদের যুদ্ধের দিনে কথিত কবিতা


যী-কারদের যুদ্ধের দিন যে সব কবিতা আবৃত্তি করা হয়েছিল, তাতে হাসান ইন্ন সাবিত (রা)-এর নিম্নলিখিত পংক্তিগুলোও ছিল: গতকাল যদি সায়া ভূমি দক্ষিণে, আমাদের ঘোড়াগুলো পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতো কঙ্করময় দুর্গম ভূমি, যা আমাদের ঘোড়াগুলোর খুরগুলোতে বিদ্ধ করছিল সুতীক্ষ্ণ কাঁকর; তা হলে এ ঘোড়াগুলো সত্যের ধারক-বাহক কুলীন সদ্বংশজাত তাদের আরোহীদেরকে নিয়ে তোমাদের সাথে লিপ্ত হতো সংঘর্ষে।
তখন এ অজ্ঞাত কুলশীল পথুয়া সন্তানদের জন্যে এটাই হতো নিরাপদতর যে, তারা মিকদাদের ঘোড়সওয়ারদের সাথে প্রবৃত্ত হতো না যুদ্ধে। আমরা ছিলাম আটজন মাত্র। আর তারা ছিল বিরাট বাহিনী; এতদসত্ত্বেও বর্শা-বল্লমের আঘাতে তারা হয়েছে ক্ষত-বিক্ষত। আমরা ছিলাম সেই সম্প্রদায়, যারা তাদের ওখানে পৌঁছে তাদের সাথে প্রবৃত্ত হয়েছে যুদ্ধে, তারা তাদের উত্তম ঘোড়ার লাগাম ধরে এগিয়ে চলছিল সামনের দিকে। কসম সেই উষ্ট্রগুলোর প্রতিপালকের, যেগুলো (আত্মোৎসর্গ করার উদ্দেশ্যে) মিনার পানে এগিয়ে চলছিল লাফিয়ে লাফিয়ে—পরম আনন্দে, আর সেগুলো চলছিল গিরিপথসমূহের কিনার ধরে। আমরা এগিয়ে চলছিলাম— এমন কি একেবারে তোমাদের গৃহে আঙিনায় গিয়ে— প্রস্রাব করালাম আমাদের ঘোটকসমূহকে, তারপর সেই ঘোটকগুলো নিয়ে, যেগুলো প্রতি মাঠে প্রান্তরে— ঘুরে ঘুরে চলে, তোমাদের স্ত্রীদের ও সন্তানদের নিয়ে ফিরে এলাম হাসিখুশি প্রসন্ন মুখে। যুদ্ধ বিগ্রহের দিনগুলো ক্ষয়ে দিয়েছে ঘোটকগুলোর পশ্চাৎভাগ, ভাসিয়ে তুলেছে ওগুলোর পিঠের হাড়গুলোকে। কেননা, ঐ দিনগুলোতে ওগুলোকে পরিচালনা করা হয়ে থাকে। অনুরূপভাবে যখন জ্বলে উঠে যুদ্ধের দাবানল, তখন আমাদের ঘোটকসমূহকে ভোরের বায়ুর দুধ পান করানো হয়ে থাকে। আর আমাদের চকমকে উজ্জ্বল লোহার তরবারিগুলো, লৌহ নির্মিত ঢালসমূহ এবং রণাকাংক্ষীদের মস্তকসমূহকে, কেটে খান খান করে দেয়। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের জন্যে সৃষ্টি করলেন প্রতিবন্ধকতা তাঁর দীনের মর্যাদা রক্ষার খাতিরে সৃষ্টি করলেন তিনি তাদের সামনে নানা বাধা বিপত্তির এ কাফিররা সুখে-স্বাচ্ছন্দে দিন গোজরান করছিল তাদের গৃহে।
কিন্তু যী-কারদের এ যুদ্ধের ফলে তাদের চেহারাসমূহ রূপান্তরিত হলো দাসদের চেহারায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00