📄 মুসলমানদের ঘোড়াসমূহের নাম
ইবন ইসহাক বলেন: মাহমুদের ঘোড়াটি নাম ছিল 'যুল্লিল্লল্মা'।
ইবন হিশাম বলেন: সা'দ ইব্ন যায়দের ঘোড়ার নাম ছিল লাহিক। মিকদাদের ঘোড়ার নাম ছিল 'বাযাজা'। কেউ কেউ এটার নাম 'সাবহা'ও বলেছেন। উকাশা ইব্ন মিহসানের ঘোড়ার নাম ছিল 'যুললিম্মা'। আবু কাতাদার ঘোড়ার নাম ছিল 'হাযওয়া'। উব্বাদ ইব্ন বিশর এর ঘোড়র নাম ছিল 'লাম্মা'। উসায়দ ইব্ন যুহায়রের ঘোড়ার নাম ছিল 'মাসূদ'। আবূ আইয়াশের ঘোড়ার নাম ছিল 'জাল্ল্ভয়া'।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্ন কা'ব ইবন মালিকের সূত্রে এমন একজন রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, যাকে আমি মিথ্যাবাদী বলে অভিযুক্ত করতে পারি না। তিনি বলেন: মুজাযায উকাশা ইব্ন মিহসানের ঘোড়ার উপর সওয়ার ছিলেন, যার নাম ছিল 'জানাহ'। মুজাযায শহীদ হন এবং ঘোড়াটি শত্রুদের হাতে পড়ে যায়।
📄 মুশরিকদের মধ্যে যারা নিহত হয়
সমস্ত অশ্বারোহী যখন একত্রিত হলেন, তখন বনু সালামার আবু কাতাদা ইব্ন হারিস ইন্ন রিবয়ী প্রতিপক্ষের হাবীব ইন্ন উয়ায়না ইব্ন্ন হিস্স্নকে হত্যা করেন এবং তাঁকে তাঁর নিজ চাদর দ্বারা আবৃত করে নিজের লোকজনের মধ্যে মিশে যান। রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজে তখন মুস্লমানদের তত্ত্বাবধান করছিলেন।
ইব্ন হিশাম বলেন: ইব্ন উম্মু মাকতুমকে তখন তিনি মদীনার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন।
ইবন ইসহাক বলেন নিহত হাবীবকে আবু কাতাদার চাদরে আবৃত দেখে লোকে ইন্নাল্লিল্লাহ পাঠ করতে লাগলো এবং বলাবলি করতে লাগলো যে, আবু কাতাদা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এটা কাতাদার শবদেহ নয়, বরং এ ব্যক্তি আবু কাতাদার হাতে নিহত হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে আবূ কাতাদা তার চাদর এর উপর রেখে দিয়েছে, যাতে লোকে বুঝাতে পারে যে, এটা তারই হাতে নিহত ব্যক্তির শবদেহ।
উকাশা ইব্ন মিহসান—উবার ও তার পুত্রকে একত্রে পেয়ে যান। তারা পিতাপুত্র উভয়েই একটা উটে চড়ে চলছিল। তিনি তাদের দু'জনকে একই বল্লমের মধ্যে গেঁথে ফেলেন এবং উভয়কে একত্রে হত্যা করেন। কিছু সংখ্যক উষ্ট্রী তাঁরা মুক্ত করে নেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যী- কারদের পাহাড়ে গিয়ে অবস্থান করেন। সেখানে লোকজন তাঁর সংগে গিয়ে মিলিত হয়। তিনি সেখানে এক দিন একরাত অবস্থান করেন। সালামা ইব্ন আকওয়া তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)। আমাকে যদি আপনি এক শ' লোক সাথে দেন, তবে অবশিষ্ট উষ্ট্রীগুলোও উদ্ধার করে নিয়ে আসতে পারি। সাথে সাথে শত্রুদের গর্দানসমূহও নিয়ে আসতে পারি। আমার জানা মতে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন তাঁকে বলেন:
انهم الآن يغبقون في غطفان -তারা এখন গাতফান গোত্রে গিয়ে উষ্ট্রীগুলোর দুধ পানে মত্ত রয়েছে।
📄 গনীমত বণ্টন
তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) প্রতিশত মুসলমানের মধ্যে একটি করে উট হিসাবে সাহাবীদের মধ্যে গনীমত বণ্টন করে দেন এবং সেখান (এক দিন এক রাত) অবস্থানের পর মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন।
📄 পাপ কাজের মানত নেই
নিহত গিফারীর স্ত্রী' রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উটনীসমূহের একটিতে চড়ে তাঁর খিদমতে এসে হাযির হলেন এবং পূর্ণ ঘটনা তাঁকে অবহিত করলেন। কথাবার্তা শেষ হল সে বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! "আমি মানত করেছি, আল্লাহ্ তা'আলা যদি আমাকে এর পিঠে করে যালিমদের কবল থেকে নিষ্কৃতি দেন, তবে আমি এটি যবাই করব।”২ রাবী বলেন: একথাটি শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) মুচকি হেসে বললেন:
بئس ما جزيتها ان حملك الله عليها ونجاك بما : ثم تتحرينها ! انما هي ناقة من ابلى فارجعي الى اهلك على بركة الله
"তুমি তো উটনীকে অত্যন্ত মন্দ প্রতিদান দিলে হে! আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে এর পিঠে চড়ালেন। এর দ্বারা তোমাকে নিষ্কৃতি দিলেন, তারপর তুমি তাকে যবাই করতে চাও! ওহে! এটি তো আমার উটনী। তুমি আল্লাহ্র দেওয়া বরকত নিয়ে তোমার পরিবার পরিজনের মধ্যে ফিরে যাও।"
গিফারীর স্ত্রী এবং তার বক্তব্য এবং তার প্রতি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উক্তি সংক্রান্ত পূর্ণ বিবরণ আবূ যুবায়র মক্কী হাসান ইব্ন আবুল হাসানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
টিকাঃ
১. তাঁর নাম ছিল-'লায়লা'।
২ মূলে আছে 'আমি নহর করব'। উটের যবাই-এর পদ্ধতিকে নহর করা বলা হয়ে থাকে। নিষ্কৃতির শুকরানা স্বরূপ আল্লাহর রাহে উট যবাই করার মানত মহিলাটি করেছিলেন।