📄 বনু কুরায়যার ব্যাপারে হাসান ইব্ন সাবিত (রা) আরো বলেছিলেন
تقاقد معشر تصروا قريشا ............ حريق بالبويرة مستطير
যে সম্প্রদায় মদদ যুগিয়েছিল কুরায়শদের, তাদের নিজ বসতস্থলেও তাদের রইলো না কোন মদদগার তারা নিজেরাই হারিয়ে ফেললো একে অপরকে, কেউ পাচ্ছিলো না কারো উদ্দেশ।
তাদের দান করা হয়েছিল তাওরাত কিতাব, তারা তা বিনষ্ট করেছিল। তাওরাত অনুধাবনের ব্যাপারে তারা বরণ করে নিল অন্ধত্ব, তাই, তারা হলো বিনাশপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্ট। তোমরা অস্বীকৃতি জানালে কুরআনের প্রতি অথচ তোমরা পেয়েছিলে সমর্থন ও অনুমোদন' যা বলেছিলেন সর্তককারী নবী। তাই বুয়ায়রায়' বনু লুয়াই গোত্রের সরদারদের উপর অনায়াসেই ছড়িয়ে পড়লো এক পরিব্যাপ্ত দাবানল।
টিকাঃ
১. অর্থাৎ মহানবী (সা) তাওরাত, ইনজীল প্রভৃতি পূর্বতন আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি সমর্থন ও অনুমোদন জ্ঞাপন করেছেন এবং ওগুলোকে পূর্বতন নবীদের উপর নাযিলকৃত আসমানী কিতাব বলে তিনি ঘোষণা করে সম্মান প্রদর্শন করেছেন।
২. ঐ স্থানটির নাম, যেখানে বনু কুরায়যা বসবাস করতো।
📄 আবূ সফিয়ানের কবিতা
আবু সুফিয়ান ইব্ন হারিস ইব্ন আবদুল মুত্তালিব হাসান ইব্ন সাবিত (রা)-এর কবিতার জবাবে নিম্নের পংক্তিগুলো বলেন :
ادام الله ذلك من صنيع ........ لقالوا لا مقام لكم فسيروا
আল্লাহ্র এ রীতি স্থায়ী হোক এর চতুর্পার্শ্বে জ্বলে উঠা আগুন অনাগত কাল ধরে জ্বলতে থাকুক। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, আমাদের মধ্যকার কোন পক্ষ এ থেকে দূরে থাকবে। আর এও সম্যক জান্তে পারবে যে, আমাদের মধ্যকার কাদের ভূমি উজাড় হবে। যদি এই খর্জুর বীথির স্থানে উটের বাথান হতো, তবে উটগুলো নিশ্চিতভাবেই বলে উঠতো; হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোন খানে যাত্রা তোরা কর ওরে অন্য কোন ধামে।
📄 জাবাল ইব্ন জাওয়াল ছা'লাবীর কবিতা
জাবাল ইব্ন জাওয়াল ছা'লাবী হাসানের কবিতার জবাব প্রসঙ্গ এবং বনু নযীর ও বনু কুরায়যার জন্যে বিলাপ প্রসংগে বলে:
الا ياسعد سعد بنى معاذ ...... وقدر القوم حامية تفور
হে সা'দ! হে মু'আয তনয় সা'দ! একটু বল দেখি, বনু কুরায়যা ও বনূ নযীরের **কীকী সঙ্কট হলো?
কসম তোমার জীবনের: সা'দ ইব্ন মু'আযকে যখন বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তাঁকে বাধ্য হয়ে ধৈর্যধারণ করতে হয়। (বিবেকের বিরুদ্ধে গিয়ে তাঁকে ফয়সালা শুনাতে হয়।) আবূ হুবাব খাযরাজী
হ্যাঁ। তিনি বলেছিলেন বনু কায়নুকা গোত্রকে, ওহে! তোমরা সফর করো না! কিন্তু যুগবিবর্তনের পালায় হুযায়র গোত্রের স্থলে উসায়দের চারদিকে বৃত্ত রচিত হলো, আর যুগের এ বিবর্তন তো হয়েই থাকে। বুয়ায়রা ভূমি উজীড়' বিরাণ হয়ে গেল, সালাম, সাঈদ ও ইব্ন আখতাবের পদচারণা থেকে রিক্ত হয়ে, 'এখন তা এক বিধ্বস্ত ভূমি।
অথচ এরা তাদের জনপদে ছিলেন গন্যমান্য লোক, যেমন ভারী হয়ে থাকে মায়তান পাহাড়ের শিলাখণ্ড গুলো। সুতরাং যদি আবুল হাকাম সালাম ধ্বংসও হয়ে যায়, তাতে কী!
সে তো নয় পুরনো জীর্ণ অস্ত্রধারী, আর না ভোল পাল্টানো, পরিবর্তনশীল লোক। (সুতরাং তার মৃত্যুতে লজ্জার কিছু নেই।) ভবিষ্যদ্বক্তাদের হাতে সে ব্যাপার ছেড়ে রেখেছিল, এবং তাদের মধ্যে সে ছিল নম্রতা, ভদ্রতা ও বাজপাখির কুলীনতা নিয়ে। বদান্যতা ও উদারতা ছিল তার স্বভাবজাত গুণ যুগের আবর্তনে তা ক্ষয়ে যাবার নয়।.. হে আওস সরদাররা! তাদের মধ্যে গিয়ে বসবাস কর! মনে হয় যেন অপমানবোধের অনুভূতিও তোমরা হারিয়ে ফেলেছো।
তোমরা তোমাদের ডেগচী পাতিল শূন্য ছেড়ে দিয়েছ, মনে হয় তাতে কিছু নেই।
পক্ষান্তরে আমাদের সম্প্রদায়ের ডেগচী পাতিল উনুনে টগবগ করে ফুটছে।