📄 সা'দ এবং শহীদের স্মরণ ও তাঁদের সদগুণাবলী প্রসংগে
সা'দ ইব্ন মু'আয এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর যে সব সাহাবী শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের ব্যাপারে শোকগাথা রূপে এবং তাদের সদগুণাবলীর উল্লেখ করে-হাসান ইব্ন সাবিত (রা) বলেন:
الا يا لقومى هل لما حم دافع ....... وأن قضاء الله لابد واقع
হে আমার স্বজাতি স্বজন! বল দেখি, লিপিবদ্ধ হলো যাহা টলিবে কি তাহা কোনদিন? ফিরিয়া আসিরে ফের অতীতের সোনালী সুদিন? অতীতের কথা যবে উদিত হলো স্মৃতি পটে হৃদয় যাচ্ছিলো মোর ফেটে, নির্গলিত হলো অশ্রু চোখ ফেটে। প্রেমের দাহন আমাকে স্মরণ করিয়ে দিল বন্ধু-বান্ধবের কথা, যে সব বন্ধু-বান্ধব অতীতে নিহত হয়েছেন তাদের কথা- তুফায়ল, রাফি' ও সা'দ রয়েছেন তাঁদের মাঝে, তাঁরা আজ জান্নাতবাসী- তাঁদের বাসস্থানসমূহ আমার মনে ভীতির সঞ্চার করেছে পৃথিবী আজ তাঁদের বিহনে খাঁ খাঁ করছে।
এঁরা সবই বদর যুদ্ধের দিন পূর্ণ বিশ্বস্ততা প্রদর্শন করেছেন রাসূলের প্রতি, যখন তাঁদের মাথার উপর মৃত্যু ছায়াপাত করছিল, আর তরবারি চমকাচ্ছিল।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁদের ডাক দিলেন, সত্যপরায়ণতার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে অমনি তাঁরা সাড়া দিলেন তাঁদের সকলে তাঁর প্রতি ছিলেন চরম অনুগত- প্রতিটি ব্যাপারে, তাঁর প্রতিটি কথায় তাঁরা ছিলেন কর্ণপাতকারী। ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তাঁরা পালাননি বরং সকলে সম্মিলিত ও একতাবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছেন, বধ্যভূমির বাইরে অন্য কোথাও তাঁদের মৃত্যু হওয়া ছিল অসম্ভব ব্যাপার।
কেননা, তাঁরা তাঁর শাফাআতের আশায় বুক বেঁধেছিলেন আর নবীগণ ছাড়া অন্য কেউ তো সুপারিশকারী হতে পারে না। এটাই আমাদের পরীক্ষা, হে মানব-শ্রেষ্ঠ (নবী)! মৃত্যুকে সত্য জেনে আমরা আল্লাহ্র ডাকে হাযির, আমাদের প্রথম পদক্ষেপ তোমারই দিকে এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের পূর্ব প্রজন্মের অনুসরণকারী। আমাদের জানা আছে, রাজত্ব কেবল আল্লাহরই, আর আল্লাহ্র লিখন অখণ্ডনীয়।
📄 বনু কুরায়যার দিন হাসান ইবন সাবিত (রা)-এর আরো কবিতা
لقد لقيت قريظة ما ساها من الرحمن الن قبلت نذیری
যে ব্যাপারগুলো বনু কুরায়যাকে নিন্দার ভাগী করলো তার ফল তারা হাতে হাতে পেয়ে গিয়েছে। তাদের এ যিল্লতি ও ভাগ্যবিড়ম্বনা থেকে উদ্ধারের জন্যে ছিল না তাদের কোন সাহায্যকারী, পরিত্রাণকারী। তাদের উপর আপতিত হয় যে পরীক্ষা ও বিপর্যয় বনূ নযীরের উপর আপতিত বিপদ থেকে তা ছিল ভিন্ন প্রকৃতির। বনু কুরায়যার দিকে এগিয়ে এসেছিলেন গোটা বিশ্বকে উজ্জ্বলকারী প্রদীপ্ত চন্দ্ররূপী, আল্লাহর রাসূল (সা)।
📄 হাসসান ইবন সাবিত (রা) বনু কুরায়যা সম্পর্কে আরে কবিতা
لقد لقيت قريظة ما ساها ............ له من حرو قعتهم صليل
যে সব কর্মকাণ্ড বনু কুরায়যাকে করেছে নিন্দিত, তার ফল তারা পেয়ে গেছে হাতে হাতে। তাদের দুর্গে নেমে এসেছে চরম লাঞ্ছনা ও অপমান, সা'দ মঙ্গলকামনার তাগিদে তাদের করেছিলেন সতর্ক এ মর্মে যে, তোমাদের প্রকৃত মা'বুদ হচ্ছেন মহিমান্বিত প্রতিপালক। কিন্তু তারা অনন্তর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে রইলো, যাবৎ না তাদের জনপদেই রাসূলুল্লাহ্ তাদের উড়িয়ে দিলেন তলোয়ারের মুখে। আমাদের সারি সারি মুজাহিদ ঘিরে ফেললো তাদের দুর্গ, এ কঠিন সঙ্কটের মুখে তাদের কিল্লায় মহা হৈ চৈ পড়ে গেল।
📄 বনু কুরায়যার ব্যাপারে হাসান ইব্ন সাবিত (রা) আরো বলেছিলেন
تقاقد معشر تصروا قريشا ............ حريق بالبويرة مستطير
যে সম্প্রদায় মদদ যুগিয়েছিল কুরায়শদের, তাদের নিজ বসতস্থলেও তাদের রইলো না কোন মদদগার তারা নিজেরাই হারিয়ে ফেললো একে অপরকে, কেউ পাচ্ছিলো না কারো উদ্দেশ।
তাদের দান করা হয়েছিল তাওরাত কিতাব, তারা তা বিনষ্ট করেছিল। তাওরাত অনুধাবনের ব্যাপারে তারা বরণ করে নিল অন্ধত্ব, তাই, তারা হলো বিনাশপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্ট। তোমরা অস্বীকৃতি জানালে কুরআনের প্রতি অথচ তোমরা পেয়েছিলে সমর্থন ও অনুমোদন' যা বলেছিলেন সর্তককারী নবী। তাই বুয়ায়রায়' বনু লুয়াই গোত্রের সরদারদের উপর অনায়াসেই ছড়িয়ে পড়লো এক পরিব্যাপ্ত দাবানল।
টিকাঃ
১. অর্থাৎ মহানবী (সা) তাওরাত, ইনজীল প্রভৃতি পূর্বতন আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি সমর্থন ও অনুমোদন জ্ঞাপন করেছেন এবং ওগুলোকে পূর্বতন নবীদের উপর নাযিলকৃত আসমানী কিতাব বলে তিনি ঘোষণা করে সম্মান প্রদর্শন করেছেন।
২. ঐ স্থানটির নাম, যেখানে বনু কুরায়যা বসবাস করতো।