📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হুবায়রার আরো বিলাপগাথা

📄 হুবায়রার আরো বিলাপগাথা


হুবায়রা ইব্‌ন আবু ওয়াহাব আলীর হাতে আমর আবদ্‌ উদ্দের নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ বর্ণনা করে, তার জন্যে বিলাপ করতে নিম্নের পংক্তিগুলোও বলেন:
لقد علمت عليا لؤى بن غالب ... بيثرب لازالت هناك المصائب
লুয়াই ইব্‌ন গালিবের খান্দানের উচ্চতা সম্যক জেন নিয়েছে, যখন যুদ্ধের দুন্দুভি বেজে উঠে বা দেখা দেয় কোন সঙ্কট তখন আমরই তার পক্ষ থেকে সম্মুখে এগিয়ে আসার মত একমাত্র অশ্বারোহী বীর। (অন্য কেউ নয়।) যখন আলী দ্বন্দ্বে আবহান জানালেন, তখন অশ্বারোহী আমরই এগিয়ে এলেন ময়দানে আর সিংহের জন্যে চাই প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার মত আকাঙ্ক্ষী পুরুষ। আলী যে অপরাহ্নে আহবান করলেন দ্বন্দ্ব যুদ্ধের তরে তখন আমরই ছিলেন গোত্রের একক অশ্বারোহী, যখন অন্য সব সৈন্য লেজগুটিয়ে পালিয়ে গেল কাপুরুষের মতো। হায়, কেন যে আমি আমরকে ইয়াসরিবে ছেড়ে এলাম। যেখানে তার উপর নেমে এসেছিল সঙ্কটের পর সঙ্কট।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হাসান ইব্‌ন সাবিত (রা)-এর গৌরবগাথা

📄 হাসান ইব্‌ন সাবিত (রা)-এর গৌরবগাথা


হাসান ইব্‌ন সাবিত উক্ত আমর ইব্‌ন 'আবদ্‌ উদ্দের হত্যা উপলক্ষে যে গৌরবগাথা রচনা করেন তা হলো:
بقيتكم عمرو ابحناه بالقنا ... معاشركم في الهالكين تجول
তোমাদের মধ্যে অবশিষ্ট রয়ে গিয়েছিল এক আমরই তাকেও আমরা হালাল করে ফেললাম, যখন আমরা ইয়াসরিবে গুটি কয়েক লোক বল্লমের দ্বারা আত্মরক্ষা করে চলেছিলাম। সেখানে ভারতীয় তলোয়ার যোগে আমরা তোমাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছিলাম, আর আমরা যখন আক্রমণ করে থাকি তখন যুদ্ধ থাকে সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা বদরেও তোমাদের কতল করেছি তখন তোমাদের সম্প্রদায়ের লোকজন নিহতদের মধ্যে ঘুরছিল।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: কোন কোন কবিতা বিশেষজ্ঞ উল্লেখিত পংক্তিগুলো তাঁর অর্থাৎ হাসান ইব্‌ন সাবিতের রচিত নয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। ইবন ইসহাক বলেন, হাসান ইবন সাবিত (রা) আমর ইব্‌ন আব্দ উদ্দ সম্পর্কে আরো বলেন:
امسى الفتى عمرو بن عبد يبتغى ...... يا عمرو او الجسيم امر منكر
যুবক আমর ইব্‌ন আব্দ উদ্দ
রক্তের প্রতিশোধ নিতে এসেছিলেন ইয়াসরিবে, কিন্তু তাকে দেয়া হলো না অবকাশ (আসতেই তার ভবলীলা সাঙ্গ করে দেয়া হল।) নিঃসন্দেহে তুমি পেয়েছ আমাদের তরবারিসমূহকে নিষ্কোষিত অবস্থায় উচ্চকিত ও ঊর্ধ্বে আন্দোলিত, তুমি প্রত্যক্ষ করেছ আমাদের বেগবান অশ্বগুলোকে কেউ রুখতে পারেনি।
বদরের দিন তোমার সাক্ষাৎ হয়েছে এমনি এক সম্প্রদায়ের সাথে, তারা তোমাকে তরবারির এমনি আঘাত হেনেছে, যা ছিল না কোন বর্মহীনের আঘাত।
*** আজ তোমার এমনি অবস্থা, হে আমর! তোমাকে আর আহবান করা হবে না, কোন বিরাট যুদ্ধে অথবা কোন সাংঘাতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনু কুরায়যার ঘটনা সম্পর্কে কবিতা

📄 বনু কুরায়যার ঘটনা সম্পর্কে কবিতা


ইব্‌ন হিশাম বলেন: কোন কোন কাব্যবিশারদ পণ্ডিত এ পংক্তিগুলো হাসানের বলে স্বীকার করতে রাযী নন।
ইবন ইসহাক বলেন: হাসান ইব্‌ন সাবিত (রা) নিম্নের পংক্তিগুলোও বলেন:
الا ابلغ ابا هدم رسولا ... وكان شفاء نفسي الخزرجي
হে কাসেদ পথ চলতে >পথ চলতে থেমে গেছে যার পদযুগল, পৌছিয়ে দাও আমার সে বারতা যা' নিয়ে উন্ত্রীসমূহ দ্রুত দৌড়ে চলছে। কিহে, আমি কি তোমাদের বন্ধু ছিলাম না প্রত্যেকটি দুর্দিনে, অথচ অন্যরা বন্ধু ছিল কেবল সুদিনে? আর তোমাদের মধ্যকার প্রত্যক্ষদর্শী প্রত্যক্ষ করেছে আমাকে, যখন আমাকে ঊর্ধ্বে উঠিয়ে নেয়া হয় যেমনটি ঊর্ধ্বে উঠিয়ে নেয়া হয় শিশুকে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: বর্ণনা করা হয়ে থাকে যে, উপরোক্ত পংক্তিগুলো আসলে রবী'আ ইব্‌ন উমাইয়া দায়লী রচিত। আরো বর্ণনা করা হয়ে থাকে যে, এ পংক্তিগুলোর শেষ পংক্তি হচ্ছে:
তুমি সে খাযরাজী ব্যক্তিটিকে তার দু'হাত ধরে অধঃমুখী করে দিলে আর এভাবে সে খাযরাজীই পরিণত হলো আমার হৃদয়ের উপশমে।
বর্ণিত আছে যে, এ পংক্তিটি আবূ উসামা জুשমী রচিত।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সা'দ এবং শহীদের স্মরণ ও তাঁদের সদগুণাবলী প্রসংগে

📄 সা'দ এবং শহীদের স্মরণ ও তাঁদের সদগুণাবলী প্রসংগে


সা'দ ইব্‌ন মু'আয এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর যে সব সাহাবী শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের ব্যাপারে শোকগাথা রূপে এবং তাদের সদগুণাবলীর উল্লেখ করে-হাসান ইব্‌ন সাবিত (রা) বলেন:
الا يا لقومى هل لما حم دافع ....... وأن قضاء الله لابد واقع
হে আমার স্বজাতি স্বজন! বল দেখি, লিপিবদ্ধ হলো যাহা টলিবে কি তাহা কোনদিন? ফিরিয়া আসিরে ফের অতীতের সোনালী সুদিন? অতীতের কথা যবে উদিত হলো স্মৃতি পটে হৃদয় যাচ্ছিলো মোর ফেটে, নির্গলিত হলো অশ্রু চোখ ফেটে। প্রেমের দাহন আমাকে স্মরণ করিয়ে দিল বন্ধু-বান্ধবের কথা, যে সব বন্ধু-বান্ধব অতীতে নিহত হয়েছেন তাদের কথা- তুফায়ল, রাফি' ও সা'দ রয়েছেন তাঁদের মাঝে, তাঁরা আজ জান্নাতবাসী- তাঁদের বাসস্থানসমূহ আমার মনে ভীতির সঞ্চার করেছে পৃথিবী আজ তাঁদের বিহনে খাঁ খাঁ করছে।
এঁরা সবই বদর যুদ্ধের দিন পূর্ণ বিশ্বস্ততা প্রদর্শন করেছেন রাসূলের প্রতি, যখন তাঁদের মাথার উপর মৃত্যু ছায়াপাত করছিল, আর তরবারি চমকাচ্ছিল।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁদের ডাক দিলেন, সত্যপরায়ণতার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে অমনি তাঁরা সাড়া দিলেন তাঁদের সকলে তাঁর প্রতি ছিলেন চরম অনুগত- প্রতিটি ব্যাপারে, তাঁর প্রতিটি কথায় তাঁরা ছিলেন কর্ণপাতকারী। ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তাঁরা পালাননি বরং সকলে সম্মিলিত ও একতাবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছেন, বধ্যভূমির বাইরে অন্য কোথাও তাঁদের মৃত্যু হওয়া ছিল অসম্ভব ব্যাপার।
কেননা, তাঁরা তাঁর শাফাআতের আশায় বুক বেঁধেছিলেন আর নবীগণ ছাড়া অন্য কেউ তো সুপারিশকারী হতে পারে না। এটাই আমাদের পরীক্ষা, হে মানব-শ্রেষ্ঠ (নবী)! মৃত্যুকে সত্য জেনে আমরা আল্লাহ্র ডাকে হাযির, আমাদের প্রথম পদক্ষেপ তোমারই দিকে এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের পূর্ব প্রজন্মের অনুসরণকারী। আমাদের জানা আছে, রাজত্ব কেবল আল্লাহরই, আর আল্লাহ্র লিখন অখণ্ডনীয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00