📄 মুসাফি'র আরো ভর্ৎসনাগাথা
আমরের সঙ্গী সাথীরূপে যে সব অশ্বারোহী সৈন্য যুদ্ধে গিয়েছিল, আর যারা তাকে পরিত্যাগ করে পালিয়ে এসেছিল, তাদের প্রতি ভর্ৎসনা করে মুসাফি' আরো বলেন:
আমর ইব্ন আবদের সাথে মুকাবিলার উদ্দেশ্যে নীত হয়েছিল যে অশ্বারোহী দল; যাদের পায়ে ছিল লৌহ পাদুকা, তারা তাদের ঘোড়ার বাগডোর ধরতেই আমরের অশ্বারোহীরা যুদ্ধে পিছটান দিয়ে- চম্পট দিল রণক্ষেত্র থেকে। তারা এমন এক বীর পুরুষকে মাঠে নিঃসঙ্গ ছেড়ে গেল, যিনি ছিলেন তাদের মধ্যে স্তম্ভস্বরূপ, আর যিনি ছিলেন তাদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি। আমি বিস্মিত,
আর বিস্মিত আমি এজন্যে যে, আমি স্বপক্ষে প্রত্যক্ষ করেছি। আর দিনের হে আলী!
যখন তুমি আমরকে আহবান করলে মল্ল যুদ্ধে, নিঃসংকোচে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সাড়া দিলেন তাতে। আমার নিকট থেকে দূরে সরে যেয়ো না হে আলী! কেননা, তার নিহত হওয়ায় আমি আহত, মৃত্যুর পূর্বে এমনি এক সঙ্কটের আমি সম্মুখীন মৃত্যুর চাইতে যা আমার জন্যে গুরুতর। তাই এখন আর আমার মৃত্যুভয় নেই, লড়তে লড়তে মরে যাবো তাতে কুচপরোয়া নেই। আর পশ্চাৎগামী পালিয়ে আসা হুবায়রা, ঠিক যুদ্ধ চলাকালে পালিয়ে এলো, এই ভয়ে যে, লোকে তাকে কতল করে ফেলবে। আর যিরার
যার উপস্থিতিতে রণক্ষেত্র ছিল উষ্ণ সরগরম, সেও এমনভাবে পালিয়ে এলো, যেমন করে পালায় কোন নিরস্ত্র দুর্জন।
📄 হুবায়রার কৈফিয়ত ও আমরের জন্যে তার বিলাপগাথা
ইবন ইসহাক বলেন: হুবায়রা ইব্ন আবু ওয়াহাব তার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নের কৈফিয়ত দিয়ে এবং আলীর হাতে আমর এর হত্যা প্রসঙ্গ বর্ণনা করে, তার জন্যে বিলাপ করতে করতে বলে:
মুহাম্মদ ও তাঁর সাথীবৃন্দ। আমার জীবনের শপথ করে বলছি: আমি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিনি কাপুরুষতা হেতু অথবা মৃত্যু ভয়ে। বরং আমি নিজেই পাল্টে দিয়েছি নিজের ব্যাপারটি, যখন দেখলাম, আমার তলোয়ার অথবা তীর চালনায় কোনই ফায়দা নেই। যখন লক্ষ্য করলাম, অগ্রযাত্রার কোন অবকাশই নেই, তখন সে সিংহীর মত থমকে দাঁড়ানোই সমীচীনবোধ করলাম, যার শাবক রয়েছে; আর যে প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই করা থেকে নিবৃত্ত থাকে যখন দেখে যে কোন কৌশলই কার্যকর হবার মতো নয়- নেই অগ্রসর হওয়ারও কোন উপায়, আর এটাই তো আমার পূর্ব আচরিত রীতি পদ্ধতি। তুমি কোন দিনই দূর হবে না (আমাদের মন থেকে) হে আমর!
তুমি জীবিতই থাকো অথবা তুমি মারা যাও না কেন, প্রশংসা তোমার মত লোকের আমার মত লোকদের নিকট প্রাপ্য। তুমি কোনদিন দূর হবে না আমাদের অন্তর থেকে, হে 'আমর!
তুমি বেঁচে থাকো, অথবা মৃত্যুই বরণ কর না কেন, সম্ভ্রান্ত, কুলশীল।
কে আজ ফিরাবে বল্লমের ঘায়, অশ্বরোহী হানাদারে- হে আমর তুমি বিনে?
উল্লসিত উটের মতো যারা যুদ্ধ নিয়ে গর্ব করে থাকে, তারা আজ কার বীরত্ব নিয়ে গর্ব করবে? সেখানে যদি আজ ইব্ন আব্দ থাকতেন, তা হলে তিনি তা দেখতেন, আর করতেন সঙ্কটের সুরাহা। দুর হও আলী।
তোমার এ অবস্থান যা তুমি এমন এক বীরপুরুষের বিরুদ্ধে নিয়েছ, তা সুনজরে দেখতে পারি না; যে ছিল করিৎকর্মা, অগ্রে আক্রমণকারী, বীর পুরুষ। এর দ্বারা তুমি সফলকাম হওনি তোমার গর্বের জন্যে এতটুকুই যথেষ্ট হয়েছে যে তার পাদুকাস্খলনের ফলে তুমি আমৃত্যু নিরাপদ হয়ে গেলে।
📄 হুবায়রার আরো বিলাপগাথা
হুবায়রা ইব্ন আবু ওয়াহাব আলীর হাতে আমর আবদ্ উদ্দের নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ বর্ণনা করে, তার জন্যে বিলাপ করতে নিম্নের পংক্তিগুলোও বলেন:
لقد علمت عليا لؤى بن غالب ... بيثرب لازالت هناك المصائب
লুয়াই ইব্ন গালিবের খান্দানের উচ্চতা সম্যক জেন নিয়েছে, যখন যুদ্ধের দুন্দুভি বেজে উঠে বা দেখা দেয় কোন সঙ্কট তখন আমরই তার পক্ষ থেকে সম্মুখে এগিয়ে আসার মত একমাত্র অশ্বারোহী বীর। (অন্য কেউ নয়।) যখন আলী দ্বন্দ্বে আবহান জানালেন, তখন অশ্বারোহী আমরই এগিয়ে এলেন ময়দানে আর সিংহের জন্যে চাই প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার মত আকাঙ্ক্ষী পুরুষ। আলী যে অপরাহ্নে আহবান করলেন দ্বন্দ্ব যুদ্ধের তরে তখন আমরই ছিলেন গোত্রের একক অশ্বারোহী, যখন অন্য সব সৈন্য লেজগুটিয়ে পালিয়ে গেল কাপুরুষের মতো। হায়, কেন যে আমি আমরকে ইয়াসরিবে ছেড়ে এলাম। যেখানে তার উপর নেমে এসেছিল সঙ্কটের পর সঙ্কট।
📄 হাসান ইব্ন সাবিত (রা)-এর গৌরবগাথা
হাসান ইব্ন সাবিত উক্ত আমর ইব্ন 'আবদ্ উদ্দের হত্যা উপলক্ষে যে গৌরবগাথা রচনা করেন তা হলো:
بقيتكم عمرو ابحناه بالقنا ... معاشركم في الهالكين تجول
তোমাদের মধ্যে অবশিষ্ট রয়ে গিয়েছিল এক আমরই তাকেও আমরা হালাল করে ফেললাম, যখন আমরা ইয়াসরিবে গুটি কয়েক লোক বল্লমের দ্বারা আত্মরক্ষা করে চলেছিলাম। সেখানে ভারতীয় তলোয়ার যোগে আমরা তোমাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছিলাম, আর আমরা যখন আক্রমণ করে থাকি তখন যুদ্ধ থাকে সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা বদরেও তোমাদের কতল করেছি তখন তোমাদের সম্প্রদায়ের লোকজন নিহতদের মধ্যে ঘুরছিল।
ইব্ন হিশাম বলেন: কোন কোন কবিতা বিশেষজ্ঞ উল্লেখিত পংক্তিগুলো তাঁর অর্থাৎ হাসান ইব্ন সাবিতের রচিত নয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। ইবন ইসহাক বলেন, হাসান ইবন সাবিত (রা) আমর ইব্ন আব্দ উদ্দ সম্পর্কে আরো বলেন:
امسى الفتى عمرو بن عبد يبتغى ...... يا عمرو او الجسيم امر منكر
যুবক আমর ইব্ন আব্দ উদ্দ
রক্তের প্রতিশোধ নিতে এসেছিলেন ইয়াসরিবে, কিন্তু তাকে দেয়া হলো না অবকাশ (আসতেই তার ভবলীলা সাঙ্গ করে দেয়া হল।) নিঃসন্দেহে তুমি পেয়েছ আমাদের তরবারিসমূহকে নিষ্কোষিত অবস্থায় উচ্চকিত ও ঊর্ধ্বে আন্দোলিত, তুমি প্রত্যক্ষ করেছ আমাদের বেগবান অশ্বগুলোকে কেউ রুখতে পারেনি।
বদরের দিন তোমার সাক্ষাৎ হয়েছে এমনি এক সম্প্রদায়ের সাথে, তারা তোমাকে তরবারির এমনি আঘাত হেনেছে, যা ছিল না কোন বর্মহীনের আঘাত।
*** আজ তোমার এমনি অবস্থা, হে আমর! তোমাকে আর আহবান করা হবে না, কোন বিরাট যুদ্ধে অথবা কোন সাংঘাতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে।