📄 হাসান ইব্ন সাবিত (রা)-এর কবিতা
হাসসান ইব্ন সাবিত (রা) আনসারী এর জবাবে বলেন:
هل رسم دارسة المقام يباب * متكلم المحاود بجوال
থেকে
علق الشقاء بقلبه ففؤاده * في الكفر احز هذه الاحقاب
আজ যা এক উজাড় জনপদ ও ধু ধু প্রান্তর তার ভগ্নাবশেষ কি এমন এক ব্যক্তির প্রতি বাক্যবান নিক্ষেপ করছে যে মুখের উপর শুনিয়ে দিতে পারে। সমুচিত জবাব?
সে ধু-ধু বিরাণ প্রান্তরটি এমন মেঘমালা থেকে বর্ষিত মুষলধারা বৃষ্টি যার চিহ্নগুলোকে করে দিয়েছে নিশ্চিহ্ন বজ্রপাতের পুনঃপৌণিক আঘাতে যা হয়ে গেছে একাকার। আমি সে জনপদে প্রত্যক্ষ করেছি এমন সব গৃহ যেগুলোকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছিল উজ্জ্বল চেহারা আর প্রোজ্জ্বল চরিত্র সুষমা। ছেড়ে দাও সে জনপদ আর তার লাস্যাময়ীদের কথা চিত্তহারী রূপের সাথে যাদের ছিলো মনোলোভা বাকভঙ্গী। আপন মর্মবেদনার ফরিয়াদ জানাও বিভু সকাশে যা তোমাদেরকে মর্মাহত করেছে : তাদের ক্রুর দৃষ্টি, বিদ্বেষ ও জিঘাংসা, রাসূলের প্রতি তাদের দুঃসহ অত্যাচার অবিচার। এ যালিমরা বন্দর গ্রামগঞ্জ থেকে লোক এনে একত্রিত করেছে তাঁর চতুর্পার্শ্বে আর ঝাঁপিয়ে পড়েছে সবাই একযোগে রাসূলের উপর। সে এমনি এক বাহিনী যাতে ছিল উয়ায়না ও আবূ সুফিয়ান ইবন হারব ও আরও বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিযোগিতাকারী অশ্বসমূহ। তারপর যখন তারা পদাপর্ণ করলো মদীনায় আর দুরাশা পোষণ করলো রাসূলকে হত্যা করার মত্ত হলো ধন-সম্পদ লুণ্ঠনের কুহকিনী আর্শীয় আর নিছক নিজেদের বাহুবলের জোরে উদ্যত হলো আমাদের উপর আক্রমণ চালাতে, তখন তাদের ক্রোধসহ তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হলো পশ্চাৎপানে প্রচণ্ড ঝঞ্ঝা ও মহা-প্রতিপালকের বাহিনী (ফেরেশতা) দিয়ে তাদেরকে করে দেয়া হলো শতধা বিচ্ছিন্ন ও পর্যুদস্ত। সুতরাং মু'মিনদের পক্ষে যুঝবার জন্যে যথেষ্ট হয়ে গেলেন আল্লাহ্ তা'আলাই এবং তিনিই তাদেরকে অধিকারী করলেন প্রতিদান ও সওয়াবের তাদের হতাশ ও নৈরাশ্যগ্রস্ত হওয়ার পর * আমাদের মহান প্রতিপালক ও পরম বদান্যশীল আল্লাহ্ মদদ কাফিরদের সমাবেশকে করে দিল ছিন্ন ভিন্ন ও লণ্ডভণ্ড।
মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের চোখে তা বুলিয়ে দিল শান্তির পরש, আর মিথ্যা প্রতিপন্নকারী ও সংশয়বাদীদের তা করলো হতমান অপদস্থ। ওরা মূঢ় চিত্ত দুর্ভাগা, সংশয়ের গভীর আবর্তে নিক্ষিপ্ত, ওরা তাদের বস্ত্র পবিত্র পরিশুদ্ধ করতে জানে না। ভাগ্য বিড়ম্বনা ওদের ললাট লিপি, কুফরী যুগের ওরাই সর্বশেষ প্রতিভূ এরপর আর কুফরীর কোন অবকাশ নেই।
📄 কা'ব ইবন মালিক (রা)-এর কবিতা
ইবন ইসহাক বলেন:
আলী ইব্ন আবু তালিবের হাতে আমর ইব্ন আব্দ উদ্দের নিহত হওয়ার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বিলাপ করতে করতে মুসাফি ইব্ন আব্দ মন্নাফ ইব্ন ওয়াহাব ইবন হুযাফা ইব্ জুমূহ বলে:
আমর ইব্ন আব্দ ছিলেন সেই অশ্বারোহী যিনি সর্বপ্রথম মাযাদ অতিক্রম করেছিলেন। তিনি ছিলেন ইয়ালীলের অশ্বারোহী মহান চরিত্রের অধিকারী, উদারচিত্ত দুঃসাহসী যুদ্ধকামী, ভয়ে যিনি পিছপা হতেন না কখনো।
তোমরা সম্যক অবহিত আছ হে — যখন তোমাদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে যায় অন্যরা *(কুরায়ש ও গাতফান যোদ্ধারা) আমর ইব্ন আবদ্ উদ্দ তখনও ত্বরা করেননি। এমন কি যখন চতুর্দিক থেকে শত্রু সৈন্যরা তাকে ঘিরে নিল তারা সবাই ছিল তার হত্যা পিয়াসী, তখনো ছিল না তাঁর মধ্যে কোন বিকার। সিলা পাহাড়ের দক্ষিণে, বর্শা বল্লমের ঝাঁক এমন এক অশ্বারোহীকে ঘিরে ফেললো, যার মধ্যে ছিল না একটুও দুর্বলতা বা আত্মসমর্পণের আগ্রহ। হে আলী! তুমি বনূ গালিবের অশ্বরোহীকে ডেকে
• দ্বন্দুযুদ্ধে তারে করেছিলেন আহ্বান, • সিলা পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তরে। হায়! যদি সে নাহি দিত তাতে সাড়া। যাও আলী তুমি, (হত্যা করেছ বটে) কিন্তু ধন্য হওনি তুমি- তার মত গর্বিত হয়ে আর না করেছো তুমি কভু তার মতো সঙ্কট মুকাবিলা। বনূ গালিবের সে অশ্বারোহী তরে জান মোর কুরবান, মৃত্যুর উষ্ণতাকে যে জন বরি নিল মাথা পেতে, অকুণ্ঠে, অকাতরে।
• বলি আমি সে বীরের কথা, আপন অশ্ব নিয়ে- • পাড়ি দিল যে মাযাদের প্রান্তর, প্রতিশোধ নিতে সেইসব বাহিনীর কোন দিন যারা হয়নিকো হতমান। এগিয়ে সে বীর দেয় নিকো পিছুটান।
📄 খন্দক যুদ্ধের দিন কা'ব (রা) কবিতা
ইবন ইসহাক বলেন: খন্দক যুদ্ধ প্রসংগে কা'ব ইবন মালিক (রা) এ কবিতা আবৃত্তি করেন:
যার সাধ হয় শুনবে তলোয়ারের ঝংকার যা সৃষ্টি তলোয়ারে তলোয়ারে সংঘর্ষের ফলে, বাশ পোড়ার সময় উৎপন্ন হয় যেমনটি আওয়ায যদি সাধ জাগে তা শুনবার তরে সে যেন আসে- সে সিংহ থাকার স্থানে
যা অবস্থিত মেয়াদ ও খন্দকের মধ্যবর্তী স্থানে, সেথায় শান দেয়া হচ্ছে তলোয়ারসমূহে। রণ-চিহ্ন সাথে নিয়ে যারা রণোন্মুক্ত হয় সে সব সিংহ তাদেরকে আঘাত হানার প্রশিক্ষণ নিয়েছে উত্তমরূপে উদয়াচলের প্রভুর কাছে তারা সমপর্ণ করেছে তাদের নিজেদেরকে তারা এমনি একটি জামাত্মাতের মধ্যে রয়েছে- যাদের মাধ্যমে আল্লাহ্ মদদ যুগিয়েছেন তাঁর নবীকে, আর তিনি তো তাঁর বান্দার প্রতি সদয়। তারা এমনি বর্মে সুসজ্জিত যার বাড়তি অংশ হেঁচড়িয়ে চলে রেখাচিহ্ন অংকিত করে ভূমিতে যেন ঐ সরোবর- বায়ু প্রবাহিত হয়ে যেখানে সঞ্চার হয় তরঙ্গকূলের। সে বর্মগুলো উজ্জ্বল ও মযবুত তার পেরেকগুলো চমকাচ্ছে যেন ওগুলো ফড়িং এর চোখ। সে বর্মগুলো ভীষণ মযবুত গঠনের। উজ্জ্বল তার রওনক, ভীষণ কর্তনকারী স্বচ্ছ ভারতীয় তলোয়ার সম ঝকঝকে। ওগুলো হচ্ছে ভূষণ মোদের তাকওয়ার সাথে সাথে যখন যুদ্ধ বাঁধে এবং সত্য পরীক্ষার ক্ষণ আসে। আমাদের চিরাচরিত রীতি হলো- যখন তরবারি আমাদের সাথে সমগতিতে চলতে ব্যর্থ হয় পায়ের সাথে পা. মিলিয়ে, তখন আমরা এগিয়ে গিয়ে সেগুলোকে উদ্বুদ্ধ করি যুদ্ধের জন্যে। তখন তুমি স্পষ্ট দেখতে পাবে শত্রুর মাথার খুলি সুস্পষ্ট দিবালোকে। আর তাদের কর ও করতল-ওগুলোর কথা ছেড়েই দাও! ওগুলো যেন আদৌ সৃষ্টি হয়নি এমনিভাবে নিশ্চিহ্ন তাদের তুমি প্রত্যক্ষ করবে।
📄 খন্দক যুদ্ধের দিন কা'ব (রা) আরো কবিতা
আমরা এমন সংঘবদ্ধ ও সুসংহত বাহিনীর সাহায্যে শত্রুদের মুকাবিলা করি, যারা বিশাল শত্রুবাহিনীকে সমূলেবিনাশ করে-পরিশোধ করে তাদের রক্তপণ।
'এ যেন মাשরিক পাহাড়ের চূড়ায় রক্ত মোক্ষণ আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি প্রস্তুত থাকে দুশমনের সাথে মুকাবেলার উদ্দেশ্যে- শ্বেত বর্ণের পদ বিশিষ্ট গোলাপীবর্ণের চিত্র বিচিত্র হাল্কা গড়নের অশ্ব নিয়ে।
এ অশ্বগুলো অশ্বারোহীদেরকে নিয়ে দ্রুত চলে যেন তারা বীর পুরুষ যুদ্ধকালে কর্দম সৃষ্টিকারী- মৃদু বারিপাতে ক্ষুধার্ত ও জিঘাংসা উঞ্চ সিংহকুল। যুদ্ধের ব্যাপারে এরা পরম নিবেদিত নিষ্ঠাবান গো-ধূলির আঁধারে এরা বর্শা-বল্লমের আঘাতে হরণ করে কত বীর পুরুষের প্রাণ। আল্লাহ্ নির্দেশ দিয়েছেন শত্রুর মুকাবিলায়, যুদ্ধের উদ্দেশ্যে এসব অশ্ব প্রতিপালনের তিনিই উত্তম তওফীকদাতা।
যাতে এ ঘোড়া তাদের জন্য ক্রোধের কারণ হয়, জিঘাংসায় মত্ত যারা। তাদের অশ্ব যদি পৌঁছে যায় অতি সন্নিকটে দাঁড়াবে সেগুলো গৃহের রক্ষণ তরে সুদৃঢ় প্রাচীরের মতো। মহা-পরাক্রান্ত আল্লাহ্ আমাদের মদদ যোগান ধৈর্যের শক্তি দিয়ে, রণমত্ত হই যবে মোরা শত্রুসনে। করি মোরা আনুগত্য আমাদের নবীর যবে তিনি ডাক দেন সাড়া দেই ডাকেতে, রণমত্ত হই তাঁর ডাকে রহিনা কখনো মোরা পশ্চাতে পরিয়া। কঠিন সঙ্কটকালে যবে নবী করেন আহবান, তুরিতে হাযির মোরা সদনে তাঁর। যখন হেরিতে পাই সমর ভীষণ
অগৌণে ঝাঁপিয়ে পড়ি সেই রণাঙ্গণে সেজন ইত্তেবা করে তরেতে নবীর (তার তো তাই করা চাই।) অনুগত্য হবে তাঁরই এটাই বিহিত- কেননা, দিয়েছি তাঁরে নবীর স্বীকৃতি- আনুগত্য হক তাঁর তাই। সেহেতু মদদ করেন মোদের সতত করেন বৃদ্ধি সম্ভ্রম সম্মান অর্জন করতে তাহা মহানবী বর আমাদের পান তাঁর হস্তস্বরূপ। নিরন্তর নবীরে যারা ঠাওরায় মিথ্যুক- নিশ্চয়ই সত্যকে তাঁরা করে প্রত্যাখ্যান হয়েছে কাফির আল্লাহ্ ভক্ত সাধুজন-পথ পরিহরি বরিয়া নিয়াছে তারা বিভ্রান্তি চরম।