📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইবন যিব'আরীর কবিতা

📄 ইবন যিব'আরীর কবিতা


আবদুল্লাহ্ ইবন যিব'আরী সাহমী ও খন্দক যুদ্ধের দিন যে কবিতা আবৃত্তি করেন, তা ছিল নিম্নরূপ:
حتى الديار محا معارف رسمها * طول البلى وتراوح الاحقاب
থেকে
لوه الخنادق عادروا من جمعهم * قتلى لطير سفب وذشاب
প্রাচীনতার আধিক্য ও সুদীর্ঘ যুগ পরিক্রমা মিটিয়ে দিল জনপদের পরিচয় চিহ্নগুলো পর্যন্ত এ যেন ইয়াহুদীদের লিখিত লিপিমালা আর কী। (যা বিলুপ্ত প্রায়—মিটি মিটি করছে।) কেবল রয়ে গেছে উট বাঁধার আর খিমার রশি আটকানোর খুঁটিগুলো। এ যেন এক শূন্য বিরাম-ধু-ধু প্রান্তর যেন (হে করি) তুমি কোনদিন এখানে কৈশোরে স্বপ্নমাখা দিলগুলোতে ক্রীড়ারত হওনি সমরয়সী কিশোরী তৃনীদের সাথে। ছেড়ে দাও সে সুখখময় স্মৃতি তর্পনি যা আজ অতীতের পুরনো কথা, আর আজ যা এক ধু-ধু বিরাণ প্রান্তর।
এখন আলোচনা কর সে সম্পাদায়ের বিপর্যয়ের কথা যারা বেরিয়ে পড়েছিল শিলাখণ্ডসমূহ থেকে সদলবলে মক্কার শিলাখণ্ডসমূহ থেকে।
[যে শিলাখণ্ডসমূহ ছিল পবিত্র হেরেমের দিক-নির্দেশ ও মূর্তি পূজকদের পশুবলির বেদী স্বরূপ] ইয়াসরিবের উদ্দেশ্যে
হৈ-হল্লা শোরগোল, সহকারে-বিশাল বাহিনীরূপে। দুর্গম কঙ্করময় পার্বত্য পথ গিরি-সঙ্কট ও সমৃভূমির পথ-প্রান্তর ডিঙিয়ে এগিয়ে চলেছিল সে বাহিনীসমূহ।
সেসব পথ দিয়ে চালানো হচ্ছিল বিশাল বপু ঘোটক ঘোটকীসমূহ যেগুলোর কোমর ছিল সরু উদর ছিল কৃশ। ওঁৎ পেতে থাকা শিকারীর নজর এড়িয়ে যেভাবে লাফ দিয়ে চলে যায় চিতাবাঘ ঠিক তেমনটি লাফিয়ে লাফিয়ে পথ অতিক্রম করে যাচ্ছিলো। সেসব ঘোটক ঘোটকী। এ ছিল এমন এক বাহিনী
উয়ায়নার মত বিশাল ব্যক্তিত্ব যার পতাকা ধরে ছিলো, আর এর নেতা ছিলো আবু সুফিয়ান ইবন হারব। এঁরা দু'জন ছিল বীর বাহিনীর দু'টি পূর্ণশশী স্বরূপ এঁরা নিয়োজিত ছিলেন নিঃস্বদের ফরিয়াদ শোনার- আর যুদ্ধ থেকে যারা পালিয়ে যায়, তাদেরকে বাঁধার কাজে। তারপর তারা যখন মদীনায় পদাপর্ণ করলো, মৃত্যু পিয়াসী পরীক্ষিত তলোয়ার তারা চালাতে লাগলো। একমাস আরও দশ দিন তারা অবরোধ করে রাখলো মুহাম্মাদকে শক্তভাবে
আর তাঁর সঙ্গীরা রণক্ষেত্রে উত্তম সাথী, যেদিন প্রত্যুষে তারা বাজালো বিদায় ভেরী তোমরা বললে, আমাদের সর্বনাশ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পরিখাগুলো যদি অন্তরায় না' হতো তাদের বাহিনীর মুকাবিলায় তা হলে তারা (কাফিররা) তাদেরকে (মুসলমানদেরকে) হত্যা করে তাদের লাশ পাখি ও নেকড়ে বাঘসমূহকে খাইয়ে দিতো।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হাসান ইব্‌ন সাবিত (রা)-এর কবিতা

📄 হাসান ইব্‌ন সাবিত (রা)-এর কবিতা


হাসসান ইব্‌ন সাবিত (রা) আনসারী এর জবাবে বলেন:
هل رسم دارسة المقام يباب * متكلم المحاود بجوال
থেকে
علق الشقاء بقلبه ففؤاده * في الكفر احز هذه الاحقاب
আজ যা এক উজাড় জনপদ ও ধু ধু প্রান্তর তার ভগ্নাবশেষ কি এমন এক ব্যক্তির প্রতি বাক্যবান নিক্ষেপ করছে যে মুখের উপর শুনিয়ে দিতে পারে। সমুচিত জবাব?
সে ধু-ধু বিরাণ প্রান্তরটি এমন মেঘমালা থেকে বর্ষিত মুষলধারা বৃষ্টি যার চিহ্নগুলোকে করে দিয়েছে নিশ্চিহ্ন বজ্রপাতের পুনঃপৌণিক আঘাতে যা হয়ে গেছে একাকার। আমি সে জনপদে প্রত্যক্ষ করেছি এমন সব গৃহ যেগুলোকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছিল উজ্জ্বল চেহারা আর প্রোজ্জ্বল চরিত্র সুষমা। ছেড়ে দাও সে জনপদ আর তার লাস্যাময়ীদের কথা চিত্তহারী রূপের সাথে যাদের ছিলো মনোলোভা বাকভঙ্গী। আপন মর্মবেদনার ফরিয়াদ জানাও বিভু সকাশে যা তোমাদেরকে মর্মাহত করেছে : তাদের ক্রুর দৃষ্টি, বিদ্বেষ ও জিঘাংসা, রাসূলের প্রতি তাদের দুঃসহ অত্যাচার অবিচার। এ যালিমরা বন্দর গ্রামগঞ্জ থেকে লোক এনে একত্রিত করেছে তাঁর চতুর্পার্শ্বে আর ঝাঁপিয়ে পড়েছে সবাই একযোগে রাসূলের উপর। সে এমনি এক বাহিনী যাতে ছিল উয়ায়না ও আবূ সুফিয়ান ইবন হারব ও আরও বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিযোগিতাকারী অশ্বসমূহ। তারপর যখন তারা পদাপর্ণ করলো মদীনায় আর দুরাশা পোষণ করলো রাসূলকে হত্যা করার মত্ত হলো ধন-সম্পদ লুণ্ঠনের কুহকিনী আর্শীয় আর নিছক নিজেদের বাহুবলের জোরে উদ্যত হলো আমাদের উপর আক্রমণ চালাতে, তখন তাদের ক্রোধসহ তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হলো পশ্চাৎপানে প্রচণ্ড ঝঞ্ঝা ও মহা-প্রতিপালকের বাহিনী (ফেরেশতা) দিয়ে তাদেরকে করে দেয়া হলো শতধা বিচ্ছিন্ন ও পর্যুদস্ত। সুতরাং মু'মিনদের পক্ষে যুঝবার জন্যে যথেষ্ট হয়ে গেলেন আল্লাহ্ তা'আলাই এবং তিনিই তাদেরকে অধিকারী করলেন প্রতিদান ও সওয়াবের তাদের হতাশ ও নৈরাশ্যগ্রস্ত হওয়ার পর * আমাদের মহান প্রতিপালক ও পরম বদান্যশীল আল্লাহ্ মদদ কাফিরদের সমাবেশকে করে দিল ছিন্ন ভিন্ন ও লণ্ডভণ্ড।
মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের চোখে তা বুলিয়ে দিল শান্তির পরש, আর মিথ্যা প্রতিপন্নকারী ও সংশয়বাদীদের তা করলো হতমান অপদস্থ। ওরা মূঢ় চিত্ত দুর্ভাগা, সংশয়ের গভীর আবর্তে নিক্ষিপ্ত, ওরা তাদের বস্ত্র পবিত্র পরিশুদ্ধ করতে জানে না। ভাগ্য বিড়ম্বনা ওদের ললাট লিপি, কুফরী যুগের ওরাই সর্বশেষ প্রতিভূ এরপর আর কুফরীর কোন অবকাশ নেই।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কা'ব ইবন মালিক (রা)-এর কবিতা

📄 কা'ব ইবন মালিক (রা)-এর কবিতা


ইবন ইসহাক বলেন:
আলী ইব্‌ন আবু তালিবের হাতে আমর ইব্‌ন আব্দ উদ্দের নিহত হওয়ার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বিলাপ করতে করতে মুসাফি ইব্‌ন আব্দ মন্নাফ ইব্‌ন ওয়াহাব ইবন হুযাফা ইব্‌ জুমূহ বলে:
আমর ইব্‌ন আব্দ ছিলেন সেই অশ্বারোহী যিনি সর্বপ্রথম মাযাদ অতিক্রম করেছিলেন। তিনি ছিলেন ইয়ালীলের অশ্বারোহী মহান চরিত্রের অধিকারী, উদারচিত্ত দুঃসাহসী যুদ্ধকামী, ভয়ে যিনি পিছপা হতেন না কখনো।
তোমরা সম্যক অবহিত আছ হে — যখন তোমাদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে যায় অন্যরা *(কুরায়ש ও গাতফান যোদ্ধারা) আমর ইব্‌ন আবদ্‌ উদ্দ তখনও ত্বরা করেননি। এমন কি যখন চতুর্দিক থেকে শত্রু সৈন্যরা তাকে ঘিরে নিল তারা সবাই ছিল তার হত্যা পিয়াসী, তখনো ছিল না তাঁর মধ্যে কোন বিকার। সিলা পাহাড়ের দক্ষিণে, বর্শা বল্লমের ঝাঁক এমন এক অশ্বারোহীকে ঘিরে ফেললো, যার মধ্যে ছিল না একটুও দুর্বলতা বা আত্মসমর্পণের আগ্রহ। হে আলী! তুমি বনূ গালিবের অশ্বরোহীকে ডেকে
• দ্বন্দুযুদ্ধে তারে করেছিলেন আহ্বান, • সিলা পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তরে। হায়! যদি সে নাহি দিত তাতে সাড়া। যাও আলী তুমি, (হত্যা করেছ বটে) কিন্তু ধন্য হওনি তুমি- তার মত গর্বিত হয়ে আর না করেছো তুমি কভু তার মতো সঙ্কট মুকাবিলা। বনূ গালিবের সে অশ্বারোহী তরে জান মোর কুরবান, মৃত্যুর উষ্ণতাকে যে জন বরি নিল মাথা পেতে, অকুণ্ঠে, অকাতরে।
• বলি আমি সে বীরের কথা, আপন অশ্ব নিয়ে- • পাড়ি দিল যে মাযাদের প্রান্তর, প্রতিশোধ নিতে সেইসব বাহিনীর কোন দিন যারা হয়নিকো হতমান। এগিয়ে সে বীর দেয় নিকো পিছুটান।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খন্দক যুদ্ধের দিন কা'ব (রা) কবিতা

📄 খন্দক যুদ্ধের দিন কা'ব (রা) কবিতা


ইবন ইসহাক বলেন: খন্দক যুদ্ধ প্রসংগে কা'ব ইবন মালিক (রা) এ কবিতা আবৃত্তি করেন:
যার সাধ হয় শুনবে তলোয়ারের ঝংকার যা সৃষ্টি তলোয়ারে তলোয়ারে সংঘর্ষের ফলে, বাশ পোড়ার সময় উৎপন্ন হয় যেমনটি আওয়ায যদি সাধ জাগে তা শুনবার তরে সে যেন আসে- সে সিংহ থাকার স্থানে
যা অবস্থিত মেয়াদ ও খন্দকের মধ্যবর্তী স্থানে, সেথায় শান দেয়া হচ্ছে তলোয়ারসমূহে। রণ-চিহ্ন সাথে নিয়ে যারা রণোন্মুক্ত হয় সে সব সিংহ তাদেরকে আঘাত হানার প্রশিক্ষণ নিয়েছে উত্তমরূপে উদয়াচলের প্রভুর কাছে তারা সমপর্ণ করেছে তাদের নিজেদেরকে তারা এমনি একটি জামাত্মাতের মধ্যে রয়েছে- যাদের মাধ্যমে আল্লাহ্ মদদ যুগিয়েছেন তাঁর নবীকে, আর তিনি তো তাঁর বান্দার প্রতি সদয়। তারা এমনি বর্মে সুসজ্জিত যার বাড়তি অংশ হেঁচড়িয়ে চলে রেখাচিহ্ন অংকিত করে ভূমিতে যেন ঐ সরোবর- বায়ু প্রবাহিত হয়ে যেখানে সঞ্চার হয় তরঙ্গকূলের। সে বর্মগুলো উজ্জ্বল ও মযবুত তার পেরেকগুলো চমকাচ্ছে যেন ওগুলো ফড়িং এর চোখ। সে বর্মগুলো ভীষণ মযবুত গঠনের। উজ্জ্বল তার রওনক, ভীষণ কর্তনকারী স্বচ্ছ ভারতীয় তলোয়ার সম ঝকঝকে। ওগুলো হচ্ছে ভূষণ মোদের তাকওয়ার সাথে সাথে যখন যুদ্ধ বাঁধে এবং সত্য পরীক্ষার ক্ষণ আসে। আমাদের চিরাচরিত রীতি হলো- যখন তরবারি আমাদের সাথে সমগতিতে চলতে ব্যর্থ হয় পায়ের সাথে পা. মিলিয়ে, তখন আমরা এগিয়ে গিয়ে সেগুলোকে উদ্বুদ্ধ করি যুদ্ধের জন্যে। তখন তুমি স্পষ্ট দেখতে পাবে শত্রুর মাথার খুলি সুস্পষ্ট দিবালোকে। আর তাদের কর ও করতল-ওগুলোর কথা ছেড়েই দাও! ওগুলো যেন আদৌ সৃষ্টি হয়নি এমনিভাবে নিশ্চিহ্ন তাদের তুমি প্রত্যক্ষ করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00