📄 কা'ব (রা)-এর কবিতা
যিরারের কবিতার জবাবে সালামা গোত্রের বন্ধু কা'ব ইবন মালিক (রা) বলেন:
وسائله نسائل مالقينا * ولشهدت راتنا صابرينا
থেকে
بريح عاصف هبت عليكم * فكنتم تبحتها متكمهينا
কত প্রশ্নকারিণী আমাদের জিজ্ঞাসা করে, যুদ্ধে তোমাদের কী অবস্থা হলো? (আমার জবাব হলো) যদি তারা দেখতো, তবে তারা আমাদের মুকাবিলা * প্রতিহতকারী রূপে দেখতে পেতো। আমরা পূর্ণ ধৈর্যের সাথে কাজ করি। আমাদের মত দ্বিতীয় আর কেউ নেই, যারা আল্লাহর উপর ভরসা রেখে চরম বিপদে সবর করতে পারে। আমাদের জন্য ছিলেন মহানবী যিনি হক ও সত্যবাদীতায় আমাদের সংগী ও সাহায্যকারী। তাঁরই কারণে আমরা সমস্ত মাখলুকের উপর প্রাধান্য বিস্তার করবো। আমরা তাদের বিরুদ্ধে শেষ সময় পর্যন্ত লড়াই করবো যারা অবিচারু অনাচার করেছে এবং যারা কেবল শত্রুতার কারণে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
যখন তারা আমাদের দিকে এগিয়ে আসবে। তখন আমরা তরবারি দিয়ে তাদের দ্রুত প্রতিহত করবো।
তোমরা আমাদের যুদ্ধের ময়দানে পূর্ণভাবে বর্ম পরিহিত অবস্থায় দেখবে। আমাদের হাতে ছিল হালকা ক্ষুরধার তরবারি যা দিয়ে আমরা শত্রুদের জীবন নাশ করছিলাম। পরিখার দরজায় আমরা সিংহ সম অবস্থান করছিলাম, যারা দৃঢ়ভাবে তাদের উপর হামলা প্রতিহত করছিল। যখন আমাদের অশ্বারোহীরা যুদ্ধবাজ, অহংকারী শত্রুদের উপর সকাল-সন্ধ্যায় হামলা করছিল, তখন আমরা আহমদ (সা)-এর সাহায্য করছিলাম। যার কারণে আজ আমরা আল্লাহর সাচ্চা মুখলেস বান্দা হতে পেরেছি। মক্কাবাসীরা এবং আরো যারা দল বেঁধে এসেছিল, ফিরে যাওয়ার সময় তারা জানতে পারে যে, আল্লাহ্র কোন শরীক নেই এবং তিনি মু'মিনদের অভিভাবক ও বন্ধু। যদি তোমরা তোমাদের নির্বুদ্ধিতার কারণে সা'দকে হত্যা করে থাকো, তবে তাতে কি হবে? আল্লাহ্ তো সব কিছুর উপর শক্তিমান। তিনি তাকে প্রবিষ্ট করাবেন পূত-পবিত্র এ জান্নাতের উদ্যানসমূহে, যা হবে আল্লাহ্ নেক বান্দাদের আবাসস্থল। যেমনটি তিনি তোমাদের পরাজিত করে ফিরিয়ে দিয়েছেন, আর তোমরা তোমাদের লেজ-গুটিয়ে, রাগান্বিত ও অসম্মানিত হয়ে ফিরে গিয়েছ। এখান থেকে ফায়দা তোমরা পাওনি। বরং যে প্রবল ঝঞ্ঝাবায়ু তোমাদের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল, তার কারণে তোমরা অন্ধ ও বেদিশা হয়ে পড়েছিলে, এমন কি তাতে তোমাদের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
📄 ইবন যিব'আরীর কবিতা
আবদুল্লাহ্ ইবন যিব'আরী সাহমী ও খন্দক যুদ্ধের দিন যে কবিতা আবৃত্তি করেন, তা ছিল নিম্নরূপ:
حتى الديار محا معارف رسمها * طول البلى وتراوح الاحقاب
থেকে
لوه الخنادق عادروا من جمعهم * قتلى لطير سفب وذشاب
প্রাচীনতার আধিক্য ও সুদীর্ঘ যুগ পরিক্রমা মিটিয়ে দিল জনপদের পরিচয় চিহ্নগুলো পর্যন্ত এ যেন ইয়াহুদীদের লিখিত লিপিমালা আর কী। (যা বিলুপ্ত প্রায়—মিটি মিটি করছে।) কেবল রয়ে গেছে উট বাঁধার আর খিমার রশি আটকানোর খুঁটিগুলো। এ যেন এক শূন্য বিরাম-ধু-ধু প্রান্তর যেন (হে করি) তুমি কোনদিন এখানে কৈশোরে স্বপ্নমাখা দিলগুলোতে ক্রীড়ারত হওনি সমরয়সী কিশোরী তৃনীদের সাথে। ছেড়ে দাও সে সুখখময় স্মৃতি তর্পনি যা আজ অতীতের পুরনো কথা, আর আজ যা এক ধু-ধু বিরাণ প্রান্তর।
এখন আলোচনা কর সে সম্পাদায়ের বিপর্যয়ের কথা যারা বেরিয়ে পড়েছিল শিলাখণ্ডসমূহ থেকে সদলবলে মক্কার শিলাখণ্ডসমূহ থেকে।
[যে শিলাখণ্ডসমূহ ছিল পবিত্র হেরেমের দিক-নির্দেশ ও মূর্তি পূজকদের পশুবলির বেদী স্বরূপ] ইয়াসরিবের উদ্দেশ্যে
হৈ-হল্লা শোরগোল, সহকারে-বিশাল বাহিনীরূপে। দুর্গম কঙ্করময় পার্বত্য পথ গিরি-সঙ্কট ও সমৃভূমির পথ-প্রান্তর ডিঙিয়ে এগিয়ে চলেছিল সে বাহিনীসমূহ।
সেসব পথ দিয়ে চালানো হচ্ছিল বিশাল বপু ঘোটক ঘোটকীসমূহ যেগুলোর কোমর ছিল সরু উদর ছিল কৃশ। ওঁৎ পেতে থাকা শিকারীর নজর এড়িয়ে যেভাবে লাফ দিয়ে চলে যায় চিতাবাঘ ঠিক তেমনটি লাফিয়ে লাফিয়ে পথ অতিক্রম করে যাচ্ছিলো। সেসব ঘোটক ঘোটকী। এ ছিল এমন এক বাহিনী
উয়ায়নার মত বিশাল ব্যক্তিত্ব যার পতাকা ধরে ছিলো, আর এর নেতা ছিলো আবু সুফিয়ান ইবন হারব। এঁরা দু'জন ছিল বীর বাহিনীর দু'টি পূর্ণশশী স্বরূপ এঁরা নিয়োজিত ছিলেন নিঃস্বদের ফরিয়াদ শোনার- আর যুদ্ধ থেকে যারা পালিয়ে যায়, তাদেরকে বাঁধার কাজে। তারপর তারা যখন মদীনায় পদাপর্ণ করলো, মৃত্যু পিয়াসী পরীক্ষিত তলোয়ার তারা চালাতে লাগলো। একমাস আরও দশ দিন তারা অবরোধ করে রাখলো মুহাম্মাদকে শক্তভাবে
আর তাঁর সঙ্গীরা রণক্ষেত্রে উত্তম সাথী, যেদিন প্রত্যুষে তারা বাজালো বিদায় ভেরী তোমরা বললে, আমাদের সর্বনাশ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পরিখাগুলো যদি অন্তরায় না' হতো তাদের বাহিনীর মুকাবিলায় তা হলে তারা (কাফিররা) তাদেরকে (মুসলমানদেরকে) হত্যা করে তাদের লাশ পাখি ও নেকড়ে বাঘসমূহকে খাইয়ে দিতো।
📄 হাসান ইব্ন সাবিত (রা)-এর কবিতা
হাসসান ইব্ন সাবিত (রা) আনসারী এর জবাবে বলেন:
هل رسم دارسة المقام يباب * متكلم المحاود بجوال
থেকে
علق الشقاء بقلبه ففؤاده * في الكفر احز هذه الاحقاب
আজ যা এক উজাড় জনপদ ও ধু ধু প্রান্তর তার ভগ্নাবশেষ কি এমন এক ব্যক্তির প্রতি বাক্যবান নিক্ষেপ করছে যে মুখের উপর শুনিয়ে দিতে পারে। সমুচিত জবাব?
সে ধু-ধু বিরাণ প্রান্তরটি এমন মেঘমালা থেকে বর্ষিত মুষলধারা বৃষ্টি যার চিহ্নগুলোকে করে দিয়েছে নিশ্চিহ্ন বজ্রপাতের পুনঃপৌণিক আঘাতে যা হয়ে গেছে একাকার। আমি সে জনপদে প্রত্যক্ষ করেছি এমন সব গৃহ যেগুলোকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছিল উজ্জ্বল চেহারা আর প্রোজ্জ্বল চরিত্র সুষমা। ছেড়ে দাও সে জনপদ আর তার লাস্যাময়ীদের কথা চিত্তহারী রূপের সাথে যাদের ছিলো মনোলোভা বাকভঙ্গী। আপন মর্মবেদনার ফরিয়াদ জানাও বিভু সকাশে যা তোমাদেরকে মর্মাহত করেছে : তাদের ক্রুর দৃষ্টি, বিদ্বেষ ও জিঘাংসা, রাসূলের প্রতি তাদের দুঃসহ অত্যাচার অবিচার। এ যালিমরা বন্দর গ্রামগঞ্জ থেকে লোক এনে একত্রিত করেছে তাঁর চতুর্পার্শ্বে আর ঝাঁপিয়ে পড়েছে সবাই একযোগে রাসূলের উপর। সে এমনি এক বাহিনী যাতে ছিল উয়ায়না ও আবূ সুফিয়ান ইবন হারব ও আরও বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিযোগিতাকারী অশ্বসমূহ। তারপর যখন তারা পদাপর্ণ করলো মদীনায় আর দুরাশা পোষণ করলো রাসূলকে হত্যা করার মত্ত হলো ধন-সম্পদ লুণ্ঠনের কুহকিনী আর্শীয় আর নিছক নিজেদের বাহুবলের জোরে উদ্যত হলো আমাদের উপর আক্রমণ চালাতে, তখন তাদের ক্রোধসহ তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হলো পশ্চাৎপানে প্রচণ্ড ঝঞ্ঝা ও মহা-প্রতিপালকের বাহিনী (ফেরেশতা) দিয়ে তাদেরকে করে দেয়া হলো শতধা বিচ্ছিন্ন ও পর্যুদস্ত। সুতরাং মু'মিনদের পক্ষে যুঝবার জন্যে যথেষ্ট হয়ে গেলেন আল্লাহ্ তা'আলাই এবং তিনিই তাদেরকে অধিকারী করলেন প্রতিদান ও সওয়াবের তাদের হতাশ ও নৈরাশ্যগ্রস্ত হওয়ার পর * আমাদের মহান প্রতিপালক ও পরম বদান্যশীল আল্লাহ্ মদদ কাফিরদের সমাবেশকে করে দিল ছিন্ন ভিন্ন ও লণ্ডভণ্ড।
মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের চোখে তা বুলিয়ে দিল শান্তির পরש, আর মিথ্যা প্রতিপন্নকারী ও সংশয়বাদীদের তা করলো হতমান অপদস্থ। ওরা মূঢ় চিত্ত দুর্ভাগা, সংশয়ের গভীর আবর্তে নিক্ষিপ্ত, ওরা তাদের বস্ত্র পবিত্র পরিশুদ্ধ করতে জানে না। ভাগ্য বিড়ম্বনা ওদের ললাট লিপি, কুফরী যুগের ওরাই সর্বশেষ প্রতিভূ এরপর আর কুফরীর কোন অবকাশ নেই।
📄 কা'ব ইবন মালিক (রা)-এর কবিতা
ইবন ইসহাক বলেন:
আলী ইব্ন আবু তালিবের হাতে আমর ইব্ন আব্দ উদ্দের নিহত হওয়ার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বিলাপ করতে করতে মুসাফি ইব্ন আব্দ মন্নাফ ইব্ন ওয়াহাব ইবন হুযাফা ইব্ জুমূহ বলে:
আমর ইব্ন আব্দ ছিলেন সেই অশ্বারোহী যিনি সর্বপ্রথম মাযাদ অতিক্রম করেছিলেন। তিনি ছিলেন ইয়ালীলের অশ্বারোহী মহান চরিত্রের অধিকারী, উদারচিত্ত দুঃসাহসী যুদ্ধকামী, ভয়ে যিনি পিছপা হতেন না কখনো।
তোমরা সম্যক অবহিত আছ হে — যখন তোমাদের সম্মুখ থেকে পালিয়ে যায় অন্যরা *(কুরায়ש ও গাতফান যোদ্ধারা) আমর ইব্ন আবদ্ উদ্দ তখনও ত্বরা করেননি। এমন কি যখন চতুর্দিক থেকে শত্রু সৈন্যরা তাকে ঘিরে নিল তারা সবাই ছিল তার হত্যা পিয়াসী, তখনো ছিল না তাঁর মধ্যে কোন বিকার। সিলা পাহাড়ের দক্ষিণে, বর্শা বল্লমের ঝাঁক এমন এক অশ্বারোহীকে ঘিরে ফেললো, যার মধ্যে ছিল না একটুও দুর্বলতা বা আত্মসমর্পণের আগ্রহ। হে আলী! তুমি বনূ গালিবের অশ্বরোহীকে ডেকে
• দ্বন্দুযুদ্ধে তারে করেছিলেন আহ্বান, • সিলা পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তরে। হায়! যদি সে নাহি দিত তাতে সাড়া। যাও আলী তুমি, (হত্যা করেছ বটে) কিন্তু ধন্য হওনি তুমি- তার মত গর্বিত হয়ে আর না করেছো তুমি কভু তার মতো সঙ্কট মুকাবিলা। বনূ গালিবের সে অশ্বারোহী তরে জান মোর কুরবান, মৃত্যুর উষ্ণতাকে যে জন বরি নিল মাথা পেতে, অকুণ্ঠে, অকাতরে।
• বলি আমি সে বীরের কথা, আপন অশ্ব নিয়ে- • পাড়ি দিল যে মাযাদের প্রান্তর, প্রতিশোধ নিতে সেইসব বাহিনীর কোন দিন যারা হয়নিকো হতমান। এগিয়ে সে বীর দেয় নিকো পিছুটান।