📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সা'দ (রা) ইন্তিকালে তার প্রতি প্রদর্শিত সম্মান

📄 সা'দ (রা) ইন্তিকালে তার প্রতি প্রদর্শিত সম্মান


ইবন ইসহাক বলেন: বনু কুরায়যা সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়ার পর সা'দ ইব্‌ন মু'আয (রা)-এর যখমের অবনতি ঘটে। অবশেষে এতে তিনি শাহাদত বরণ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: মু'আয ইব্‌ন রিফা'আ যুরাকী তার গোত্রের জনৈক নির্ভরযোগ্য লোক হতে বর্ণনা করেন যে, সা'দ ইবন মু'আয (রা)-এর ইন্তিকাল হয়ে গেলে গভীর রাতে হযরত জিবরাঈল (আ) একটি রেশমী পাগড়ী মাথায় দিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট হাযির হলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: হে মুহাম্মদ! কে এই মৃত ব্যক্তি, যার জন্য আকাশের সকল দুয়ার খুলে দেওয়া হলো এবং কেঁপে উঠলো আল্লাহর আরশ'? রাবী বলেন: একথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) দ্রুত কাপড় সামলাতে সামলাতে সা'দ (রা)-এর দিকে ছুটে গেলেন। গিয়ে দেখেন তাঁর ইন্তিকাল হয়ে গেছে।
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ বকর (র) আমরাহ বিন্ত আবদুর রহমানের সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আয়েশা (রা) মক্কা হতে ফিরছিলেন। উসায়দ ইব্‌ন হ্যায়র (রা) তাঁর সংগে ছিলেন। পথি মধ্যে উসায়দ তাঁর এক স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ পেলেন। তিনি শোকে আকুল হয়ে পড়েন। আয়েশা (রা) তাঁকে সান্ত্বনাদানের জন্য বললেন: হে আবু ইয়াহ্ইয়া! আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে ক্ষমা করুন। আপনি একটি স্ত্রীলোকের জন্য শোকে আকুল হচ্ছেন, অথচ আপনার এমন একজন চাচাত ভাই ইন্তিকাল করেছেন, যার জন্য আল্লাহর আরש পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে?
ইবন ইসহাক বলেন: হাসান বসরী (র)-এর সূত্রে জনৈক বিশ্বস্ত ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: সা'দ (রা) স্থূলকায় ছিলেন। কিন্তু লোকে যখন তাঁর লাশ বহন করে নিচ্ছিল, তখন বেশ হালকা মনে হচ্ছিল। মুনাফিকরা মন্তব্য করল সে তো অত্যন্ত ভারী মানুষ ছিল, কিন্তু এত হালকা লাশ আমরা তো কখনও বহন করিনি। একথা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন: তোমাদের ছাড়াও তো তার আরও বহনকারী ছিল। সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন সা'দের রূহ পেয়ে ফেরেশতারা আনন্দিত হয় এবং তাঁর জন্য আল্লাহ্র আরশ কেঁপে ওঠে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মু'আয ইব্‌ন রিফা'আ মাহমূদ ইব্‌ন আবদুর রহমান ইব্‌ন আমর ইব্‌ন জীমূহ সূত্রে জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: সা'দ (রা)-কে দাফন করার সময় আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে ছিলাম। দাফন শেষে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলে উঠলেন সুবহানাল্লাহ্। উপস্থিত লোকেরাও বলে উঠলো সুবহানাল্লাহ্। তারপর তিনি বললেন: আল্লাহু আকবার। সঙ্গে সঙ্গে সকলে বললেন: আল্লাহু আকবার। এরপর তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)। সুবহানাল্লাহ্ বলার কারণ কি? তিনি বললেন: এই নেক্কার লোকটির প্রতি কবর সংকীর্ণ হয়ে উঠেছিল। এরপর আল্লাহ্ তাঁর জন্য তা প্রশস্ত করে দিয়েছেন।

টিকাঃ
১. রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন সা'দ ইব্‌ন মু'আয (রা)-এর, ইন্তিকালে সত্তর হাযার ফেরেশতা নাযিল হয়, যাঁরা এর আগে আর কোন দিন যমীনে অবতরণ করেনি। কথিত আছে যে, তাঁর কবর থেকে মিশক-আম্বরের ঘ্রাণ বের হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) আরো বলেন: যদি কেউ কবরে পেষণের আযাব থেকে পরিত্রাণ পেত, তবে অবশ্যই সা'দ তা থেকে নিষ্কৃতি পেত।

ইবন ইসহাক বলেন: বনু কুরায়যা সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়ার পর সা'দ ইব্‌ন মু'আয (রা)-এর যখমের অবনতি ঘটে। অবশেষে এতে তিনি শাহাদত বরণ করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: মু'আয ইব্‌ন রিফা'আ যুরাকী তার গোত্রের জনৈক নির্ভরযোগ্য লোক হতে বর্ণনা করেন যে, সা'দ ইবন মু'আয (রা)-এর ইন্তিকাল হয়ে গেলে গভীর রাতে হযরত জিবরাঈল (আ) একটি রেশমী পাগড়ী মাথায় দিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট হাযির হলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: হে মুহাম্মদ! কে এই মৃত ব্যক্তি, যার জন্য আকাশের সকল দুয়ার খুলে দেওয়া হলো এবং কেঁপে উঠলো আল্লাহর আরশ'? রাবী বলেন: একথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) দ্রুত কাপড় সামলাতে সামলাতে সা'দ (রা)-এর দিকে ছুটে গেলেন। গিয়ে দেখেন তাঁর ইন্তিকাল হয়ে গেছে।
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ বকর (র) আমরাহ বিন্ত আবদুর রহমানের সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আয়েশা (রা) মক্কা হতে ফিরছিলেন। উসায়দ ইব্‌ন হ্যায়র (রা) তাঁর সংগে ছিলেন। পথি মধ্যে উসায়দ তাঁর এক স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ পেলেন। তিনি শোকে আকুল হয়ে পড়েন। আয়েশা (রা) তাঁকে সান্ত্বনাদানের জন্য বললেন: হে আবু ইয়াহ্ইয়া! আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে ক্ষমা করুন। আপনি একটি স্ত্রীলোকের জন্য শোকে আকুল হচ্ছেন, অথচ আপনার এমন একজন চাচাত ভাই ইন্তিকাল করেছেন, যার জন্য আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে?
ইবন ইসহাক বলেন: হাসান বসরী (র)-এর সূত্রে জনৈক বিশ্বস্ত ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: সা'দ (রা) স্থূলকায় ছিলেন। কিন্তু লোকে যখন তাঁর লাশ বহন করে নিচ্ছিল, তখন বেশ হালকা মনে হচ্ছিল। মুনাফিকরা মন্তব্য করল সে তো অত্যন্ত ভারী মানুষ ছিল, কিন্তু এত হালকা লাশ আমরা তো কখনও বহন করিনি। একথা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন: তোমাদের ছাড়াও তো তার আরও বহনকারী ছিল। সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন সা'দের রূহ পেয়ে ফেরেশতারা আনন্দিত হয় এবং তাঁর জন্য আল্লাহ্র আরশ কেঁপে ওঠে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মু'আয ইব্‌ন রিফা'আ মাহমূদ ইব্‌ন আবদুর রহমান ইব্‌ন আমর ইব্‌ন জীমূহ সূত্রে জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: সা'দ (রা)-কে দাফন করার সময় আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে ছিলাম। দাফন শেষে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলে উঠলেন সুবহানাল্লাহ্। উপস্থিত লোকেরাও বলে উঠলো সুবহানাল্লাহ্। তারপর তিনি বললেন: আল্লাহু আকবার। সঙ্গে সঙ্গে সকলে বললেন: আল্লাহু আকবার। এরপর তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)। সুবহানাল্লাহ্ বলার কারণ কি? তিনি বললেন: এই নেক্কার লোকটির প্রতি কবর সংকীর্ণ হয়ে উঠেছিল। এরপর আল্লাহ্ তাঁর জন্য তা প্রশস্ত করে দিয়েছেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: এর সমার্থক একটি হাদীস আয়েশা (রা) হতেও বর্ণিত আছে। তাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: কবর একটি চাপ দেবেই। তা থেকে নিস্তার পেলে সা'দ ইব্‌ন মু'আয বেঁচে গেছে।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন: সা'দ সম্পর্কে জনৈক আনসার সাহাবী বলেন:
وما اهتز عرش الله من موت هالك * سمعنا به الا لسعد ابي عمرو
আমরা শুনিনি কারও মৃত্যুতে আল্লাহ্ আরশ প্রকম্পিত হয়েছে। একমাত্র আবূ আমর সা'দ (রা) ছাড়া।
সা'দ (রা)-এর লাশ যখন তুলে নেওয়া হচ্ছিল, তখন তাঁর মা কুরায়শা বিন্ত রাফি ইব্‌ন মু'আবিয়া ইব্‌ন উবায়দ ইব্‌ন সা'লাবা ইব্‌ন আব্দ ইব্‌ন আবজার (খুদরা) ইব্‌ন আওফ ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন খাযরাজ কেঁদে কেঁদে বলছিলেন:
ويل ام سعد سعدا صرامة وحداً وسو ددا ومجدا * وفارسا معداً يقدها ما قدم * سد به مسدا
হায়, উম্মু সা'দ হারালো সা'দকে। হারালো সে সাহসী ও তেজস্বী ব্যক্তিকে। হারালো সে মহাসম্মানিত নেতাকে এবং এমন অশ্বারোহী সৈনিককে যে সদা প্রস্তুত থাকতো। যাকে যে কোন প্রয়োজনস্থলে দাঁড় করানো যেত আর যে শত্রুর মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ করতো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: সব রোদনকারিণীই কিছু না কিছু মিথ্যা বলে, কেবল সা'দের রোদনকারিণী ছাড়া।

টিকাঃ
১. রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন সা'দ ইব্‌ন মু'আয (রা)-এর, ইন্তিকালে সত্তর হাযার ফেরেশতা নাযিল হয়, যাঁরা এর আগে আর কোন দিন যমীনে অবতরণ করেনি। কথিত আছে যে, তাঁর কবর থেকে মিশক-আম্বরের ঘ্রাণ বের হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) আরো বলেন: যদি কেউ কবরে পেষণের আযাব থেকে পরিত্রাণ পেত, তবে অবশ্যই সা'দ তা থেকে নিষ্কৃতি পেত।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খন্দকের যুদ্ধের শহীদান

📄 খন্দকের যুদ্ধের শহীদান


ইবন ইসহাক বলেন: খন্দকের যুদ্ধে মুসলিমদের মধ্যে মাত্র ছয়জন শহীদ হয়েছিলেন। আবদুল আশহাল গোত্রের তিনজন: সা'দ ইব্‌ন মু'আয (রা), আনাস ইব্‌ন আওস ইব্‌ন আতীক ইব্‌ন আমর ও আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল।
বনু জুশাম ইব্‌ন খাযরাজ গোত্রের শাখা সালমা গোত্রের দু'জন, তুফায়ল ইব্‌ন নু'মান ও ছা'লাব ইব্‌ন গানামা।
আর বনূ নাজ্জারের শাখা দীনার গোত্রের কা'ব ইবন যায়দ। তিনি একটি উড়ো তীরবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন : سهم غرب 3 سهم غرب অর্থ হচ্ছে এমন তীর, যা কোত্থেকে আসল, কে মারল, তা জানা যায় না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুশরিকদের মধ্যে যারা নিহত হয়

📄 মুশরিকদের মধ্যে যারা নিহত হয়


মুশরিকদের মধ্যে নিহত হয়েছিল তিনজন। আবদুদ্দার ইব্‌ন কুসাঈ গোত্রের মুনাব্বিহ্ ইব্‌ন উসমান ইব্‌ন উবায়দ ইব্‌ন সাব্বাক ইব্‌ন আবদুদ্দার। সে একটি তীরবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়। অবশেষে মক্কায় গিয়ে মারা যায়।
ইবন হিশাম তার বংশ তালিকা এরূপ উল্লেখ করেছেন: মুনাব্বিহ্ ইব্‌ন উসমান ইব্‌ন উমাইয়া ইব্‌ন মুনাব্বিহ্ ইব্‌ন উবায়দ ইব্‌ন সাব্বাক।
ইবন ইসহাক বলেন: আর মাখযূম ইয়াকজা গোত্রের নাওফাল ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মুগীরা। সে পরিখায় আক্রমণ করতে গিয়ে তাতে পড়ে যায়। তখন মুসলমানরা তাকে হত্যা করেন এবং তার লাশ হস্তগত করেন। কাফিররা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট হতে তার লাশ কিনতে চাইলে, তিনি বলেন: তার লাশ বা লাশের মূল্য দিয়ে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই। সুতরাং তিনি লাশ তাদের দিয়ে দেন।
ইন হিশাম বলেন: আমি ইমাম যুহরী (র)-এর সূত্রে জানতে পেরেছি যে, তারা তার লাশের বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে দশ হাজার দিরহাম দিয়েছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: আর আমর ইব্‌ লুআঈ-এর শাখা মালিক ইব্‌ন হিস্স গোত্রের আমর ইব্‌ন আব্দ উদ্দ। তাকে হত্যা করেছিলেন আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা)।
ইবন হিশাম বলেন: আমি নির্ভরযোগ্য সূত্রে ইমাম যুহরী (র) হতে জানতে পেরেছি। তিনি বলেন: এ যুদ্ধে আলী (রা) আমর ইব্‌ন আব্দ উদ্‌দ ও তার ছেলে হিল্স ইব্‌ন আমরকে হত্যা করেন।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: আমর ইব্‌ন আব্দ উদ্‌দকে আমর ইব্‌ন আব্দও বলা হয়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনু কুরায়যা অভিযানে যাঁরা শহীদ হন

📄 বনু কুরায়যা অভিযানে যাঁরা শহীদ হন


ইবন ইসহাক বলেন: বনু কুরায়যা অভিযানে মুসলিমদের মধ্যে খাল্লাদ ইব্‌ন সুওয়ায়দ ইব্‌ন ছা'লাবা ইব্‌ন আমর শহীদ হন। তিনি ছিলেন হারিস ইব্‌ন খাযরাজ গোত্রের লোক। তাঁর উপর একটি যাঁতা নিক্ষেপ করা হয়। এতে তিনি সাংঘাতিক রকমের আহত হন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন: সে দুই শহীদের সমান সওয়াব লাভ করবে।
বনু কুরায়যার অবরোধকালে আসাদ ইব্‌ন খুযায়মা গোত্রের আবু সিনান ইব্‌ন মিহসান ইব্‌ন হুরছান মারা গেলে, তাকে বনু কুরায়যার কবরস্থানে দাফন করা হয়, যেখানে তারা তাদের লোকদের দাফন করতো। ইসলাম পরবর্তীকালেও তারা তাদের মৃতদেরকে এখানে দাফন করতে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00