📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাবের কতল

📄 হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাবের কতল


ইব্‌ন ইসহাক বলেন: তারা আত্মসমর্পণ করে দুর্গ হতে নেমে আসল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে মদীনাতে নাজ্জার গোত্রের হারিসের কন্যার' বাড়িতে বন্দী করে রাখলেন। এরপর. তিনি মদীনার বাজারে গেলেন। বর্তমানেও সেটাই মদীনার বাজার। সেখানে তিনি কয়েকটি গর্ত করলেন। তারপর এক এক দল করে তাদেরকে সেখানে নিয়ে হত্যা করা হলো। আল্লাহ্হ্ দুশমন হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাব, কা'ব ইব্‌ন আসাদ প্রমুখ নেতৃবর্গও তাদের মধ্যে ছিল। তাদের সর্বমোট সংখ্যা ছিল ছয়শ' বা সাতশ'। যারা তাদের সংখ্যা আরও বেশী মনে করেন, তাদের মতে তারা ছিল আটশ' থেকে নয়শ'-এর মাঝামাঝি।
তাদেরকে যখন দলে দলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তারা দলপতি কা'ব ইব্‌ন আসাদকে জিজ্ঞেস করে, হে কা'ব! আমাদের কি করা হবে বলে আপনি মনে করেন? সে বলল: তোমরা কি সব জায়গাতেই বোকা হয়েই থাকবে? তোমরা কি দেখছ না, নকীব অবিরাম ডেকেই যাচ্ছে? যাকে নেওয়া হচ্ছে, সে আর ফিরছে না? আল্লাহ্র কসম! সকলকে হত্যা করা হবে। এভাবে তাদেরকে সমূলে খতম করে দেওয়া হলো।
আল্লাহর দুশমন হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাবকেও আনা হলো। তার পরিধানে ছিল ফুক্বাহী বস্ত্র। ইব্‌ন হিশাম বলেন: ফুক্বাহী হচ্ছে এক প্রকার চাদর। সে তার পোশাকটি সব জায়গা থেকে কয়েক আংগুল করে ফুটো করে রেখেছিল, যাতে তার থেকে সেটা খুলে নেওয়া না হয়। তার হাত ছিল ঘাড়ের সাথে বাঁধা। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে দেখামাত্র সে বলে উঠলো: আল্লাহ্র কসম! তোমার দুশমনীর কারণে আমি মোটেই অনুতপ্ত নই। তবে আল্লাহকে যে ত্যাগ করে তার ধ্বংস অনিবার্য। এরপর সে উপস্থিত লোকদের সম্বোধন করে বললো, হে জনমণ্ডলী! অসুবিধার কিছু নেই এটা আল্লাহর ফয়সালা। বনূ ইসরাঈলের জন্য আল্লাহ্ তা'আলা এ পরিণতি ও হত্যাকাণ্ড নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন। এই বলে সে বসে পড়লো এবং তার শিরশ্ছেদ করা হলো।
জাবাল ইব্‌ন জাওয়াল ছা'লাবী বলেন:
لعمرك ما لام ابن اخطب نفسه * ولكنه من يخذل الله يخذل .
الجاهد حتى ابلغ النفس عذرها * وقلقل يبغى العز كل مقلقل
তোমার জীবনের কসম! আখতাব পুত্র নিজেকে দোষারোপ করেনি। বস্তুত যে আল্লাহকে পরিত্যাগ করে সেও পরিত্যাক্ত হয়।
সে সংগ্রাম করেছে এবং নিজের দায়িত্ব পূর্ণ করেছে, সে সম্মান ও মর্যাদা হাসিলের জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্‌ন জা'ফর ইব্‌ন যুবায়র উরওয়া ইব্‌ন যুবায়র (রা)-এর সূত্রে উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওদের নারীদের মধ্যে মাত্র একজনকেই হত্যা করা হয়েছিল। আয়েশা (রা) বলেন আল্লাহর কসম! সে স্ত্রীলোকটি আমার কাছে বসে কথাবার্তা বলছিল এবং হেসে লুটোপুটি খাচ্ছিল। অথচ তখন তার আপন জনদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনার বাজারে হত্যা করছিলেন। সহসা ঘোষক তার নাম ধরে ডাক দিল। সে বলল আমাকে হত্যা করা হবে। বললাম কেন? সে বলল: একটা কাণ্ড করেছি বলে। এরপর নেওয়া হলো এবং হত্যা করা হলো। আয়েশা (রা) বলতেন: আল্লাহ্র কসম! সে বিস্ময়ের কথা আমি কখনও ভুলব না। কি খোশ মিজায, ও হাসি ফুর্তিতে ভরপুর। অথচ সে জানতো তাকে হত্যা করা হবে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: এই সে স্ত্রীলোক, যে যাঁতা নিক্ষেপ করে খাল্লাদ ইব্‌ন সুওয়ায়দকে হত্যা করেছিল।

টিকাঃ
১. তাঁর নাম ছিল-কায়সা। তিনি আগে মুসায়লামা কায্যাবের স্ত্রী ছিলেন। পরে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমির (রা)-এর সংগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

ইব্‌ন ইসহাক বলেন: তারা আত্মসমর্পণ করে দুর্গ হতে নেমে আসল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে মদীনাতে নাজ্জার গোত্রের হারিসের কন্যার' বাড়িতে বন্দী করে রাখলেন। এরপর. তিনি মদীনার বাজারে গেলেন। বর্তমানেও সেটাই মদীনার বাজার। সেখানে তিনি কয়েকটি গর্ত করলেন। তারপর এক এক দল করে তাদেরকে সেখানে নিয়ে হত্যা করা হলো। আল্লাহ্হ্ দুশমন হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাব, কা'ব ইব্‌ন আসাদ প্রমুখ নেতৃবর্গও তাদের মধ্যে ছিল। তাদের সর্বমোট সংখ্যা ছিল ছয়শ' বা সাতশ'। যারা তাদের সংখ্যা আরও বেশী মনে করেন, তাদের মতে তারা ছিল আটশ' থেকে নয়শ'-এর মাঝামাঝি।
তাদেরকে যখন দলে দলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তারা দলপতি কা'ব ইব্‌ন আসাদকে জিজ্ঞেস করে, হে কা'ব! আমাদের কি করা হবে বলে আপনি মনে করেন? সে বলল: তোমরা কি সব জায়গাতেই বোকা হয়েই থাকবে? তোমরা কি দেখছ না, নকীব অবিরাম ডেকেই যাচ্ছে? যাকে নেওয়া হচ্ছে, সে আর ফিরছে না? আল্লাহ্র কসম! সকলকে হত্যা করা হবে। এভাবে তাদেরকে সমূলে খতম করে দেওয়া হলো।
আল্লাহর দুশমন হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাবকেও আনা হলো। তার পরিধানে ছিল ফুক্বাহী বস্ত্র। ইব্‌ন হিশাম বলেন: ফুক্বাহী হচ্ছে এক প্রকার চাদর। সে তার পোশাকটি সব জায়গা থেকে কয়েক আংগুল করে ফুটো করে রেখেছিল, যাতে তার থেকে সেটা খুলে নেওয়া না হয়। তার হাত ছিল ঘাড়ের সাথে বাঁধা। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে দেখামাত্র সে বলে উঠলো: আল্লাহ্র কসম! তোমার দুশমনীর কারণে আমি মোটেই অনুতপ্ত নই। তবে আল্লাহকে যে ত্যাগ করে তার ধ্বংস অনিবার্য। এরপর সে উপস্থিত লোকদের সম্বোধন করে বললো, হে জনমণ্ডলী! অসুবিধার কিছু নেই এটা আল্লাহর ফয়সালা। বনূ ইসরাঈলের জন্য আল্লাহ্ তা'আলা এ পরিণতি ও হত্যাকাণ্ড নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন। এই বলে সে বসে পড়লো এবং তার শিরশ্ছেদ করা হলো।
জাবাল ইব্‌ন জাওয়াল ছা'লাবী বলেন:
لعمرك ما لام ابن اخطب نفسه * ولكنه من يخذل الله يخذل .
الجاهد حتى ابلغ النفس عذرها * وقلقل يبغى العز كل مقلقل
তোমার জীবনের কসম! আখতাব পুত্র নিজেকে দোষারোপ করেনি। বস্তুত যে আল্লাহকে পরিত্যাগ করে সেও পরিত্যাক্ত হয়।
সে সংগ্রাম করেছে এবং নিজের দায়িত্ব পূর্ণ করেছে, সে সম্মান ও মর্যাদা হাসিলের জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্‌ন জা'ফর ইব্‌ন যুবায়র উরওয়া ইব্‌ন যুবায়র (রা)-এর সূত্রে উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওদের নারীদের মধ্যে মাত্র একজনকেই হত্যা করা হয়েছিল। আয়েশা (রা) বলেন আল্লাহর কসম! সে স্ত্রীলোকটি আমার কাছে বসে কথাবার্তা বলছিল এবং হেসে লুটোপুটি খাচ্ছিল। অথচ তখন তার আপন জনদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনার বাজারে হত্যা করছিলেন। সহসা ঘোষক তার নাম ধরে ডাক দিল। সে বলল আমাকে হত্যা করা হবে। বললাম কেন? সে বলল: একটা কাণ্ড করেছি বলে। এরপর নেওয়া হলো এবং হত্যা করা হলো। আয়েশা (রা) বলতেন: আল্লাহ্র কসম! সে বিস্ময়ের কথা আমি কখনও ভুলব না। কি খোশ মিজায, ও হাসি ফুর্তিতে ভরপুর। অথচ সে জানতো তাকে হত্যা করা হবে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: এই সে স্ত্রীলোক, যে যাঁতা নিক্ষেপ করে খাল্লাদ ইব্‌ন সুওয়ায়দকে হত্যা করেছিল।

টিকাঃ
১. তাঁর নাম ছিল-কায়সা। তিনি আগে মুসায়লামা কায্যাবের স্ত্রী ছিলেন। পরে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমির (রা)-এর সংগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যুবায়র ইব্‌ন বাতা কুরাযীর ঘটনা

📄 যুবায়র ইব্‌ন বাতা কুরাযীর ঘটনা


ইবন ইসহাক বলেন: ইব্‌ন শিহাব যুহরী, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, একদা সাবিত ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন শাম্‌মাস (রা) যুবায়র ইব্‌ন বাতা কুরাযীর কাছে আসেন। তার কুনিয়াত ছিল আবূ আবদুর রহমান। সে জাহিলী যুগে একবার সাবিত ইব্‌ন কায়সের প্রতি অনুগ্রহ করেছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: যুবায়রের এক বংশধর আমার কাছে বলেছে যে, সে অনুগ্রহ ছিল ঐতিহাসিক বু'আছ যুদ্ধকালে। যুবায়র তাকে পাঁকড়াও করে তার মাথার অগ্রভাগের চুল কামিয়ে দেয় এবং তাকে হত্যা না করে ছেড়ে দেয়।
বনু কুরায়যার এই হত্যাকাণ্ডের সময় সাবিত (রা) এসে যুবায়রের সংগে সাক্ষাৎ করেন। তখন তিনি ছিলেন অশীতিপর বৃদ্ধ। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আবূ আবদুর রহমান। তুমি কি আমাকে চেন? যুবায়র বললেন তোমার মত ব্যক্তিকে আমার মত লোক কি ভুলতে পারে?
সাবিত (রা) বললেন: আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছিলে আমি তার প্রতিদান দিতে চাচ্ছি। যুবায়র বললেন: মহৎ লোকেরা কাজের বদলা দিয়ে থাকেন।
এরপর সাবিত ইব্‌ন কায়স (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে সাক্ষাৎ করে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমার উপর যুবায়রের একটা অনুগ্রহ আছে। আমি তার বিনিময় দিতে চাই। সুতরাং আপনি তাকে আমার হাতে ছেড়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তাকে তোমার হাতে সোপর্দ করলাম। এরপর তিনি যুবায়রের কাছে ছুটে এসে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ্-(সা)-এর কাছ থেকে তোমাকে চেয়ে নিয়েছি। অতএব তুমি এখন মুক্ত।
যুবায়র বললেন: আমি বয়ঃবৃদ্ধ মানুষ, পরিবার-পরিজন নেই, আমার বেঁচে থেকে লাভ? তখন সাবিত (রা) আবার রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে চলে গেলেন। বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। যুবায়রের স্ত্রী-পুত্রকেও আপনি আমার হাতে সমর্পণ করুন। তিনি বললেন: তাদেরকেও তোমার দায়িত্বে দিলাম। এ খবর নিয়ে সাবিত (রা) যুবায়রের কাছে গেলেন। বললেন: হে যুবায়র! তোমার স্ত্রী-পুত্রকেও রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। এখন তারা তোমার।
যুবায়র বললেন: হিজায ভূমিতে একটা পরিবার বাস করবে, আর তাদের কোন সম্পত্তি থাকবে না, তা হলে তারা বাঁচবে কি করে? সাবিত (রা) আবারও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ছুটে গিয়ে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! তার সহায়-সম্পত্তি? তিনি বললেন: তাও তোমার।
সাবিত (রা) যুবায়রের কাছে গিয়ে বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমার সহায়-সম্পত্তিও আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। এখন তাও তোমার।
যুবায়র বললেন: হে সাবিত! সেই যে চীনা আয়নার মত যার চেহারা, গোত্রের কুমারীরা যাতে নিজেদের চেহারা দেখার জন্য ভীড় করতো—সেই কা'ব আসাদের কি অবস্থা? সাবিত (রা) বললেন: তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এরপর যুবায়র জিজ্ঞাসা করলেন: আচ্ছা, সর্বজনবিদিত নেতা হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাবের খবর কি? সাবিত (রা) জবাব দিলেন: তাকেও হত্যা করা হয়েছে। এরপর যুবায়র বললেন: আয্যাল ইব্‌ন্ সামাইলের ভাগ্যে কি ঘটেছে? সে থাকতো আমাদের অগ্রবাহিনীর অধিনায়ক, যখন আমরা আক্রমণ করতাম, আর যখন আমরা পালাতাম, তখন সে পশ্চাতে থেকে আমাদের পাহারা দিত।
সাবিত (রা) বললেন: তাকেও হত্যা করা হয়েছে। তখন যুবায়র বললেন: বল তো দুই জোটের কি অবস্থা? অর্থাৎ বনু কা'ব ইব্‌ন কুরায়যা ও বনু আমর ইব্‌ন কুরায়যা।
সাবিত (রা) বললেন: তারাও সকলে নিহত হয়েছে।
যুবায়র বললেন: তা হলে হে সাবিত! তোমার প্রতি আমার অনুগ্রহের বদলে আমি তোমার কাছে একটাই কৃপা ভিক্ষা করি। তুমি আমাকেও তাদের কাছে পাঠিয়ে দাও। কসম আল্লাহ্! তাদের পরে বেঁচে থাকার কোন সার্থকতা নেই। সে আরো বললেন:
ফমা আনা بصابر الله فتلة دلو ناضح حتى القى الاحبة
অর্থাৎ কসম আল্লাহ্! আমার প্রিয়জনদের সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের বিচ্ছেদ এতটুকু সময়ও সইতে পারব না, যে সময় একটি বালতির পানি পাত্রে ঢালতে ব্যয় হয়। যুবায়রের একথা শুনে সাবিত (রা) তার দিকে অগ্রসর হলেন এবং তার গর্দান উড়িয়ে দিলেন।
প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হওয়ার তার এ আকুলতার কথা শুনে আবু বকর সিদ্দীক (রা) বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! সে জাহান্নামের আগুনে তাদের সাথে স্থায়ীভাবে মিলিত হবে।
ইবন হিশাম বলেন: যুবায়রের উক্তি فتلة دلو ناضح এর স্থলে قبله دلو ناضع ও বর্ণিত আছে—খুহায়র ইব্‌ন আবূ সুলমা তার একটি কবিতায় শব্দটিকে এভাবে ব্যবহার করেছেন:
وقابل يتغنى كلما قدرت * على العراقي يداه قائما دفقا .
ইব্‌ন হিশাম বলেন, অন্য বর্ণনায় আছে وقابل يتلقى অর্থাৎ কুয়া হতে পানি বণ্টনকারীর বালতি হতে যে ব্যক্তি পানি গ্রহণ করে।

ইবন ইসহাক বলেন: ইব্‌ন শিহাব যুহরী, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, একদা সাবিত ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন শাম্‌মাস (রা) যুবায়র ইব্‌ন বাতা কুরাযীর কাছে আসেন। তার কুনিয়াত ছিল আবূ আবদুর রহমান। সে জাহিলী যুগে একবার সাবিত ইব্‌ন কায়সের প্রতি অনুগ্রহ করেছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: যুবায়রের এক বংশধর আমার কাছে বলেছে যে, সে অনুগ্রহ ছিল ঐতিহাসিক বু'আছ যুদ্ধকালে। যুবায়র তাকে পাঁকড়াও করে তার মাথার অগ্রভাগের চুল কামিয়ে দেয় এবং তাকে হত্যা না করে ছেড়ে দেয়।
বনু কুরায়যার এই হত্যাকাণ্ডের সময় সাবিত (রা) এসে যুবায়রের সংগে সাক্ষাৎ করেন। তখন তিনি ছিলেন অশীতিপর বৃদ্ধ। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আবূ আবদুর রহমান। তুমি কি আমাকে চেন? যুবায়র বললেন তোমার মত ব্যক্তিকে আমার মত লোক কি ভুলতে পারে?
সাবিত (রা) বললেন: আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছিলে আমি তার প্রতিদান দিতে চাচ্ছি। যুবায়র বললেন: মহৎ লোকেরা কাজের বদলা দিয়ে থাকেন।
এরপর সাবিত ইব্‌ন কায়স (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে সাক্ষাৎ করে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমার উপর যুবায়রের একটা অনুগ্রহ আছে। আমি তার বিনিময় দিতে চাই। সুতরাং আপনি তাকে আমার হাতে ছেড়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তাকে তোমার হাতে সোপর্দ করলাম। এরপর তিনি যুবায়রের কাছে ছুটে এসে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ্-(সা)-এর কাছ থেকে তোমাকে চেয়ে নিয়েছি। অতএব তুমি এখন মুক্ত।
যুবায়র বললেন: আমি বয়ঃবৃদ্ধ মানুষ, পরিবার-পরিজন নেই, আমার বেঁচে থেকে লাভ? তখন সাবিত (রা) আবার রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে চলে গেলেন। বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। যুবায়রের স্ত্রী-পুত্রকেও আপনি আমার হাতে সমর্পণ করুন। তিনি বললেন: তাদেরকেও তোমার দায়িত্বে দিলাম। এ খবর নিয়ে সাবিত (রা) যুবায়রের কাছে গেলেন। বললেন: হে যুবায়র! তোমার স্ত্রী-পুত্রকেও রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। এখন তারা তোমার।
যুবায়র বললেন: হিজায ভূমিতে একটা পরিবার বাস করবে, আর তাদের কোন সম্পত্তি থাকবে না, তা হলে তারা বাঁচবে কি করে? সাবিত (রা) আবারও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ছুটে গিয়ে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! তার সহায়-সম্পত্তি? তিনি বললেন: তাও তোমার।
সাবিত (রা) যুবায়রের কাছে গিয়ে বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমার সহায়-সম্পত্তিও আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। এখন তাও তোমার।
যুবায়র বললেন: হে সাবিত! সেই যে চীনা আয়নার মত যার চেহারা, গোত্রের কুমারীরা যাতে নিজেদের চেহারা দেখার জন্য ভীড় করতো—সেই কা'ব আসাদের কি অবস্থা? সাবিত (রা) বললেন: তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এরপর যুবায়র জিজ্ঞাসা করলেন: আচ্ছা, সর্বজনবিদিত নেতা হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাবের খবর কি? সাবিত (রা) জবাব দিলেন: তাকেও হত্যা করা হয়েছে। এরপর যুবায়র বললেন: আয্যাল ইব্‌ন্ সামাইলের ভাগ্যে কি ঘটেছে? সে থাকতো আমাদের অগ্রবাহিনীর অধিনায়ক, যখন আমরা আক্রমণ করতাম, আর যখন আমরা পালাতাম, তখন সে পশ্চাতে থেকে আমাদের পাহারা দিত।
সাবিত (রা) বললেন: তাকেও হত্যা করা হয়েছে। তখন যুবায়র বললেন: বল তো দুই জোটের কি অবস্থা? অর্থাৎ বনু কা'ব ইব্‌ন কুরায়যা ও বনু আমর ইব্‌ন কুরায়যা।
সাবিত (রা) বললেন: তারাও সকলে নিহত হয়েছে।
যুবায়র বললেন: তা হলে হে সাবিত! তোমার প্রতি আমার অনুগ্রহের বদলে আমি তোমার কাছে একটাই কৃপা ভিক্ষা করি। তুমি আমাকেও তাদের কাছে পাঠিয়ে দাও। কসম আল্লাহ্! তাদের পরে বেঁচে থাকার কোন সার্থকতা নেই। সে আরো বললেন:
ফমা আনা بصابر الله فتلة دلو ناضح حتى القى الاحبة
অর্থাৎ কসম আল্লাহ্! আমার প্রিয়জনদের সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের বিচ্ছেদ এতটুকু সময়ও সইতে পারব না, যে সময় একটি বালতির পানি পাত্রে ঢালতে ব্যয় হয়। যুবায়রের একথা শুনে সাবিত (রা) তার দিকে অগ্রসর হলেন এবং তার গর্দান উড়িয়ে দিলেন।
প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হওয়ার তার এ আকুলতার কথা শুনে আবু বকর সিদ্দীক (রা) বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! সে জাহান্নামের আগুনে তাদের সাথে স্থায়ীভাবে মিলিত হবে।
ইবন হিশাম বলেন: যুবায়রের উক্তি فتلة دلو ناضح এর স্থলে قبله دلو ناضع ও বর্ণিত আছে—খুহায়র ইব্‌ন আবূ সুলমা তার একটি কবিতায় শব্দটিকে এভাবে ব্যবহার করেছেন:
وقابل يتغنى كلما قدرت * على العراقي يداه قائما دفقا .
ইব্‌ন হিশাম বলেন, অন্য বর্ণনায় আছে وقابل يتلقى অর্থাৎ কুয়া হতে পানি বণ্টনকারীর বালতি হতে যে ব্যক্তি পানি গ্রহণ করে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আতীয়া কুরাযী ও রিফা'আ ইবন সামাইলের ঘটনা

📄 আতীয়া কুরাযী ও রিফা'আ ইবন সামাইলের ঘটনা


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের সকল প্রাপ্ত বয়স্ককে হত্যা করার নির্দেশ দেন। আমার নিকট শুবা ইবন হাজ্জাজ (র) আবদুল মালিক ইবন উমায়র (রা) সূত্রে আতিয়া কুরাযী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনু কুরায়যার সকল প্রাপ্ত বয়স্ককেই হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি ছিলাম অপরিণত বয়সের। তাই আমাকে চেড়ে দেওয়া হয়।
ইবন ইসহাক বলেন: বনূ 'আদী ইব্‌ন নাজ্জার গোত্রের আইউব ইব্‌ন আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ সা'সাআ আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, মুনযিরের মাতা ও সালীত ইব্‌ন কায়সের বোন সালমা বিন্ত কায়স ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর একজন খালা। তিনি উভয় কিবলার দিকেই ফিরে সালাত আদায় করেছেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট নারীদের বায়আতে শরীক ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট হতে রিফা'আ ইব্‌ন সামাইল কুরাযীকে চেয়ে নিয়েছিলেন। রিফা'আ ছিল প্রাপ্ত বয়স্ক। সে সালমার আশ্রয় নিয়েছিল এবং সে সালমার পরিবারবর্গের নিকট পরিচিত ছিল। সালমা (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনার প্রতি আমার পিতামাতা কুরবান হোক। আপনি মেহেরবানী করে রিফা'আকে আমাকে দিয়ে দেন। সে বলছে শ্রীঘ্রই সে সালাত আদায় করবে এবং উটের গোশত খাবে। রাবী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে সালমার হাতে অর্পণ করলেন। এভাবে সালমা (রা) তার প্রাণ রক্ষা করলেন।

ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের সকল প্রাপ্ত বয়স্ককে হত্যা করার নির্দেশ দেন। আমার নিকট শুবা ইবন হাজ্জাজ (র) আবদুল মালিক ইবন উমায়র (রা) সূত্রে আতিয়া কুরাযী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনু কুরায়যার সকল প্রাপ্ত বয়স্ককেই হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি ছিলাম অপরিণত বয়সের। তাই আমাকে চেড়ে দেওয়া হয়।
ইবন ইসহাক বলেন: বনূ 'আদী ইব্‌ন নাজ্জার গোত্রের আইউব ইব্‌ন আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ সা'সাআ আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, মুনযিরের মাতা ও সালীত ইব্‌ন কায়সের বোন সালমা বিন্ত কায়স ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর একজন খালা। তিনি উভয় কিবলার দিকেই ফিরে সালাত আদায় করেছেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট নারীদের বায়আতে শরীক ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট হতে রিফা'আ ইব্‌ন সামাইল কুরাযীকে চেয়ে নিয়েছিলেন। রিফা'আ ছিল প্রাপ্ত বয়স্ক। সে সালমার আশ্রয় নিয়েছিল এবং সে সালমার পরিবারবর্গের নিকট পরিচিত ছিল। সালমা (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনার প্রতি আমার পিতামাতা কুরবান হোক। আপনি মেহেরবানী করে রিফা'আকে আমাকে দিয়ে দেন। সে বলছে শ্রীঘ্রই সে সালাত আদায় করবে এবং উটের গোশত খাবে। রাবী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে সালমার হাতে অর্পণ করলেন। এভাবে সালমা (রা) তার প্রাণ রক্ষা করলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনু কুরায়ষার গনীমতের মাল বণ্টন প্রসংগে

📄 বনু কুরায়ষার গনীমতের মাল বণ্টন প্রসংগে


ইবন ইসহাক বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) মুসালমানদের মাঝে বনু কুরায়যার ধন-সম্পদ এবং নারী ও শিশুদের বণ্টন করে দেন। তিনি অশ্বারোহী ও পদাতিকের অংশ সেদিনই স্থির করেন। সর্বমোট গনীমত হতে তিনি এক-পঞ্চমাংশ। (খুমুস) বের করে নেন। অশ্বারোহীকে দিয়েছিলেন তিন ভাগ-এক ভাগ আরোহীর ও দুইভাগ অশ্বের। আর পদাতিককে অর্থাৎ যার ঘোড়া ছিল না, তাকে দেওয়া হয় এক ভাগ। বনু কুরায়যা অভিযানে মোট ঘোড়ার সংখ্যা ছিল ৩৬টি। এটাই সর্বপ্রথম যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, যা সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বণ্টন করা হয় এবং তা থেকে খুমুস পৃথক করা হয়। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) গনীমতের মাল বণ্টনের এ নিয়মই অনুসরণ করেন।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনু কুরায়যার কিছু সংখ্যক বন্দী নিয়ে আবদুল আশহাল গোত্রের লোক সা'দ ইব্‌ন যায়দ আনসারী (রা)-কে নাজদে প্রেরণ করেন। তিনি সেখানে তাদের বিক্রি করে ঘোড়া ও সমরাস্ত্র কিনে আনেন।

ইবন ইসহাক বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) মুসালমানদের মাঝে বনু কুরায়যার ধন-সম্পদ এবং নারী ও শিশুদের বণ্টন করে দেন। তিনি অশ্বারোহী ও পদাতিকের অংশ সেদিনই স্থির করেন। সর্বমোট গনীমত হতে তিনি এক-পঞ্চমাংশ। (খুমুস) বের করে নেন। অশ্বারোহীকে দিয়েছিলেন তিন ভাগ-এক ভাগ আরোহীর ও দুইভাগ অশ্বের। আর পদাতিককে অর্থাৎ যার ঘোড়া ছিল না, তাকে দেওয়া হয় এক ভাগ। বনু কুরায়যা অভিযানে মোট ঘোড়ার সংখ্যা ছিল ৩৬টি। এটাই সর্বপ্রথম যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, যা সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বণ্টন করা হয় এবং তা থেকে খুমুস পৃথক করা হয়। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) গনীমতের মাল বণ্টনের এ নিয়মই অনুসরণ করেন।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনু কুরায়যার কিছু সংখ্যক বন্দী নিয়ে আবদুল আশহাল গোত্রের লোক সা'দ ইব্‌ন যায়দ আনসারী (রা)-কে নাজদে প্রেরণ করেন। তিনি সেখানে তাদের বিক্রি করে ঘোড়া ও সমরাস্ত্র কিনে আনেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00