📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আমর ইব্‌ন সূ'দা কুরাযীর ঘটনা

📄 আমর ইব্‌ন সূ'দা কুরাযীর ঘটনা


বনু কুরায়যার আমর ইব্‌ন সু'দা সে রাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রহরীদের সামনে দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিল। প্রহরীদের নেতা ছিলেন মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা)। তিনি আমরকে যেতে দেখে পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন। সে নিজ পরিচয় দিল। উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে বিশ্বাসঘাতকতায় সে বনু কুরায়যার সমর্থন করেনি, বরং প্রতিবাদ করে বলেছিল: আমি কস্মিনকালেও মুহাম্মদের সংগে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না। মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা) তাকে চিনতে পেরে বলে উঠেন, হে আল্লাহ্! মহৎ লোকদের ত্রুটি মার্জনার সুযোগ হতে আমাকে বঞ্চিত কর না। এই বলে তিনি তাকে ছেড়ে দেন। এরপর সে ঐ রাতে মদীনায় মসজিদে নববীর দরজা পর্যন্ত যায়। তারপর উধাও হয়ে যায়। আজও কেউ বলতে পারে না সে কোথায় গেছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে তার কথা বলা হলে তিনি মন্তব্য করেন: সে বিশ্বাস রক্ষা করেছিল বলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে নিষ্কৃতি দেন। অপর এক বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আত্মসমর্পণ করার পর বনু কুরায়যার যাদেরকে বাঁধা হয়েছিল তাদের মধ্যে সেও একজন ছিল। পরে দড়িটা পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু সে কোথায় উধাও হয় তা কেউ জানে না। একথা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কানে গেলে তিনি উক্ত মন্তব্য করেন। আল্লাহ্ তা'আলাই ভাল জানেন প্রকৃত অবস্থা কি।

বনু কুরায়যার আমর ইব্‌ন সু'দা সে রাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রহরীদের সামনে দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিল। প্রহরীদের নেতা ছিলেন মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা)। তিনি আমরকে যেতে দেখে পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন। সে নিজ পরিচয় দিল। উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে বিশ্বাসঘাতকতায় সে বনু কুরায়যার সমর্থন করেনি, বরং প্রতিবাদ করে বলেছিল: আমি কস্মিনকালেও মুহাম্মদের সংগে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না। মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা) তাকে চিনতে পেরে বলে উঠেন, হে আল্লাহ্! মহৎ লোকদের ত্রুটি মার্জনার সুযোগ হতে আমাকে বঞ্চিত কর না। এই বলে তিনি তাকে ছেড়ে দেন। এরপর সে ঐ রাতে মদীনায় মসজিদে নববীর দরজা পর্যন্ত যায়। তারপর উধাও হয়ে যায়। আজও কেউ বলতে পারে না সে কোথায় গেছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে তার কথা বলা হলে তিনি মন্তব্য করেন: সে বিশ্বাস রক্ষা করেছিল বলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে নিষ্কৃতি দেন। অপর এক বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আত্মসমর্পণ করার পর বনু কুরায়যার যাদেরকে বাঁধা হয়েছিল তাদের মধ্যে সেও একজন ছিল। পরে দড়িটা পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু সে কোথায় উধাও হয় তা কেউ জানে না। একথা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কানে গেলে তিনি উক্ত মন্তব্য করেন। আল্লাহ্ তা'আলাই ভাল জানেন প্রকৃত অবস্থা কি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনু কুরায়যার ব্যাপারে সা'দ (রা)-এর ফয়সালা

📄 বনু কুরায়যার ব্যাপারে সা'দ (রা)-এর ফয়সালা


রাবী বলেন, তারা সকলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আত্মসমর্পণ করলো। আওস গোত্র দ্রুত ছুটে এসে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! এরা আমাদের মিত্র খাযরাযের নয়। তাদের মিত্রদের সাথে অতীতে আপনি যে আচরণ করেছেন, তা সুবিদিত। উল্লেখ্য বনূ কায়নুকা গোত্র ছিল খাযরাজ গোত্রের মিত্র। এর আগে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে অবরোধ করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তারা আত্মসমর্পণ করে। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায় ইব্‌ন সাল্‌ল তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে সুপারিশ করায়, তিনি তাদের মাফ করেছেন।
আওস গোত্রের কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তোমাদের গোত্রের একজনই যদি তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়, তবে তোমরা খুশী হবে তো? তারা বললেন: হ্যাঁ, তিনি বললেন, সে তোমাদের সা'দ ইব্‌ন মু'আয। তাঁর উপরই ফয়সালার ভার অর্পণ করা হলো।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) সা'দ ইব্‌ন মু'আয (রা)-কে যিনি খন্দকের যুদ্ধে আহত হয়েছিলেন, আসলাম গোত্রের এক মহিয়সী নারী রুফায়দার তাঁবুতে রেখেছিলেন। মসজিদে নববীর কাছে: তার তাঁবু খাটান ছিল। সেখানে তিনি আহতদের সেবা করতেন। আর্ত মুসলিমদের যত্ন করাকে তিনি সওয়াবের অসিলা বলে মনে করতেন। খন্দকের যুদ্ধে সা'দ (রা) তীরবিদ্ধ হলে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর লোকদেরকে বলেছিলেন: সা'দকে রুফায়দার তাঁবুতে রাখ। তাহলে আমার কাছে হবে। আমি সহজে তাঁর খোঁজ-খবর নিতে পারব।
রাসূলুল্লাহ্ যখন সা'দ (রা)-এর উপর বনু কুরায়যার ফয়সালার ভার ন্যস্ত করলেন, তখন তাঁর গোত্রের লোক এসে তাঁকে গাধার পিঠে সওয়ার করিয়ে নিয়ে গেল। তারা গাধাটির পিঠে নরম চামড়ার গদি এঁটে দিয়েছিল। তিনি ছিলেন মোটা তাজা সুদর্শন পুরুষ। তারা তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হলো। তারা তাঁকে বলছিল: হে আবু আমর! আপন মিত্রদের প্রতি সদয় হও।' রাসূলুল্লাহ্ (সা) এজন্যই তোমার উপর ফয়সালার দায়িত্ব দিয়েছেন, যাতে তুমি তাদের প্রতি সদয় আচরণ কর। তারা যখন তার সংগে বেশী পীড়াপীড়ি শুরু করে দিল, তখন তিনি বললেন: আমি সা'দ তো এখন এমন এক অবস্থায় আছি, যখন আল্লাহ্র ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দা আমার গায়ে লাগে না। একথা শুনে তার গোত্রের যারা তাঁর সংগে ছিল, তাদের অনেকে বনু আবদুল আশহাল গোত্রের কাছে চলে গেল। সা'দের উক্তি দ্বারা তারা বুঝে ফেলল বনু কুরায়জার মৃত্যু অবধাবিত। সা'দ পৌঁছার আগেই তারা তাদের কাছে সে কথা প্রাচার করে দিল।
সা'দ (রা) যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও মুসলিমদের কাছে পৌঁছলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : قوموا إلى سيدكم উঠে তোমাদের নেতাকে স্বাগত জানাও। কুরায়শ মুহাজিরগণ বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এ নির্দেশ আনসারদের প্রতি। আনসারগণ বললেন: বরং তিনি সকলকে বুঝিয়েছেন। সুতরাং তারা সকলে উঠে তাকে স্বাগত জানালেন। তাঁরা বললেন: হে আবূ আমর! রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমার মিত্রদের ব্যাপারে ফয়সালা দেওয়ার ভার তোমার উপর ন্যস্ত করেছেন।
সা'দ বললেন: তোমরা কি আল্লাহ্র নামে এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ যে, আমার ফয়সালাই চূড়ান্ত বিবেচিত হবে। তারা বলল : হ্যাঁ। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যে দিকে উপবিষ্ট ছিলেন, সেদিকে ইশারা করে বললেন (সমীহের কারণে তিনি তাঁর দিকে তাকাতে পারছিলেন না) : তিনিও কি এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন? রাসূলুল্লাহ্ (সা) জবাব দিলেন: হ্যাঁ আমাদেরও এই প্রতিশ্রুতি। তখন সা'দ (রা) তাঁর রায় ঘোষণা করলেন: সকল পুরুষকে হত্যা করা হবে, ধন-সম্পদ গনীতমরূপে বণ্টন করা হবে এবং নারী ও শিশুদের গোলাম-বাঁদীতে পরিণত করা হবে।
ইবন ইসহাক বলেন: আসিম ইব্‌ন উমর ইব্‌ন কাতাদা (র) আবদুর রহমান ইব্‌ন আমর ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন মু'আয (র)-এর সূত্রে আলকামা ইব্‌ন ওয়াক্কাস লায়সী (র) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সা'দ (রা)-এর ফয়সালা শুনে বললেন: তোমার ফয়সালা সপ্তাকাশের উপরে ঘোষিত আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী হয়েছে।
ইবন হিশাম বলেন: আমার কাছে নির্ভরযোগ্য জনৈক আলিম বর্ণনা করেছেন যে, বনূ কুরায়যাকে অবরোধ করে রাখা অবস্থায় আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা) চিৎকার করে বললেন, হে ঈমানদার সেনাদল! আমরা হামযার মত শাহাদতের পেয়ালা পান করব, অথবা ওদের দুর্গ জয় করব। এই বলে তিনি ও যুবায়র ইব্‌ন আওয়াম সামনে অগ্রসর হলেন। তখন ইয়াহুদীরা বলল: হে মুহাম্মদ! আমরা সা'দ ইব্‌ন মু'আয়ের ফয়সালা অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করছি।

রাবী বলেন, তারা সকলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আত্মসমর্পণ করলো। আওস গোত্র দ্রুত ছুটে এসে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! এরা আমাদের মিত্র খাযরাযের নয়। তাদের মিত্রদের সাথে অতীতে আপনি যে আচরণ করেছেন, তা সুবিদিত। উল্লেখ্য বনূ কায়নুকা গোত্র ছিল খাযরাজ গোত্রের মিত্র। এর আগে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে অবরোধ করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তারা আত্মসমর্পণ করে। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায় ইব্‌ন সাল্‌ল তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে সুপারিশ করায়, তিনি তাদের মাফ করেছেন।
আওস গোত্রের কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তোমাদের গোত্রের একজনই যদি তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়, তবে তোমরা খুশী হবে তো? তারা বললেন: হ্যাঁ, তিনি বললেন, সে তোমাদের সা'দ ইব্‌ন মু'আয। তাঁর উপরই ফয়সালার ভার অর্পণ করা হলো।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) সা'দ ইব্‌ন মু'আয (রা)-কে যিনি খন্দকের যুদ্ধে আহত হয়েছিলেন, আসলাম গোত্রের এক মহিয়সী নারী রুফায়দার তাঁবুতে রেখেছিলেন। মসজিদে নববীর কাছে: তার তাঁবু খাটান ছিল। সেখানে তিনি আহতদের সেবা করতেন। আর্ত মুসলিমদের যত্ন করাকে তিনি সওয়াবের অসিলা বলে মনে করতেন। খন্দকের যুদ্ধে সা'দ (রা) তীরবিদ্ধ হলে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর লোকদেরকে বলেছিলেন: সা'দকে রুফায়দার তাঁবুতে রাখ। তাহলে আমার কাছে হবে। আমি সহজে তাঁর খোঁজ-খবর নিতে পারব।
রাসূলুল্লাহ্ যখন সা'দ (রা)-এর উপর বনু কুরায়যার ফয়সালার ভার ন্যস্ত করলেন, তখন তাঁর গোত্রের লোক এসে তাঁকে গাধার পিঠে সওয়ার করিয়ে নিয়ে গেল। তারা গাধাটির পিঠে নরম চামড়ার গদি এঁটে দিয়েছিল। তিনি ছিলেন মোটা তাজা সুদর্শন পুরুষ। তারা তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হলো। তারা তাঁকে বলছিল: হে আবু আমর! আপন মিত্রদের প্রতি সদয় হও।' রাসূলুল্লাহ্ (সা) এজন্যই তোমার উপর ফয়সালার দায়িত্ব দিয়েছেন, যাতে তুমি তাদের প্রতি সদয় আচরণ কর। তারা যখন তার সংগে বেশী পীড়াপীড়ি শুরু করে দিল, তখন তিনি বললেন: আমি সা'দ তো এখন এমন এক অবস্থায় আছি, যখন আল্লাহ্র ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দা আমার গায়ে লাগে না। একথা শুনে তার গোত্রের যারা তাঁর সংগে ছিল, তাদের অনেকে বনু আবদুল আশহাল গোত্রের কাছে চলে গেল। সা'দের উক্তি দ্বারা তারা বুঝে ফেলল বনু কুরায়জার মৃত্যু অবধাবিত। সা'দ পৌঁছার আগেই তারা তাদের কাছে সে কথা প্রাচার করে দিল।
সা'দ (রা) যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও মুসলিমদের কাছে পৌঁছলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : قوموا إلى سيدكم উঠে তোমাদের নেতাকে স্বাগত জানাও। কুরায়ש মুহাজিরগণ বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এ নির্দেশ আনসারদের প্রতি। আনসারগণ বললেন: বরং তিনি সকলকে বুঝিয়েছেন। সুতরাং তারা সকলে উঠে তাকে স্বাগত জানালেন। তাঁরা বললেন: হে আবূ আমর! রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমার মিত্রদের ব্যাপারে ফয়সালা দেওয়ার ভার তোমার উপর ন্যস্ত করেছেন।
সা'দ বললেন: তোমরা কি আল্লাহ্র নামে এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ যে, আমার ফয়সালাই চূড়ান্ত বিবেচিত হবে। তারা বলল : হ্যাঁ। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যে দিকে উপবিষ্ট ছিলেন, সেদিকে ইশারা করে বললেন (সমীহের কারণে তিনি তাঁর দিকে তাকাতে পারছিলেন না) : তিনিও কি এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন? রাসূলুল্লাহ্ (সা) জবাব দিলেন: হ্যাঁ আমাদেরও এই প্রতিশ্রুতি। তখন সা'দ (রা) তাঁর রায় ঘোষণা করলেন: সকল পুরুষকে হত্যা করা হবে, ধন-সম্পদ গনীতমরূপে বণ্টন করা হবে এবং নারী ও শিশুদের গোলাম-বাঁদীতে পরিণত করা হবে।
ইবন ইসহাক বলেন: আসিম ইব্‌ন উমর ইব্‌ন কাতাদা (র) আবদুর রহমান ইব্‌ন আমর ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন মু'আয (র)-এর সূত্রে আলকামা ইব্‌ন ওয়াক্কাস লায়সী (র) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সা'দ (রা)-এর ফয়সালা শুনে বললেন: তোমার ফয়সালা সপ্তাকাশের উপরে ঘোষিত আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী হয়েছে।
ইবন হিশাম বলেন: আমার কাছে নির্ভরযোগ্য জনৈক আলিম বর্ণনা করেছেন যে, বনূ কুরায়যাকে অবরোধ করে রাখা অবস্থায় আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা) চিৎকার করে বললেন, হে ঈমানদার সেনাদল! আমরা হামযার মত শাহাদতের পেয়ালা পান করব, অথবা ওদের দুর্গ জয় করব। এই বলে তিনি ও যুবায়র ইব্‌ন আওয়াম সামনে অগ্রসর হলেন। তখন ইয়াহুদীরা বলল: হে মুহাম্মদ! আমরা সা'দ ইব্‌ন মু'আয়ের ফয়সালা অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করছি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাবের কতল

📄 হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাবের কতল


ইব্‌ন ইসহাক বলেন: তারা আত্মসমর্পণ করে দুর্গ হতে নেমে আসল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে মদীনাতে নাজ্জার গোত্রের হারিসের কন্যার' বাড়িতে বন্দী করে রাখলেন। এরপর. তিনি মদীনার বাজারে গেলেন। বর্তমানেও সেটাই মদীনার বাজার। সেখানে তিনি কয়েকটি গর্ত করলেন। তারপর এক এক দল করে তাদেরকে সেখানে নিয়ে হত্যা করা হলো। আল্লাহ্হ্ দুশমন হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাব, কা'ব ইব্‌ন আসাদ প্রমুখ নেতৃবর্গও তাদের মধ্যে ছিল। তাদের সর্বমোট সংখ্যা ছিল ছয়শ' বা সাতশ'। যারা তাদের সংখ্যা আরও বেশী মনে করেন, তাদের মতে তারা ছিল আটশ' থেকে নয়শ'-এর মাঝামাঝি।
তাদেরকে যখন দলে দলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তারা দলপতি কা'ব ইব্‌ন আসাদকে জিজ্ঞেস করে, হে কা'ব! আমাদের কি করা হবে বলে আপনি মনে করেন? সে বলল: তোমরা কি সব জায়গাতেই বোকা হয়েই থাকবে? তোমরা কি দেখছ না, নকীব অবিরাম ডেকেই যাচ্ছে? যাকে নেওয়া হচ্ছে, সে আর ফিরছে না? আল্লাহ্র কসম! সকলকে হত্যা করা হবে। এভাবে তাদেরকে সমূলে খতম করে দেওয়া হলো।
আল্লাহর দুশমন হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাবকেও আনা হলো। তার পরিধানে ছিল ফুক্বাহী বস্ত্র। ইব্‌ন হিশাম বলেন: ফুক্বাহী হচ্ছে এক প্রকার চাদর। সে তার পোশাকটি সব জায়গা থেকে কয়েক আংগুল করে ফুটো করে রেখেছিল, যাতে তার থেকে সেটা খুলে নেওয়া না হয়। তার হাত ছিল ঘাড়ের সাথে বাঁধা। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে দেখামাত্র সে বলে উঠলো: আল্লাহ্র কসম! তোমার দুশমনীর কারণে আমি মোটেই অনুতপ্ত নই। তবে আল্লাহকে যে ত্যাগ করে তার ধ্বংস অনিবার্য। এরপর সে উপস্থিত লোকদের সম্বোধন করে বললো, হে জনমণ্ডলী! অসুবিধার কিছু নেই এটা আল্লাহর ফয়সালা। বনূ ইসরাঈলের জন্য আল্লাহ্ তা'আলা এ পরিণতি ও হত্যাকাণ্ড নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন। এই বলে সে বসে পড়লো এবং তার শিরশ্ছেদ করা হলো।
জাবাল ইব্‌ন জাওয়াল ছা'লাবী বলেন:
لعمرك ما لام ابن اخطب نفسه * ولكنه من يخذل الله يخذل .
الجاهد حتى ابلغ النفس عذرها * وقلقل يبغى العز كل مقلقل
তোমার জীবনের কসম! আখতাব পুত্র নিজেকে দোষারোপ করেনি। বস্তুত যে আল্লাহকে পরিত্যাগ করে সেও পরিত্যাক্ত হয়।
সে সংগ্রাম করেছে এবং নিজের দায়িত্ব পূর্ণ করেছে, সে সম্মান ও মর্যাদা হাসিলের জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্‌ন জা'ফর ইব্‌ন যুবায়র উরওয়া ইব্‌ন যুবায়র (রা)-এর সূত্রে উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওদের নারীদের মধ্যে মাত্র একজনকেই হত্যা করা হয়েছিল। আয়েশা (রা) বলেন আল্লাহর কসম! সে স্ত্রীলোকটি আমার কাছে বসে কথাবার্তা বলছিল এবং হেসে লুটোপুটি খাচ্ছিল। অথচ তখন তার আপন জনদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনার বাজারে হত্যা করছিলেন। সহসা ঘোষক তার নাম ধরে ডাক দিল। সে বলল আমাকে হত্যা করা হবে। বললাম কেন? সে বলল: একটা কাণ্ড করেছি বলে। এরপর নেওয়া হলো এবং হত্যা করা হলো। আয়েশা (রা) বলতেন: আল্লাহ্র কসম! সে বিস্ময়ের কথা আমি কখনও ভুলব না। কি খোশ মিজায, ও হাসি ফুর্তিতে ভরপুর। অথচ সে জানতো তাকে হত্যা করা হবে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: এই সে স্ত্রীলোক, যে যাঁতা নিক্ষেপ করে খাল্লাদ ইব্‌ন সুওয়ায়দকে হত্যা করেছিল।

টিকাঃ
১. তাঁর নাম ছিল-কায়সা। তিনি আগে মুসায়লামা কায্যাবের স্ত্রী ছিলেন। পরে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমির (রা)-এর সংগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

ইব্‌ন ইসহাক বলেন: তারা আত্মসমর্পণ করে দুর্গ হতে নেমে আসল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে মদীনাতে নাজ্জার গোত্রের হারিসের কন্যার' বাড়িতে বন্দী করে রাখলেন। এরপর. তিনি মদীনার বাজারে গেলেন। বর্তমানেও সেটাই মদীনার বাজার। সেখানে তিনি কয়েকটি গর্ত করলেন। তারপর এক এক দল করে তাদেরকে সেখানে নিয়ে হত্যা করা হলো। আল্লাহ্হ্ দুশমন হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাব, কা'ব ইব্‌ন আসাদ প্রমুখ নেতৃবর্গও তাদের মধ্যে ছিল। তাদের সর্বমোট সংখ্যা ছিল ছয়শ' বা সাতশ'। যারা তাদের সংখ্যা আরও বেশী মনে করেন, তাদের মতে তারা ছিল আটশ' থেকে নয়শ'-এর মাঝামাঝি।
তাদেরকে যখন দলে দলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তারা দলপতি কা'ব ইব্‌ন আসাদকে জিজ্ঞেস করে, হে কা'ব! আমাদের কি করা হবে বলে আপনি মনে করেন? সে বলল: তোমরা কি সব জায়গাতেই বোকা হয়েই থাকবে? তোমরা কি দেখছ না, নকীব অবিরাম ডেকেই যাচ্ছে? যাকে নেওয়া হচ্ছে, সে আর ফিরছে না? আল্লাহ্র কসম! সকলকে হত্যা করা হবে। এভাবে তাদেরকে সমূলে খতম করে দেওয়া হলো।
আল্লাহর দুশমন হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাবকেও আনা হলো। তার পরিধানে ছিল ফুক্বাহী বস্ত্র। ইব্‌ন হিশাম বলেন: ফুক্বাহী হচ্ছে এক প্রকার চাদর। সে তার পোশাকটি সব জায়গা থেকে কয়েক আংগুল করে ফুটো করে রেখেছিল, যাতে তার থেকে সেটা খুলে নেওয়া না হয়। তার হাত ছিল ঘাড়ের সাথে বাঁধা। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে দেখামাত্র সে বলে উঠলো: আল্লাহ্র কসম! তোমার দুশমনীর কারণে আমি মোটেই অনুতপ্ত নই। তবে আল্লাহকে যে ত্যাগ করে তার ধ্বংস অনিবার্য। এরপর সে উপস্থিত লোকদের সম্বোধন করে বললো, হে জনমণ্ডলী! অসুবিধার কিছু নেই এটা আল্লাহর ফয়সালা। বনূ ইসরাঈলের জন্য আল্লাহ্ তা'আলা এ পরিণতি ও হত্যাকাণ্ড নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন। এই বলে সে বসে পড়লো এবং তার শিরশ্ছেদ করা হলো।
জাবাল ইব্‌ন জাওয়াল ছা'লাবী বলেন:
لعمرك ما لام ابن اخطب نفسه * ولكنه من يخذل الله يخذل .
الجاهد حتى ابلغ النفس عذرها * وقلقل يبغى العز كل مقلقل
তোমার জীবনের কসম! আখতাব পুত্র নিজেকে দোষারোপ করেনি। বস্তুত যে আল্লাহকে পরিত্যাগ করে সেও পরিত্যাক্ত হয়।
সে সংগ্রাম করেছে এবং নিজের দায়িত্ব পূর্ণ করেছে, সে সম্মান ও মর্যাদা হাসিলের জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইব্‌ন জা'ফর ইব্‌ন যুবায়র উরওয়া ইব্‌ন যুবায়র (রা)-এর সূত্রে উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওদের নারীদের মধ্যে মাত্র একজনকেই হত্যা করা হয়েছিল। আয়েশা (রা) বলেন আল্লাহর কসম! সে স্ত্রীলোকটি আমার কাছে বসে কথাবার্তা বলছিল এবং হেসে লুটোপুটি খাচ্ছিল। অথচ তখন তার আপন জনদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনার বাজারে হত্যা করছিলেন। সহসা ঘোষক তার নাম ধরে ডাক দিল। সে বলল আমাকে হত্যা করা হবে। বললাম কেন? সে বলল: একটা কাণ্ড করেছি বলে। এরপর নেওয়া হলো এবং হত্যা করা হলো। আয়েশা (রা) বলতেন: আল্লাহ্র কসম! সে বিস্ময়ের কথা আমি কখনও ভুলব না। কি খোশ মিজায, ও হাসি ফুর্তিতে ভরপুর। অথচ সে জানতো তাকে হত্যা করা হবে।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: এই সে স্ত্রীলোক, যে যাঁতা নিক্ষেপ করে খাল্লাদ ইব্‌ন সুওয়ায়দকে হত্যা করেছিল।

টিকাঃ
১. তাঁর নাম ছিল-কায়সা। তিনি আগে মুসায়লামা কায্যাবের স্ত্রী ছিলেন। পরে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমির (রা)-এর সংগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যুবায়র ইব্‌ন বাতা কুরাযীর ঘটনা

📄 যুবায়র ইব্‌ন বাতা কুরাযীর ঘটনা


ইবন ইসহাক বলেন: ইব্‌ন শিহাব যুহরী, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, একদা সাবিত ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন শাম্‌মাস (রা) যুবায়র ইব্‌ন বাতা কুরাযীর কাছে আসেন। তার কুনিয়াত ছিল আবূ আবদুর রহমান। সে জাহিলী যুগে একবার সাবিত ইব্‌ন কায়সের প্রতি অনুগ্রহ করেছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: যুবায়রের এক বংশধর আমার কাছে বলেছে যে, সে অনুগ্রহ ছিল ঐতিহাসিক বু'আছ যুদ্ধকালে। যুবায়র তাকে পাঁকড়াও করে তার মাথার অগ্রভাগের চুল কামিয়ে দেয় এবং তাকে হত্যা না করে ছেড়ে দেয়।
বনু কুরায়যার এই হত্যাকাণ্ডের সময় সাবিত (রা) এসে যুবায়রের সংগে সাক্ষাৎ করেন। তখন তিনি ছিলেন অশীতিপর বৃদ্ধ। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আবূ আবদুর রহমান। তুমি কি আমাকে চেন? যুবায়র বললেন তোমার মত ব্যক্তিকে আমার মত লোক কি ভুলতে পারে?
সাবিত (রা) বললেন: আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছিলে আমি তার প্রতিদান দিতে চাচ্ছি। যুবায়র বললেন: মহৎ লোকেরা কাজের বদলা দিয়ে থাকেন।
এরপর সাবিত ইব্‌ন কায়স (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে সাক্ষাৎ করে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমার উপর যুবায়রের একটা অনুগ্রহ আছে। আমি তার বিনিময় দিতে চাই। সুতরাং আপনি তাকে আমার হাতে ছেড়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তাকে তোমার হাতে সোপর্দ করলাম। এরপর তিনি যুবায়রের কাছে ছুটে এসে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ্-(সা)-এর কাছ থেকে তোমাকে চেয়ে নিয়েছি। অতএব তুমি এখন মুক্ত।
যুবায়র বললেন: আমি বয়ঃবৃদ্ধ মানুষ, পরিবার-পরিজন নেই, আমার বেঁচে থেকে লাভ? তখন সাবিত (রা) আবার রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে চলে গেলেন। বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। যুবায়রের স্ত্রী-পুত্রকেও আপনি আমার হাতে সমর্পণ করুন। তিনি বললেন: তাদেরকেও তোমার দায়িত্বে দিলাম। এ খবর নিয়ে সাবিত (রা) যুবায়রের কাছে গেলেন। বললেন: হে যুবায়র! তোমার স্ত্রী-পুত্রকেও রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। এখন তারা তোমার।
যুবায়র বললেন: হিজায ভূমিতে একটা পরিবার বাস করবে, আর তাদের কোন সম্পত্তি থাকবে না, তা হলে তারা বাঁচবে কি করে? সাবিত (রা) আবারও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ছুটে গিয়ে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! তার সহায়-সম্পত্তি? তিনি বললেন: তাও তোমার।
সাবিত (রা) যুবায়রের কাছে গিয়ে বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমার সহায়-সম্পত্তিও আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। এখন তাও তোমার।
যুবায়র বললেন: হে সাবিত! সেই যে চীনা আয়নার মত যার চেহারা, গোত্রের কুমারীরা যাতে নিজেদের চেহারা দেখার জন্য ভীড় করতো—সেই কা'ব আসাদের কি অবস্থা? সাবিত (রা) বললেন: তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এরপর যুবায়র জিজ্ঞাসা করলেন: আচ্ছা, সর্বজনবিদিত নেতা হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাবের খবর কি? সাবিত (রা) জবাব দিলেন: তাকেও হত্যা করা হয়েছে। এরপর যুবায়র বললেন: আয্যাল ইব্‌ন্ সামাইলের ভাগ্যে কি ঘটেছে? সে থাকতো আমাদের অগ্রবাহিনীর অধিনায়ক, যখন আমরা আক্রমণ করতাম, আর যখন আমরা পালাতাম, তখন সে পশ্চাতে থেকে আমাদের পাহারা দিত।
সাবিত (রা) বললেন: তাকেও হত্যা করা হয়েছে। তখন যুবায়র বললেন: বল তো দুই জোটের কি অবস্থা? অর্থাৎ বনু কা'ব ইব্‌ন কুরায়যা ও বনু আমর ইব্‌ন কুরায়যা।
সাবিত (রা) বললেন: তারাও সকলে নিহত হয়েছে।
যুবায়র বললেন: তা হলে হে সাবিত! তোমার প্রতি আমার অনুগ্রহের বদলে আমি তোমার কাছে একটাই কৃপা ভিক্ষা করি। তুমি আমাকেও তাদের কাছে পাঠিয়ে দাও। কসম আল্লাহ্! তাদের পরে বেঁচে থাকার কোন সার্থকতা নেই। সে আরো বললেন:
ফমা আনা بصابر الله فتلة دلو ناضح حتى القى الاحبة
অর্থাৎ কসম আল্লাহ্! আমার প্রিয়জনদের সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের বিচ্ছেদ এতটুকু সময়ও সইতে পারব না, যে সময় একটি বালতির পানি পাত্রে ঢালতে ব্যয় হয়। যুবায়রের একথা শুনে সাবিত (রা) তার দিকে অগ্রসর হলেন এবং তার গর্দান উড়িয়ে দিলেন।
প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হওয়ার তার এ আকুলতার কথা শুনে আবু বকর সিদ্দীক (রা) বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! সে জাহান্নামের আগুনে তাদের সাথে স্থায়ীভাবে মিলিত হবে।
ইবন হিশাম বলেন: যুবায়রের উক্তি فتلة دلو ناضح এর স্থলে قبله دلو ناضع ও বর্ণিত আছে—খুহায়র ইব্‌ন আবূ সুলমা তার একটি কবিতায় শব্দটিকে এভাবে ব্যবহার করেছেন:
وقابل يتغنى كلما قدرت * على العراقي يداه قائما دفقا .
ইব্‌ন হিশাম বলেন, অন্য বর্ণনায় আছে وقابل يتلقى অর্থাৎ কুয়া হতে পানি বণ্টনকারীর বালতি হতে যে ব্যক্তি পানি গ্রহণ করে।

ইবন ইসহাক বলেন: ইব্‌ন শিহাব যুহরী, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, একদা সাবিত ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন শাম্‌মাস (রা) যুবায়র ইব্‌ন বাতা কুরাযীর কাছে আসেন। তার কুনিয়াত ছিল আবূ আবদুর রহমান। সে জাহিলী যুগে একবার সাবিত ইব্‌ন কায়সের প্রতি অনুগ্রহ করেছিল।
ইবন ইসহাক বলেন: যুবায়রের এক বংশধর আমার কাছে বলেছে যে, সে অনুগ্রহ ছিল ঐতিহাসিক বু'আছ যুদ্ধকালে। যুবায়র তাকে পাঁকড়াও করে তার মাথার অগ্রভাগের চুল কামিয়ে দেয় এবং তাকে হত্যা না করে ছেড়ে দেয়।
বনু কুরায়যার এই হত্যাকাণ্ডের সময় সাবিত (রা) এসে যুবায়রের সংগে সাক্ষাৎ করেন। তখন তিনি ছিলেন অশীতিপর বৃদ্ধ। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আবূ আবদুর রহমান। তুমি কি আমাকে চেন? যুবায়র বললেন তোমার মত ব্যক্তিকে আমার মত লোক কি ভুলতে পারে?
সাবিত (রা) বললেন: আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছিলে আমি তার প্রতিদান দিতে চাচ্ছি। যুবায়র বললেন: মহৎ লোকেরা কাজের বদলা দিয়ে থাকেন।
এরপর সাবিত ইব্‌ন কায়স (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে সাক্ষাৎ করে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আমার উপর যুবায়রের একটা অনুগ্রহ আছে। আমি তার বিনিময় দিতে চাই। সুতরাং আপনি তাকে আমার হাতে ছেড়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তাকে তোমার হাতে সোপর্দ করলাম। এরপর তিনি যুবায়রের কাছে ছুটে এসে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ্-(সা)-এর কাছ থেকে তোমাকে চেয়ে নিয়েছি। অতএব তুমি এখন মুক্ত।
যুবায়র বললেন: আমি বয়ঃবৃদ্ধ মানুষ, পরিবার-পরিজন নেই, আমার বেঁচে থেকে লাভ? তখন সাবিত (রা) আবার রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে চলে গেলেন। বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। যুবায়রের স্ত্রী-পুত্রকেও আপনি আমার হাতে সমর্পণ করুন। তিনি বললেন: তাদেরকেও তোমার দায়িত্বে দিলাম। এ খবর নিয়ে সাবিত (রা) যুবায়রের কাছে গেলেন। বললেন: হে যুবায়র! তোমার স্ত্রী-পুত্রকেও রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। এখন তারা তোমার।
যুবায়র বললেন: হিজায ভূমিতে একটা পরিবার বাস করবে, আর তাদের কোন সম্পত্তি থাকবে না, তা হলে তারা বাঁচবে কি করে? সাবিত (রা) আবারও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে ছুটে গিয়ে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! তার সহায়-সম্পত্তি? তিনি বললেন: তাও তোমার।
সাবিত (রা) যুবায়রের কাছে গিয়ে বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমার সহায়-সম্পত্তিও আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। এখন তাও তোমার।
যুবায়র বললেন: হে সাবিত! সেই যে চীনা আয়নার মত যার চেহারা, গোত্রের কুমারীরা যাতে নিজেদের চেহারা দেখার জন্য ভীড় করতো—সেই কা'ব আসাদের কি অবস্থা? সাবিত (রা) বললেন: তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এরপর যুবায়র জিজ্ঞাসা করলেন: আচ্ছা, সর্বজনবিদিত নেতা হুয়াঈ ইব্‌ন আখতাবের খবর কি? সাবিত (রা) জবাব দিলেন: তাকেও হত্যা করা হয়েছে। এরপর যুবায়র বললেন: আয্যাল ইব্‌ন্ সামাইলের ভাগ্যে কি ঘটেছে? সে থাকতো আমাদের অগ্রবাহিনীর অধিনায়ক, যখন আমরা আক্রমণ করতাম, আর যখন আমরা পালাতাম, তখন সে পশ্চাতে থেকে আমাদের পাহারা দিত।
সাবিত (রা) বললেন: তাকেও হত্যা করা হয়েছে। তখন যুবায়র বললেন: বল তো দুই জোটের কি অবস্থা? অর্থাৎ বনু কা'ব ইব্‌ন কুরায়যা ও বনু আমর ইব্‌ন কুরায়যা।
সাবিত (রা) বললেন: তারাও সকলে নিহত হয়েছে।
যুবায়র বললেন: তা হলে হে সাবিত! তোমার প্রতি আমার অনুগ্রহের বদলে আমি তোমার কাছে একটাই কৃপা ভিক্ষা করি। তুমি আমাকেও তাদের কাছে পাঠিয়ে দাও। কসম আল্লাহ্! তাদের পরে বেঁচে থাকার কোন সার্থকতা নেই। সে আরো বললেন:
ফমা আনা بصابر الله فتلة دلو ناضح حتى القى الاحبة
অর্থাৎ কসম আল্লাহ্! আমার প্রিয়জনদের সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের বিচ্ছেদ এতটুকু সময়ও সইতে পারব না, যে সময় একটি বালতির পানি পাত্রে ঢালতে ব্যয় হয়। যুবায়রের একথা শুনে সাবিত (রা) তার দিকে অগ্রসর হলেন এবং তার গর্দান উড়িয়ে দিলেন।
প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হওয়ার তার এ আকুলতার কথা শুনে আবু বকর সিদ্দীক (রা) বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! সে জাহান্নামের আগুনে তাদের সাথে স্থায়ীভাবে মিলিত হবে।
ইবন হিশাম বলেন: যুবায়রের উক্তি فتلة دلو ناضح এর স্থলে قبله دلو ناضع ও বর্ণিত আছে—খুহায়র ইব্‌ন আবূ সুলমা তার একটি কবিতায় শব্দটিকে এভাবে ব্যবহার করেছেন:
وقابل يتغنى كلما قدرت * على العراقي يداه قائما دفقا .
ইব্‌ন হিশাম বলেন, অন্য বর্ণনায় আছে وقابل يتلقى অর্থাৎ কুয়া হতে পানি বণ্টনকারীর বালতি হতে যে ব্যক্তি পানি গ্রহণ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00